📄 ব্যক্তিগত নিয়ামক
১৯৭৬ সালের আগে, বিশেষত ষাটের দশকের শেষ দিকে ইসলামি অর্থনীতির লেখালেখির বড় একটি অংশ ছিল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফল। ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় তাড়না থেকে এগুলো রচিত হয়। ইসলামি অর্থনীতির শুরুর দিকের লেখকগণের প্রায় সকলের প্রেক্ষাপট ছিল ব্যক্তিগত ও অ্যাকাডেমিক। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত এবং ষাটের দশকের ভালো একটা সময় পর্যন্ত এ বিষয়ের প্রথম দিকের লেখকগণ ছিলেন মূলত:
➡ (ক) ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত,
➡ (খ) ধর্মীয় আলিম,
➡ (গ) শিক্ষাগত বা পেশাগতভাবে অর্থনীতিবিদ,
➡ (ঘ) স্বদেশে বা বিদেশে প্রধানত পশ্চিমা অর্থনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত অর্থনীতিবিদ,
➡ (ঙ) সকলেই ধর্মীয় প্রেরণাধারী, প্রথমত ইসলামের প্রতিরক্ষা, দ্বিতীয়ত সহজাত জ্ঞানগত কৌতূহল, এবং
➡ (চ) সন্দেহপ্রবণ মুসলিম ও অমুসলিমদের কাছে এটা প্রমাণ করতে সচেষ্ট যে, আধুনিক বিংশ শতাব্দীতে ইসলাম এখনো কার্যকর।
ইসলাম যে আধুনিক সমাজের নতুন পরিবর্তনগুলোকে স্থান দিতে সক্ষম, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাহন হিসেবে কাজ করতে সমর্থ, সরকার পরিচালনা ও জাতি পুনর্গঠনে পারঙ্গম—এগুলো প্রমাণের উদগ্র বাসনা ছিল তাদের মাঝে। সর্বোপরি এই বিশেষজ্ঞদের অন্তরে ছিল একটিই লক্ষ্য: সেক্যুলারায়নের বিপদ থেকে মুসলিম সমাজকে মুক্ত করা। সমাজকে ইসলামের বিশুদ্ধতা ও বাস্তববাদিতার দিকে ফিরিয়ে আনা। এটি ইসলামি পুনর্জাগরণবাদের এক প্রধান উদ্দেশ্য।
এই লেখকদের মাঝে ইসলামি অনুভূতি প্রজ্জ্বলিত করতে বেশ কিছু জিনিস ভূমিকা রেখেছে। এরই ফলে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তারা ইসলামি অর্থনীতির ওপর কাজের বিকাশ ঘটান। প্রথমত, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর নিরলস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এদের লক্ষ্য ছিল ইসলামি মূল্যবোধের দিকে প্রত্যাবর্তনের জন্য মুসলিমদের উদ্দীপ্ত করা। সেক্যুলার মডেলের বিপরীতে সমকালীন মুসলিম সমাজের সামনে ইসলামের প্রতি বিশ্বাসকে একটি জীবনব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা। ইসলামি অর্থনীতি ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ময়দানগুলোর একটি। কিন্তু ইসলামের সার্বিক পুনর্জাগরণের আহ্বানের ফলে ইসলামি অর্থনৈতিক লেখালেখির আহ্বানও চাঙা হয়ে ওঠে। মিশরে ১৯২৮ সালে হাসান আল-বান্নার (১৯০৬-১৯৪৯) প্রতিষ্ঠিত ইখওয়ানুল মুসলিমীন এবং পাকিস্তানে ১৯৪১ সালে আবুল আলা মওদুদির (১৯০৩- ১৯৭৯) প্রতিষ্ঠিত জামাত-ই-ইসলামি এরকম সংস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। দেশকে ইসলামিকরণের লক্ষ্যে জনগণকে উৎসাহিত করার জন্য প্রভূত কাজ করেছে এ দুটি দল। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের লেখকরা এসকল ধর্মীয় সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কি না, তা প্রমাণ করা সহজও নয়। প্রয়োজনীয়ও নয় (এই বইয়ের পরিসরে)। কিন্তু এতটুকু বলা যায় যে, ইসলামকে আধুনিক মুসলিম সমাজের মূল্যবোধ ও শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে এই দলগুলো যে শক্তিশালী অবদান রেখেছে, এতে এই লেখকদের মাঝেও পড়াশোনা করার ও লেখার অদম্য বাসনা তৈরি হয়। জন্ম নেয় পরিবর্তনের তাগিদ। আরও লক্ষণীয় যে, কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় পারঙ্গমতার অধিকারী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এতে শরীয়াহ অনুষদের গ্র্যাজুয়েট যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন অন্যান্য জ্ঞানশাস্ত্রের গ্র্যাজুয়েট—যার মধ্যে অর্থনীতি একটি। উল্লেখ্য, আরবিতে ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে আল-আযহারের আলিম, অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীগণ বেশ কিছু অবদান রেখেছেন।
