📄 মূল্যবান দুআ ও ভূমিকা
আমিরুল মুমিনিন শাইখ হিবাতুল্লাহ আখুনদ জাদাহ হাফিজাহুল্লাহর
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি সত্যভাবে কিতাব ও মিজান নাজিল করেছেন। ইনসাফ ও সদাচারের আহ্বানকারী বানিয়ে তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেন। দরুদ ও সালাম পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের সরদার আমাদের সেরেতাজ উম্মি নবী মুহাম্মাদ সা.-এর প্রতি; যিনি ছিলেন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত; এবং তার পরিবার ও সাহাবির প্রতি-যারা উত্তম ও পূতঃপবিত্র। শান্তি বর্ষিত হোক তার অনুগত সকল উম্মতের প্রতিও।
পরকথা, ইমারাতে ইসলামিয়া (ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা) নামের কিতাবের কিছু অংশ আমি মুতালাআ করেছি, মুতালাআ করে বুঝতে পারলাম-রাষ্ট্রবিজ্ঞান জানার ক্ষেত্রে কিতাবটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ; তারপর মুতাআলা করার দায়িত্বটা আমি বড়ো উলামায়ে কিরামের হাতে সোপর্দ করেছি-যারা আমাদের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেন। তো, পরবর্তী সময়ে তারা তাদের দায়িত্ব খুবই সূক্ষ্মভাবে আঞ্জাম দেন, সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেন। সাথে সাথে সমর্থনও করেন।
সুতরাং বলা যায়, কিতাবটি আমার দুটো সমর্থনের মাধ্যমে সমর্থিত-
■ ০১. আমার মুতালাআর মাধ্যমে; ■ ০২. উলামায়ে কিরামের মুতালাআর মাধ্যমে।
আল্লাহ তাআলা আপন বান্দাদের জন্য যে দ্বীনে ইসলাম মনোনীত করেছেন, তা মানবজীবনের প্রত্যেকটা অঙ্গনের জন্য এক সর্বজনীন ব্যবস্থা-যা দুনিয়া ও আখিরাতের পূর্ণ সৌভাগ্যের পথ দেখাতে পারে। যা বিশুদ্ধ আকিদা, খাঁটি ইবাদত, উত্তম আখলাক ও সঠিক পথ প্রদর্শন করে, যা তাকাফুল-ব্যবস্থা ও সুউচ্চ নির্মল মুআমালার আহবান করে।
উম্মতে মুসলিমার ওপর আল্লাহ তাআলার বড়ো একটি অনুগ্রহ যে, তিনি যুগে যুগে উলামায়ে কিরামকে ইসলামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণা করার তাউফিক দান করেন। শুধু তাই নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাগরে ডুব দিয়ে দুর্লভ মণিমুক্তা আহরণের তাউফিকও দান করেন। প্রতিটা ফন ও শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন কিতাব, রচনা ও সংকলন তৈরির ক্ষমতা দান করেন। এর অমূল্য রত্নভান্ডার লাভ করার তাউফিক দেন।
আল্লাহ তাআলার শোকর, তিনি এই সিলসিলা ও ধারাবাহিকতা আজও জারি রেখেছেন। এ যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর সত্যায়ন— 'আমার উম্মতের উদাহরণ হলো বৃষ্টির মতো, যার ব্যাপারে বলা যায় না যে, তার প্রথমাংশ উত্তম, না শেষাংশ।'
আমাদের সামনে উপস্থিত ইমারতে ইসলাম কিতাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা। যা রচনা করেছেন আলিমকুলের শিরোমনি, যুগশ্রেষ্ঠ ফকিহ, হকের মূল ভিত্তি, আল্লাহর রাস্তার নিবেদিত মুজাহিদ, শাইখ আল্লামা আবদুল হাকিম হাফিজাহুল্লাহ।
তার রচিত এ কিতাবটি সভ্যতা বিনির্মাণের সিঁড়ি, রচনা-জগতের কেন্দ্রবিন্দু, ইসলামি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব, আলোচনা-গবেষণার ক্ষেত্রে শক্তিশালী, অর্থ স্পষ্টতার ক্ষেত্রে চমৎকার, সুন্দর বিন্যাসে মনোরম, ইসলামি রাজনীতিবিদদের জন্য আলোর মশাল। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ—যেন তিনি এ কিতাবের মাধ্যমে মুসলিমবিশ্বকে উপকৃত করেন, লেখককে আপন অনুগ্রহে সর্বোত্তম জাজা দান করেন, তার এ মহৎ কাজে আমাদের জন্য বরকত দান করেন, আমিন।
