📄 ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (ইসলামাবাদ)
ইসলামাবাদের ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীর প্রথম দিনে। অর্থাৎ, পয়লা মুহাররম, ১৪০১ (১১ নভেম্বর, ১৯৮০)। নতুন শতকের শুরুতে এই মাইলফলক মুসলিম উম্মতের ইসলামি রেনেসাঁর আশা ও স্বপ্নের এক প্রতীক। ইসলামি শিক্ষা, চরিত্র ও ব্যক্তিত্বে পুষ্ট এবং মুসলিম উম্মতের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োজন পূরণে সক্ষম বিশেষজ্ঞ ও কর্মী তৈরি করাই উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ (আইআইইউ ওয়েবসাইট, জানুয়ারি ২০০৬)।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে এক অধ্যাদেশের প্রচারের মাধ্যমে 'ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি' নামে পুনর্ঘোষিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান চোখজুড়ানো ফায়সাল মসজিদের পাশে, যা ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এর নকশাকার একজন বিখ্যাত তুর্কি স্থপতি। প্রয়াত বাদশাহ ফায়সাল বিন আবদুল আযীয এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন। মসজিদটি ১৮৯,৭০৫ বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে অবস্থিত এবং এর ধারণক্ষমতা ২০০,০০০।
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলো হলো: ১. ব্যক্তি ও সমাজের সার্বিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বিকাশ ঘটানো; ২. ইসলামের ভিত্তির ওপর সব ধরনের মানবীয় চিন্তার পুনর্নির্মাণ; ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মাঝে ইসলামি চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা; ৪. ইসলামি শিক্ষা, সমাজ, প্রাকৃতিক, ফলিত ও যোগাযোগ বিজ্ঞানে, এবং জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় উৎসাহ জোগানো; ৫. আদর্শিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ। ধ্যানধারণা ও নীতিমালা হবে ইসলামের রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমসাময়িক সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান তৈরির জন্য নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
IIUM-এর মতো IIU-ও ইসলামি অধ্যয়নের সংকীর্ণ পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। এর রয়েছে বিস্তৃত পরিসরের পাঠধারা, যার প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: ফলিত বিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট, উসুলুদ্দীন বা ইসলামি ধর্মতত্ত্ব, আরবি ভাষা, শরীয়ত ও আইন, সমাজবিজ্ঞান এবং ভাষা ও সাহিত্য। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি প্রধান বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট রয়েছে: ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক ইকোনমিকস, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ১৯৮৭ সালে স্থাপিত হয়। ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক প্রকাশনায় উল্লেখিত হয়েছে এই:
ইন্সটিটিউটগুলোর গবেষণার লক্ষ্য ও কার্যক্রম (IRI, IIU, 1987):
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগ হিসেবে কাজ করা এবং এই ক্ষেত্রের গবেষণা পরিচালনা করা,
২. ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন ময়দানে গবেষণাপদ্ধতি তৈরি ও প্রচার,
৩. আধুনিক বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ইসলামের শিক্ষার অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যাদান,
৪. মনোগ্রাফ, বই, গবেষণা প্রতিবেদন, গবেষণা পত্রিকা এবং এরকম অন্যান্য গবেষণা উপাদান প্রকাশিত করা, যেগুলো ইসলামের জ্ঞানের বিস্তারে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত,
৫. ইসলামের বিভিন্ন শাখার জ্ঞানের পরিচ্ছন্নতাগৃহ হিসেবে কাজ করা,
৬. মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে চিহ্নিত করার জন্য পাঠদল নিয়োগ করা,
৭. মুসলিম সমাজের বিভিন্ন চিন্তা-ঘরানার মাঝে সম্প্রীতিপূর্ণ বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সভা, সম্মেলন, সমাবেশ ও কর্মশালা আয়োজিত করা,
৮. এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করা।