📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্থা

📄 সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্থা


ইখওয়ানুল মুসলিমীনের কার্যক্রমের ফলে মিশরে ইসলামি সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্থাগুলোর পুনরাবির্ভাব শুরু হয়। সাদাতের আমলে দলটিকে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে দেওয়া হয়েছিল। আরও অনেক ধর্মীয় সংস্থা ও দল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটিরই উদ্দেশ্য ছিল গণমানুষের মাঝে ইসলামি শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অবশ্য অল্পকিছু দলকে পরবর্তীকালে বাতিল করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠিত এসব সংস্থার মাঝে ওআইসি'র কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অর্গ্যানাইজেশান অব ইসলামিক কনফারেন্স

📄 অর্গ্যানাইজেশান অব ইসলামিক কনফারেন্স


ওআইসি একটি আন্তঃসরকারী সংস্থা, যাতে ২০০৬ সালের মধ্যে সাতান্নটি রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত হয়। নিজেদের ও বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং অগ্রগতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করণার্থে এই রাষ্ট্রগুলো তাদের সম্পদ ও প্রচেষ্টাকে ঐক্যবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় (ওআইসি ওয়েবসাইট)। মুসলিমদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় ১৯৬৯ সালের অগাস্ট মাসে ইজরায়েলের ছত্রছায়ায় অগ্নিসংযোগের অপরাধ সংঘটিত হয়। এর পরপরই একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামি রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবর্গের প্রথম সমাবেশ। রাষ্ট্রপ্রধানগণ ইসলামি সম্মেলনের জন্য একটি স্থায়ী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে "জায়োনিস্ট দখলদারিত্ব থেকে জেরুসালেম ও আল-আকসা মুক্তকরণে"র লক্ষ্যে মুসলিম দেশগুলোকে একত্র করা যায়। সেই সম্মেলনে উক্ত মিশনকে মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠিত হয় ওআইসি। ছয় মাস পরে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীবর্গের প্রথম ইসলামি সম্মেলন। এর উদ্দেশ্য ছিল জেদ্দায় একটি স্থায়ী সচিবালয় ও প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত করা। দুই বছর পর ১৯৭২ সালে গৃহীত হয় সংস্থাটির সনদ, যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে ইসলামি রাষ্ট্রসমূহের মাঝে ঐক্য ও সহযোগিতা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্য স্থির করে।

টিকাঃ
১. ২০১১ সালে এর নাম বদলে অর্গ্যানাইজেশান অব ইসলামিক কো-অপারেশন রাখা হয়। - সম্পাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)

📄 ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)


