📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


ইসলামী রাষ্ট্র একটি আদর্শবাদী (Ideological) রাষ্ট্র। এর ধরণ ও প্রকৃতি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চাইতে অনেকখানে ভিন্ন। ইসলামসম্মত শাশ্বত আদর্শ ও মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। এ আদর্শ ও মূলনীতির প্রতি কার বিশ্বাস ও আস্থা আছে আর কার নেই - এ হিসেবে ইসলামী রাষ্ট্র তার নাগরিকদেরকে মুসলিম ও অমুসলিম দু শ্রেণীতে ভাগ করে থাকে। রাষ্ট্রের যে সব নাগরিক ইসলামের আদর্শ ও মূলনীতির প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখে- তারাই এর নীতি নির্ধারক ও প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যে সব নাগরিকের ইসলামের আদর্শ ও মূলনীতির প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা নেই, ইসলামী রাষ্ট্র তাদের শারী’আত প্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা দিতে বাধ্য। এ সকল অধিকার কেড়ে নেবার বা খর্ব করার ইখতিয়ার কারো নেই।
পশ্চাতপদ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কোন সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও মূলনীতি নেই। শাসকবর্গ কিংবা আইনসভার সদস্যদের মর্জি মত দেশ পরিচালিত হয়। তাই এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্র নাগরিকদেরকে মুসলিম ও অমুসলিমরূপে বিভক্ত করার প্রয়োজন পড়ে না এবং যে কেউ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক ও প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে আদর্শহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কাগজ-কলমে রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে এক জাতি আখ্যায়িত করে সমান মর্যাদা ও অধিকারের কথা বলা হলেও কার্যত তা কখনো না বলা বাস্তব। ভবিষ্যতে কখনো হবে কি না তা বলা মুশকil। এ শুধু বাগাড়ম্বর। এখানে জাতি, বর্ণ ও দলগত পার্থক্য প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সংখ্যালঘু কর্তৃক সংখ্যাগুরুরা বরাবরই অবহেলিত, বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়। এ জন্য প্রখ্যাত রাজনীতি বিজ্ঞানী Maciver বলেছেন, Democracy is a system of government that is never completely achieved.১ — "গণতন্ত্র এমন একটি সরকার ব্যবস্থা, যা কখনো পূর্ণাঙ্গরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।"
বর্তমানে জোরেশোরে প্রচার করা হয় যে, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংখ্যালঘুদেরকে সমানাধিকার ও মর্যাদা দান করে, আর ইসলাম এ ব্যাপারে সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়। এ আর কারনেই অমুসলিমেরা ইসলামী রাষ্ট্র ও ইসলামী শাসনের কথা শুনলেই আতঙ্কিত হয়। আবার তাদেরকেই এসবের দাবী জানাতে হয়, সকল সমানাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এটা দীর্ঘ কাল ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ফল। তবে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে অমুসলিমদের সার্বিক নিরাপত্তা, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রগুলোকে পরিপূর্ণ ও নির্ভেজাল ইসলামী রাষ্ট্র রূপান্তরিত করা ছাড়া আর কোনোভাবে দেয়া সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সরাসরি খলিফাগণের যুগে অমুসলিমরা ঠিক মুসলিমদের মতোই ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নাগরিকের সম্মান ভোগ করত। তাদের জীবন, ধন- সম্পদ, 'ইফ্ফাত-আব্রু ও ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত ছিল। তাঁরা অমুসলিমদের যৎ পর ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দান করেন এবং যৎ পর সংস্কৃতির সেবার অবাধ অধিকার প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তী রাজতন্ত্রের যুগে কোথাও কোথাও তাঁদের প্রতি অবিচার করা হয় এবং তাদের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব হ্রাস পায়। এ সময় আবার কোথাও কোথাও বহু মুসলিমদেরকেই শাসকদের গোলাম হয়ে থাকতে হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে অমুসলিমদের অধিকার খর্ব হওয়া বিচিত্র কিছু ছিল না। কিন্তু হযরত উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ.) খলিফা নির্বাচিত হবার পর যখন ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত করেন, তখন অমুসলিমরা পুনরায় তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়। তিনি অমুসলিমদের রক্তের মূল্য মুসলিমদের রক্তমূল্যের সমান বলে ঘোষণা করেন। তিনি শাদী খানদানের লোকদের নিকট থেকে অন্যায়ভাবে অধিকৃত ভূমিগুলো ফেরত নেন এবং অন্যায়ভাবে বেদখল হওয়া ভূমিতে তাদের দখল দান করেন।২