-হাকির হিবাতুল্লাহ উফিয়াল্লাহু আনহু
📄 অনুবাদকের কথা
মুসলিম উম্মাহ বর্তমান যে ক্রান্তিলগ্ন পার করছে, সে সম্পর্কে সবাই অবগত। মূলত এ শোচনীয় অবস্থা এখনকার মতো এই পর্যায়ে আগে আর কখনোই ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর খুলাফায়ে রাশিদা থেকে খিলাফাত ও নিয়াবতের যে ধারা ও সিলসিলা শুরু হয়েছিল, তা যুগ যুগ ধরে বিদ্যমান ছিল, কখনো বিচ্ছিন্ন ছিল না।
খিলাফাতের এ সুদীর্ঘকালে আদল ও ইনসাফের যে নমুনা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ কায়েম করেছে, অন্য কোনো জাতি বা ধর্মের ইতিহাসে তার নজির নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পর বিপর্যস্ত মানবতা আশ্রয় পেয়েছিল ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। দিকভ্রান্ত কাফেলা পেয়েছিল পথের দিশা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আদল ও ইনসাফের মহান এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন খুলাফায়ে রাশিদা; মানবজাতির ইতিহাসে শাসক ও শাসনের এক নতুন ধারা সূচিত হয়, অবাক বিস্ময়ে পৃথিবী অবলোকন করে, উদারতা ও মহানুভবতা, বিনয় ও সংযমের মতো মহৎ গুণ।
খুলাফায়ে রাশিদার পর পর্যায়ক্রমে খিলাফাতের এ মহান দায়িত্ব অর্পিত হলো, বনু উমাইয়া, বনু আব্বাস এবং বনু উসমানির হাতে। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর বুকে যতদিন খিলাফতব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, তা পৃথিবী ও পৃথিবীবাসীর জন্য শুধু কল্যাণ ও শান্তিই বয়ে এনেছে, অন্য কোনো জাতি বা ধর্মানুসারীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে নি। তবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সাথে শত্রুতা কখনোই থেমে থাকে নি, বরং এই শত্রুতা নবীযুগ থেকে তেরো শ' বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, এখনো আছে। যার সূচনা মুনাফিক আব্দুল্লাহ উবনু উবাই, সমাপ্তি কামাল পাশা। তারা অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে গেছে—কীভাবে খিলাফাত-ব্যবস্থা নির্মূল করা যায়। যা বাস্তবায়িত হয় ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম উম্মাহর গাদ্দার কামাল পাশার হাতে।
বর্তমান আমারা ২০২২ সাল পদার্পণ করেছি, অর্থ্যাৎ, প্রায় এক শতাব্দী পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ মুসলিম উম্মাহর কোনো খলিফা বা খিলাফত-ব্যবস্থা নেই। পুরো বিশ্বে এমন কোনো দেশ বা অঞ্চল নেই, সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামি শরিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। অথচ সাহাবায়ে কিরামের কাছে খিলাফাত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাফনের পূর্বেই তারা নিজেদের জন্য খলিফা নির্ধারণ করে নেন।
যাহোক, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইমারতে ইসলাম দান করলেন। হ্যাঁ, এই ইমারতে ইসলাম যদিও-বা শুধু আফগানে প্রতিষ্ঠিত, তবুও প্রতিটি মুসলিম-হৃদয়েও তা প্রতিষ্ঠিত। কারণ, এই ইমারতে ইসলাম মুসলিম মা-বোনদের দুআর ফল, মুমিনদের দিলের ফরিয়াদের প্রতিফলন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মুসলিম উম্মাহর জানবাজ সন্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আল্লাহ তাআলার লাখো কোটি শুকরিয়া, মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের জীবদ্দশাতেই এমন একটি ইমারতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে দেখার তাউফিক দান করেছেন, যেখানে প্রতিটি বিষয় শরিয়াহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