ওআইসি'র সুপারিশের বাস্তবায়ন হিসেবে ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মুসলিম দেশসমূহের অর্থমন্ত্রীগণের সম্মেলনে মুসলিম দেশসমূহের সেবার উদ্দেশ্যে একটি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সংকল্প ঘোষিত হয়। জুলাই ১৯৭৫-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। এর কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের অক্টোবর মাস থেকে। ব্যাংকটির উদ্দেশ্য শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহের এবং মুসলিম জনসমাজগুলোর স্বতন্ত্রভাবে ও সামষ্টিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।
আইডিবির ভূমিকার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন উৎপাদনশীল প্রকল্প ও উদ্যোগের জন্য ঋণমুক্ত পুঁজিতে অংশগ্রহণ ও ঋণ প্রদান। তা ছাড়া সদস্য দেশগুলোকে অন্যান্য ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করাও এটির কাজ। বিশেষ কিছু উদ্দেশ্যে তহবিল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করাও আইডিবির একটি দায়িত্ব। সদস্য নয়, এমন রাষ্ট্রগুলোর মুসলিম জনসমাজকে সহযোগিতা প্রদানের জন্যও তহবিল তৈরি করে তারা। আইডিবির অধিকার রয়েছে আমানত গ্রহণ করার এবং শরীয়া-সম্মত আর্থিক সম্পদকে গতিশীল করার। তাই এটির দায়িত্ব হলো সদস্য দেশগুলোর মাঝে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে সহযোগিতা করা। সদস্য দেশগুলোতে কারিগরি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এবং এসব দেশে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিবর্গের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা (আইডিবি ওয়েবসাইট)।
আইডিবির শেয়ারহোল্ডার হলো মুসলিম দেশগুলোর সরকারসমূহ। প্রায় ৫৭টি দেশ অর্গ্যানাইজেশান অব ইসলামিক কনফারেন্সের সদস্য। বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করেন সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীগণ (কোষাধ্যক্ষবৃন্দ)। ব্যাংকটির স্বীকৃত পুঁজির পরিমাণ ১৯৭৫ সালে দুই বিলিয়ন ইসলামি দিনার থেকে বেড়ে ১৯৯২ সালে ছয় বিলিয়ন হয়। ২০০১ সালে তা পনেরো বিলিয়নে উন্নীত হয়। এর শেয়ারপ্রতি মূল্যমান ১০,০০০ ইসলামি দিনার এবং লগ্নিকৃত পুঁজি আট বিলিয়ন ইসলামি দিনারের কিছু বেশি। প্রতিষ্ঠাকালে ও এর কিছু বছর পর পর্যন্ত কেবল সৌদি আরবের জেদ্দায় আইডিবি'র একটি প্রধান কার্যালয় ছিল। সেই থেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিসর বাড়তে বাড়তে এর স্থানীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মরক্কোর রাবাত, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, কাজাখাস্তানের আলমাতিতে। মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধি রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য-এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার আরও এগারোটি সদস্য দেশে। মজার ব্যাপার হলো, যোগাযোগের সুবিধার্থে আইডিবির তিনটি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে— আরবি, ইংরেজি ও ফরাসি।
আইডিবির কার্যক্রমের পরিসর খুবই বিস্তৃত। এতে প্রধানত রয়েছে: প্রকল্পের অর্থায়ন, ব্যবসায়ের অর্থায়ন, ব্যক্তিগত খাতের প্রচারণা, বিশেষ সহযোগিতা ও বৃত্তি, কারিগরি সাহায্য, তরুণ গবেষকদের পৃষ্ঠপোষকতা কার্যক্রম, ইসলামি ব্যাংকসমূহের পোর্টফোলিও, বিনিয়োগ তহবিল এবং অবকাঠামো তহবিল।
শরীয়াহসম্মতভাবে আইডিবির অর্থায়নের মাধ্যমসমূহ প্রধানত নিম্নরূপ (আইডিবি ওয়েবসাইট):
➡ ঋণ: এ ঋণ সুদমুক্ত, তবে ব্যবস্থাপনার চার্জ প্রযোজ্য। এটির পরিমাণ বার্ষিক ০.৭৫% থেকে ২.৫০% পর্যন্ত হয়ে থাকে। ত্রিশ বছরের ঋণের জন্য বর্ধিত সময়কাল দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এসব ঋণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রকল্পসমূহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। এই প্রকল্পগুলো হতে হবে এমন, যার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক প্রভাব প্রত্যাশিত এবং তা উপার্জনমূলক ধাঁচের নয়। অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য এগুলো সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
