📄 আহলুয যিম্মাহ (যিম্মী)
যিম্মী হলো ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক।৮ মুসলিমদের মতো তারাও রাষ্ট্রের সকল নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। ইসলামী রাষ্ট্র তাদের জান-মাল-ইফ্ফাতকে ঠিক মুসলিম নাগরিকদের জান-মাল-ইফ্ফাত-আব্রুর মতোই মূল্যবান ও পবিত্র বিবেচিত হয়। ইসলামী রাষ্ট্র শুধু কাগজে-কলমেই তাদের অধিকার দেয় না; বরং সে রাষ্ট্র নিজের ঈমান ও দীনের আলোকে কার্যকর তা বাস্তবায়ন করে। ব্যাখ্যা: এ ক্ষেত্রে আরো এ কথা বিবেচনায় আনা যাবে না যে, অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের মুসলিম অধিবাসীদেরকে কাগজে-কলমেই বা কি অধিকার দিচ্ছে, আর বাস্তববেই বা কি দিচ্ছে।
উল্লখ্য যে, মাঝে মাঝে “যিম্মী” শব্দটিকে গালি মনে করে। আবার কেউ কেউ এক অজ্ঞ ও স্বেচ্ছাচারী সম্পর্কও প্রচার করে। এ রূপ ধারণা করার কোন ভিত্তিই নেই। উটা শব্দটির প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা ইসলামের শত্রুদের দীর্ঘকাল ব্যাপী অপপ্রচারের ফল। আরবী ভাষায় 'যিম্মাহ' শব্দটি দায়িত্বভার, সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রভৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইসলামের পবিত্র আইন-কানুন মেনে নেয়া এবং জিযিয়া আদায় করার শর্তে ইসলামী রাষ্ট্র অমুসলিম নাগরিকদের জান-মাল- ইফ্ফাত-আব্রুর নিরাপত্তা দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদেরকে আহলুম যিম্মাহ বা যিম্মী বলা হয়। ইসলামী রাষ্ট্র এ দায়িত্বও নিজেদের পক্ষ থেকে বা মুসলিম অধিবাসীদের পক্ষ থেকে গ্রহণ করে, তা নয়; বরং আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষ থেকে গ্রহণ করে। এ দায়িত্বের গুরুত্বও এতো বেশি যে, ইসলামী রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা তাদের শরী'আত সম্মত অধিকারসমূহ ছিনিয়ে নেয়ার আলোচনা করতেও নিরুৎসাহ করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَن ظَلَمَ مُعَاهَدًا أَوْ انْتَقَصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. “যে ব্যক্তি কোন যিম্মিকে জুলুম-অত্যাচার করে অথবা তার অধিকার হরণ করে অথবা তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেয় অথবা তার থেকে কোন জিনিস তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিয়ে নেয়, সে ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি কিয়ামতের দিন (আল্লাহর দরবারে) আমি নিজেই ফরিয়াদী হবো।”১০
টিকাঃ
৮. আহলু দাউদ, আল-জুম'আন, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং: ২৯৬৯
৯. “জিযিয়া আদায় ও ইসলামে (রাষ্ট্রীয়) বিধি-বিধান মেনে চলার শর্তে ইসলামী রাষ্ট্রে যে সব অমুসলিমরা নিজ ধর্ম পালন করে অবস্থান করেন তাদের প্রত্যেককে যিম্মী বলা হয়।" ইবনু আবিদীন, আল-ইনসাফ ফী শরী'আতি তা'রীফি তা'রীফি, ২,৭,৭,৭৭,৭৯ ইবনু মাজা হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَن قَتَلَ مُعَاهِدًا لَّمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِن مَّسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا. "যে ব্যক্তি এমন কোন যিম্মিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, আল্লাহ ও রাসূল তার গন্ধ পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূর থেকেও অনুভব করা যায়" (তিরমিযী, কিতাবুল দিয়াত, হা.নং: ১৪০৩; ইবনু মাজা, কিতাবুল দিয়াত, হা.নং:২১৪৭) এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, ইসলামী রাষ্ট্রের জিম্মীদরকে কোন নিজের পক্ষ থেকে অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তা নয়; বরং আল্লাহ ও রাসূলের পক্ষ থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
১০. আবু দা'উদ, আস-সুনান, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং: ২৫৩০
📄 মু'আহাদ
