📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ধর্ম-কর্ম পালনের স্বাধীনতা

📄 ধর্ম-কর্ম পালনের স্বাধীনতা


ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা নিজেদের এলাকা ও পরিমণ্ডলে স্বাধীনভাবে স্ব স্ব ধর্ম-কর্ম প্রকাশ্য ঢংঢোল পিটিয়ে পালন করতে পারবে। তবে ‘একান্ত মুসলিম জনপদে’৪২ অগত্যাপ্রচ প্রাচ্য ধর্থ-কর্ম পালন করতে দেয়া থেকে তাদেরকে বাধ্য রাখা অসঙ্গত নয়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারবে। মুসলিম জনপদগুলোতে তাদেরকে কেবল ক্রুশ ও প্রতিমাসাহী শোভাযাত্রা বের করতে এবং প্রকাশ্য ঢংঢোল বাজাতে বাজাতে বের হতে নিষেধ করা হবে। তবে মুসলিম জনপদের অভ্যন্তরে অমুসলিমদের প্রাচীন উপাসনালয় থাকলে তার অভ্যন্তরে তারা সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে। ইসলামী সরকার তাকে কোন রূপ হস্তক্ষেপ করবে না।৪৩ হযরত উসামাহ্ (রা)-এর নেতৃত্বে সিরিয়া অভিমুখে অভিযান প্রেরণের সময় তাঁর প্রতি হযরত আবূ বাকর (রা)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হিদায়াত এই ছিল যে,
وَسَوْفَ نُمْرِي زَاهِرًا بِقَوْمٍ قَدْ مَرِّغُوا أَنْفُسَهُمْ فِي الصَّوَاعِ فَنَذْمَهُمُ وَمَا مَرَّغُوا أَنْفُسَهُمُ “যাত্রাপথে তোমাদের সাথে এ রূপ অনেক লোকের সাক্ষাতও হবে, যারা তাদের জীবনকে উপাসনালয়ের মধ্যে উত্সর্গ করে দিয়েছে। তাদেরকে তোমরা তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেবে।”৪৪ অমুসলিমদেরকে তাদের বিবেকের বিরুদ্ধে কোন চিন্তা অবলম্বনে বাধ্য করা যাবে না। দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী নয় এমন যে কোন কাজ তারা আপন বিবেকের দাবি অনুসারে করতে পারবে। এ কারণে অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য কোন রূপ চাপ সৃষ্টি করা নিষেধ নয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ - “দীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই।”৪৫ অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উদ্দেশ্য করে বলেন, إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ رَسُوْلُهُ ﷺ لَا يُعَادِيْ أَحَدًا - “তুমি কি লোকদেরকে মু’মিন হবার জন্য বাধ্য করবে?৪৪৪০ অর্থাত্‍ জোর করে কাউকে মু’মিন বানানো তোমার কাজ নয়। লোকদের নিকট আল্লাহ্ বাণী পৌঁছে দেওয়াই হল তোমার একান্ত দায়িত্ব। তবে তাতে কেউ ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তা ভিন্ন কথা। এ কারণে কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করার পর যদি তা ত্যাগ করে এ প্রমাণিত হয় যে, সে একান্ত চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা হলে তার বেলায় মুরতাদের হুকম প্রযোজ্য হবে না। মুসলিমরা যে সব কাজকে পাপ ও অপরাধ মনে করে, অমুসলিমরা এ ধরনের কোন কাজকে বৈধ রূপে জানে (যেমন- মদ সেবন, শূকর পালন, ক্রয়-বিক্রয় ও তার গোস্ত ভক্ষণ, ক্রুশ বহন ও শূদ্র ধনি বাজানো এবং রামাদানের দিনে পানাহার প্রভৃতি) তা করতে তাদেরে বাধা দেয়া যাবে না, যদি না তারা তা প্রকাশ্যে মুসলিমদের মধ্যে সম্পাদন করে।৪৩ অমুসলিমরা তাদের জনপদের মধ্যে পুরাতন উপাসনালয়গুলোর সংরক্ষণ ও সরকারের পাশাপাশি নতুন উপাসনালয়ও তৈরি করতে পারবে। ‘একান্ত মুসলিম জনপদে’র অভ্যন্তরে নতুনভাবে অমুসলিমদের উপাসনালয় তৈরি করতে দেয়া যাবে না। তবে সেখানে তাদের প্রাচীন উপাসনালয় তৈরি এবং অস্থায়ী অনুষ্টান পালন করতে পারবে। মুসলিমদের হতে সে সব নগরীর পত্তন হয়েছে (যেমন- বাগদাদ, কুফা, বসরা, ওয়াসিত প্রভৃতি), সেখানে অমুসলিমদেরকে নতুনভাবে কোন উপাসনালয় তৈরির অনুমতি দেয়া হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَا تَنْهَى كُمْ فِي دَارٍ عَنْ مُفِيْهَا لَمْ يُصِيبُوا أَنْفُسَهُمْ بِالْإِسْلَامِ وَيُحَامِدُ مَا حَرَّبَ مِنْهَا - “ইসলামী ভূখণ্ডে কোন গির্জা না নির্মাণ করা যাবে, না কোন জীর্ণ শীর্ণ গীর্জার সংস্কার করা যাবে।”৪৪ অর্থাত্‍, এ ধরনের নগরীতে অমুসলিমদেরকে মদ সেবন ও শূকরের ক্রয়-বিক্রয় করা থেকেও বারণ করা হবে।৪৫ ইবনু ‘আব্বাস (রা) বলেন, “যে সব জনপদকে মুসলিমরা বাসযোগ্য বানিয়েছে, সেখানে অমুসলিমদের নতুন মন্দির, গীর্জা ও উপাসনালয় বানানো, বাদ্য বাজানো এবং প্রকাশ্যে শূকরের গোস্ত ও মদ বিক্রি করার অধিকার নেই। তবে অনারবদের হাতে আক্রান্ত, পরে মুসলিমদের হাতে বিজিত এবং মুসলিমদের বসতি স্বীকরণকারী জনপদে অমুসলিমদের অধিকার তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুসারে নির্ধারিত হবে। মুসলিমরা তা মেনে চলতে বাধ্য হবে।”৪৬ যুদ্ধের মাধ্যমে হস্তগত অমুসলিম জনপদের উপাসনালয় দখল করার অধিকার ইসলামী সরকারের রয়েছে। তবে সৌজন্যবশত এ অধিকার ভোগ করা থেকে বিরত থাকা এবং উপাসনালয়গুলোকে যে অবস্থায় রয়েছে সে অবস্থায় বহাল রাখা উত্তম। বিশিষ্ট ফকীহ আল-কাসানী বলেন, “প্রাচীন উপাসনালয়গুলোকে ধ্বংস করা কোন অবস্থায়ই বৈধ নয়।”৫৪ হযরত উমার (রা)-এর আমলে যত দেশ বিজিত হয়েছে তার কোথাও কোন উপাসনালয় ভেঙে ফেলা হয়নি বা তাতে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি। হযরত আবূ বাকর (রা)-এর আমলে হীরাবাসীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে এ কথাও লেখা হয়েছিল যে, “তাদের খানকাহ্ ও গীর্জাগুলো ধ্বংস করা হবে না। প্রয়োজনের সময় শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে সব ইমারত তারা আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে সেগুলোও নষ্ট করা হবে না। নাথুক ও ঘণ্টা বাজাতে নিষেধ করা হবে না। আর উত্সবের সময় ক্রুশ বের করার ওপরও কোন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে না।”৫৫ হযরত উমার ইবনু ‘আবদিল ‘আযীয (রহ.) আঞ্চলিক গভর্ণরদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দান করেছিলেন যে, أَلَا تُهْدِمُوا بِمَا يَرَوْهُ وَلَا كَيْنَهُ وَلَا يَشْكِ تَا - “তারা যেন কোন উপাসনালয়, গীর্জা ও অগ্নিকুণ্ড ধ্বংস না করে।”৫৬

