📄 অমুসলিমদের বিয়ে
মুসলিমদের জন্য ডিউ আসমানী কিতাবের অনুসারী (ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান) মহিলাকে বিয়ে করা জায়িয।৮৩ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, تُزَوَّجُ نِسَاءُ أَهْلِ تَرَوْنَ نِسَاءَ أَهْلِ الْكِتَابِ- “তোমরা আহলে কিতাবের মহিলাদেরকে বিয়ে করো; কিন্তু তারা আমাদের মহিলাদেরকে বিয়ে করবে না।"৮৫ আহলে কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী মহিলাকে বিয়ে করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়।৮৬ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ- “তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে বিয়ে করো না, যে যাবত না তারা ঈমান আনয়ন করে।"৮৭
কোন মুসলিম মহিলার জন্য কোন অমুসলিমকে বিয়ে করা জায়িয নেই। চাই সে আহলে কিতাব হোক কিংবা অন্য কোন ধর্মাবলম্বী। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا- “তোমরা (তোমাদের ঈমানদের মেয়েদেরকে) মুশরিক পুরুষদের কাছে বিয়ে দিও না, যে যাবত না তারা ঈমান আনবে।"৮৮ আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ “হে ঈমানদাররা, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরাত করে আগমন করবে, তখন তাদেরকে যাচাই কর। আল্লাহ তা'আলা তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফিরদের কাছে ফেরত পাঠাবে না। এরা কাফিরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফিররা এদের জন্য হালাল নয়।"৮৯ এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, কোন কাফিরের সাথে ঈমানদার মহিলার বিয়ে বৈধ নয়।
এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, আহলে কিতাবের মহিলাদেরকে মুসলিমরা বিয়ে করতে পারলে আহলে কিতাব পুরুষ মুসলিম মহিলাদের বিয়ে করতে পারবে না কেন? এ 'Superiority complex'-এর হেতু কি? এ প্রশ্নের উত্তর হল- উপরিউক্ত বিধানের ভিত্তি একটি নিগূঢ় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পুরুষরা সাধারণত প্রভাবিত হয় কম এবং প্রভাব বিস্তার করে অধিক। আর নারীরা সাধারণত প্রভাবিত হয় বেশি এবং প্রভাব বিস্তার করে কম। একজন অমুসলিম নারী যদি কোন মুসলিমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে তার দ্বারা এ মুসলিম ব্যক্তিকে অমুসলিম বানানোয় আশঙ্কা খুবই কম; বরঞ্চ তারই মুসলিম হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু একজন মুসলিম নারী কোন অমুসলিম ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তার অমুসলিম হয়ে যাবার আশঙ্কাই বেশি এবং তার স্বামী ও সন্তানদের মুসলিম বানাতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম। এ জন্য নিজ কন্যাদের অমুসলিমদের নিকট বিয়ে দেবার অনুমতি মুসলিমদের দেয়া হয়নি। অবশ্য আহলে কিতাবের কোন ব্যক্তি মুসলিম কন্যাকে কোন মুসলিমের নিকট বিয়ে দিতে রাযী হলে সে তাকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু কুর'আনের যে জায়গায এ অনুমতি প্রদান করা হয়েছে সেখানে এ মর্মও দেয়া হয়েছে যে, তোমরা যদি অমুসলিম স্ত্রীর প্রেমে বিগলিত হয়ে নিজেদের দীন খুইয়ে ফেল, তবে তোমাদের সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকবে। তা ছাড়া এ অনুমতি কেবল বিশেষ প্রয়োজনের সময়ই কার্যকর করা যাবে। এটা কোন সাধারণ অনুমতি নয় এবং পছন্দনীয় কাজও নয়; বরং কোন কোন অবস্থায় তো এ কাজ করতে নিষেধও করা হয়েছে, যাতে মুসলিম সোসাইটিতে অমুসলিম লোকদের আনাগোনায় কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ফাসাদিক ধারণার বিকাশ ও লালন হতে না পারে।৯০ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন হাদীসে৯১ মুসলিমদেরকে দীনদার মেয়েদেরকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তাদের স্ত্রীর দ্বারা তাদের দীনের আকর্ষণ পালনের ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে এবং তাদের সন্তানরাও দীনদার রূপে গড়ে উঠতে পারে। অতএব ইসলামে যেখানে কোন আবাসিক মুসলিমের সাথে বিবাহ সম্পর্ক করা হয়নি, সে ক্ষেত্রে অমুসলিম মেয়ের সাথে কিতাবের বিবাহ পছন্দ করা হল? এ কারণে হযরত 'উমার (রা) যখন সংবাদ পেলেন যে, ইরাক ও শাম দেশের কোন কোন মুসলিমের অমুসলিম স্ত্রী রয়েছে এবং দিন দিন তাদের সংখ্যা বেড়ে চলছে, তখন তিনি ফরমান জারী করলেন যে, তা হতে পারে না। তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হলো যে, এটা বেদ্বীনী ও ধর্মীয় জীবনের জন্য যেমন অকল্যাণকর, তেমনি রাজনৈতিক দিক দিয়েও ক্ষতির কারণ।৯২