মু'আহাদ অর্থ চুক্তিবদ্ধ। মু'আহাদরা হল দারুল হারবের১১ চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম। সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আবদ্ধ অমুসলিমদেরকে আহলুম 'আহাদ বা মু'আহাদ বলা হয়।১২ মু'আহাদদের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আচরণ করা হয়, যে পর্যন্ত তারা চুক্তির শর্তসমূহ মেনে চলবে। চুক্তি ছিন্ন হওয়ার পর তা পালন করতে ক্ষমতা বা পরিমাণও হস্তক্ষেপ করা যাবে না, উভয় পক্ষের অবস্থান, শক্তি ও ক্ষমতার যতই পরিবর্তন হোক না কেন। ইসলাম এটাই কঠোরভাবে মান্য করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, - فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ " - "যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্য স্থিরপ্রতিজ্ঞ থাকবে, তোমরাও তাদের জন্য স্থির থাকবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা মুত্তাকীদের পছন্দ করেন।"১৩ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, لَكُمْ بِمَثْلِهِ. فَمَنْ فَعَلَ بِمُعَاهِدٍ أَوْ تَقْصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَقَدْ فَمَنْ عَقَدَ مَعَ قَوْمٍ فَلَا يَنْقُضْ عَهْدَهُمْ إِلَى غَيْرِهِمْ دُونَ أَيِّ رَغْبَةٍ مِنْهُ فَإِنَّهُ لَا يَجْرِي عَلَى فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. "সত্ত্বাও তোমরা কোন জাতির সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, বিরোধীও হবে এবং এই জাতি নিজেদের ও নিজের সন্তান-সন্ততিব প্রাণ রক্ষার্থে তোমাদের চুক্তি ভঙ্গ দিতে চাইবে (সা'ঈদ [রা]-এর বর্ণনায় রয়েছে, তারা তোমাদের সাথে কোন চুক্তি সম্পাদন করবে), তা হলে তোমরা নির্ধারিত চুক্তি পূরণ কিংবা চুক্তির বাইরে সাধারণভাবেও হস্তক্ষেপ ফেরত দেন না। কেননা সেটা তোমাদের জন্য বৈধ হবে না।"১৪ এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের সাথে চুক্তিপূরণে যৎ পর শর্ত নির্ধারিত হবে, তাতে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তাদের ওপর অধিকও করে বোঝা চাপানো যাবে না। তাদের যমিমবাদ দখল করা যাবে না। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাও হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তৎপুরি তাদের সাথে এমন কোন আচরণ করা হবে না, যা মূলপ, অধিকারণহণ, (মাত্রাতিরিক্তও বোঝা চাপানো অথবা ক্ষতিপূরণও করতে সম্পদ হস্তান্তর পর্যন্ত পড়ে)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوْ انْتَقَصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
টিকাঃ
১১. 'দারুল হারব' বলতে এমন রাষ্ট্রকে বুঝানো হয়, যার সাথে ইসলামী রাষ্ট্রের সামরিক বা পারমাণবিক কোন রূপ চুক্তি রয়েছে এবং যেখানে প্রকাশ্যে অমুসলিমরা বসবাস করে। (আস-মাজুর আল-কিতাবুল জিহাদ, খ.৭,৭,৭৬৯)
১২. আল-মাতুর আল-কিতাবুল জিহাদ, খ.৭,৭,৭৬৪
১৩. আল-কুর'আন, ৯ (সূরাতুল তাওবাহ)ঃ ৭।
১৪. আবু দাউদ, আস-সুনান, (কিতাবুল জিহাদ) ১৪।
📄 মুস্তা'মান
মুস্তা'মান অমুসলিম নিরাপত্তা আশ্রিত। মুস্তা'মান হল যে অমুসলিম সামরিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা কোন মুসলিম নাগরিকের নিরাপত্তার ইসলামী রাষ্ট্রে প্রবেশ করে। যিম্মী আর মুস্তা'মানের মধ্যে পার্থক্য হল- যিম্মী হল ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক আর মুস্তা'মান হল ইসলামী রাষ্ট্রে সামরিক সুবিধা প্রাপ্ত অমুসলিম শ্রেণি।১৩ মুস্তা'মান চার প্রকারের হতে পারে। যথা- ১.দারুল হরবের দূত বা বাহক১৪, ২.ব্যবসায়ী, ৩. আশ্রয়প্রার্থী ও ৪. দর্শনার্থী, পর্যটক এবং অন্য যে কোন প্রয়োজনে প্রবেশকারী। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান কিংবা তার প্রতিনিধি রাষ্ট্রের কল্যাণ ও প্রয়োজন বিবেচনা করে যে কোন অমুসলিমকে ইসলামী রাষ্ট্রে প্রবেশ করার এবং সামরিকভাবে কিছু দিন অবস্থান করার অনুমতি দিতে পারবে। তা ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের যে কোন মুসলিম নাগরিকও যে কোন অমুসলিমকে সামরিক নিরাপত্তা ও আশ্রয় দান করতে পারবে। রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রের স্বার্থের একান্ত পরিপন্থী মনে না করলে তার সে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদানকে বলবৎ রাখবেন। হযরত আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিন হযরত উম্মু হানী (রা) ইবনু হুবায়রাকে আশ্রয় প্রদান করা সত্ত্বেও হযরত 'আলী (রা) যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন, তা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু হানী (রা) কে উদ্দেশ্য করে বললেন, اَمَا قَدْ اَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ -‘‘উম্মু হানী, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ আমরাও তাকে আশ্রয় দিয়েছি।”