📄 পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামি অর্থনীতির ওপর গবেষণাকে উৎসাহিত করেছে, তাদের মাঝে কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় নিজগুণে ভাস্বর। এটি কেবল প্রাচীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ইউনিভার্সিটিও বটে। তার ওপর ইসলামি গবেষণা ও গবেষকদের প্রতি এই বিদ্যাপীঠ বিশেষ মনোযোগ দিয়ে থাকে। সম্মেলন আয়োজন ও গবেষণা পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে অ্যাকাডেমি অব ইসলামিক রিসার্চ। অ্যাকাডেমির প্রথম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। তবে এখানে গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে বিভিন্ন প্রকৃতির ইসলামি টপিক অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি অর্থনীতি সেগুলোর মাঝে একটি মাত্র। ইসলামি অর্থনীতির ওপর গবেষণাকে আলাদাভাবে উৎসাহিত করা না হলেও, সাদরে বরণ করা হতো বটে। তা ছাড়া অ্যাকাডেমি তার সম্মেলনগুলোর বিবরণী ও স্বতন্ত্র গবেষণা-প্রকাশনা আকারেও বের করত। যাতে এসব কর্মকাণ্ডের উপকারিতা সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
এরও এক দশক পরে ইসলামি অর্থনীতির আরও বিকাশ ও প্রসার ঘটে। তখন এই বিষয়ের ওপর একটি বিশেষায়িত সম্মেলনের আয়োজন অপরিহার্য হয়ে দেখা দেয়। এ সময়ই ১৯৭৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামি অর্থনীতির ওপর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
বিকাশের ওই পর্যায়ে ইসলামি অর্থনৈতিক লেখালেখির ওপর আল-আযহার অ্যাকাডেমি কী পরিমাণ অবদান রেখেছে, তা নিম্নে উল্লেখিত তালিকা থেকে উপলব্ধি করা যাবে। এগুলো অ্যাকাডেমির প্রকাশিত রচনাসমূহ। এর সবগুলোই আরবিতে। সমসাময়িক ইসলামি অর্থনৈতিক লেখালেখি বিষয়ক সমীক্ষায় সিদ্দিকি এই উদাহরণগুলো তুলে ধরেছেন (সিদ্দিকি, ১৯৮০):
➡ আল-খাফিফ, শাইখ আলি, “ব্যক্তিগত সম্পদ এবং ইসলামে এর সীমারেখা”, পৃ. ১২৮, প্রথম সম্মেলন, ১৯৬৪;
➡ হাসান, আবদুর রহমান, "ইসলামে আর্থিক সম্পদসমূহ”, পৃ. ৬৪, প্রথম সম্মেলন, ১৯৬৪;
➡ হুসাইনি, ইসহাক মূসা, "ইসলামে হিসবাহ”, পৃ. ২৫৫-২৭৭, প্রথম সম্মেলন, ১৯৬৪;
➡ আল-আরাবি, মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ, “সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি”, পৃ. ১২৪–১৩৬, দ্বিতীয় সম্মেলন, ১৯৬৫;
➡ আল-আরাবি, মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ, “সমসাময়িক ব্যাংকিং লেনদেন এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি”, পৃ. ৭৯-১২২, দ্বিতীয় সম্মেলন, ১৯৬৫;
➡ আবু যাহরা, শাইখ মুহাম্মাদ, “যাকাত”, পৃ. ১৩৭-২০১, দ্বিতীয় সম্মেলন, ১৯৬৫;
➡ সপ্তম সম্মেলনের বিবরণী, সেপ্টেম্বর ১৯৭২, “অর্থনৈতিক ও আইনি বিষয়াদি”, পৃ. ৪১০, সপ্তম সম্মেলন, ১৯৭৩;
➡ আশ-শাহাবি, ইবরাহীম দুসুকি, "হিসবাহ: একটি সামাজিক ভূমিকা", পৃ. ৬৪, সপ্তম সম্মেলন, ১৯৭৩;
➡ আত-তাহাবি, ইবরাহীম, “ইসলামি অর্থনীতি: একটি চিন্তার ঘরানা ও একটি ব্যবস্থা, একটি সমকালীন পাঠ”, দ্বিতীয় খণ্ড, ৬১৬ এবং পৃ. ৪০০, ১৯৭৪।