কিতাব সম্পর্কে: যেহেতু আমাদের নিকট দূরত্বের দেশ আফগানে ইমারতে ইসলাম কায়েম হয়েছে, তাই শুধু আমাদেরই না, স্বাভাবিকভাবেই সারা বিশ্বের মুসলিমদের একটি চাওয়া ছিল, প্রয়োজন ছিল, ইসলামে রাষ্ট্র-ব্যবস্পনা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি স্বতন্ত্র্য কিতাব তাদের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া। এই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই তাদের পক্ষ থেকে বিচারপতি শাইখ আবদুল হাকিম হককানি এই কিতাবটি রচনা করেন। কিতাবটির কিছু বৈশিষ্ট্য হলো—
* ০১. এর প্রতিটি আলোচনা-ই কুরআন-সুন্নাহ ও উলামায়ে উম্মাহের মতামতের আলোকে উপস্থাপিত হয়েছে।
* ০২. এতে স্পষ্টভাবে খিলাফত ও বিচার-ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
* ০৩. ইসলাম-প্রশ্নে পশ্চিমাদের মূল আপত্তি ও সমালোচনা হলো নারী-অধিকার ও শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ে, তাই লেখকের পক্ষ থেকে তাদের মুখ বন্ধ করার মতো উপযুক্ত জবাবও কিছুটা বিশদভাবে গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপিত হয়েছে।
কিতাব সম্পর্কে কী আর মন্তব্য করার আছে, যেখানে স্বয়ং আমিরুল মুমিনিন মন্তব্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা লেখককে উত্তম বিনিময় দান করেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত প্রায়োগিকভাবে সারগর্ভ আলোচনার তাউফিক দান করেন। আমিন।
অনুবাদ সম্পর্কে: কিতাবটি যখন হাতে নিয়ে আগাগোড়া পড়ি, তখনই আমার মনে হলো—কিতাবটির অনুবাদ হওয়া দরকার। কারণ, আরবিতে একটা প্রবাদ আছে—শুনে বলা আর দেখে বলা কখনো এক হতে পারে না; যিনি কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তিনি সেই বিষয়টা ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন। এই বই সম্পর্কেও একই কথা। লেখক হলেন ইমারতে ইসলামের প্রত্যক্ষ্যদর্শী। সেখানকার প্রধান বিচারপতি। তার লেখা অন্যদের চেয়ে অবশ্যই আলাদা কিছু হবে।
তো যাইহোক, বইটি নিয়ে একদিন শাইখুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ সাহেবের কাছে গিয়ে অনুবাদ করতে চাওয়ার বিষয়টা তুলে ধরলাম। হুজুর খুশিমনেই অনুবাদের ইজাজত দিলেন। যদিওবা আমার তখন অনুবাদের ক্ষেত্রে মাদরাসাতুল মাদীনাহর কিছু তামরিন ছাড়া আর কোনো পুঁজি ছিল না। তবুও আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে, দুই রাকাত সালাতুল হাজত পড়ে মসজিদে বসে অনুবাদ-কাজ শুরু করলাম। যথাসম্ভব মসজিদে বসে অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি। তবে দারসিয়্যাতের প্রতি লক্ষ্য করেই কাজ করেছি। এভাবে কাজ করতে করতে একসময় মসজিদের বারান্দাতেই তা সমাপ্ত হয়; আলহামদু লিল্লাহ। অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করেছি-
• ০১. ভাষার সাবলীলতা; যার ফলে (মূল বক্তব্য ঠিক রেখে) কিছু বাক্য সংযোজন-বিয়োজন করতে হয়েছে।
• ০২. মূল বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
• ০৩. প্রয়োজনী স্থানে টীকা-টিপ্পনি যুক্ত করা হয়েছে।
• ০৪. কিছু বিষয় প্রয়োজনের কারণে বিন্যাসগতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
