📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার অধিকার

📄 অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার অধিকার


ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার ক্ষেত্রে মুসলিমদের মতো একই রূপ সুবিধা লাভ করবে। তারা ব্যবসার পাশাপাশি ইজারা (leasing), মুযারা‘আহ (crop-sharing), মুদারাবারাহ (profit & loss sharing) ৭৩ ও মুশাকারাহ (co-ownership) ৭৪ প্রভৃতি পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক লেনদেন ও কারবার করতে পারবে। তবে এ সব কারবার ও লেনদেনের ক্ষেত্রে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যেমন- মদ ও শূকরের ব্যবসা) তাদেরকে ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। সুদ ও জুয়া এবং জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করে- এ ধরনের ইসলামে নিষিদ্ধ যে কোন পন্থায় অর্থনৈতিক লেনদেন করতে পারবে না। ৭৫

টিকাঃ
৭৩. মুদারাবারাহ : এক ধরনের অংশীদারিত্ব মূলক ব্যবসা, যেখানে একজন বা একপক্ষ (সাহিবুল মাল) মূলধন সরবরাহ করে এবং অপরপক্ষ ব্যাপক বাণিজ্য অভিজ্ঞতা ও শ্রম নিয়োগ করে। দ্বিতীয় পক্ষকে 'মুদারিব' (ব্যবস্থাপক) বলা হয়। এ ধরনের ব্যবসায় যে মুনাফা উপার্জিত হয় তা দু পক্ষের মধ্যে পূর্বসম্মত হারে ভাগ হয়।
৭৪. মুশাকারাহ : এক ধরনের অংশীদারী কারবার, যেখানে প্রত্যেক অংশীদার একতরে মূলধন ও ব্যবস্থাপনার সমান অথবা বিভিন্ন মাত্রায় অংশ নেয়। এ ধরনের কারবারে মুনাফা অংশীদারদের মধ্যে পূর্ব স্বীকৃত অনুপাত অনুসারে বন্টিত হয়।
৭৫. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০, পৃ. ৬৪; আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৪, পৃ.১৭৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 জমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার

📄 জমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার


অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক পরিগণিত হয়ে যাওয়ায় পর তারা তাদের জমির মালিক হবে। ইসলামী রাষ্ট্র তাদেরকে বেদখল করতে পারবে না। তদুপরি তারা নতুন জমিও ক্রয় করতে পারবে। তাদের জমির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হবে এবং তারা নিজেদের সম্পত্তি বেচা, কেনা, দান করা ও বন্ধক রাখা ইত্যাদির নিরূপণ অধিকারী হবে। ৭৬

টিকাঃ
৭৬. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৪, পৃ. ৩০৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 পারিবারিক আইনে বিচারের অধিকার

📄 পারিবারিক আইনে বিচারের অধিকার


অমুসলিমদের পারিবারিক কর্মকাণ্ড তাদের নিজস্ব পারিবারিক আইন (personal law) অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের ওপর ইসলামী বিধি-বিধান কার্যকর করা হবে না। মুসলিমদের পারিবারিক জীবনে যে সব বিষয় অবৈধ, সে সব যদি তাদের ধর্মীয় ও জাতীয় আইনে বৈধ হয়, তা হলে আদালত তাদের আইন অনুসারেই ফায়সালা করবে। উদাহরণ স্বরূপ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে, মাহর (দেনমোহর) ব্যতীত বিয়ে, ‘ইদ্দাতের’ ৭৭ মধ্যে পুনরায় বিয়ে অথবা ইসলামে যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ তাদের সাথে বিয়ে প্রভৃতি তাদের আইনের বৈধ হয়ে থাকে, তা হলে তাদের জন্য এ সব কাজ বৈধ বলে মেনে নেওয়া হবে। তবে কোন ক্ষেত্রে যদি বিদ্যমান উভয় পক্ষ স্বয়ং ইসলামী আদালতে আবেদন জানায় যে, ইসলামী আইন মোতাবেক তাদের বিবাদের ফায়সালা করা হোক, তবেই আদালত তাদের ওপর শারী‘আতের বিধান কার্যকর করবে। তা ছাড়া পারিবারিক আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বিবাদে যদি এক পক্ষ মুসলিম হয়, তা হলে ইসলামী আইন অনুযায়ী ফায়সালা করা হবে। যেমন কোন খ্রিস্টান মহিলার স্বামী যদি মুসলিম হয় এবং সে মারা যায়, তা হলে এ মহিলাকে ইসলামী আইন অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুরজনিত ‘ইদ্দাত পুরোপুরি পালন করতে হবে। ‘ইদ্দাতের মধ্যে বিয়ে করলে সে বিয়ে বাতিল হবে। ৭৮

টিকাঃ
৭৭. ইদ্দাত : বিধবা হওয়ার বা তালাক পাওয়ার পর যে নির্দিষ্ট সময় পার না হলে স্ত্রীলোকের পুনরায় বিবাহ。
৭৮. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০, পৃ-৫১

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ভোটাধিকার

📄 ভোটাধিকার


ইসলামী রাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে অমুসলিমদের প্রতিনিধি ও ভোট দানের পূর্ণ অধিকার দেয়া যেতে পারে। আইন সভায় নিজেদের নিজস্ব প্রতিনিধি নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00