📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 তাহা হুসাইন ও সেক্যুলারায়নের ডাক

📄 তাহা হুসাইন ও সেক্যুলারায়নের ডাক


তাহা হুসাইন মিশরের গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন বুদ্ধিজীবী। তিনি আধুনিকতাবাদের দিকে পুরোদমে সেক্যুলার একটি কর্মপন্থা গ্রহণ করেন। তিনি ধর্ম ও রাজনীতির পৃথকীকরণের সমর্থক। তার মতে সমাজে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়িত হবে এর মাধ্যমেই, ইসলামি পথের মাধ্যমে না। আধুনিকায়নের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি হুসাইনের চিন্তার ওপর আরও একটি জিনিস প্রভাব ফেলেছিল বলে প্রতীয়মান হয়। ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনি প্যারিসের সরবোনে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী হন। মুস্তাকবিলুস সাকাফা ফি মিসর গ্রন্থে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আসন্ন বছরগুলোতে মিশরের ও ইসলামের শেকড় পশ্চিমের সাথেই বাঁধা থাকবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী নতুন শতাব্দীর শুরুর বছরগুলোতে বাস্তবায়িত হয়েছে বলা চলে।
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি তার মুগ্ধতা ও আধুনিকায়নের জন্য তার উদ্যম তাকে আরও এক ধাপ সামনে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন যে, মিশরের সাথে পশ্চিমের অনেক মিল রয়েছে। তা হলো ভূমধ্যসাগরীয় দেশ এবং একেশ্বরবাদী ধর্মবিশ্বাস। পক্ষান্তরে ইসলাম ও আরবি ভাষা ছাড়া আরবদের সাথে মিশরের কোনো মিল নেই। তাই মিশর যতটা না প্রাচ্যীয় দেশ, তার চেয়ে বেশি পশ্চিমা। তার ভাষ্যে, “ভূমধ্যসাগরের আশপাশে গড়ে ওঠা বা এর দ্বারা প্রভাবিত জাতিসমূহের মধ্যে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বা রাজনৈতিক পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না” (হুসাইন, ১৯৮২)।
সেক্যুলারবাদ চিরকালই মিশরের অংশ ছিল, এমন দাবি করে তিনি বলেন, “যেই মূলনীতি এখন বিশ্বজনীন স্বীকৃতি পাচ্ছে, মুসলিমরা সে ব্যাপারে আদিকাল থেকেই অবগত। তা হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং ধর্ম আলাদা জিনিস। সংবিধান ও রাষ্ট্রের সর্বোপরি অবস্থান করে বাস্তব ভিত্তির ওপর”। তার মতে, টেবিল ম্যানার থেকে শুরু করে রেললাইন এবং রাজনৈতিক, আইন ও শিক্ষাব্যবস্থায় মিশর ইউরোপীয় রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানকে আপন করে নেবে। এমনটাই স্বাভাবিক। আর তাহা হুসাইন যেহেতু ১৯৫০ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত মিশর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তাই এই মন্তব্যগুলো ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিখ্যাত মিশরীয় লেখক ও খুবই সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তাহা হুসাইন এমনসব মুসলিম আধুনিকতাবাদী বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধি, যাদের মাঝে একধরনের মিশ্র অনুভূতি বা বলা চলে হতাশা কাজ করত। কারণ, মুসলিম সমাজগুলোকে আধুনিকায়িত করার প্রচেষ্টায় তাদের মনে হতো যে, আলিম-সমাজ নতুনত্বের প্রতি সুনজর দিতে অনিচ্ছুক। হয়তো অক্ষমও। অবাক-করা একটি ব্যাপার আমরা জানতে পারি তাহা হুসাইনের রচিত আত্মজীবনী আল-আইয়্যাম (দিনগুলো) থেকে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে তার বেড়ে ওঠাটা হয়েছিল একটি ধর্মীয় পরিবেশে, যেখানে তাকে খুব অল্প বয়সেই সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত শিখিয়ে দেওয়া হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00