📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা 📄 অমুসলিমদের যাবহকৃত প্রাণি ভক্ষণ

📄 অমুসলিমদের যাবহকৃত প্রাণি ভক্ষণ


অমুসলিমদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি ভক্ষণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়; তবে ব্যবহারকারী আহলে কিতাব হলে তাদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি ভক্ষণ করা জায়িয রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ- “আহলে কিতাবের ব্যবহৃত প্রাপ্তি৯৩ তোমাদের জন্য হালাল আর তোমাদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি তাদের জন্য হালাল।"৯৪ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও আহলে কিতাবের ব্যবহৃত প্রাপ্তি৯৫ ভক্ষণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ করেন। হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَأَهْدَتْ لَهُ يَهُودِيَّةٌ بِخَيْبَرَ شَاةً مَصْلِيَّةً فَأَكَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهَا وَأَكَلَ الْقَوْمُ
“খায়বারের জনৈকা ইয়াহুদী মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একটি ভুনাবিশিষ্ট ছাগল-বকরি হাদীয়া দেয়। তিনি নিজে তা ভক্ষণ করলেন এবং তাঁর সাথীরাও তা ভক্ষণ করলেন।"৯৬ হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ইয়াহুদীর কষাই করা গোশত ও গমের বার্গার খাওয়া অনুমোদন করেছিলেন।৯৭

টিকাঃ
৯৩. আয়াতে طَعَام মানে ব্যবহৃত প্রাপ্তিকে বুঝানো হয়েছে। হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস, ইকরামা, মুজাহিদ, সাঈদ ইবনু যুবায়র, যাহ্হাক, হাসান ও সুদ্দী (রহ.) প্রমুখ বিশিষ্ট মুফাস্সির ও ব্যাখ্যাই করেছেন। (ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খ.৩,পৃ.৮০)
৯৪. আল-কুর'আন, ৫ (সুরাতুল মাইদাহ) : ৫
৯৫. অমুসলিমদের পক্ষ থেকে আহলে কিতাবের যাবতীয় দ্রব্য হালাল হয় এবং তাদের মহিলাকে বিয়ে করা অর্থ হারব কারণ তাদের সাথে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকে কারণ তারা ইমামগণের ক্ষমতাকে স্বীকার করে নিয়েছে। আর তাদের সকল বিধানের ব্যাপারে তাদের অনুসরণ করে থাকে। এ ছাড়া এতটুকু তাও তারা মেনে নিয়েছে যে, তারা আমাদের শত্রু বা আমাদের বিরোধিতার কারণ হতে পারে না। অনুরূপভাবে ইজমা রয়েছে যে, সে খ্রিস্টানরা যাদের সাথে আমাদের বিয়ে দেয়া হয়, তাদের কেউ কেউ ধর্মত্যাগী, আবার কেউ নাস্তিক। তাদের অনেকেরই মধ্যে আল্লাহ্র অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই নেই। আবার অনেকেই হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতও কিংবা আসমানী গ্রন্থ ইঞ্জিলকেও আসমানী গ্রন্থ বলে স্বীকার করে না।
৯৬. আবূ দাউদ, (কিতাবুন ছিয়াম), হা.নং: ৩৪৯২
৯৭. আবূ দাউদ, আল-মুনানাদ, আসমানী ইবনু মালিক (রা.), হা.নং: ২৯৯২৪, ৩৩৬৭

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা 📄 স্বতন্ত্র বেশ-ভূষা

📄 স্বতন্ত্র বেশ-ভূষা


ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পোশাক ও বেশ-ভূষার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকা প্রয়োজন।৯৮ কেননা এ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দ্বারা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে আক্বীদা নষ্ট, বিভিন্ন কুসংস্কারের প্রতি একটা জাগতিক চুক্তি তৈরি হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া এতে নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ করার কাজে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উদাহরণস্বরূপ মুসলিমদের জন্য মদ খাওয়া, রাখা ও বিক্রয় করা ফৌজদারী অপরাধ। অথচ অমুসলিমদের জন্য এটা অপরাধ নয়। এমতাবস্থায় একজন অমুসলিম যদি মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরে, তবে সে এ জাতীয় অপরাধ করে গেলেও তার পোশাক দেখে রেহাই পেতে পারে। আর কোন অমুসলিম মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরলে সে পুলিশদের ধোঁকাও শিকার হতে পারে। এ কারণে ইসলামী রাষ্ট্রীয় পরিচয় লাভের সুবিধার্থে অমুসলিমদের পোশাক বা বেশভূষা মুসলিমদের থেকে আলাদা হওয়া দরকার। সম্ভবত এ অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই সর্বপ্রথম হযরত 'উমার ইবনু 'আবদিল 'আযীয (রহ.) খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের মতো পোশাক বা পাগড়ী পরতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খালীফা হারুনুর রশীদ হযরত 'উমার (রহ.)-এর মতো খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের অনুরূপ পোশাক পরিধান না করার জন্য একটি সাধারণ নির্দেশ জারি করেন। কথিত আছে যে, খালীফা মুতাওয়াক্কাল অমুসলিমদের পোশাকের জন্য হলুদ রং এবং ফাত্বিমী শাসক হাকিম কালো রং নির্ধারণ করেছিলেন। হিজরী অষ্টম শতাব্দীতে মিসর ও সিরিয়ায় খ্রিস্টানরা নীল, ইয়াহুদীরা হলুদ এবং সামিরীরা১০৭ লাল রং ব্যবহার করত। তারা এই বর্ণের সিঁড়, পাগড়ী ও গলবন্দ্র ব্যবহার করতে পারত।১০৮ ফাজ্জাতুল্লার মতে, কোন বিশেষ ধরনের পোশাক বা পোশাকের রঙ যদি অমুসলিমদের পরিচয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়, তবে মুসলিমদের জন্য তা ব্যবহার করা জায়িয নয়।১০৯

টিকাঃ
৯৮. আল-কাসানী, বাদায়ে', খ.৭, পৃ.১০০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী খ.৮, পৃ.১৩৯
১০৬. সামিরী : একটি ইয়াহুদী সম্প্রদায়।
১০৭. আল-কাসসানী, সুকুদ আ'ম্মা, খ.১০, পৃ.৭৫
১০৮. আল-বালাদানী, তাদাব্বুর জিযইয়া, খ.৪, পৃ.৭৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية