📄 ভোটাধিকার
ইসলামী রাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে অমুসলিমদের প্রতিনিধি ও ভোট দানের পূর্ণ অধিকার দেয়া যেতে পারে। আইন সভায় নিজেদের নিজস্ব প্রতিনিধি নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
📄 বাকস্বাধীনতা
ইসলামী রাষ্ট্রে একজন মুসলিম যেমন বাকস্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, নিজের মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা ভোগ করে, তেমনি অমুসলিমরাও ঠিক একই রূপ স্বাধীনতা ভোগ করবে। এ ক্ষেত্রে যে সব আইনগত বিধিনিষেধ মুসলিমদের ওপর থাকবে, তা তাদের ওপরও থাকবে। আইন সঙ্গতভাবে তারা সরকার, আমলা ব্যবস্থা এবং বরং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরও সমালোচনা করতে পারবে। ধর্মীয় আলোচনা ও গবেষণার যে স্বাধীনতা মুসলিমদের জন্য রয়েছে, তা আইন সঙ্গতভাবে তাদেরও থাকবে। ৭৯ তারা নিজেদের ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং একজন অমুসলিম যে কোন ধর্ম গ্রহণ করলে তাতে সরকারের কোন আপত্তি থাকবে না। যিনি রাষ্ট্রে যে সব মূর্তি-পূজারী ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল, কিংবা যারা ইয়াহুদী ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল, বা খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল অথবা যে সব অরিউপাসক ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তাদের কাউকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন রূপ বাধা দেননি। ৮০ হযরত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মাদীনায়) মূর্তপূজক মহিলাদের মধ্যে সাধারণত এ রীতি প্রচলিত ছিল যে, তারা মানত করত, তাদের কোন সন্তান জীবিত থাকলে তারা তাকে ইয়াহুদী বানাবে। এ জন্য দেখা যায় যে, যখন মাদীনার ইয়াহুদী গোত্র বনূ নাদীরকে নির্বাসিত করা হয়, তখন তাদের মধ্যে আনসারদের অনেক সন্তান-আরোপিত হয়েছিল। এ সময় আনসারগণ বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ছেড়ে দেব না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই”। ৮১ নিসন্দেহে খেলাফত ওমরারী থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ৮২ এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, ইসলামী রাষ্ট্রে যে কোন অমুসলিম নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোন ধর্ম অবলম্বন করতে পারবে। তবে কোন মুসলিম ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে থাকা অবস্থায় আপন ধর্ম পরিত্যাগ করতে পারবে না। এ রূপ ধর্মত্যাগী মুসলিমকে আপন ধর্মত্যাগের ব্যাপারে যে জবাবদিহীর সম্মুখীন হতে হবে, সেটা তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ৮৩ যে অমুসলিম ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সে ইসলাম ত্যাগ করেছে, তাকে এ জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না।
টিকাঃ
৭৯. মাওদূদী, ইসলামী রাষ্ট্র ও সংবিধান, পৃ. ৪০১
৮০. ইবনুল কাইয়্যিম, আহকাম, পৃ. ২৯
৭৬. আবু দাউদ, (কিতাবুন জিহাদ), হা.নং: ২৬০০
৭৭. এক্ষেত্রে কেউ এ প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে যে, ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা যে কোন ধর্ম গ্রহণ করতে পারলে মুসলিমরা কেন অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারবে না? এটি কি মানুষের চিন্তার স্বাধীনতার ওপর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ নয়? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হল- সাধারণভাবে ইসলাম ত্যাগীর স্বাধীনতা রহিত করতে চাওয়া হয়। পৃথিবীতে বহু ধর্ম আছে। মানুষ বিচার-বুদ্ধি দ্বারা বিবেচনা করে যে কোন ধর্ম গ্রহণ করতে পারে। তবে একজন মুসলমানকে বিবেচনার জন্য ইসলামকে বিচার-বুদ্ধি দ্বারা বিবেচনা করতে বলা হয়। ইসলামে প্রবেশ করার পর একজন মুসলমানের বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রমাণ কোন বৈধ কারণ ছাড়া যেন না কমে। এ ক্ষেত্রে শারী‘আতী লেবু ইসলামকে গ্রহণের সপক্ষে আকৃষ্ট না করে কিংবা না জেনে-বুঝে সুনির্দিষ্ট ধর্ম গ্রহণের জন্য ইসলামের অনুবেশ প্রবেশ করে।
৭৮. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০, পৃ. ৬২; আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৪, পৃ.১৭৯
📄 শিক্ষার অধিকার
মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেই ইসলামী রাষ্ট্রে চালু শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করবে। তবে ইসলাম ধর্মীয় বই-পুস্তকাদি পড়তে তাদেরকে বাধ্য করা যাবে না। দেশের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা তাদের নিজেদের বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ ধর্ম শিক্ষার আলাদা ব্যবস্থা করার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের থাকবে।