• ০৫. কিছু পরিভাষা আরবিতেই অক্ষুণ্ণ রেখে নীচে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
হ্যাঁ, সাথে কোনো বিষয় অস্পষ্ট মনে হলে মুফতি হারুন সাহেব হুজুর এবং উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা যায়েদ সাহেব হুজুরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। আমার উস্তাদগণ খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি সেভাবেই বাকি কাজ সম্পাদন করেছি। নবীন অনুবাদক হিসাবে এত কিছুর পরও ভুল হওয়াই স্বাভাবিক, তাই প্রবীণদের কাছে বিনয়ের সাথে আবেদন—যদি কোনো ভুলত্রুটি নজরে আসে, আর অবগত করা হয়, তাহলে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ থাকব।
জীবনপথ একা পাড়ি দেওয়া অনেকটা দুষ্কর। শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কারও-না কারও সাহায্য গ্রহণ করতেই হয়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া যা কখনো শোধ করা যাবে না। তাই এ মুহূর্তে আম্মু-আব্বুকে স্মরণ করছি, জীবনটা তিলে তিলে ক্ষয় করে আমাদের চারভাইকে দ্বীনের ওপর গড়ে তুলেছেন, আল্লাহ সুস্থতার সাথে আমাদের ওপর তাদের সুশীতল ছায়াকে দীর্ঘায়িত করেন। আমিন।
আমার বড়ো দুই ভাই আমাদের জন্যে কত বড়ো নিয়ামত, তা বলে বোঝানো অসম্ভব। শিক্ষাজীবনের সূচনা থেকে এখনো পর্যন্ত পড়ালেখা ও কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন, যখন যা প্রয়োজন হয় ব্যবস্থা করে দেন-যা এ যুগে বিরল। আল্লাহ তাআলা এ মুহাব্বত ও ভালোবাসা জীবনভর অটুট রাখেন, আমিন। জাজাহুমুল্লাহু খাইরান আহসানাল জাজা।
মাদরাতুল মাদীনাহ ও আদীব হুযুরের কথা স্মরণ না করলে না-শুকরি হবে। আমার সব সময়ের অনুভূতি, যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে মাদরাসাতুল মাদীনাহর ছায়া না দান করতেন তাহলে...!
খুব মনে পড়ছে-মাদরাসাতুল মাদীনায় থাকা আমার নেগরান উস্তাদ মাওলানা আবু উবাদা সাহেব দা. বা. হুজুরের কথা। হুজুর আমাদের দারসিয়্যাতের সাথে আদব-সাহিত্য-অনুবাদ ও অন্যান্য বিষয়ের জন্যে খুব তাকিদ দিতেন। হুজুর আমাদের গড়ে তোলার জন্য শাব্দিক অর্থেই 'দিন-রাত একাকার' করে দিতেন। আল্লাহ তাআলা আদীব হুযুরকে, আমার নেগরান উস্তাদ এবং সকল আসাতিজায়ে কিরামকে আপন শান মুতাবেক আহসানুল জাজা দান করেন। আমিন।
অবশেষে দারুল ইলমের প্রকাশক ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি অনুবাদটি প্রকাশ করার সাহস করেছেন; আল্লাহ তাআলা তাকে এবং যারাই এ-কাজের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে উত্তম বিনিময় দান করেন। আমিন। আর একেবারে শেষে আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ-যে মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুবাদ করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যেন সেই উদ্দেশ্য পূরণ করেন। এ অনুবাদ মাকবুল করেন, এর উপকারিতা ব্যাপক করে দেন। সাদকায়ে জারিয়া হিসাবে কবুল করেন। আমিন।
-দুআর মুহতাজ জাহিদ বিন যুবায়ের ০৫. ০৪. ১৪৪৪ হিজরি
📄 লেখক-পরিচিতি
নাম ও বংশ: তিনি শাইখ আবদুল হাকিম ইবনু খোদায়াদ (হাজি মোল্লা সাহেব নামে প্রসিদ্ধ) ইবনি শের মুহাম্মাদ ইবনি মুহাম্মাদ জান ইবনি সাদ্দুল্লাহ খান। পান জাওয়া এলাকার তালুকান গ্রামে এক দ্বীনি পরিবারে ১৩৭৬ সালে জন্ম।
ইবনু সাইয়িদ মুহাম্মাদ খান (আল্লাহ তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেন) হাক্কানি, আফগানি, কান্দাহারি, বান্দতি মুরি ইসহাক জায়ি নামে প্রসিদ্ধ কবিলার দিকে সম্পৃক্ত। জন্ম আফগানিস্তানের কান্দাহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া।
