📄 নিসাব পূর্ণ হওয়া
যাকাতের নিসাবের মতোই 'উশর' নিসাব হল ২০০ দিরহাম কিংবা ২০ দীনার। অর্থাৎ বাণিজ্য পণ্যের মোট মূল্য ২০০ দিরহাম রৌপ্য কিংবা ২০ দীনার স্বর্ণের সমপরিমাণ হলে 'উশর ওয়াজিব হবে। এটা হানাফীগণের অভিমত। ২৩৮ ইমাম আহমাদ (রাহ.) থেকেও এ ধরনের একটি মতও রয়েছে। মালিকীগণের মতে- 'উশর'এর কোন নিসাব নির্ধারিত নেই। কম-বেশি যা-ই হোক তাতে 'উশর' আদায় বাধ্যতামূলক হবে।
টিকাঃ
২৩৮. আল-বাদাই'ই, ভার্মন, খ.২, পৃ.২৫৬
📄 বাণিজ্য পণ্যের স্থানান্তর
অনেকরে মতে- অমুসলিমরা যখন বাণিজ্য পণ্য নিয়ে দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ব্যবসা করবে, তখনই 'উশর ওয়াজিব হবে। নিজের এলাকায় করে ব্যবসা করার জন্য 'উশর' দিতে হবে না। ২৩৯
টিকাঃ
২৩৯. আল-মাওওসুল আল-কাফিই, পৃ.৩০৬
📄 বাণিজ্য পণ্যের এক বছর কাল স্থায়িত্ব
যে সব পণ্যসামগ্রী ন্যূনতম এক বৎসর স্থায়ী থাকে (যেমন-চাল, গম, বস্ত্র ইত্যাদি), তাতে 'উশর' বাধ্যতামূলক হবে। পক্ষান্তরে যে সব পণ্য এক বছরের কম সময় পর্যন্ত স্থায়ী থাকে (যেমন- শাক-সবজি ও ফলমূল ইত্যাদি) তাতে 'উশর' ওয়াজিব হবে না, যদিও তার মূল্য নিসাব পরিমাণ পৌঁছে। এটা ইমাম আবু হানীফা (রাহ.)-এর অভিমত। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহ.) প্রমুখের মতে- 'উশর' ওয়াজিব হওয়ার জন্য এ ধরনের কোন শর্ত নেই। যে কোন পণ্য সামগ্রী তার স্থায়িত্ব কাল যে পরিমাণই হোক তাতে 'উশর' ওয়াজিব হবে। ২৪০
টিকাঃ
২৪০. তদেব
📄 ঋণমুক্ত হওয়া
ঋণ বাদ দিয়ে পণ্য সামগ্রীর নিসাব পরিমাণ পৌঁছলেই 'উশর' ওয়াজিব হবে। যদি কোন অমুসলিম ঋণযুক্ত হয় এবং ঋণের অর্থ বাদ দেয়ার পর তার মজুদ পণ্যসামগ্রীর মূল্য নিসাব পরিমাণ না হয়, তা হলে তার জন্য 'উশর' প্রদান বাধ্যতামূলক হবে না। ২৪১
টিকাঃ
২৪১. আল-বাদাই'ই, খ.২, পৃ.৫৭-২৮৪