টিকাঃ
৫। একান্ত মুসলিম জনপদ বলতে সে সব অঞ্চলকে বুঝানো হয়, যে সব এলাকার কৃতপক্তি মুসলিমদেরকে ধারণাকল্পও এবং সে সব এলাকাকে মুসলিমরা ইসলামী অনুষ্ঠানাদি উপাসনাঘর জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়েছে।
৬। আল-কাসানী, বাদাই’ই খ.৭,পৃ.১১৩
৭। তাবরী, জারীদুল উমাম ওয়া তামুল মুম্লুক খ.২,পৃ.৫৪৩
৮। আল-কুর’আন, ২ (সূরাতুল বাক্বারাহ) ২৫৬
৯। আল-কুর’আন, ১০ (সূরা ইউনুছ) ৯৯
৫১। আল-কাসানী, বাদাই’ই খ.৭,পৃ.১১২
৫২। আল-কাসানী, বাদাই’ই খ.৭,পৃ.১১২
৫৩। ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, আল-মিদয়ায়াহ্., হা.নং: ৭৪৩১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯,পৃ.২৫৫
৫৪। ইবনু কুদামা, আল-মুদয়ায়াহ্, খ.৯,পৃ.২৫৫
৫৫। মাওদুদী, ইসলামে রাষ্ট্র অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা। পৃ.৫৭

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 জীবিকা উপার্জন ও চাকুরীর অধিকার

📄 জীবিকা উপার্জন ও চাকুরীর অধিকার


জীবিকা উপার্জনের জন্য অমুসলিমরা তাদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যে কোন কর্ম ও পেশা অবলম্বন করতে পারবে। তাদেরকে নিজেদের বিবেকের বিরুদ্ধে কোন কর্ম ও পেশা অবলম্বনে বাধ্য করা না। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারিগরি, কৃষি ও চাকুরী প্রকৃতির হার তাদের সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ সব ক্ষেত্রে মুসলিমরা যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে, অমুসলিমরাও তা ভোগ করবে। তাদের মধ্যে কোন রূপ বৈষম্য সৃষ্টি করা চলবে না। চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের যোগ্যতার মাপকাঠি হবে একটাই এবং এ ধরণের তথায় পরিশেষে নয়, একমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।৫৭ মোগল সম্রাট আওরঙ্গকেব যখন রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে অমুসলিমদের নিয়োগ দানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তাঁর জবাবে তিনি বলেছিলেন, “যোগ্য ব্যক্তিকে যথোপযুক্ত স্থানে নিয়োগ দেওয়াই হল ইসলামী শরীয়াহর নীতিমালা দাবি।”৬০ তাঁর ৩৫ বছরের শাসনামলে বহু হিন্দু-অমুসলিম প্রশাসন উচ্চপদে নিয়োগিত ছিল। যেমন জশবঙ্গ সিংহ, রাজা রামকরণ, কবির সিংহ, অর্জননাথ সিংহ, প্রেমদেব সিংহ, দীলিপ রায় ও রসিক লাল প্রমুখ। স্যার মার্ক্স শালীন খাঞ্চজা হুকুমের শাসনামলের কথা লেখেন এভাবে- “খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক, ইহুদী ও মুসলিমরা ইসলামী সরকারের কর্মচারি হিসেবে সমান অধিকার নিয়ে কর্মরত ছিলেন।”৬১ তবে রাষ্ট্রের আদর্শ ও নিরাপত্তাগত প্রয়োজনে যে সব দায়িত্ব পালনের জন্য মুসলিম জনবল রয়েছে (যেমন- রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাবাহিনী, মুসলিম আদালতের কাজী প্রভৃতি), সে সব ক্ষেত্রে অমুসলিমদেরকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। এগুলো ছাড়া বাদবাকী সমগ্র প্রশাসনের বড় বড় সকল পদে (যেমন- মহা হিসাব রক্ষক, প্রধান হিসাব নিয়ন্ত্রক, মহাপ্রাপ্যশালী ও পোষ্ট মাষ্টার জেনারেল প্রভৃতি), এমনকি নির্বাহী ক্ষমতা সম্পন্ন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও যোগ্যতা সাপেক্ষে অমুসলিমদেরকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। অনুপভাবে সেবাবাহিনীতেও কেবল প্রত্যক্ষ যুদ্ধ সংক্রান্ত দায়িত্বের তাদেরকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। তবে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়- সামরিক বিভাগের এমন সব দায়িত্বে তাদেরকে নিয়োগ দিতে কোন বাধা নেই।৬২ উল্লেখ যে, রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাবাহিনী, বিচারপতি ও এ ধরনের অন্য যে সব শীর্ষ পদে আসীন হয়ে সরকারের নীতির নির্ধারনে অংশীদারি হওয়ার কথা, সে সব পদে কোন অমুসলিম সমাসীন হতে পারবে না- এর কারণ কোন সংকীর্ণতা বা জাতি বিদ্বেষ নয়; বরং এর যথার্থ কারণ হল, ইসলামী রাষ্ট্র একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র। তাই এ রাষ্ট্রের এ সব পদে এমন ব্যক্তিরাই প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে, যারা এ আদর্শে খুব শিষ্টতা ভালোভাবে অনুবাদন করে এবং এদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বলে মানে। এ সব লোক থেকেই এ আশা করা যেতে পারে যে, তারা পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে নিজেদের দীন ও ইসলামী দায়িত্ব মনে করে এ রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করবে। অপরদিকে ইসলামী রাষ্ট্র যেহেতু নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তাই রাষ্ট্রের কোন অমুসলিম নাগরিক নিছক জীবিকা ও পদমর্যাদা লাভের খাতিরে এ ব্যবস্থার পরিচালনা ও উচ্চপদ সাধনের কাজে আত্মনিয়োগ করলে, ইসলাম তা পছন্দ করে না। কেননা যারা ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তাদেরকে যদি রাষ্ট্রের উপযুক্ত শীর্ষ পদসমূহে আসীনও করা হয়, তবে তারা এ আদর্শের সিদ্ধিটি অনুসরণ করতে সক্ষম হবে না এবং সে অনুযায়ী কাজ করতেও পারবে না। আর এ আদর্শের জন্য তাদের সে রূপ আন্তরিকতাও সৃষ্টি হবে না, যার ওপর রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ভিন্ন প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