তার পিতা ছিলেন সে যুগের বড়ো একজন আলিম ও ফকিহ। তাই তিনি নিজ পিতার কাছেই কুরআন কারিম পড়েন। ফার্সিভাষা, নাহু (আরবি ব্যকরণশাস্ত্র) সরফ (আরবি শব্দতত্ত্ব-শাস্ত্র) হাইআত, জোতির্বিদ্যা, হিকমত, রসায়ন-শাস্ত্র মানতিক-শাস্ত্র ফালসাফা (দর্শনশাস্ত্র) বালাগাত, (আরবি অলংকারশাস্ত্র) মিরাস (উত্তারাধিকার আইনশাস্ত্র) উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি-শাস্ত্র) এবং তাফসিরের কিছু কিতাব-এই সব শিক্ষাই তিনি নিজ পিতার কাছেই লাভ করেন।
তারপর ডাবেল শহরে (১৩৯৫) হিজরিতে গমন করেন। সেখানে শাইখ আবদুল্লাহ আখুনজাদা রহ.-এর কাছে আল্লামা তাফতাজানির রচিত আল-মুতাওয়াল নামে বালাগাতের গুরুত্বপূর্ণ কিতাব পড়েন। তারপর (১৩৯৭) হিজরিতে (১৯৭৭ ইংরেজি) হাদিসে নববি ও অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার জন্য জামেয়া দারুল উলুম হাক্কানিয়াতে দাখিল হন, যা পাকিস্তানের পেশওয়ারে অবস্থিত। এটি উকুরা খতক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত। সেখানে তিনি হক্কানিয়ার বড়ো মাশাইখে কিরাম থেকে ইলম গ্রহণ করেন; তার উসতাজের মধ্যে রয়েছেন- শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুল হক, শাইখ আবদুল হালিম যারবাওয়াডী মুফতিয়ে আযম মুহাম্মাদ ফরিদ জারবাওয়াবি, শাইখ মুহাম্মাদ আলি সাবতি প্রমুখ রহিমাহুমুল্লাহ।
লেখক নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন বলেন-আমি দারুল উলুম হাক্কানিয়াতে শাইখ আব্দুল হক রহ.-এর কাছে, যিনি ছিলেন এ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, জামি তিরমিজির কিছু অংশ পড়ার সৌভাগ্য লাভ করি। মুফতিয়ে আজম মুহাম্মাদ ফরিদ সাহেবের কাছে জালালাইনের প্রথম খণ্ড, সহিহ বুখারির প্রথম খণ্ড, জামে তিরমিজির প্রথম খণ্ড ও সুনানু আবি দাউদ পড়ার সুযোগ পাই।
আর আল্লামা আব্দুল হালিম জারওয়াবি রহ.-এর কাছে—যিনি ছিলেন সদরুল মুদাররিসিন [প্রধান শিক্ষক] তাফসিরে বাইজাবি, সহিহ বুখারির দ্বিতীয় খণ্ড, সহিহ মুসলিম পড়েছি শাইখ মাওলানা সামিউল হক সাহেবের কাছে জালালাইনের দ্বিতীয় খণ্ড, জামি তিরমিজি দ্বিতীয় খণ্ড, শামায়িলে তিরমিজি, পড়ার সৌভাগ্য লাভ করি।
আর শাইখ মাওলানা মুহাম্মাদ আলি সাবাতি সাহেবের কাছে তহাবি শরিফ, হিদায়ার তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড পড়েছি। শাইখ ফজলুল মাওলা সাহেবের কাছে মিশকাত পড়েছি।
১৪০০ হিজরিতে লেখক (১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ) মুমতাজ (A+) লাভ করে দারুল উলুম থেকে ফারেগ হন। দারুল উলুম থেকে ফারেগ হয়ে সে বছরেই বালুচিস্তানের অবস্থিত জিয়ারত শহরে যান। সেখানে শাবান ও রামাদান, এই দুই মাসে শাইখ মুহাম্মাদ জান রহ.-এর কাছে কুরআন কারিমের তাফসিরের ইলম গ্রহণ করেন। কর্মজীবন ও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিভিন্ন মাদরাসায় তাদরিসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লেখক বলেন—বালুচিস্তানের বিভিন্ন মাদরাসার প্রসিদ্ধ কিতাব পড়ানোর সুযোগ হয়; যেমন, মাদরাসাতু তাদরিসিল কুরআন কারবালা, মাজহারুল উলুম শালদারা, নুরুল মাদারিস, যা আফগানিস্তানের ইসলামি ইনকিলাব সংগঠনের অধীনে পরিচালিত হতো।
