📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 কুশলাদি জানা ও দেখা সাক্ষাত করা

📄 কুশলাদি জানা ও দেখা সাক্ষাত করা


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের খোঁজ-খবর নিতেন, অসুস্থ হলে রোগ শয্যায় গিয়ে কুশল জিজ্ঞেস করতেন এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানাতেন। ১৫০ কোন অমুসলিম যদি শ্বশুরগোষ্ঠীতে হয়ে তাঁর সেবা করতে চাইত, তবে তিনি তাকে বাধা দিতেন না। এ সুযোগে কোন কোন ইয়াহুদী তাঁর সাথে অশোভন আচরণ করত; কিন্তু তিনি সর্বদাাই তাদের ক্ষমা করতেন। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী বালক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেবা করতেন। একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের দাওয়াতও দেন। ১৫১

টিকাঃ
১৫০. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাবুল জিহান), হা.নং : ১৭৬৯
১৫১. আল বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল মরদা), হা.নং : ৫৬৫৭

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 আতিথেয়তা

📄 আতিথেয়তা


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের সাথে মেহমানদারি করতে কখনো অস্বীকৃতি বোধ করেননি। তাঁর নিকট প্রায়ই অমুসলিম মেহমানদের আগমন ঘটত। তারা অনেক সময় প্রচুর পরিমাণ আহার গ্রহণ করত। একবার এক অমুসলিম সাতটি বকরীর দুধ পান করেছিল। ১৫২ অমুসলিম মেহমানদের আদর-যত্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ত্রুটি করতেন না। তিনি নিজ হাতে তাদের খাওয়া পরিবেশন করতেন। তাঁর মেহমানদারী ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে বহু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কোন কোন সময় অমুসলিম মেহমান মজলিসের শিষ্টাচার ভঙ্গ করত; কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)তাদেরকে ক্ষমা করতেন।

টিকাঃ
১৫২. তিরমিযী, আল-জামি’, (কিতাবুল আত্ব-ইদাহ), হা.নং : ১৪৪৬

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 বেচাকেনা ও লেনদেন করা

📄 বেচাকেনা ও লেনদেন করা


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের সাথে বেচাকেনা ও লেনদেন করতেন। হযরত আশিমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর সময় তাঁর লৌহবর্মটি ৩০ সা’ যবের পরিবর্তে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক ছিল।” ১৫৩

টিকাঃ
১৫৩. সহীহ বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল মানাকী), হা.নং : ৪৪৬৭

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 অমুসলিমদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ

📄 অমুসলিমদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন হাদীসে মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের অধিকারসমূহ যথাযথরূপে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
أَلَا مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوْ اِنتَقَصَهُ أَوْ غَلَبَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبٍ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের প্রতি অবিচার করল কিংবা তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করল বা তাকে তার সামর্থ্যের বাইরে কষ্ট দিল অথবা তার সন্তুষ্টি ছাড়াই কোন কিছু তার কাছ থেকে কেড়ে নিল, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন (আল্লাহর দরবারে) আমি নিজেই ফরিয়াদী হবো।” ১৫৪ অন্য হাদীসে তিনি তাদের রক্তের পবিত্রতা নষ্টকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন,
مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
“যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বৎসরের দূরত্ব থেকে অনুভব করা যায়।” ১৫৫

টিকাঃ
১৫৪. আবু দাউদ, আল-জামি’, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং : ২৬৪২
১৫৫. সহীহ বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাবুল জিযিয়া...), খ.। নং: ৩১৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00