📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 জিযইয়া (নিরাপত্তা কর)

📄 জিযইয়া (নিরাপত্তা কর)


ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নিরাপদ বসবাস এবং জান-মাল ও ইয্যত-আব্রুর নিরাপত্তা লাভের বিনিময় হিসেবে তাদের ওপর আরোপিত নির্দিষ্ট পরিমাণের সম্পদকে 'জিযইয়া' বলা হয়। এ কর কেবল মুক্ত ও সক্ষম লোকদের থেকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে তাদের মুক্তি দানের বিনিময়ে হিসেবে প্রতি বছর আদায় করা হয়। অস্ত্র ধারণ করতে সক্ষম নয় বা যুদ্ধে কোন রূপ অংশগ্রহণ করে না যেমন- শিশু, কিশোর, নারী, পাগল, দাস-দাসী, প্রতিবন্ধী, উপাসনালয়ের সেবক, সন্যাসী, ভিক্ষুক১১১ অতি বৃদ্ধাবৃদ্ধ এবং বহু বছরের বেশি ভাগ সময় কেউ কষ্ট হয় এমন রোগীকে জিযইয়া দিতে হবে না।১১২ যদিও যদি ইসলামী সরকার তাদের জ্ঞান ও জিযইয়া-মুক্তির নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে তাদের থেকে যে জ্ঞান জিযইয়া আদায় করা হবে না। বর্ণিত রয়েছে যে, ইয়ারমুকের যুদ্ধে যখন রোমানরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশাল সৈন্যবাহিনী সমাবেশ ঘটালো এবং মুসলিমরা সিরিয়া সকল বিজিত এলাকা পরিত্যাগ করে একটি কেন্দ্রে নিজেদের শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য হল, তখন হযরত আবূ 'উবাইদাহ (রা) নিজের অধিনস্থ সেনাপতিদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা যে সব জিযইয়া ও খারাজ অমুসলিমদের নিকট থেকে আদায় করেছিলে তা তাদের ফিরিয়ে দাও এবং বলো যে, “এখন আমরা তোমাদের রক্ষা করতে অক্ষম, তাই যে অর্থ তোমাদের রক্ষা করার বিনিময়ে আদায় করেছিলাম তা ফিরিয়ে দিলাম।"।১১৩ এ নির্দেশ মোতাবেক সকল সেনাপতি আদায় করা অর্থ ফেরত দিলেন। ২২১ এ সময় অমুসলিম নাগরিকদের প্রতিরক্ষা বর্ণনা করে ঐতিহাসিক বালাজুরী লিখেছেন, মুসলিম সেনাপতিগণ যখন সিরিয়ায় হিমস নগরীতে জিযইয়ার অর্থ ফেরত দেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা সমস্বরে বলে ওঠে, لَئِنْ رَدَدْتُمْ وَحُفِظْتُمُ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِمَّا كُنَّا فِيهِ مِنَ الْخَلْقِ وَالْمُنْجُمِ ، وَنَدْفَعَنَّ حُدُودَ هِرَقْلَ عَنْ عَارِضِكُمْ مَعَ عِيَادَتِكُمْ “হিরাক্লের যে যুলম-অত্যাচার আমরা নিষ্পেষিত হচ্ছিলাম, তার তুলনায় তোমাদের শাসন ও ন্যায়-বিচারকে আমরা বেশি পছন্দ করি। এখন আমরা তোমাদের গর্ভদ্বারে সাড়ে মুগ্ধ করে হিরাক্লিসয়ানের বাহিনীকে দমন করবো।” সেখানকার ইযহায়ীরা বলে ওঠে, আমরা প্রাণপণ যুদ্ধ করে পরাজিত হওয়া ছাড়া কোন অবস্থাতেই হিরাক্লিসয়ানের গর্ভদ্বার আমাদের কোন শহরেই ঢুকতে পারবো না।” ২২২
জিযইয়ার পরিমাণ তাদের আর্থিক সঙ্গতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। যারা সচ্ছল তাদের কাছ থেকে বেশি, যারা মধ্যবিত্ত তাদের কাছ থেকে কিছু কম এবং যারা দরিদ্র তাদের কাছ থেকে অনেক কম নেয়া হবে। আর যারা উপার্জনের কোন ব্যবস্থা নেই অথবা যে অংগের দান-দক্ষিণার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, তার জিযইয়া ক্ষমা করে দেয়া হবে। অধিকাংশ ইযামের মতে জিযইয়ার কোন বিশেষ পরিমাণ নির্ধারিত নেই। সরকার তাদের আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা করে যে কোন পরিমাণ নির্ধারণ করবে। তবে তা অবশ্যই এভাবে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা তা সহজে আদায় করতে পারে। এ কর আদায়ের তাদের ওপর কোন রূপ কঠোরতা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। যা আদায় করা তাদের পক্ষে সহজ নয়, করের এমন বোঝা তাদের ওপর চাপানো যাবে না। হানাফীগণের মতে ধনীদের থেকে বার্ষিক ৪৮ দিরহাম, মধ্যবিত্তদের থেকে ২৪ দিরহাম এবং কর্মক্ষম গরীব লোকদের থেকে ১২ দিরহাম হারে জিযইয়া আদায় করা হবে। ইমাম মালিকের মতে- ধনীদের থেকে বার্ষিক ৪০ দিরহাম বা ৪ দীনার এবং গরীব লোকদের থেকে ১০ দিরহাম বা ১ দীনার হারে জিযইয়া