📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইদরিসি আন্দোলন

📄 ইদরিসি আন্দোলন


ওহাবি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে উত্তর আফ্রিকায় অনুরূপ আরও আন্দোলনের সূচনা ঘটে। তাদের সকলের বার্তা ও উদ্দেশ্য ছিল একইরকম, ইসলামের পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তোলা। মরক্কোতে আহমাদ ইবনু ইদরিস (১৭৬০-১৮৩৬) একজন সুফি সংস্কারক হিসেবে আবির্ভূত হন। মানুষকে শিক্ষিত করা এবং ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোয় আলোকিত করার প্রয়োজনীয়তার আহ্বান জানান তিনি। উত্তর আফ্রিকা ও ইয়েমেনে ব্যাপক ভ্রমণ করে তিনি তার শিক্ষণ ও প্রচারণার কাজ চালান। অবশেষে সিদ্ধান্তে আসেন যে, মুসলিম আলিমগণ ফিক্‌হ নিয়ে এতই ব্যস্ত যে, জনগণকে তাদের নিজেদের ধর্মের মৌলিক কার্যাবলি শেখানোর মতো সময় তাদের নেই। তার মতে এটি আলিমগণের ব্যর্থতা। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল ওয়াহহাবের সাথে আহমাদ ইবনু ইদরিসের পার্থক্য হলো, শেষের জনের কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সানুসি আন্দোলন

📄 সানুসি আন্দোলন


সানুসি আন্দোলনের অভ্যুদয় ঘটে পূর্ব লিবিয়ায় মুহাম্মাদ ইবনু আলি আস-সানুসির (১৭৮৭-১৮৫৯) নেতৃত্বে। তার লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজকে নবি-এর আমলের সমাজের আদলে পুনর্গঠন করা। সুফি হিসেবে আস-সানুসি অতিমাত্রার ব্যয় প্রত্যাখ্যান করেন। আহ্বান জানান সাদামাটা, প্রায় মরুভূমির জীবনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য। যেটা প্রাথমিক যুগের মুসলিম জনসমাজের মাঝে দেখা যেত।
রাজনৈতিকভাবে আস-সানুসি ও তার অনুসারীদের সাফল্য ছিল অবাক-করার মতো। পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলোকে তিনি তার ধর্মীয় আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত করতে সমর্থ হন। ভ্রাতৃসংঘ ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রের এমন এক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা ছিল উত্তর লিবিয়া থেকে সুদান পর্যন্ত বিস্তৃত (Cleveland, 1994)। সানুসি আন্দোলন ১৯১১ সালে ত্রিপোলিতে ইতালীয় আক্রমণকে রুখে দেয়। উত্তর ও মধ্য আফ্রিকায় ফরাসি সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হয় তাদের হাতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি ১৯৫০ সালে আস-সানুসির এক নাতির মাঝে লিবিয়ার জন্য উপযুক্ত এক রাজাকে দেখতে পায়। এই অবস্থা বহাল থাকে পয়লা সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ পর্যন্ত। এসময় কর্নেল মুআম্মার আল-গাদ্দাফির নেতৃত্বে এক সামরিক বিপ্লব সানুসি পরিবারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে এবং লিবিয়া রাজ্যকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 মাহদি আন্দোলন

📄 মাহদি আন্দোলন


উত্তর সুদানে আবির্ভূত আরেক আন্দোলনের নেতা ছিলেন মুহাম্মাদ আহমাদ আল-মাহদি (১৮৪৪-১৮৮৫), যিনি নিজেকে প্রতীক্ষিত মাহদি হিসেবে দাবি করেন। তার লক্ষ্য ছিল ধর্মকে পুনর্জীবিত করা এবং ইসলামকে নবি-এর শুদ্ধতাবাদী চর্চায় ফিরিয়ে নেওয়া। পূর্বে উল্লেখিত আন্দোলনগুলোর মতো এরও উদ্দেশ্য ও বার্তা ছিল একই। কিন্তু সুদানে ব্রিটিশ-মিশরীয় দখলদারিত্ব প্রতিরোধ করার এবং দেশটিকে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত করার শক্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল আল-মাহদির। জিহাদ ঘোষণা করার মাধ্যমে তিনি তার ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে এমন এক বিষয়কে প্রোথিত করে দিতে সক্ষম হন, যা সামরিক সাফল্য অর্জনে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। অচিরেই মাহদিপন্থিগণ উত্তর সুদানের বেশির ভাগ অংশ জয় করেন। স্বয়ং রাজধানী খারতুম দখল করে নেন ১৮৮৫ সালে। মাহদিবাদীরা ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। এরপর কিচেনারের সেনাপতিত্বে অ্যাংলো-ইজিপশিয়ান সেনাবাহিনী খারতুম পুনর্দখল করে নেয়। স্বল্পায়ু মাহদি আন্দোলন যদিও বিশ বছরের বেশি টেকেনি, কিন্তু অ্যাংলো-ইজিপশিয়ান সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করা এবং নিজভূমে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মাহদির সাফল্য ছিল নজরকাড়া। সর্বত্র মুসলিমদের জন্য তা এক অনুপ্রেরণায় পরিণত হয় যে, পশ্চিমায়নের উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে ইসলামি পুনর্জাগরণ খুবই সম্ভব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00