প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতার আরেকটি উদাহরণ মিশরেরই High Institute for Arabic Studies (একটি স্নাতোকত্তর প্রতিষ্ঠান)। আরবিতে এর প্রকাশিত একটি আগ্রহোদ্দীপক নিবন্ধ রয়েছে "ইসলামে উত্তরাধিকার: আরব ও রোমানদের মাঝে উত্তরাধিকারের ব্যাপারে ভূমিকা সহ"স, পৃ. ৪০০, ১৯৬০। এর লেখক মুহাম্মাদ ইউসুফ মূসা। এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই ইসলামি অধ্যয়ন ও ইসলামি অর্থনীতির ব্যাপারে গবেষণায় সরকার-প্রদত্ত প্রেরণাকেও অগ্রাহ্য করা যায় না। মিশরে সরকারের ভূমিকার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত করা যায় High Council for Fostering Art and Literature-কে। যেমন, ইসলামি বীমার ওপর হাই কাউন্সিল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর আরবিতে প্রকাশিত বিবরণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এর শিরোনাম "ইসলামি ফিক্হ সপ্তাহ উদযাপন”, ১৯৬৩, পৃ. ৯২৫ (প্রাগুক্ত)। ইসলামি অর্থনীতিচিন্তা বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার আরও একটি উদাহরণ এটি।
পরিশেষে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগকেও তালিকাভুক্ত করা চলে ইসলামি অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষক carriers হিসেবে। উক্ত লীগের উপস্থাপিত ও সহযোগিতাপ্রাপ্ত কিছু গবেষণাকর্মের উদাহরণ "Economics of Social Structure of Islam", মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল-আরাবি, সিঙ্গাপুর, ১৯৬৬; "Social Justice in Islam", আহমাদ যাকী ইয়ামানি, সিঙ্গাপুর, ১৯৬৬; এবং "Characteristics of Islamic Economics", মাহমুদ মুহাম্মাদ বাবুলি, মাক্কা, ১৯৬৯ (প্রাগুক্ত)।
ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণার প্রধান প্রধান পথিকৃৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সত্তরের দশকের শেষাংশ থেকে শুরু করে আরও অনেক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান চলে আসে দৃশ্যপটে। এদের ছিল উল্লেখযোগ্য আর্থিক সম্পদ ও অভিজ্ঞতা-দক্ষতা। ইসলামি পুনর্জাগরণবাদের ওপর গত অধ্যায়ে এগুলোর উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতির বিকাশে এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ছিল ব্যাপক।।খ
টিকাঃ
১. Inheritance and Legacy in Islam with an Introduction to Inheritance amongst Arabs and the Romans
২. মুসলিম বিশ্বের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও শারয়ি মাননিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাহরাইনে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অ্যাকাউন্টিং এন্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস (AAOIFI)। ইসলামি বিশ্বের খ্যাতনামা ফুকাহা, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকিং এক্সপার্ট ও স্কলারদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন বোর্ডের মাধ্যমে তারা শারিয়া, ইথিকস, গভর্নেন্স, অডিটিং, একাউন্টিং ইত্যাদি বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন করেছেন এবং এই কার্যক্রম এখনো চলমান। তাদের স্ট্যান্ডার্ডগুলো বিশ্বব্যপী স্বীকৃত এবং অনেক মুসলিম দেশে ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নীতিমালা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, AAOIFI ওয়েবসাইট। - সম্পাদক
📄 ধর্মীয় সংস্থাসমূহ
এসকল সংস্থার প্রভাব পড়েছে দুইভাবে:
➡ প্রথমত, ইসলামি অর্থনীতির লেখকদের ওপর ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাবে তাদের উদ্যোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া,
➡ দ্বিতীয়ত, ইসলামের মৌলিক আদর্শে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের জীবনে ইসলামি পুনর্জাগরণ সংঘটিত হওয়া।
উল্লেখিত ধর্মীয় সংস্থাগুলো বক্তৃতা, মসজিদভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম ও জুমুআর খুতবার মাধ্যমে জনগণের মাঝে তাদের প্রভাব বিস্তৃত করে। ছয়দিনের যুদ্ধে সামরিক পর্যুদস্ততায় হতচকিত মুসলিম বিশ্বের কাছে স্পষ্টতর হয়ে ওঠে ইসলামে প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা। অনেকেই উপলব্ধি করেন যে, এই পরাজয়ের ধর্মীয় কারণ হলো দ্বীনের প্রতি মুসলিমদের পুরোপুরি সংকল্পবদ্ধ না থাকা। ভবিষ্যতে যুদ্ধ বা অন্য কোনো ময়দানে বিজয় লাভ করতে হলে তাদের ধর্মের বিশুদ্ধ বিধানসমূহে ফিরে যেতেই হবে।
📄 মুসলিম শিক্ষার্থীসংস্থা
মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-গুলোকে (MSA) মনে হতে পারে ছোটখাটো কিছু গোষ্ঠী, যাদের অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে অবদান রাখার মতো শক্তি নেই। কিন্তু তারপরও তারা ইসলামি অর্থনীতির ওপর ইসলামি লেখালেখিতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে কিছু কিছু অ্যাসোসিয়েশান অবদান রেখেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। যেমন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ MSA'র কালচারাল অ্যান্ড রিলিজাস কমিটি একটি কৌতূহল উদ্রেককারী গবেষণা প্রকাশিত করেছে, যার শিরোনাম Property and Ownership in Islam (ইসলামে সম্পদ ও মালিকানা), ১৯৭২ (সিদ্দিকি, ১৯৮০)। প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীদের একটি সংস্থা ইসলামি অর্থনীতির ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করছে, এটা খুবই উচ্চমার্গের ধর্মীয় অনুপ্রেরণার উদাহরণ। কারণ এটা তাদের পাঠ্যক্রমের বাইরের বিষয়। এরকম আরেকটি উদাহরণ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি সংস্থা, যদিও পড়াশোনার ধারার দিক থেকে তারা অর্থনীতির নিকটবর্তী। সোসাইটি অব ইসলামিক স্টাডিজ, ব্যবসায় অনুষদ, প্রথম ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় (কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতন নাম, যা ১৯৫২ সালের বিপ্লবের পর পরিবর্তিত হয়)। গবেষণাপত্রটির নাম Economics in the Light of Islam (ইসলামের আলোকে অর্থনীতি), পৃ. ১১৪, ১৯৫১ (প্রাগুক্ত)। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে যে শুরু থেকেই ইসলামি অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ ছিল, এটি তার প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডার মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (MSA-যার নাম পরবর্তীকালে পালটে রাখা হয় অ্যাসোসিয়েশান অব মুসলিম সোশ্যাল সায়েন্টিস্টস) এই বিষয়ের ওপর গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে বেশ সরব থেকেছে। তাদের প্রকাশনার একটি তালিকা হলো: মুনজের কাহফ, "A Model of the Household Decision in Islamic Economy", পৃ. ১৯-২৮, ১৯৭৪; "Cotemporary Aspects of Economic and Social Thinking in Islam” (১৯৭৩) একটি বিবরণী, যাতে রয়েছে উচ্চমার্গের বিভিন্ন গবেষণা, যেমন আবদুল হামিদ আহমাদ আবু সুলাইমানের "the Theory of Economics of Islam: the Economics of Tawheed and Brotherhood; Philosophy, Concepts, and Suggestions", (প্রাগুক্ত)।