আদায় করা হবে। শাফিঈগণের মতে- মাথা পিছু ন্যুনপক্ষে এক দীনার আদায় করা বাধ্যতামূলক হবে। ২২৩ জিযইয়ার পরিবর্তে তাদের ধন-সম্পদ নিলামে চড়ানো যাবে না, তাদের গরু, গাধা, কাপড়-চোপড় বিক্রি করা যাবে না। হযরত ‘আলী (রা) তাঁর এক কর্মচারীকে জিযইয়া সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠাবার সময় নির্দেশ দেন, “তাদের শীত-গ্রীষ্মের বস্ত্র, খাবারের উপকরণ ও কৃষিকাজের পশু জিযইয়ার আদায়ের জন্য বিক্রি করবে না, প্রহার করবে না, দাঁড়িয়ে রেখে শাস্তি দেবে না এবং জিযইয়ার বদলায় কোন জিনিস নিলামে চড়াবে না।” ২২৪ ইসলামী আইনশাস্ত্রবিদগণের মতে- কোন উপর্জনক্ষম অমুসলিম জিযইয়া দিতে অস্বীকার করলে বল জোর তাকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে। ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.) বলেন, “তবে তাদের সাথে সদয় আচরণ করা হবে এবং প্রাপ্য জিযইয়া আদায় না করা পর্যন্ত আটক করে রাখা হবে।” ২২৫ যে সব অমুসলিম নাগরিক দারিদ্রের শিকার ও পরের ওপর নির্ভর করে চলে, তাদের জিযইয়া তো মাফ হবেই, উপরন্তু বাইতুল মাল থেকে তাদের জন্য নিয়মিত সাহায্য ও বরাদ্দ দেয়া হবে। ২২৬ হযরত আবু বাকর (রা)-এর আমলে ইরাববাসীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, أَيْمَا شَيْخٍ ضَعُفَ عَنِ الْعَمَلِ ، أَو أَصَابَتْهُ آفَةٌ مِنَ الْآفَاتِ ، أَوَ كَانَ غَنِيًّا فَافْتَقَرَ ، وَصَارَ أَهْلُ دِينِهِ يَتَصَدَّقُوْنَ عَلَيْهِ طُرِحَتْ جِزْيَتُهُ ، وَعِيلَ مِنْ بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ وَ عَيَالِهِ مَا أَقَامَ بِدَارِ الْهِجْرَةِ وَدَارِ الْإِسْلَامِ “যদি কোন অমুসলিম বৃদ্ধ কর্মঅযোগ্য হয়ে পড়ে, অথবা কোন বিপদে পতিত হয় অথবা কোন সম্পদশালী এমনভাবে দরিদ্র হয়ে পড়ে যে, তার গোত্রের লোকেরা তাকে সাহায্য করতে থাকে এমনাবস্থায় তাকে জিযইয়া থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। উপরন্তু মুসলিমদের বাইতুলমাল থেকে তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যতদিন সে মদীনায় বা ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে বসবাস করবে।” ২২৭
বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত উমার (রা) জনৈক বৃদ্ধ ভেককে ভিক্ষা করতে দেখে তার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, “কী আর করবো, জিযইয়া দেয়ার জন্য ভিক্ষে করছি।” এ কথা শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ তার জিযইয়া মাফ করে দিলেন এবং তার ভরণ পোষণের জন্য মাসিক বৃত্তি নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি বাইতুল মালের কর্মচারীকে লিখলেন, “আল্লাহর কসম! এটা কখনো ইনসাফ নয় যে, আমরা যৌবনে তার দ্বারা উপকৃত হব, আর বার্ধক্যে তাকে অপমান করবো।” ২২৮
কোন অমুসলিম নাগরিক মারা গেলে তার কাছে প্রাপ্য বকেয়া জিযইয়া তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে আদায় করা হবে না এবং তার উত্তরাধিকারীদের ওপরও এর দায়ভার চাপানো যাবে না। অনুরূপভাবে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেও তার জিযইয়া মাফ হয়ে যাবে। ২৩০
উল্লেক্ষ্য যে, জিযইয়া নাম শুনতেই অমুসলিমদের মনে যে আতঙ্ক জাগে, তা কেবল ইসলামের শত্রুদের দীর্ঘকাল ব্যাপী অপপ্রচারের ফল। অন্যথায় এ জাতের কোন ভিত্তি নেই। জিযইয়া মূলত ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের যে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জীবন যাপনের সুযোগ পায় তারই বিনিময়। ইওরোপে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কেবল সক্ষম ও প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের কাছ থেকে এটা নেয়া হয়। এটাকে যদি ইসলাম গ্রহণ না করার জরিমানা বলা হয়, তা হলে যাকাতকে কি বলা হবে? যাকাত তো শুধু সক্ষম পুরুষই নয়; বরং নারীর কাছ থেকেও আদায় করা হয়। এটা কি তা হলে ইসলাম গ্রহণের জরিমানা?