টিকাঃ
৮৪. ফিক্বহী ক্ষেত্রে অমুসলিমদের বিয়ে করা জায়িয, যদি সে প্রকৃতই তাঁর ধর্মের অনুসারী হয়। এটিই অধিকাংশের অভিমত। তবে ইবনু 'উমর (রা) কিতাবী মেয়েকেও বিয়ে করা মাকরূহ জ্ঞানতেন। (ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, ख.১,পৃ.৫৬) তা ছাড়া তাঁর পুত্র 'আবদুল্লাহ (রা)ও কিতাবী মেয়েকে বিয়ে করা সমীচীন মনে করতেন না। হযরত নাফি' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রা)কে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান মহিলাকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি জবাব দেন,
إِنَّ اللهَ عَزَّمَ الْمُشْرِكَاتِ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلَمْ يُحَرِّمْ مِنَ الْكِتَابِيَّاتِ شَيْئًا وَهُمُ أَكْثَرُ مَنْ أَنْ تَقُوْلَ الْمَرْأَةُ رَبُّهَا عِيسَى وَهُوَ عَبْدُ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ-
“আল্লাহ তা'আলা মু'মিনদের জন্য মুশরিক মহিলাদের হারাম করেছেন। আর কোন মহিলা হারামও করা (আ)কে তার রব বলে ডাকবে, আমি এর চেয়ে বড় কোন শিরক আছে বলে জানি না। অথচ তিনি হলেন আল্লাহ্র একজন বান্দা।" (সহীহ আল বুখারী, [কিতাবুত তালাক], হা.নং ৪৯৮৭) বর্তমান উলামায়ে কেরাম ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান মহিলা বিয়ের ক্ষেত্রে 'আক্বীদা-বিশ্বাস পোষণ করে না, তবে বিয়ে করা কোন অবস্থাতেই সমীচীন হবে না। যেমন বর্তমানে ইজতেমাগুলোও সাধারণ মানুষ খ্রিস্টান মনে করে, অথচ দেখা যায়, তাদের কেউ কেউ ধর্মত্যাগী, আবার কেউ নাস্তিক। তাদের অনেকেরই মধ্যে আল্লাহ্র অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই নেই। আবার অনেকেই হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতও কিংবা আসমানী গ্রন্থ ইঞ্জিলকেও আসমানী গ্রন্থ বলে স্বীকার করে না। সুতরাং এ ধরনের মহিলাকে 'কিতাবী মেয়ে' রূপে বিবেচনা করা এবং বিয়ে করা সঙ্গত হবে না। (শুকরী, ফতওয়া মুহাম্মাদ, 'আছারিউল কুরআন', পৃ.২৯৯)
৮৫. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খ.১, পৃ.৫৮৬
৮৬. অধিকাংশের মতে মুশরিক মুসলিম মহিলাকে বুঝতে ধর্মত্যাগী মহিলাকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কিতাবীও অকিতাবী মহিলা এ আলোচনার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত নয়। হযরত ইবনু 'আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরামা, সাঈদ ইবনু যুবায়র ও যাহ্হাক (রহ.) প্রমুখ বিশিষ্ট মুফাস্সির ও মতই পোষণ করেছেন।
৮৭. আল-কুর'আন, ২ (সুরাতুল বাক্বারাহ) : ২২১
৮৮. আল-কুর'আন, ২ (সুরাতুল বাক্বারাহ) : ২২১
৮৯. আল-কুর'আন, ৬০ (সুরাতুল মুমতাহিনাহ) : ১০
৯০. মাজমু', ফতওয়া খ.৩০, পৃ.৩৩৬
৯১. যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى دِيْنِهَا "তোমরা নারীদের ধর্মীয় কারণে বিয়ে করো।” (বুখারী, আল-মুনানুল কুবরা, [কিতাবুন নিকাহ], খ.৭, পৃ.৭)
৯২. শরী', ফতওয়া পৃ. ১৪০
📄 অমুসলিমদের যাবহকৃত প্রাণি ভক্ষণ
অমুসলিমদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি ভক্ষণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়; তবে ব্যবহারকারী আহলে কিতাব হলে তাদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি ভক্ষণ করা জায়িয রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ- “আহলে কিতাবের ব্যবহৃত প্রাপ্তি৯৩ তোমাদের জন্য হালাল আর তোমাদের ব্যবহৃত প্রাপ্তি তাদের জন্য হালাল।"৯৪ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও আহলে কিতাবের ব্যবহৃত প্রাপ্তি৯৫ ভক্ষণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ করেন। হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَأَهْدَتْ لَهُ يَهُودِيَّةٌ بِخَيْبَرَ شَاةً مَصْلِيَّةً فَأَكَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهَا وَأَكَلَ الْقَوْمُ