➡ ইজারা: উপার্জনমূলক প্রকল্পের জন্য পুঁজি উপকরণ ও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের অর্থায়নে এটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ব্যাংকিং ইজারায় যেমনটি হয়, ইজারার মেয়াদ শেষে সম্পদের মালিকানা ইজারাগ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করে দেওয়া হয়। এখানেও তা-ই। প্রস্তুতির মেয়াদকাল ছয় থেকে ৪৮ মাস পর্যন্ত হওয়ার পাশাপাশি ইজারার মেয়াদ বর্ধিত হতে পারে ১৫ বছর পর্যন্ত। ইজারার প্রদেয় (ভাড়া) এমনভাবে নির্ধারিত হয়, যেন ব্যাংক বার্ষিকভাবে গড়ে প্রায় ৬% হারে ফেরত পেতে পারে। ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য ইজারাটি সরকারি বা ব্যাংক গ্যারান্টির অধীন হয়ে থাকে।
➡ কিস্তি বিক্রয়: এ ধরনের অর্থায়ন পদ্ধতিতে ব্যাংক ওই উপকরণগুলো কিনে নেয়, যেগুলো মূলত পুঁজির সম্পদ। তারপর গ্রহীতার কাছে সেগুলো বিক্রি ও সরবরাহ করে কিস্তি আকারে। কিস্তির সার্বিক মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। আর কিস্তি বিক্রয় থেকে ব্যাংকের কাছে ফেরত আসার হার বছরে গড়ে প্রায় ৬%।
➡ ইস্তিসনা'আ: ইস্তিসনা'আ এক ধরনের চুক্তি। এতে ব্যাংক গ্রহীতার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপকরণ উৎপাদিত করে দেওয়ার দায়িত্ব হাতে নেয়। তারপর এগুলো গ্রহীতার কাছে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করে নির্ধারিত একটি মেয়াদকাল যাবত। এই মেয়াদ ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। ব্যাংকের ফেরতপ্রাপ্তি প্রায় ৬%।
➡ সমতাপূর্ণ অংশগ্রহণ: ব্যবসায়িক মূলধনে ব্যাংকের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এক- তৃতীয়াংশ। বলাবাহুল্য, ব্যবসা অবশ্যই শরীয়তের সীমারেখার মাঝে পরিচালিত হতে হবে।
➡ মুনাফা ভাগাভাগি: এটি ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মাঝে একধরনের অংশীদারিত্ব। ব্যাংক ও অংশীদারদের সম্মতিমূলক পরিমাণে মুনাফা ভাগ করে নেওয়া হয় এখানে।
➡ অর্থায়ন: এগুলো জাতীয় উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানসমূহ (এনডিএফআই) ও ইসলামি ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সাধারণ ধারা। ছোট থেকে মাঝারি আকারের উদ্যোগের অর্থায়ন করা হয় এর মাধ্যমে। অর্থায়নের মেয়াদ সাধারণত ওপরে বর্ণিত মাধ্যমগুলোর চেয়ে কম। আর ফেরতের হার আগের মতোই প্রায় ৬%।
➡ কারিগরি সহযোগিতা: এটি বিনিয়োগ-পূর্ববর্তী ব্যয়ভারের অর্থায়নের জন্য। যেমন গবেষণা ও উন্নয়ন। এটি মঞ্জুরি বা সুদমুক্ত ঋণ আকারে হয়ে থাকে সর্বোচ্চ ১৬ বছর সময়কালের জন্য। বর্ধিত সময়কাল আরও চার বছর। এর সার্ভিস ফি প্রায় ১.৫%।
প্রকল্প ও ব্যবসায়ের অর্থায়নে ভূমিকা-সহ আইডিবির অন্যান্য সেবা মুসলিম জনসমাজগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করেছে। ব্যাংকের নীতিমালা সহানুভূতিপূর্ণ, কিন্তু গা-ছাড়া নয়। বিচক্ষণ, কিন্তু কঠোর নয়। অর্থায়নের গ্রহীতা ও দাতা উভয়ের স্বার্থই আইডিবি ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সতর্ক নিরীক্ষণের অধীনে থাকে। আইডিবি ভাইস-প্রেসিডেন্টের উক্তি দিয়ে এভাবে শেষ করা যায়, “গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ যে, আইডিবির অর্থায়নের সাথে পলিসি কন্ডিশনালিটি নেই।।। এই ব্যাংক মোটেও কোনো দুধের মাছি নয়। আমরা সকল সদস্য দেশের সকল সময়ের বন্ধু। সুসময় ও দুঃসময়ে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি। আমাদের আর্থিক কার্যক্রমের একমাত্র ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোতে উম্মতের উন্নয়ন-প্রচেষ্টায় সহযোগী হওয়ার সদিচ্ছা" (আযনান, ২০০৩)। ব্যাংকের এই দাবির যে সত্যতা রয়েছে, তার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ বিদ্যমান।