টিকাঃ
৫৮। আল-কাসানী, বাদাই’ই খ.৭,পৃ.১১২
৫৯। আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, পৃ.১১৪
৬০। আল-মাওছু আউন ফিক্বাহিয়া, খ.৭,পৃ.২৫১
৬১। বছরপ্রতি, কিরা দ্বিতীয় বা সামপ্রতিক সংকীর্ণ চিন্তাক মাত্র এক রাতের কোন পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া ইসলামে মহত্বপূর্ণ। হযরত আবূ বাকর (রা) হযরত ইছাদ ইবনু আবী সুফইয়ান (রা) কে আমীর দিচ্ছিল ফিরিয়ায় প্রেরণের সময় ফরমান করেন, فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْقِسْطَ إِنْ وَوَيْهِ هُمُ الْمُشْرِكُونَ تَقِفُ وَلَا تَقْتُلُوا وَلَا تَنْفِرُوا وَلَا تَتَغَرَّبُوا وَلَا تَتَرَيَّصُوا وَلَا تَتَبَطَّرُوا فِي الْأَرْضِ مَا جَاءَ بِهِ اللَّهُ وَلَا يَخْرُقْ وَلَا يَصْرِفُ مَرَةً سَنَّةً وَلَا يَضَعُ مُرَةً فِي مَعْرُوفٍ وَلَا يَسْرِفُ مَرَةً فِي مَحْفُوظٍ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ “হে ইয়াযীদ, তোমার আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। আমি তোমার দিক থেকে এটা সর্বাধিক আশঙ্কা করছি যে, তুমি বিজিত পক্ষ নিরোধের ব্যাপারে তাদেরকে অধিকার প্রদান করবে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, কোন ব্যক্তি মুসলিমদের কোন কাজও দায়িত্ব দিতে হবে না। দায়িত্বশীলদের পদ থেকে কাজের কারণে তাদের বিভাগ দ্বারা যখন ইসলাম গ্রহণ করা হবে না তখন তাদের কর্তব্য হবে সকল জাতির সকল প্রকার জনপদের ক্ষমতা ও সকল ইছাদ (যারা কাজ করবে তারা তোমারা বা নিয়মিত) গ্রহণ করবে না, সে যখন ও তাকে দায়িত্বের দাবি দল করেন।” (আহমাদ, আল-মুনীব (মুসনাদু আবি বাকরা), হা.নং: ২১; হাকীম, আল-মুসতাদরাক্ব, কিতাবুল আহকাম, হা.নং: ৭৬৯৪)
৬০। নাজীব, শেখ মোহাম্মদ গোয়েব, ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিক, সেবিনার শারক্ব এনু ২০০৮, বি.আই.বি, ঢাকা, পৃ.২০১
৬১। প্রাগুক্ত, পৃ.২১১
৬২। আল-মাওদুদী, আল-আহকামুল সুলতানিয়াহ্, পৃ. ৪৪; আল-মাওছু আল ফিক্বাহিয়া, খ.৭,পৃ.২৭১