পরবর্তী সময়ে যখন রুশবাহিনী আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়, খিলকিদের ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটে, তখন আমি আবার আফগানিস্তানে ফিরে আসি। আমার জন্মস্থান তালুকান গ্রামে তাদরিস শুরু করি। সেখানে দুই বছর তাদরিসের খেদমত করি। প্রথম বছর নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে পড়াই, দ্বিতীয় বছর দাওরায়ে হাদিসে পড়াই, তারপর হেলমানদ গ্রামের সানজিন এলাকায় এসে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু করি। তারপর আল্লাহর রাস্তার নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ আমিরুল মুমিমিন মোল্লা উমরি রহ.-এর নির্দেশে কানদাহারে গমন করি। সেখানে ইমারাতে ইসলামিয়্যার অধীনে পরিচালিত আল মাদরাসাতুল জিহাদিয়্যাতুল মারকাজিয়্যাতে তাদরিসের খেদমত করি। (এটা ২০০১ সালের কথা।)
যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার তাবেদার বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তালেবানদের হুকুমতের সমাপ্তি ঘটে, জায়গায় জায়গায় জুলুম-অন্যায়-অবিচারের আগুন ঝরে, সবাই হিজরত তখন করতে বাধ্য হয়। লেখকও তাদের মতো পাকিস্তানে হিজরত করেন। সেখানে তিনি কুয়েটা শহরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মুহাম্মাদ খায়ের সড়কে অবস্থিত জামেয়া হাক্কানিয়া, ও হাজি গাইবি সড়কে অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়্যাতে শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৪২৪ হিজরিতে (২০০৩ সালে) তিনি নিজে কুওয়াইতা শহরে ইসহাকাবাদে জামেয়া দারুল উলুম আশ-শারইয়্যা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে ১৪ বছর হাদিসের দরস দেন। তারপর মার্কিন বাহিনির জুলুম অত্যাচারের কারণে দরস ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এমনকি জামাআতের সাথে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদেও বের হতে পারতেন না।
কেন? কারণ, তিনি পূর্বে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসল্যামিয়্যার আদালতের প্রধান ছিলেন।, তাই তিনি রচনা ও সংকলনের কাজে মনোযোগ দেন। ফলে খুবই অল্প সময়ে অনেক কিতব রচনা করেন।
রচনাবলি: তিনি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
০১. জাদুল মিনহাজ ফি তাহকিকিল মিনহাজ। এটি তার শাইখ মুফতি মুহাম্মাদ ফরিদ জারওবারির রচিত, মিনহাজুস সুনান শারহু জামিউস সুনান, এবং প্রথম খণ্ডের বিশ্লেষণ। এ কিতাবে তিনি লেখকের কথা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেন, সাথে সাথে আরও কিছু গুরুত্ব পূর্ণ আলোচনা ও ইলমি ফায়িদা যুক্ত করেন। এ কিতাবটি 5 খণ্ডের। এই কিতাবটির ভূমিকা লেখেন ইমারাতে ইসলামিয়্যার প্রধান আমিরুল মুমিমিন, শাইখুল হাদিস ওয়াত তাফসির আল্লামা হিবাতুল্লাহ আখুনদ জাদাহ, হাফিজাহুল্লাহ এবং শাইখ শহিদ মাওলানা সামিউল হক রহ.।
০২. আত্মদ্দুশ শারুইয়্যু ফি তাওজিহি জামিইত তিরমিজি। এই কিতাবটিও মিনহাজুস সুনান শারহু জামিইস সুনান কিতাবটির দ্বিতীয় খণ্ডের বিশ্লেষণ; যা পাঁচ ভলিয়মের।
০৩. জাদুল মাহফিল ফি শারহিশ শামায়িল। এটি শামায়িলে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে তিনি শামায়িলের অন্যান্য শরাহ ও হাশিয়ার সাহায্য নিয়েছেন। সাথে সাথে সিরাতের বিভিন্ন কিতাবেরও সহযোগিতা গ্রহণ করেছেন।
০৪. রাওজাতুল কাজা। লেখক এই কিতাবে ইসলামি বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন মূলনীতি ও নীতিমালা একত্র করেছেন। যার সংখ্যা ১৩৭৯টি।