“খায়বারের জনৈকা ইয়াহুদী মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একটি ভুনাবিশিষ্ট ছাগল-বকরি হাদীয়া দেয়। তিনি নিজে তা ভক্ষণ করলেন এবং তাঁর সাথীরাও তা ভক্ষণ করলেন।"৯৬ হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ইয়াহুদীর কষাই করা গোশত ও গমের বার্গার খাওয়া অনুমোদন করেছিলেন।৯৭
টিকাঃ
৯৩. আয়াতে طَعَام মানে ব্যবহৃত প্রাপ্তিকে বুঝানো হয়েছে। হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস, ইকরামা, মুজাহিদ, সাঈদ ইবনু যুবায়র, যাহ্হাক, হাসান ও সুদ্দী (রহ.) প্রমুখ বিশিষ্ট মুফাস্সির ও ব্যাখ্যাই করেছেন। (ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খ.৩,পৃ.৮০)
৯৪. আল-কুর'আন, ৫ (সুরাতুল মাইদাহ) : ৫
৯৫. অমুসলিমদের পক্ষ থেকে আহলে কিতাবের যাবতীয় দ্রব্য হালাল হয় এবং তাদের মহিলাকে বিয়ে করা অর্থ হারব কারণ তাদের সাথে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকে কারণ তারা ইমামগণের ক্ষমতাকে স্বীকার করে নিয়েছে। আর তাদের সকল বিধানের ব্যাপারে তাদের অনুসরণ করে থাকে। এ ছাড়া এতটুকু তাও তারা মেনে নিয়েছে যে, তারা আমাদের শত্রু বা আমাদের বিরোধিতার কারণ হতে পারে না। অনুরূপভাবে ইজমা রয়েছে যে, সে খ্রিস্টানরা যাদের সাথে আমাদের বিয়ে দেয়া হয়, তাদের কেউ কেউ ধর্মত্যাগী, আবার কেউ নাস্তিক। তাদের অনেকেরই মধ্যে আল্লাহ্র অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই নেই। আবার অনেকেই হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াতও কিংবা আসমানী গ্রন্থ ইঞ্জিলকেও আসমানী গ্রন্থ বলে স্বীকার করে না।
৯৬. আবূ দাউদ, (কিতাবুন ছিয়াম), হা.নং: ৩৪৯২
৯৭. আবূ দাউদ, আল-মুনানাদ, আসমানী ইবনু মালিক (রা.), হা.নং: ২৯৯২৪, ৩৩৬৭
📄 স্বতন্ত্র বেশ-ভূষা
ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পোশাক ও বেশ-ভূষার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকা প্রয়োজন।৯৮ কেননা এ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দ্বারা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে আক্বীদা নষ্ট, বিভিন্ন কুসংস্কারের প্রতি একটা জাগতিক চুক্তি তৈরি হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া এতে নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ করার কাজে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উদাহরণস্বরূপ মুসলিমদের জন্য মদ খাওয়া, রাখা ও বিক্রয় করা ফৌজদারী অপরাধ। অথচ অমুসলিমদের জন্য এটা অপরাধ নয়। এমতাবস্থায় একজন অমুসলিম যদি মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরে, তবে সে এ জাতীয় অপরাধ করে গেলেও তার পোশাক দেখে রেহাই পেতে পারে। আর কোন অমুসলিম মুসলিমদের সদৃশ পোশাক পরলে সে পুলিশদের ধোঁকাও শিকার হতে পারে। এ কারণে ইসলামী রাষ্ট্রীয় পরিচয় লাভের সুবিধার্থে অমুসলিমদের পোশাক বা বেশভূষা মুসলিমদের থেকে আলাদা হওয়া দরকার। সম্ভবত এ অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই সর্বপ্রথম হযরত 'উমার ইবনু 'আবদিল 'আযীয (রহ.) খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের মতো পোশাক বা পাগড়ী পরতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খালীফা হারুনুর রশীদ হযরত 'উমার (রহ.)-এর মতো খ্রিস্টানদেরকে মুসলিমদের অনুরূপ পোশাক পরিধান না করার জন্য একটি সাধারণ নির্দেশ জারি করেন। কথিত আছে যে, খালীফা মুতাওয়াক্কাল অমুসলিমদের পোশাকের জন্য হলুদ রং এবং ফাত্বিমী শাসক হাকিম কালো রং নির্ধারণ করেছিলেন। হিজরী অষ্টম শতাব্দীতে মিসর ও সিরিয়ায় খ্রিস্টানরা নীল, ইয়াহুদীরা হলুদ এবং সামিরীরা১০৭ লাল রং ব্যবহার করত। তারা এই বর্ণের সিঁড়, পাগড়ী ও গলবন্দ্র ব্যবহার করতে পারত।১০৮ ফাজ্জাতুল্লার মতে, কোন বিশেষ ধরনের পোশাক বা পোশাকের রঙ যদি অমুসলিমদের পরিচয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়, তবে মুসলিমদের জন্য তা ব্যবহার করা জায়িয নয়।১০৯
টিকাঃ
৯৮. আল-কাসানী, বাদায়ে', খ.৭, পৃ.১০০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী খ.৮, পৃ.১৩৯
১০৬. সামিরী : একটি ইয়াহুদী সম্প্রদায়।
১০৭. আল-কাসসানী, সুকুদ আ'ম্মা, খ.১০, পৃ.৭৫
১০৮. আল-বালাদানী, তাদাব্বুর জিযইয়া, খ.৪, পৃ.৭৩