টিকাঃ
১. আইএমএফ-এর কাছ থেকে কোনো সমস্যাজর্জরিত দেশ ঋণ নিলে তাদের শর্ত দেওয়া হয় যে, যেই সমস্যার জন্য তারা ঋণটি নিচ্ছে, দেশটির সরকার সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালা সে অনুযায়ী সংশোধন করে নেবে।- অনুবাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 কিছু মুসলিম দেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ইসলামিকরণ

📄 কিছু মুসলিম দেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ইসলামিকরণ


রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়—সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থনীতির অধীনে স্থানান্তরিত করার। কোনো মুসলিম সরকার কর্তৃক ইসলামি অর্থনীতির নীতিমালা সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়নের এটাই প্রথম লক্ষণীয় প্রচেষ্টা। ইসলামিকরণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এতে প্রধানত রয়েছে: ইসলামি করব্যবস্থার প্রয়োগ, যাকাতব্যবস্থার প্রবর্তন এবং আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সুদ উচ্ছেদ করে মুনাফা ও ক্ষতি ভাগাভাগি পদ্ধতির প্রচলন ঘটানো।
সুদ দূরীকরণের প্রথম পর্যায়টি দেখা যায় ১৯৭৯ সালে। সরকার ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের (এনআইটি) কার্যক্রমের ভিত্তি পরিবর্তিত করে। এই ট্রাস্ট ১৯৬২ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য কর্পোরেট খাতে বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়ের ব্যবস্থাপনা করা। জুলাই ১৯৭৯ থেকে কার্যকরভাবে এর ভিত্তি হয় সুদমুক্ত। এই পরিবর্তনের প্রতি সঞ্চয়কারীদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। এনআইটির সামষ্টিক বিক্রয়, লভ্যাংশ ও পুঁজিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে (শাহাব, ১৯৮২)। কার্যক্রমের ভিত্তির অনুরূপ পরিবর্তন ঘটানো হয় ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (আইসিপি) ক্ষেত্রেও। আইসিপি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি বিনিয়োগ ব্যাংক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সমতামূলক বিনিয়োগ প্রসারে কাজ করে এটি। কার্যক্রমের ভিত্তি পরিবর্তির হওয়ার পর তা সুদমুক্ত পদ্ধতিতে কাজ করতে শুরু করে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়। ঋণস্বীকারপত্র অর্থায়নকে পরিবর্তিত করা হয় পার্টিসিপেটিং টার্ম সার্টিফিকেট (পিটিসি) অর্থায়নে। এখানেও পরিবর্তনের ফলাফল হয় সাফল্যপূর্ণ। লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ঘোষিত গড় পরিমাণের চেয়ে বেশি (প্রাগুক্ত)। তা ছাড়া ব্যাংকার্স ইকুইটি লিমিটেড নামে একটি নতুন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। এর লক্ষ্য ব্যক্তিগত খাতে বৃহৎ ও মধ্যম আকারের শিল্প উদ্যোগের জন্য পিএলএস অর্থায়ন প্রদান করা। আরও কিছু বড় পরিবর্তন ঘটানো হয় ১৯৮০ সালে: মুদারাবা কোম্পানি এবং মুদারাবা (ব্যবসা আরম্ভ ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের ঘোষণা, এবং ব্যাংকিং আইনের সংশোধন। এই সংশোধনের ফলে সুদভিত্তিক হিসাবের বদলে লাভ ও ক্ষতি ভাগাভাগির ভিত্তিতে হিসাব খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00