📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন (যুক্তরাজ্য)

📄 দ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন (যুক্তরাজ্য)


ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এর লক্ষ্য হলো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রকাশনার একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হওয়া। তা ছাড়া এই ফাউন্ডেশন সাধারণভাবে পৃথিবীতে এবং বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করতে আগ্রহী, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট)।
এর প্রধান অবদান তিনটি: একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, একটি মূল্যবান গবেষণাকেন্দ্র এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। যুক্তরাজ্যের বুকে তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি বড়সড় মুসলিম মাইলফলক।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (মালয়েশিয়া)

📄 ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (মালয়েশিয়া)


বলাবাহুল্য, আজকের ইসলামি বিশ্বে IIUM প্রসিদ্ধতম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, সূচনালগ্ন থেকেই IIUM জ্ঞানের সকল শাখায় সর্বোত্তম মানের উচ্চতর শিক্ষা নিশ্চিত করার কোনো চেষ্টাই বাকি রাখেনি। এর কাঠামো ও অবকাঠামোগত দৃষ্টিনন্দন সুবিধাগুলো ইসলামি বিশ্বের অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের ঈর্ষার পাত্র (বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট)।
১৯৮৩ সালে IIUM প্রতিষ্ঠিত হওয়াটা সমসাময়িক মুসলিম উম্মতের এক বড়সড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন। জ্ঞানের অন্বেষণে উম্মতের হাতে নেতৃত্ব ফিরে আসার ধারা সূচিত হবে এর মাধ্যমে। IIUM-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের আলোচনায় এই আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে:
শিক্ষাগত উৎকর্ষের এক আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়া, যা ইসলামি ওহির জ্ঞান ও মূল্যবোধকে সকল শাস্ত্রের সাথে সমন্বিত করে এবং জ্ঞানের সকল শাখায় উম্মতের অগ্রণী ভূমিকা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখে। (প্রাগুক্ত)
IIUM একটি পরিচালনা পর্ষদের অধীনে কার্যক্রম চালায়। আটটি পৃষ্ঠপোষক সরকারের এবং ওআইসি'র প্রতিনিধিবৃন্দ এর সদস্য। সারা বিশ্বের সরকার ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এটি। যেমন, লীগ অব ইসলামিক ইউনিভার্সিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশান অব ইউনিভারসিটিজ এবং অ্যাসোসিয়েশান অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ। কিছু মালয়েশিয়াভিত্তিক ব্যবসার সাথেও এটি সংযুক্ত, যেগুলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
বর্তমানে ২০০৬ সালে IIUM ১৫,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৩,০০০ শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার মিলনমেলা। শিক্ষার্থী ও অ্যাকাডেমিক কর্মীদের অনেকেই প্রবাসী। সব মিলিয়ে ১০০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এতে। সেই ১৯৮৩ সালের সাদামাটা সূচনার বিচারে এটি বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। সূচনালগ্নে এটি মাত্র ১৫৩জন শিক্ষার্থী এবং মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাষক ও প্রশাসক নিয়ে কাজ করছিল (প্রাগুক্ত)।
সবচেয়ে বড় কথা, IIUM-এর প্রতিশ্রুতি: "শিক্ষা অর্জনের ইসলামি ধারণা ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্জীবিত করা—যেখানে জ্ঞান অন্বেষণকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়—সেইসাথে পবিত্র কুরআন থেকে উৎসারিত বৈজ্ঞানিক চেতনার প্রসার ঘটানো। এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমন্বিত শিক্ষণ ও শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনে সচেষ্ট। সেইসাথে সমন্বয়করণ, ইসলামিকরণ, আন্তর্জাতিকীকরণ ও বিপুল উৎকর্ষের মাধ্যমে নৈতিক ও আত্মিক মূল্যবোধকে জোরদার করে।”, (প্রাগুক্ত)
IIUM বিস্তৃত পরিসরের অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামের অধিকারী, যেগুলো দক্ষতাবৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উভয় প্রকার অর্জনের জন্য নির্মিত। এটি IIUM-এর দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের বিশ্বাসমতে, জ্ঞান অর্জন ও প্রচার করা উচিত তাওহিদের চেতনায়, একে ইবাদত মনে করে, এবং একে মানবজাতির ওপর আল্লাহর অর্পিত আমানত ভেবে (প্রাগুক্ত),
বিশ্ববিদ্যালয়টির দর্শনের ওপর একটু চোখ না বোলালেই নয়, তা হলো: ১. জ্ঞান প্রচার করতে হবে তাওহিদের চেতনায়, যা ধাবিত করবে আল্লাহকে পরম স্রষ্টা ও মানবজাতির প্রভু হিসেবে স্বীকার করার দিকে। ২. জ্ঞানক্রমের উচ্চতম স্তর হলো আল্লাহকে পরম স্রষ্টা ও মানবজাতির প্রভু হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া। ৩. জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত এবং আল্লাহ বিশ্বজগতকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর বিকাশ ঘটাতে হবে। ৪. মানুষ জ্ঞানের ব্যবহার করবে আল্লাহর বান্দা এবং পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে। ৫. জ্ঞান অন্বেষণ এক ধরনের ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হবে।
লক্ষণীয় যে, উপর্যুক্ত দর্শনে ধর্মীয় ভাবধারা স্পষ্টত বিদ্যমান।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (ইসলামাবাদ)

