📄 মুসলিম শিক্ষার্থীসংস্থা
মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-গুলোকে (MSA) মনে হতে পারে ছোটখাটো কিছু গোষ্ঠী, যাদের অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে অবদান রাখার মতো শক্তি নেই। কিন্তু তারপরও তারা ইসলামি অর্থনীতির ওপর ইসলামি লেখালেখিতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে কিছু কিছু অ্যাসোসিয়েশান অবদান রেখেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। যেমন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ MSA'র কালচারাল অ্যান্ড রিলিজাস কমিটি একটি কৌতূহল উদ্রেককারী গবেষণা প্রকাশিত করেছে, যার শিরোনাম Property and Ownership in Islam (ইসলামে সম্পদ ও মালিকানা), ১৯৭২ (সিদ্দিকি, ১৯৮০)। প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীদের একটি সংস্থা ইসলামি অর্থনীতির ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করছে, এটা খুবই উচ্চমার্গের ধর্মীয় অনুপ্রেরণার উদাহরণ। কারণ এটা তাদের পাঠ্যক্রমের বাইরের বিষয়। এরকম আরেকটি উদাহরণ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি সংস্থা, যদিও পড়াশোনার ধারার দিক থেকে তারা অর্থনীতির নিকটবর্তী। সোসাইটি অব ইসলামিক স্টাডিজ, ব্যবসায় অনুষদ, প্রথম ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় (কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতন নাম, যা ১৯৫২ সালের বিপ্লবের পর পরিবর্তিত হয়)। গবেষণাপত্রটির নাম Economics in the Light of Islam (ইসলামের আলোকে অর্থনীতি), পৃ. ১১৪, ১৯৫১ (প্রাগুক্ত)। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে যে শুরু থেকেই ইসলামি অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ ছিল, এটি তার প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডার মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (MSA-যার নাম পরবর্তীকালে পালটে রাখা হয় অ্যাসোসিয়েশান অব মুসলিম সোশ্যাল সায়েন্টিস্টস) এই বিষয়ের ওপর গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে বেশ সরব থেকেছে। তাদের প্রকাশনার একটি তালিকা হলো: মুনজের কাহফ, "A Model of the Household Decision in Islamic Economy", পৃ. ১৯-২৮, ১৯৭৪; "Cotemporary Aspects of Economic and Social Thinking in Islam” (১৯৭৩) একটি বিবরণী, যাতে রয়েছে উচ্চমার্গের বিভিন্ন গবেষণা, যেমন আবদুল হামিদ আহমাদ আবু সুলাইমানের "the Theory of Economics of Islam: the Economics of Tawheed and Brotherhood; Philosophy, Concepts, and Suggestions", (প্রাগুক্ত)।
📄 নিবেদিত প্রকাশনা সংস্থাসমূহ
আধুনিক সময়ে প্রকাশনা সংস্থা ছাড়া অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের বিকাশ ও প্রসার বড়ই কঠিন। ধর্মীয় প্রচারকরা যেমন স্ব-উদ্যোগে নিজেদের কাজ ছড়িয়ে দিতে পারেন, লেখক ও অ্যাকাডেমিকগণ সেটা প্রকাশনা সংস্থার সাহায্য ছাড়া পারেন না। তারা চান তাদের ধ্যানধারণা দূরদূরান্তে ভ্রমণ করুক, তাদের মিশন অব্যাহত থাকুক। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে প্রকাশনা। সাধারণভাবে ইসলাম এবং বিশেষভাবে ইসলামি অর্থনীতির জন্য ইসলামি বিশ্বে রয়েছেন নিবেদিত মুসলিম প্রকাশকবৃন্দ। মূলত ধর্মীয় প্রেরণাসম্বলিত নিবন্ধ ও গবেষণা প্রকাশের কাজটিই করেন তারা। এর ফলে লাভ-ক্ষতি যতটুকুই হোক, তাতে তারা পরোয়া করেন না। কায়রোর দারুল ফিকরি আল-আরাবি, আদ-দারুল আরাবিয়্যা, দারুন নাহদা আল-আরাবিয়্যা, বৈরুতের দারুল কিতাব আল-লুবনানি, এবং লাহোরের শাইখ মুহাম্মাদ আশরাফ এরকম কিছু উদাহরণ। এই প্রকাশনা সংস্থাগুলো ইসলামি অর্থনীতির ওপর লেখালেখির প্রসারে ব্যাপক অবদান রেখেছে।
ইসলামি কিছু জার্নালও বেশ ভূমিকা পালন করেছে, যদিও সেগুলো ইসলামি অর্থনীতির ওপর বিশেষায়িত নয়। এরকম ধর্মীয় জার্নালের কিছু উদাহরণ ইসলামিক রিভিউ (লন্ডন), আল-আযহার (কায়রো), আল-মানার (কায়রো), ক্রাইটেরিওন (করাচি), আন-নাদওয়া (মক্কা), ইসলামিক কালচার (হায়দারাবাদ), ইসলামিক স্টাডিজ (ইসলামাবাদ), ইসলাম অ্যান্ড দ্য মডার্ন এইজ (নয়াদিল্লি), এবং ভয়েজ অব ইসলাম (করাচি)। ইসলামি অধ্যয়নের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ইসলামি অর্থনীতির জন্য পৃষ্ঠা ও সংখ্যা নিবেদিত করার মাধ্যমে তারা এই বিষয়টির উন্নয়নে সাহায্য করেছে।