টিকাঃ
১. Maciver, R.M., The web of government, p. 132.
১. হযরত মামুন ইবনু রিছাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার ক্বাত্তান এক মুসলিম একজন ইয়াহুদীকে হত্যা করে। হযরত উমার ইবনু আবদিল 'আযীয (রহ.) ঘটনা জানতে পেরে দেখাশুনার নির্দেশ দেন; দেখাশুনার নিমিত্তে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের হাতে সোপর্দ করে দাও। তারা ইচ্ছে করলে তাকে হত্যা করতে পারে কিংবা ক্ষমাও করতে পারে। গণব নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন এবং অমুসলিমরা সে ব্যক্তিকে হত্যা করে। (ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুছান্নাফ, কিতাবুদ দিয়াত, হা.নং: ২৭১৬২)
২. বর্ণিত রয়েছে যে, একজন জনৈক অমুসলিম খালীফা উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ.)-এর দরবারে আরবী বলেছিল যে, 'আমরা ইবনুল ওলীদ অন্যায়ভাবে তার ভূমি দখল করে রেখেছে। খালিফা 'আব্বাসকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন : “এ অমুসলিম ব্যক্তির দাবীর ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? 'আব্বাস জবাব দিল, "আমার পিতা ওয়ালদিা এ ভূমি আমার জায়গীরদারীতে অর্পণ করেছেন।" এ কথা শুনে অমুসলিম ব্যক্তিটি বলল, "আমীরুল মু'মিনীন! আপনি আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য্য চালাবেন, খালীফা বললেন, "অবশ্যই, আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী অমুসলিমদের ভূমি দখল করা হলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াটাই ন্যায্য হয়।" 'আব্বাস বললনা, "আপনার কথা সত্য; কিন্তু আমার নিকট খালীফা ওয়ালদিার প্রমাণপত্র রয়েছে। আপনার পূর্বের একজন খালীফা ফরমান রদ করার কী অধিকার আপনার আছে?" খালীফা জবাব দিলেন, نعم، کتاب الله أحق أن يتبع من كتاب الوليد، قم فاردد عليه ضيعته. "ওলীদীয়ের ফরমানের চাইতে আল্লাহ্র কিতাব অনেক উঁচো। তুমি এ অমুসলিমকে এ ভূমি ফেরত দিয়ে দাও।" (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ, খ.৯, পৃ. ২৬৬)

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয়

📄 ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয়


ইসলামী রাষ্ট্র সর্বপ্রথম আল্লাহ তা'আলার প্রদত্ত বিধি-বিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি জনকল্যাণমূলক আদর্শবাদী রাষ্ট্র। কোন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র হতে হলে রাষ্ট্রের সকল দিক ও বিভাগে আল্লাহ্র বিধান কার্যকর করতে হবে। এখানে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কোন সুযোগ নেই। আল-কুর'আন ও আস-সুন্নাহই ইসলামী রাষ্ট্রের মৌলিক আইন। অন্যান্য আইন এই মৌলিক আইনের অধীনেই তৈরি হয়। রাষ্ট্রপ্রধান এককভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অধিকারী নন। তাঁকে দেশেরবাসীর প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিরা বা মজলিসে শুরার পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান উদ্দেশ্য হল সামাজিক ন্যায় ও সুবিচার (Social Justice) প্রতিষ্ঠা করা। এখানে সকল মানুষই মানুষ হিসেবে একই রূপ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী। প্রত্যেকেই নিজ নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা ও শক্তি অনুযায়ী আত্মবিকাশের সুযোগ লাভ করে এবং আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। এ সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ইসলামী রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত হয়ে বিচার-ফায়সালা করে থাকে। এ কথা বলাই বাহুল্য যে, ইসলামে ন্যায় ও সুবিচার প্রত্যেক মানুষের সাথেই সম্পর্কিত। চাই সে মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম। মুসলিম হলে আত্ম-বিকাশের বেশি সুযোগ লাভ করে এবং অমুসলিম হলে কম সুযোগ লাভ করবে এবং মুসলিমরা অপরাধ করলে লঘু শাস্তি পাবে এবং অমুসলিমরা অপরাধ করলে গুরু শাস্তি পাবে- এ ধরনের অবস্থা ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ কারণে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় আদর্শে যারা বিশ্বাসী নয় তাদের জীবন, সম্পদ ও 'ইফ্ফাতকে সার্বিক নিরাপত্তার বিধানের দায়িত্বও মুসলিমদের মতোই ইসলামী রাষ্ট্র কাঁধে তুলে নেয়। তারাও মুসলিমদের মতো একই রূপ নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ - "আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও মীযান (মানদণ্ড), যাতে মানুষ ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।" এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা যুগে যুগে নবী-রাসূলগণের প্রেরণ ও কিতাবসমূহ অবতরনের যে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন তা হল সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। এ সুবিচার যেমন রাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তেমনি অমুসলিম নাগরিকদের বেলাতেও সুবিচারের বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّ اللهَ لَا يَنْهَاكُمْ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ. "দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও সুবিচার করতে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সুবিচার কারীদেরকেই ভালোবাসেন।" এ আয়াতে সে সব অমুসলিম মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়নে অংশগ্রহণ করেনি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও সুবিচার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বক্তব্য অন্য আয়াতে আরো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আল্লাহ তা'আলা বলছেন, بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ - " - "একুশ "এবার কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন কখনো তোমাদেরকে ন্যায়-বিচার পরিত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ না করে। সুবিচার কর। এটাই তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী।"৭ এ আয়াতে একাটভাবে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, স্বজাতি ও বিজাতি নির্বিশেষে সবার বেলায় সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোন ভিন্ন জাতির ক্ষেত্রে বিদ্বেষবশত ন্যায় বিচারের বিধান লঙ্ঘন করা তাকওয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যদিও সামাজিক সুবিচারের কথা খুব জোরেশোরে উচ্চারিত হয়, কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকারিতা দূর্লভ। আমরা অনেক দেশে দেখতে পাই, সকলের জন্য একই রূপ আইন কাগজে-কলমে আছে বটে, তবে তা সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না। তদনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা সকলের জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়; বরং কোথাও জাতি, কোথাও বর্ণ, কোথাও ধর্ম, কোথাও অঞ্চল, কোথাও পেশা, কোথাও ভাষা, কোথাও দল ও মতের ভিত্তিতে সমাজের সুবিধাভোগীদের বেগমপূর্ণভাবে বন্টন করা হয়। ইসলাম এ রূপ পক্ষপাপিত্বমূলক অন্যায় আচরণকে হারাম ও মহাপাপ গণ্য করে।

