📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আবুল আলা মওদুদি এবং জামাতে ইসলামি

📄 আবুল আলা মওদুদি এবং জামাতে ইসলামি


পাকিস্তানকে পুনরায় ইসলামি আদর্শের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঝাণ্ডা বহন করেন আবুল আলা মওদুদি (১৯০৩-১৯৭৯)। ইসলামি মূল্যবোধ ও আদর্শের দিকে দেশটির জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য মওদুদি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন জামাত-ই-ইসলামি (ইসলামি সংঘ)। এটি একটি কেন্দ্রমুখী, কঠোর শৃঙ্খলাভিত্তিক দল, যা অনেকটা মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমীনের অনুরূপ (Sagiv, ১৯৯৫)। মিশরের দলটির মতো পাকিস্তানি জামাতের একইরকম লক্ষ্য ছিল—এমন একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা, যাকে মওদুদি বলেছেন "Theo-democracy", (Sivan, 1990)।
মিশরের আবদুহ, আফগানি ও আল-বান্নার মতো তিনিও স্বীকার করেন যে, পশ্চিমা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমদানি করার প্রয়োজন থাকতে পারে বটে। কিন্তু ইসলামি মূল্যবোধ বিসর্জন না দিয়েই এসব প্রয়োগ করা সম্ভব, যেহেতু দুটির মাঝে কোনো বিবাদ নেই।
তিনি “নব্য জাহিলিয়াত”-এর এক তত্ত্ব প্রদান করেন। ইসলামি-পূর্ব আরবে বিদ্যমান জাহিলিয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এখানে। যার অর্থ অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা। তার মতে, বিংশ শতাব্দীর মুসলিমদের অবস্থা হলো নিজেদের ধর্ম ও ইসলামি আদর্শ সম্পর্কে অজ্ঞতা। তাই তারা যেন এক নব্য জাহিলি যুগে বসবাস করছে। তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ মুসলিম ইসলামের সত্যিকার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত এবং ধর্মবিমুখ হয়ে গেছে। নিজেরা আইন বানিয়ে আসমানি কর্তৃত্বকে অস্বীকার করেছে (Davidson, 2003)। এমনকি যেসব মুসলিম দেশের সরকার কঠোরভাবে শারীআ আইন বাস্তবায়ন করেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে সত্যিকারের মুমিনের দায়িত্ব বলে ঘোষণা করেন মওদুদি (Esposito, 2002)। সমাজ পরিপূর্ণ ইসলামি না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার জামাত-ই-ইসলামির অনুসারীদেরকে সরকারের বাইরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন (Sagiv, 1995)। ফলে একটি সংসদীয় দল হিসেবে জামাত ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সরকার থেকে দূরে থাকে। পরবর্তী সময়ে দলটি সরকারের ভেতরে থেকে ক্রমান্বয়ে সংস্কারের ধারণাকে গ্রহণ করে নেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00