টিকাঃ
১০৯. জিযইয়া (جِزْيَة) আরবি শব্দ, যার অর্থ বিনিময়। ইসলামে এটি একটি অমুসলিম নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলামী রাষ্ট্রকে অমুসলিম নাগরিক দ্বারা দেওয়া হয়, এবং বিনিময়ে তাদের জান-মাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ইসলামী রাষ্ট্র দায়বদ্ধ থাকে। (মাওসুআতী, আল-আহকামুল যুলতানিয়া, পৃ.২৯৫ ; ইবনু কাইযিম, আহকামু আহলিদ যিম্মাহ, ১/৯)
১১০. হানফী মতে, উপাসনালয়ের সেবক, সন্যাসী ও ভিক্ষুক কর্মক্ষম হলে তাদেরও জিযইয়া প্রদান করতে হবে। (আল-কাসানী, বাদায়ে', খ.৭, পৃ.১২২ ; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮ পৃ.২৭০-৭১ ; ইবনু নুজাঈম, আল-বাহরুর রায়েক্ব, খ.৫, পৃ.১২৩)
১১১.
২২১. আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, পৃ. ১১২
২২২. আল-বালাজুরী, ফুতুহুল বুলদান, খ.১, পৃ.২৭২
২২৩. আল-কাসানী, বাদাই’ই, খ.৭, পৃ.১১৭; আল-মাওওয়ার্দী, আল-আhকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ.১৫৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২৭৯-৮
২২৪. আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, পৃ.৬
২২৫. প্রাগুক্ত, পৃ.৭০
২২৬. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২৭২
২২৭. আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, পৃ. ১৪৪
২২৮. প্রাগুক্ত, পৃ.৭২
২৩০. আল-কাসানী, বাদাই'ই, খ.৭, পৃ.১১২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২৭৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 খারাজ (ভূমি কর)

📄 খারাজ (ভূমি কর)


ভূমির ওপর অধিকার এবং তার উৎপাদনের ওপর আরোপিত করকে 'খারাজ' বলা হয়। মুসলিমরা যেমন তাদের ভূমি থেকে উৎপন্ন ফসলের ‘উশর আদায় করে থাকে, তেমনি অমুসলিমদেরও তাদের ভূমি থেকে উৎপন্ন ফসলের একটি নির্ধারিত পরিমাণ শস্য খারাজ হিসেবে আদায় করতে হবে। তবে সরকার ইচ্ছে করলে ভূমির আয়তন ও ফসলের প্রকৃতি বিচার করে বার্ষিক একটা পরিমাণ ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করে দিতে পারে। উল্লেক্ষ্য যে, খারাজ ভূমি উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আরোপ করা হবে। অতএব ঘর-বাড়ি ওপর ফসলের অনুপযোগী অনাবাদী জমির ওপর কোন কর আরোপ করা হবে না। তবে ফসলের উপযোগী ভূমিতে ফসল ফলানো না হলেও খারাজ আদায় করতে হবে। ওপরে এর ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের বেলায় প্রযোজ্য হবে। ২৩১

