📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পদ

📄 রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পদ


ইসলামী রাষ্ট্র যেহেতু একটি আদর্শবাদী রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের দায়িত্ব হল ইসলামের আদর্শ ও মূলনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা, তাই ইসলামী আদর্শ ও মূলনীতির প্রতি যাদের বিশ্বাস ও আস্থা নেই, সে আর যাই হোক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের পদে কোনক্রমেই অধিষ্ঠিত হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোও সমঅধিকারের প্রশ্ন তুলে মুসলিমদের ভোটার অধিকার আইন আইন অনুসারে ফায়সালা করবে। তবে এমন রাষ্ট্রগুলো যেমন, যেখানে রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ, সেখানে তাদের সম-অধিকারের প্রশ্ন উঠলে মুসলিমদের ভোটাধিকার আইন অনুসারে ফায়সালা করা হবে না। অন্যের নহে, ইসলামী রাষ্ট্র তার আশ্রয় নিতে পারে না। জাতি-রাষ্ট্রগুলো নিজের নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনের কাজে শুধু আপন জাতির লোকজনের ওপরই নির্ভর করে, সংখ্যালঘু নাগরিকদেরও এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য মনে করে না। এ কথা স্পষ্ট করে বলা না হলেও কার্যাত এটাই হয়ে থাকে। সংখ্যালঘুদের কাউকে কখনো রাষ্ট্রের শীর্ষ পদ দেওয়া হলেও তা নিছক লোক দেখানোর ব্যাপার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে তার কোন কার্যকর ভূমিকা থাকে না।

টিকাঃ
৭৬. আবু দাউদ, (কিতাবুন জিহাদ), হা.নং: ২৬০০
৭৭. এক্ষেত্রে কেউ এ প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে যে, ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা যে কোন ধর্ম গ্রহণ করতে পারলে মুসলিমরা কেন অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারবে না? এটি কি মানুষের চিন্তার স্বাধীনতার ওপর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ নয়? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হল- সাধারণভাবে ইসলাম ত্যাগীর স্বাধীনতা রহিত করতে চাওয়া হয়। পৃথিবীতে বহু ধর্ম আছে। মানুষ বিচার-বুদ্ধি দ্বারা বিবেচনা করে যে কোন ধর্ম গ্রহণ করতে পারে। তবে একজন মুসলমানকে বিবেচনার জন্য ইসলামকে বিচার-বুদ্ধি দ্বারা বিবেচনা করতে বলা হয়। ইসলামে প্রবেশ করার পর একজন মুসলমানের বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রমাণ কোন বৈধ কারণ ছাড়া যেন না কমে। এ ক্ষেত্রে শারী‘আতী লেবু ইসলামকে গ্রহণের সপক্ষে আকৃষ্ট না করে কিংবা না জেনে-বুঝে সুনির্দিষ্ট ধর্ম গ্রহণের জন্য ইসলামের অনুবেশ প্রবেশ করে।
৭৮. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০, পৃ. ৬২; আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৪, পৃ.১৭৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 মজলিসে শূরা বা আইনসভার সদস্য

📄 মজলিসে শূরা বা আইনসভার সদস্য


ইসলামী রাষ্ট্র একটা আদর্শবাদী রাষ্ট্র হবার কারণে তার মজলিসে শূরার সকল সদস্য মুসলিম হওয়া শর্ত। এখানে অমুসলিম প্রতিনিধিত্ত্ব বিযুক্ত নয়। এটাই মূল কথা। তবে বর্তমানে মুসলিম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে সমসাময়িক অবস্থার দাবী অনুযায়ী মজলিসে শূরার মধ্যে এ শর্তে নির্দিষ্ট সংখ্যক অমুসলিম প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে যে, দেশের শাসনতন্ত্রে এ মর্মে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, ১. দেশের আইনের প্রধান উৎস হবে কুর‘আন ও সুন্নাহ। ২. আইন সভা কুর‘আন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। ৩. আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের কাজটি যে ব্যক্তি করবেন, তিনি মুসলিম হবেন। ৮৩ তারা মজলিসে শূরার তাদের জনগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং রাষ্ট্রের পরিচালনা ও শাসন সংক্রান্ত সাধারণ বিষয়সমূহে নিজেদের মতামত পেশ করবে এবং ভোট দেবে। শারঈ বিষয়সমূহে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায় তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে না।

টিকাঃ
৮৩. মাওদূদী, আহকাম, পৃ. ৪০৬

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

📄 দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি


অমুসলিমরা দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে। কারণ আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এককভাবে শুধু মুসলিমদের দায়িত্ব। কারণ আইনগত আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। তা ছাড়া যুদ্ধের সময় নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি মেনে চলাও তাদের পক্ষে সম্ভব। অন্যরা দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করলে তাঅদেও দেশের মত লব্দ এবং ইসলামের নির্ধারিত নৈতিক সীমা রক্ষা করতে পারবে না। এ জন্য ইসলামে অমুসলিমদের দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং এর পরিবর্তে দেশ রক্ষার কাজে ব্যয় নির্বাহে নিজেদের অংশ প্রদানেও তাদের কর্তব্য বলা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮৪ এটিই জিযইয়ার আসল তাৎপর্য। এটি শুধু যে আনুগত্যের প্রতীক, তা নয়; বরং সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি লাভ ও দেশ রক্ষার বিনিময়েও বটে। এ জন্য জিযইইয়া কেবল যুদ্ধ করতে সক্ষম পুরুষদের ওপরই আরোপ করা হয়। তবে শত্রুদের আক্রমণের সময় দেশের অমুসলিমরা যদি দেশ রক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করে, তা হলে ইসলামী সরকার ইচ্ছুর করলে তাদেরকেও দেশ রক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের জিযইইয়া রহিত করতে হবে। ৮৫

টিকাঃ
৮৪. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৯৬
৮৫. প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫۱

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 মদ ও শূকরের ব্যবসা

📄 মদ ও শূকরের ব্যবসা


মুসলিমদের নিকট মদ ও শূকরের কারবার কোন মূল্যবান নেই। তাই মুসলিমদের জন্য মদ ও শূকরের বিনিময়ে লেনদেন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু অমুসলিমরা যেহেতু এ দুটি বস্তুকে বৈধ জ্ঞান করে এবং এ দুটির তাদের কাছে আর্থিক মূল্যমানও সম্প্রদায়, তাই তাদের পরস্পরের মধ্যে মদ ও শূকরের বিনিময়ে লেনদেন করলে তা বিযুক্ত হবে। তবে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে মদের ব্যবসা থেকে তাদেরকে বারণ করা হবে। ৮৬ তদুপরি মদ্যাপান যেহেতু স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সুস্থ ও পবিত্র সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা, তাই ইসলামী রাষ্ট্র জনস্বার্থে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য মদ তৈরি, সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে আইন রচনা করলে তা মেনে চলতেও সকলেই বাধ্য থাকবে।

টিকাঃ
৮৬. আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৭, পৃ.১১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00