📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 মজলিসে শূরা বা আইনসভার সদস্য

📄 মজলিসে শূরা বা আইনসভার সদস্য


ইসলামী রাষ্ট্র একটা আদর্শবাদী রাষ্ট্র হবার কারণে তার মজলিসে শূরার সকল সদস্য মুসলিম হওয়া শর্ত। এখানে অমুসলিম প্রতিনিধিত্ত্ব বিযুক্ত নয়। এটাই মূল কথা। তবে বর্তমানে মুসলিম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে সমসাময়িক অবস্থার দাবী অনুযায়ী মজলিসে শূরার মধ্যে এ শর্তে নির্দিষ্ট সংখ্যক অমুসলিম প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে যে, দেশের শাসনতন্ত্রে এ মর্মে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, ১. দেশের আইনের প্রধান উৎস হবে কুর‘আন ও সুন্নাহ। ২. আইন সভা কুর‘আন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। ৩. আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের কাজটি যে ব্যক্তি করবেন, তিনি মুসলিম হবেন। ৮৩ তারা মজলিসে শূরার তাদের জনগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং রাষ্ট্রের পরিচালনা ও শাসন সংক্রান্ত সাধারণ বিষয়সমূহে নিজেদের মতামত পেশ করবে এবং ভোট দেবে। শারঈ বিষয়সমূহে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায় তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে না।

টিকাঃ
৮৩. মাওদূদী, আহকাম, পৃ. ৪০৬

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

📄 দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি


অমুসলিমরা দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে। কারণ আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এককভাবে শুধু মুসলিমদের দায়িত্ব। কারণ আইনগত আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। তা ছাড়া যুদ্ধের সময় নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি মেনে চলাও তাদের পক্ষে সম্ভব। অন্যরা দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করলে তাঅদেও দেশের মত লব্দ এবং ইসলামের নির্ধারিত নৈতিক সীমা রক্ষা করতে পারবে না। এ জন্য ইসলামে অমুসলিমদের দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং এর পরিবর্তে দেশ রক্ষার কাজে ব্যয় নির্বাহে নিজেদের অংশ প্রদানেও তাদের কর্তব্য বলা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮৪ এটিই জিযইয়ার আসল তাৎপর্য। এটি শুধু যে আনুগত্যের প্রতীক, তা নয়; বরং সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি লাভ ও দেশ রক্ষার বিনিময়েও বটে। এ জন্য জিযইইয়া কেবল যুদ্ধ করতে সক্ষম পুরুষদের ওপরই আরোপ করা হয়। তবে শত্রুদের আক্রমণের সময় দেশের অমুসলিমরা যদি দেশ রক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করে, তা হলে ইসলামী সরকার ইচ্ছুর করলে তাদেরকেও দেশ রক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের জিযইইয়া রহিত করতে হবে। ৮৫

টিকাঃ
৮৪. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৯৬
৮৫. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫۱

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 মদ ও শূকরের ব্যবসা

📄 মদ ও শূকরের ব্যবসা


মুসলিমদের নিকট মদ ও শূকরের কারবার কোন মূল্যবান নেই। তাই মুসলিমদের জন্য মদ ও শূকরের বিনিময়ে লেনদেন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু অমুসলিমরা যেহেতু এ দুটি বস্তুকে বৈধ জ্ঞান করে এবং এ দুটির তাদের কাছে আর্থিক মূল্যমানও সম্প্রদায়, তাই তাদের পরস্পরের মধ্যে মদ ও শূকরের বিনিময়ে লেনদেন করলে তা বিযুক্ত হবে। তবে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে মদের ব্যবসা থেকে তাদেরকে বারণ করা হবে। ৮৬ তদুপরি মদ্যাপান যেহেতু স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সুস্থ ও পবিত্র সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা, তাই ইসলামী রাষ্ট্র জনস্বার্থে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য মদ তৈরি, সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে আইন রচনা করলে তা মেনে চলতেও সকলেই বাধ্য থাকবে।

টিকাঃ
৮৬. আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৭, পৃ.১১৩

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ক্ষতিপূরণ দান

📄 ক্ষতিপূরণ দান


যদি কোন অমুসলিম কোন মুসলিমের মদ নষ্ট করে কিংবা তার শূকরের কোন রূপ ক্ষতি সাধন করে, তা হলে ইসলামী আইন মুসলিমের জন্য এ দুটি বস্তুই মূল্যহীন হবার কারণে অমুসলিম কোনরূপ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। পক্ষান্তরে কোন মুসলিম কোন অমুসলিমের মদ নষ্ট করলে কিংবা তার শূকরের কোন রূপ ক্ষতি সাধন করলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৮৭

টিকাঃ
৮৭. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.৫, পৃ. ৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00