টিকাঃ
২৩১. আল-কাসানী, বাদাই'ই, খ.৭, পৃ.৯৫-৯৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ.৫৯৪

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ‘উশুর (বাণিজ্যিক কর)

📄 ‘উশুর (বাণিজ্যিক কর)


'উশর' হল অমুসলিমদের ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর আরোপিত কর। মুসলিমদের ওপর যেমন বছরে একবার তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক, তেমনি অমুসলিমদের ওপরও বসে তাদের বাণিজ্য পণ্যের ওপর কর প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে তাদের বাণিজ্য পণ্য সামগ্রীর কি হারে কর আদায় করতে হবে তা কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য দ্বারা জানা যায় না। এটা নিছক ইজতিহাদ ও গবেষণালব্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তাই এটা নিয়ে ইয়াগণের মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। হানাফী ও হাম্বলীগণের মতে- শতকরা পাঁচ ভাগ হারে কর আদায় করতে হবে। ২৩৫ তাদের দলীল হল- হযরত উমার (রা) শতকরা পাঁচভাগ হারে অমুসলিমদের থেকে কর আদায় করতেন। মালিকীগণের মতে- অমুসলিমদের বাণিজ্য করের পরিমাণ হল শতকরা দশভাগ। শাফিঈগণের মতে, এর জন্য নির্ধারিত কোন পরিমাণ নেই। সরকার ন্যায়নীতির ভিত্তিতে সমসাময়িক পরিস্থিতি চাহিদা অনুসারে তা নির্ধারণ করবে। আমি মনে করি, এ মতই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। হানাফীগণের মতে- ব্যবসায়ী মুতা'মান হলে তার নিকট থেকে ঠিক সে পরিমাণ কর আদায় করা হবে, যে পরিমাণ কর দারুল হারবের বিদেশী ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে আদায় করে থাকে। ২৩৬ যেমন দারুল হারবের বিদেশী ব্যবসায়ীগণ থেকে শতকরা দশভাগ হারে কর আদায় করলে ইসলামী রাষ্ট্রও ঠিক দশভাগ হারে, আর যদি তারা শতকরা পাঁচভাগ হারে আদায় করে, তাহলে ইসলামী রাষ্ট্রও ঠিক পাঁচভাগ হারে কর আদায় করবে। হযরত উমার (রা) হযরত আবু মূসা আল আশ'আরী (রা)কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, خُذْ أَنْتَ مِنْهُمْ بِمَا يَأْخُذُوْنَ مِنْ تُجَّارِنَا "তুমি তাদের থেকে ঠিক তা-ই গ্রহণ করবে, যা তারা আমাদের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে গ্রহণ করে থাকে।” ২৩৭ অন্যান্য ইমাগণের মতে 'উশর আদায় করার ক্ষেত্রে যিম্মী ও মুতা'মানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সকলের জন্য একই হার প্রযোজ্য। উল্লেখ্য যে, সরকার প্রয়োজন ও কল্যাণময় মনে করলে যে কোন সময় এর কোন পণ্যের ক্ষেত্রে অমুসলিমদেরকে এ কর থেকে রেহাই দিতে পারে।

টিকাঃ
উশর (عشر) : উশর (عُشر) শব্দের অর্থ হল এক তৃতীয়াংশ এবং একদশমাংশ। শরী'আত পরিভাষায় ফসলের যাকাত অথবা শুল্কি বোঝায়। যখন প্রকার পন্য হবে। তবে এটি অমুসলিমদের ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর আরোপিত কর ব্যবহার করা হয়। (হিলাল আহমদ, আল-নিযামুছ ছালিহী ফিল উমার, খ.৩, পৃ.৪৮৭) এ অর্থের অর্থে গঠিত শব্দ রেয়েছে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِنَّ الْعُشْرَ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَلَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ “উশর কেবল ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ওপর আরোপিত হবে। মুসলিমদের ওপর কোন উশর নেই।” (আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, হা. নং: ৩০৪৬) হাদীসটিতে উশর দ্বারা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক বোঝানো হয়েছে।
২৩৫. আল-মাওসূল, ভার্মন, খ.২, পৃ.২৫৫
২৩৬. আল-সারাসী, আল-মাওসূল, খ.২, পৃ.২৫৫; আল-মাওসূল, ভার্মন, খ.২, পৃ.২৫৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৪, পৃ.২৬৯
২৩৭. আল-কাসানী, বাদাই'ই, খ.২, পৃ.১১৮; আল-মাওওসুল আল-কাফিই, পৃ.১০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00