০৫. তাতিম্মাতুন নিজাম ফি তারিখিল কাজা ফিল ইসলাম। এই কিতাবে তিনি ইসলামি বিচারব্যবস্থার সুদীর্ঘ ইতিহাস বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
০৬. তাহকিকি মুয়িনিল কুজাতি ওয়াল মুফতিন। এটি প্রসিদ্ধ কিতাব মুয়িনিল কুজাতি ওয়াল মুফতিন কিতাবের একটি শক্তিশালী ইলমি বিশ্লেষণ। ওই কিতাবটি রচনা করেছেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ও আশরাফ আলি থানবি রহ.- এর সুযোগ্য ছাত্র মুহাদ্দিস ফকিহ্ণ আমসুল হক আফগানি (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি।)।
০৭. মানকিবুল আইম্মাতিস সিত্তাতি রাহিমা হুমুল্লাহ। এই কিতাবে তিনি ছয় ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিয়ি, আহমাদ, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুমুল্লাহর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য একত্র করেছেন।
০৮. রিসালাতুন ফি আদাবিল মুআল্লিম ওয়াল মুতাআল্লিম। রিসালাটি শুরু হয় প্রথমে 'আদব' শব্দের বিশ্লেষণ ও ফজিলত নিয়ে, তারপর শিক্ষকের আদব তারপর শেখানোর আদব, তারপর শিক্ষার্থীর আদব, তারপর শেখার আদব। রিসালাটি সমাপ্ত হয় কিছু আশ্চর্যকর ঘটনার বিবরণ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
০৯. রিসালাতুন ফি আদাবিল আকলি ওয়াশ শুরবি। এখানে তিনি খাবারগ্রহণ, খাবারগ্রহণের অবস্থা, খাবার থেকে ফারেগ হওয়া, পান করা, মেহামানদারি ও মেহমানের আদাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১০. ঝাদুদ দুআ। এটি একটি দুআর আদব এর বিষয়ে রিসালা রিসালাটি শুরু হয় দুআর অর্থ ও হাকিকত নিয়ে। তারপর দুআর ফজিলت, বিধান, আদাব, সময়, অবস্থা, স্থান নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচিত দুআ উল্লেখ করেন। তারপর আল্লাহ তাআলার আসমায়ে হুসনা (সুন্দর নাম) উল্লেখ করেন। সাথে সাথে ব্যাখ্যাও করেন। রিসালাটি সমাপ্ত করা হয় জিহাদ সম্পৃক্ত কিছু দুআ উল্লেখ করে।
১১. রিসালাতুন ফি আদাবিস সাফার। ত্রিই কিতাবটিতে তিনি মুসাফিরের আদব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১২. রিসালাতুন ফি আদাবিল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি। রিসালাটি শুরু হয় ফতওয়ার শাব্দিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থ কাজার অর্থ ফাতওয়া এবং কাজার মাঝে পার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে। তারপর তিনি ইফতা (ফাতওয়া প্রদানের বিধান) এর বিধান, মুফতির নিজের মাঝে থাকা আদাব ফাতওয়া লেখার ক্ষেত্রে মুফতির আদাব, ফাতওয়া প্রদানের আদাব, ফাতওয়া জিজ্ঞাসাকারীর আদাব ও গুণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৩. রিসালাতুন ফি আদাবি কাজাইল হাজাতি। এখানে তিনি ইসতিনজার আদব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৪. আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা। এই রিসালাটি শুরু হয় 'ওয়ালা এবং বারা'-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে। তারপর কুফ্ফার বিশ্ব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার আবশ্যকীয়তা, কাফির ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করার হারাম হওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। বন্ধুত্বগ্রহণের কিছু প্রকারও উল্লেখ করেন। তারপর রহমানের বন্ধু শয়তানের দোসরদের মাঝে শত্রুতা বিদআতি ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও ইসলামের ওয়ালা এবং বারার কিছু প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। শরাইব ইবনু আদি সা'দ ইবনু আবি
ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইব্ন উবাই — এদের ঘটনা উল্লেখ করেন। রিসালাটি সমাপ্ত হয় কাফির ও ফাসিকদের সাথে মুসলিমদের মুআমালার বিধানের আলোচনার মধ্য দিয়ে।
১৫. রিসালাতুন ফিল হাবসি ওয়া আহকামিহি। এই রিসালাটি শুরু হয় ‘হাবস’ ও ‘সিজন’ (আটক করা, বন্দি করা)-এর অর্থ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। তারপর তিনি এর শরয়ি অনুমোদন, হিকমত, বন্দি করার কারণ ও সময়কাল, কারারক্ষকের গুণাবলি ও ভাতা, বন্দির পালিয়ে যাওয়া, কারাঘর পর্যবেক্ষণ করা ও সংস্কার করা, ইসলামে বন্দির হক ও অধিকার এসব নিয়ে আলোচনা করেন।
১৬. রিসালাতুন ফি মাসআলাতি হালকির রা’সি।
১৭. রিসালাতুন ফী মাসআলাতিল মোসাফাহা এই কিতাবে তিনি মোসাফাহার শারঈ অনু মোদন পদ্দতি, এ’সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত উল্লেখ করেন।—
১৮. রিসালাতুন ফি মাসআলাতিত তাকলিদ। এখানে তিনি তাকলিদের অর্থ, প্রকার, শরয়ি অনুমোদন, চার ইমামের তাকলিদের মাঝে তাকলিদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯. রিসালাতুন ফি মাসআলাতিত তারাবিহ। রিসালাটি শুরু করেন তারাবিহর নামাজের অনুমোদনের ইতিহাস, জামাআতের সাথে আদায় করা তারাবিহর রাকাআতের সংখ্যা চার মাজহারের মতামত, ও এবং তারাবিহর নামাজে কুরআন কারিম খতম করা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২০. ঝাদুদ দাওয়াহ। এটি একটি রিসালাটিতে আল্লাহর রাস্তার দাওয়াত, এর ফজিলত, বিধান, স্বেচ্ছাসেবী, ও সাওয়াবের আশাকারীর মাঝে পার্থক্য, দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি ধরন, দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতির এর উৎস ও সাধ্যম, দাঈদের আখলাক ও গুনাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়ে—
২১. আত-তারিখুল ইসলামিয়া। এটি ইসলামি ইতিহাসের বিষয়ে একটি রিসালা, রিসালাটি সূচনা করা হয়েছে ইতিহাস শব্দের বিশ্লেষণ, ইতিহাসের সূচনা, কারণ এবং মুহারম মাসের মাধ্যমে বর্ষ গণনা শুরু করার কারণ, এসব বিষয় নিয়ে বইটিতে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।
২২. খাতমু সহিহিল বুখারি শরিফ। এই রিসালাতে কয়েকটি আলোচনা করা হয়েছে, প্রথম, সহিহ বুখারির অধ্যায় ও তরজমা, দ্বিতীয় অধ্যায়ের হাদিস বিশ্লেষণ, শেষ আলোচনা দাওরাতুল হাদিসের তালিবে ইলম ও মুতাখাররিজদের উদ্দেশ্যে কিছু অসিয়ত।
২৩. জাদুল মাআদ ফি মাসাইলিল জিহাদ। পশতু ভাষায় (জিহাদ বিষয়ক) লিখিত একটি কিতাব।
২৪. তারিখুল ফাজলি ফি মাসাইলিল গনিমাতি ওয়াল ফাইহি ওয়ান নাফলি। গনিমত, ফাই বণ্টন পদ্ধতি।
২৫. তরিকুল জান্নাত। (জান্নাত যাওয়ার পথ।)
২৬. ঝাদুদ দারসিন ফি তাফসিরিল জালালাইন। (জালালাইন কিতাবের তালিবে ইলমদের জন্য কিছু পাথেয়)
২৭. আত-তাহকিকুল আজিব ফি হাল্লি শারহিল জামি।
আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমার পিতার ফায়জ ও বারাকাত বিশ্বের প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে দেন, বংশধর, তালিবে ইলম ও মুহিব্বিন (প্রিয়জন) থেকে, ইলম ও ইরফানের ঝর্ণাধারা সেই দিন পর্যন্ত জারি রাখেন, যেদিন না কোনো সম্পদ কাজে আসবে, আর না সন্তানাদি; যদি-না বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর তাআলার সামনে উপস্থিত হয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাউফিকদাতা। -আবদুল গনি মাইওয়ানদি