📄 আতিথেয়তা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের সাথে মেহমানদারি করতে কখনো অস্বীকৃতি বোধ করেননি। তাঁর নিকট প্রায়ই অমুসলিম মেহমানদের আগমন ঘটত। তারা অনেক সময় প্রচুর পরিমাণ আহার গ্রহণ করত। একবার এক অমুসলিম সাতটি বকরীর দুধ পান করেছিল। ১৫২ অমুসলিম মেহমানদের আদর-যত্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ত্রুটি করতেন না। তিনি নিজ হাতে তাদের খাওয়া পরিবেশন করতেন। তাঁর মেহমানদারী ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে বহু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কোন কোন সময় অমুসলিম মেহমান মজলিসের শিষ্টাচার ভঙ্গ করত; কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)তাদেরকে ক্ষমা করতেন।
টিকাঃ
১৫২. তিরমিযী, আল-জামি’, (কিতাবুল আত্ব-ইদাহ), হা.নং : ১৪৪৬
📄 বেচাকেনা ও লেনদেন করা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের সাথে বেচাকেনা ও লেনদেন করতেন। হযরত আশিমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর সময় তাঁর লৌহবর্মটি ৩০ সা’ যবের পরিবর্তে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক ছিল।” ১৫৩
টিকাঃ
১৫৩. সহীহ বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল মানাকী), হা.নং : ৪৪৬৭
📄 অমুসলিমদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন হাদীসে মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের অধিকারসমূহ যথাযথরূপে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
أَلَا مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوْ اِنتَقَصَهُ أَوْ غَلَبَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبٍ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের প্রতি অবিচার করল কিংবা তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করল বা তাকে তার সামর্থ্যের বাইরে কষ্ট দিল অথবা তার সন্তুষ্টি ছাড়াই কোন কিছু তার কাছ থেকে কেড়ে নিল, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন (আল্লাহর দরবারে) আমি নিজেই ফরিয়াদী হবো।” ১৫৪ অন্য হাদীসে তিনি তাদের রক্তের পবিত্রতা নষ্টকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন,
مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
“যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বৎসরের দূরত্ব থেকে অনুভব করা যায়।” ১৫৫
টিকাঃ
১৫৪. আবু দাউদ, আল-জামি’, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং : ২৬৪২
১৫৫. সহীহ বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল জিযিয়া...), খ.। নং: ৩১৭১
📄 অমুসলিমদের সাথে সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের সাথে সদ্ভাবের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন হাদীসে মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের সাথে সদ্ভাব ও সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন ও অমুসলিমদের সাথেও তাঁদের সদ্ভাব বজায় রাখা মুসলিমদের সম্পর্কীয়দের এবং তাঁদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা অমুসলিম হলেও তাঁদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে বা তাঁদের প্রতি মন্দ আচরণ করতে নিষেধ করেছেন। সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার দিক থেকে অমুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ। হযরত আসমা বিনত আবী বকর (রা)-কে রাসূলুল্লাহ নির্দেশ দেন, “তুমি তোমার মায়ের সাথে সদ্ভাব রাখবে।” ১৫৬ হযরত মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) নিকট বসা ছিলাম। পাশে তাঁর এক গোলাম চামড়া চাপিয়ে চলছিলো। তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “চামড়া ঘষানো শেষ হবার পর সর্বপ্রথম আমার ইয়াহুদী প্রতিবেশীকে দিয়ে বন্টন শুরু করো। তখন উপস্থিতদের একজন আশ্চর্য হয়ে বলে উঠল, ইয়াহুদী! আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুন! তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এতদবেশি ওসিয়ত করতে শুনেছি যে, আমার তো মনে হয়েছিল যে, তিনি প্রতিবেশীকে না জানি ওয়ারিছ বানিয়ে দেন। ১৫৭
টিকাঃ
১৫৬. সহীহ বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল হিবা), হা.নং : ২৪২৬
১৫৭. আবু দাউদ, আল-জামি’উ, (কিতাবুল হিহান), হা.নং : ২৪৪