১৫ তদুপরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, وَمَنْ دَمُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ تُعْطِي ذِمَّةَ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ “উচ্চ-নীচু নির্বিশেষে সকল মুসলিমের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দানের জন্য একই রূপ হুকুম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ যে কোন মুসলিম কোন অমুসলিমকে নিরাপত্তা দান করলে তা মেনে চলা সকল মুসলিমের কর্তব্য। অতএব যে কেউ কোন মুসলিমের আশ্রিতের ভঙ্গ করে তার ওপর আল্লাহ তা'আলা, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হবে।”১৬ ইসলামী রাষ্ট্র যিম্মীদের মতো মুস্তা'মানের নিরাপত্তার রক্ষাও সার্বিক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ইসলামী রাষ্ট্রের কোন নাগরিকের জন্য কোন মুস্তা'মানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, তাকে হত্যা করা কিংবা তার জান-মাল-ইয্যাত-আব্রুর প্রতি কোন রূপ হামলা করা জায়িয নয়।১৭ আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَاِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِيْنَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلاَمَ اللهِ ثُمَّ اَبْلِغْهُ مَاْمَنَهُ “আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। অতপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেবে।”১৮ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ آمَنَ رَجُلاً فَقَتَلَهُ رُفِعَتْ لَهُ أَلْفَةٌ لَا تُقَرَّ، وَإِنْ كَانَ الْمَقْتُولُ كَافِرًا “যে ব্যক্তি কোন লোককে নিরাপত্তা দান করার পর হত্যা করল, জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত হতে গেল, যদিও নিহত ব্যক্তি অমুসলিম হয়।”১৯
টিকাঃ
১২. আবু দাউদ, আল-সুনান, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং: ২৬৬৪
১৩. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, ৮.৩, প.১০১, খ.৭, পৃ. ৩০৯
১৪. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দায়িত্বশীল দূত ও বাহকদেরকে নিরাপত্তা দান করতেন। তাদের কোনরূপ ক্ষতি করতেন না। কুরায়শ যখন রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণিত, একজন দূত কুরায়শদের দূত হন। আর একটি দূত নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, أَتَجِدُوْنَ أَرَبًا أَنْ تَرُدُّوْا إِلَى أَهْلِكُمْ - “আল্লাহর কসম! দূতদেরকে হত্যা করা যাবে না- এ বিধান না হলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই হত্যা করতাম।” (আবু দাউদ, আল-সুনান, [কিতাবুল জিহাদ], হা.নং: ২৬৫০)
১৫. আল বুখারী, আস-সহীহ, (কিতাবুল জিহাদ), হা.নং ২৯৬৮
১৬. আবু দাউদ, আস-সহীহ, (কিতাবুল ই'তিসাম), হা.নং ৬৭৬৯
১৭. ইবনু 'আবিদীন, রদ্দুল মুহতার, খ.৬,পৃ. ৭১
১৮. আল-কুর'আন, ৯ (সূরাতুত তাওবাহ): ৬
১৯. তাবারানী, আল-মু'আজামুল কাবীর, হা.নং: ১৩৪৯৪
📄 হারবী
হারবী হল দারুল হারবের অমুসলিম নাগরিক। উপরোক্ত তিন শ্রেণীর বাইরে যে সকল অমুসলিম রয়েছে তাদেরকে হারবী (ইসলামী রাষ্ট্রের শত্রু) রূপে গণ্য করা হয়।২০ তাদের জান-মাল-ইয্যাত-আব্রু রক্ষা করার দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে না। কোন হারবীর ইসলামী রাষ্ট্রে প্রবেশ হলে রাষ্ট্রপ্রধান বা তার প্রতিনিধি অনুমতি নিয়েই প্রবেশ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোন হারবী ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করলে তাকে দারুল হারবের গুপ্তচর বা লুটেরা বলে ধরা দেয়া হবে। রাষ্ট্রপ্রধান দেশ ও জনগণের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। ইচ্ছে করলে তিনি তাকে প্রত্যাতও করতে পারবেন, কারারুদ্ধ করেও রাখতে পারবেন। ইচ্ছে করলে বিনিময় নিয়ে কিংবা বিনা বিনিময়ে ছেড়েও দিতে পারবেন।২১ রাষ্ট্রের কোন নাগরিক -মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম- তাকে হত্যা করলে, হত্যাকারীর জন্য কিসাস বা দিয়াতের বিধান প্রযোজ্য হবে না।২২ তবে তার এ কাজ রাষ্ট্র-কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বের অবমাননা বলে গণ্য হবে। এ জন্য রাষ্ট্রপ্রধান দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে অবশ্যই অনুপাতে যে কোন রূপ সাধারণ দণ্ড দিতে পারবেন।
টিকাঃ
২০. ইবনু খুযামা, ফাতহুল কাদীর, খ.৫,পৃ.৩০৫; আল-কাসানী, বাদায়ি', খ.৭,পৃ. ১০০
২১. আল-সারাসী, আল-মাবসুত, খ.১০,পৃ. ৮০; ইবনু খুযামা, আল-কুবরী, খ.৭,পৃ.৫২৯