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার অধিকার

📄 অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার অধিকার


ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা অর্থনৈতিক কারবার পরিচালনার ক্ষেত্রে মুসলিমদের মতো একই রূপ সুবিধা লাভ করবে। তারা ব্যবসার পাশাপাশি ইজারা (leasing), মুযারা‘আহ (crop-sharing), মুদারাবারাহ (profit & loss sharing) ৭৩ ও মুশাকারাহ (co-ownership) ৭৪ প্রভৃতি পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক লেনদেন ও কারবার করতে পারবে। তবে এ সব কারবার ও লেনদেনের ক্ষেত্রে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যেমন- মদ ও শূকরের ব্যবসা) তাদেরকে ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। সুদ ও জুয়া এবং জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করে- এ ধরনের ইসলামে নিষিদ্ধ যে কোন পন্থায় অর্থনৈতিক লেনদেন করতে পারবে না। ৭৫

টিকাঃ
৭৩. মুদারাবারাহ : এক ধরনের অংশীদারিত্ব মূলক ব্যবসা, যেখানে একজন বা একপক্ষ (সাহিবুল মাল) মূলধন সরবরাহ করে এবং অপরপক্ষ ব্যাপক বাণিজ্য অভিজ্ঞতা ও শ্রম নিয়োগ করে। দ্বিতীয় পক্ষকে 'মুদারিব' (ব্যবস্থাপক) বলা হয়। এ ধরনের ব্যবসায় যে মুনাফা উপার্জিত হয় তা দু পক্ষের মধ্যে পূর্বসম্মত হারে ভাগ হয়।
৭৪. মুশাকারাহ : এক ধরনের অংশীদারী কারবার, যেখানে প্রত্যেক অংশীদার একতরে মূলধন ও ব্যবস্থাপনার সমান অথবা বিভিন্ন মাত্রায় অংশ নেয়। এ ধরনের কারবারে মুনাফা অংশীদারদের মধ্যে পূর্ব স্বীকৃত অনুপাত অনুসারে বন্টিত হয়।
৭৫. আস-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০, পৃ. ৬৪; আল-কাসানী, বাদাই‘ খ.৪, পৃ.১৭৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 জমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার

📄 জমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার


অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক পরিগণিত হয়ে যাওয়ায় পর তারা তাদের জমির মালিক হবে। ইসলামী রাষ্ট্র তাদেরকে বেদখল করতে পারবে না। তদুপরি তারা নতুন জমিও ক্রয় করতে পারবে। তাদের জমির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হবে এবং তারা নিজেদের সম্পত্তি বেচা, কেনা, দান করা ও বন্ধক রাখা ইত্যাদির নিরূপণ অধিকারী হবে। ৭৬

টিকাঃ
৭৬. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৪, পৃ. ৩০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00