📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 স্বতন্ত্র বেশ-ভূষা

📄 স্বতন্ত্র বেশ-ভূষা


ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পোশাক ও বেশ-ভূষার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকা প্রয়োজন।৯৮ কেননা এ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দ্বারা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে আক্বীদা নষ্ট, বিভিন্ন কুসংস্কারের প্রতি একটা জাগতিক চুক্তি তৈরি হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া এতে নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ করার কাজে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উদাহরণস্বরূপ মুসলিমদের জন্য মদ খাওয়া, রাখা ও বিক্রয় করা ফৌজদারী অপরাধ। অথচ অমুসলিমদের জন্য এটা অপরাধ নয়। এমতাবস্থায় একজন অমুসলিম যদি মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরে, তবে সে এ জাতীয় অপরাধ করে গেলেও তার পোশাক দেখে রেহাই পেতে পারে। আর কোন অমুসলিম মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরলে সে পুলিশদের ধোঁকাও শিকার হতে পারে। এ কারণে ইসলামী রাষ্ট্রীয় পরিচয় লাভের সুবিধার্থে অমুসলিমদের পোশাক বা বেশভূষা মুসলিমদের থেকে আলাদা হওয়া দরকার। সম্ভবত এ অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই সর্বপ্রথম হযরত 'উমার ইবনু 'আবদিল 'আযীয (রহ.) খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের মতো পোশাক বা পাগড়ী পরতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খালীফা হারুনুর রশীদ হযরত 'উমার (রহ.)-এর মতো খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের অনুরূপ পোশাক পরিধান না করার জন্য একটি সাধারণ নির্দেশ জারি করেন। কথিত আছে যে, খালীফা মুতাওয়াক্কাল অমুসলিমদের পোশাকের জন্য হলুদ রং এবং ফাত্বিমী শাসক হাকিম কালো রং নির্ধারণ করেছিলেন। হিজরী অষ্টম শতাব্দীতে মিসর ও সিরিয়ায় খ্রিস্টানরা নীল, ইয়াহুদীরা হলুদ এবং সামিরীরা১০৭ লাল রং ব্যবহার করত। তারা এই বর্ণের সিঁড়, পাগড়ী ও গলবন্দ্র ব্যবহার করতে পারত।১০৮ ফাজ্জাতুল্লার মতে, কোন বিশেষ ধরনের পোশাক বা পোশাকের রঙ যদি অমুসলিমদের পরিচয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়, তবে মুসলিমদের জন্য তা ব্যবহার করা জায়িয নয়।১০৯

টিকাঃ
৯৮. আল-কাসানী, বাদায়ে', খ.৭, পৃ.১০০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী খ.৮, পৃ.১৩৯
১০৬. সামিরী : একটি ইয়াহুদী সম্প্রদায়।
১০৭. আল-কাসসানী, সুকুদ আ'ম্মা, খ.১০, পৃ.৭৫
১০৮. আল-বালাদানী, তাদাব্বুর জিযইয়া, খ.৪, পৃ.৭৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00