টিকাঃ
৪. আল-কুর'আন, ৫৭ (সূরাতুল হাদীদ)ঃ ২৫।
৫. আল-কুর'আন, ৬০ (সূরাতুল মুমতাহিনাহ)ঃ ৮।
৬. আল-কুর'আন, ৩০ (সূরাতুর মায়িদাহ)ঃ ৭৬
৭. আল-কুর'আন, ৫ (সূরাতুল মায়িদাহ)ঃ ৮।

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 পাবলিক কোর্টে বিচার

📄 পাবলিক কোর্টে বিচার


মুসলিমদের মতোই অমুসলিমরাও রাষ্ট্রের ইসলামী আদালতে বিচার দায়ের করতে এবং তা মেনে চলবে। তবে অমুসলিমদের জন্য পৃথক বিচারালয় তৈরি, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব পারিবারিক আইন এবং পৃথক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে অমুসলিম বিচারক কর্তৃক তাদের অপরাধ ও দাবী-দাওয়াগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইসলামী আদালতে বিচার দায়ের হলে মুসলিম বিচারক কর্তৃক তাদের বিচারের ফায়সালা করা হবে এবং এর জন্য ইসলামী আইন অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। অন্য আইনে ফায়সালা করা তার জন্য বৈধ হবে না। চাই বাদী-বিবাদী দুজনেই অমুসলিম হোক কিংবা একজন অমুসলিম এবং অপরজন মুসলিম হোক। ৯২২ আল্লাহ তা’আলা বলেন, وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ إِلَيْكَ. “আর আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারগুলোয় আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করুন। তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন, যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ তা’আলা আপনার প্রতি নাযিল করেছেন।” ৯২৩

টিকাঃ
৯২২. আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যাহ, খ. ৭, পৃ. ১০৭
৯২৩. আল-কুরআন, ৫ (সূরাতুল মা’ইদাহ) : ৪৯

📘 ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা > 📄 অমুসলিমদের নাগরিকত্ব নষ্টের কারণ

📄 অমুসলিমদের নাগরিকত্ব নষ্টের কারণ


অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিক মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা ইসলামী রাষ্ট্রের একান্ত দায়িত্ব। যারা যত বড় অপরাধীই করুক, এ জন্য তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। যদি কিজিয়া বন্ধ করে দিয়ে, কোন মুসলিমকে হত্যা করলে, কোন মুসলিম নারীর ধর্মকে পরিবর্তন করলে মুসলিম, আলেম ও মুজাহিদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করলেও তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। এ সব অপরাধের জন্য অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। তবে নিম্নের দুটি অবস্থায় তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। ১. প্রথমত যদি সে ইসলামী রাষ্ট্র থেকে চলে গিয়ে শত্রুপক্ষের গিয়ে বসবাস শুরু করে। ২. দ্বিতীয়ত যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহে লিপ্ত হয়ে দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি করে। অধিকাংশ ইমামের মতে- অমুসলিমরা চুক্তি ভঙ্গ জীবইয়া দ্বারা করা থেকে বিরত থাকলে তাদের নাগরিক চুক্তি বাতিল হবে না। তবে হানফীগণের মতে- এ অবস্থায়ও তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। কেননা এ রূপ অবস্থায় আর্থিক অনটন ও অভাবের কারণে সে জিযইয়া আদায় করতে পারে না, এ ধরনের আশঙ্কা থাকতে পারে। আর এ রূপ সন্দেহজনক অবস্থায় কারো নাগরিকত্ব বাতিল করা ন্যায়-নীতি বিরোধী হবে। ৯২৪

টিকাঃ
৯২৪. আল-কাসানী, বাদাই', ৭:৭,১:১১০; ইবনু বুজ্জামান, আল-বাহরুর রাইক্ব, ৫:৬,৭:১৩৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ৪:৬,৭:২৯৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00