📄 ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (ইসলামাবাদ)


ইসলামাবাদের ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীর প্রথম দিনে। অর্থাৎ, পয়লা মুহাররম, ১৪০১ (১১ নভেম্বর, ১৯৮০)। নতুন শতকের শুরুতে এই মাইলফলক মুসলিম উম্মতের ইসলামি রেনেসাঁর আশা ও স্বপ্নের এক প্রতীক। ইসলামি শিক্ষা, চরিত্র ও ব্যক্তিত্বে পুষ্ট এবং মুসলিম উম্মতের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োজন পূরণে সক্ষম বিশেষজ্ঞ ও কর্মী তৈরি করাই উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ (আইআইইউ ওয়েবসাইট, জানুয়ারি ২০০৬)।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে এক অধ্যাদেশের প্রচারের মাধ্যমে 'ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি' নামে পুনর্ঘোষিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান চোখজুড়ানো ফায়সাল মসজিদের পাশে, যা ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এর নকশাকার একজন বিখ্যাত তুর্কি স্থপতি। প্রয়াত বাদশাহ ফায়সাল বিন আবদুল আযীয এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন। মসজিদটি ১৮৯,৭০৫ বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে অবস্থিত এবং এর ধারণক্ষমতা ২০০,০০০।
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলো হলো: ১. ব্যক্তি ও সমাজের সার্বিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বিকাশ ঘটানো; ২. ইসলামের ভিত্তির ওপর সব ধরনের মানবীয় চিন্তার পুনর্নির্মাণ; ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মাঝে ইসলামি চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা; ৪. ইসলামি শিক্ষা, সমাজ, প্রাকৃতিক, ফলিত ও যোগাযোগ বিজ্ঞানে, এবং জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় উৎসাহ জোগানো; ৫. আদর্শিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ। ধ্যানধারণা ও নীতিমালা হবে ইসলামের রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমসাময়িক সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান তৈরির জন্য নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
IIUM-এর মতো IIU-ও ইসলামি অধ্যয়নের সংকীর্ণ পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। এর রয়েছে বিস্তৃত পরিসরের পাঠধারা, যার প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: ফলিত বিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট, উসুলুদ্দীন বা ইসলামি ধর্মতত্ত্ব, আরবি ভাষা, শরীয়ত ও আইন, সমাজবিজ্ঞান এবং ভাষা ও সাহিত্য। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি প্রধান বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট রয়েছে: ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক ইকোনমিকস, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ১৯৮৭ সালে স্থাপিত হয়। ইসলামিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক প্রকাশনায় উল্লেখিত হয়েছে এই:
ইন্সটিটিউটগুলোর গবেষণার লক্ষ্য ও কার্যক্রম (IRI, IIU, 1987):
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগ হিসেবে কাজ করা এবং এই ক্ষেত্রের গবেষণা পরিচালনা করা,
২. ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন ময়দানে গবেষণাপদ্ধতি তৈরি ও প্রচার,
৩. আধুনিক বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ইসলামের শিক্ষার অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যাদান,
৪. মনোগ্রাফ, বই, গবেষণা প্রতিবেদন, গবেষণা পত্রিকা এবং এরকম অন্যান্য গবেষণা উপাদান প্রকাশিত করা, যেগুলো ইসলামের জ্ঞানের বিস্তারে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত,
৫. ইসলামের বিভিন্ন শাখার জ্ঞানের পরিচ্ছন্নতাগৃহ হিসেবে কাজ করা,
৬. মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে চিহ্নিত করার জন্য পাঠদল নিয়োগ করা,
৭. মুসলিম সমাজের বিভিন্ন চিন্তা-ঘরানার মাঝে সম্প্রীতিপূর্ণ বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সভা, সম্মেলন, সমাবেশ ও কর্মশালা আয়োজিত করা,
৮. এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00