📄 শাহ ওয়ালিউল্লাহর অর্থনৈতিক চিন্তা
ওপরে যেমনটি বলা হলো, শাহ ওয়ালিউল্লাহর সমসাময়িক মুসলিমদের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বিপথগামিতা, মোহভঙ্গ, এককালের মুসলিম সাম্রাজ্যের ওপর ক্ষমতা হারানো, এবং প্রায় আত্মপরিচয়ের বিলুপ্তি। তার রচিত হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা (আল্লাহর অবিসংবাদিত প্রমাণসমূহ) আজও মুসলিমদের মাঝে পঠিত হয়। এটি এমন এক বই, যা ইসলামি আদর্শের অনুসন্ধানে ঐশ্বরিক বাণীর সাথে মানবীয় যুক্তিবুদ্ধির এক অনুপম মেলবন্ধন। এমনকি আজকের যুগের মানদণ্ডেও শাহ ওয়ালিউল্লাহর নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অসাধারণ। তাই আমাদের বইয়ে তার রচনাকর্মটি বিশেষ মনোযোগ পাবার দাবি রাখে।[১]
তার কাজের অন্যতম প্রধান আলোচ্য হলো রাষ্ট্রনীতি এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা, যা স্বভাবতই তার সমসাময়িক কালে বিরাজমান অন্যায়-অবিচারের প্রতিক্রিয়া। এর ভিত্তি কেবল ইসলামে সামাজিক ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণাটিই নয়, বরং সেই সাথে “ইরতিফাক”ও বটে। ইরতিফাকের ভাবার্থ হলো অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সামষ্টিক প্রচেষ্টা। ইরতিফাকের ওপর জোর দেওয়া মানে ব্যক্তিমানুষের একে অপরের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ ব্যবস্থার আলোচনা (Jalboni, 1992, Baljon, 1992)।
আদিম ধাঁচের জীবনধারা কিংবা যেটাকে মোটাদাগে বলা যায় আদিম সমাজ, সেখানে ইরতিফাক খুব একটা জরুরি শর্ত নয়। কিন্তু সামষ্টিক জীবনের রূপ যত বিকশিত হয়, এর প্রয়োজনীয়তা তত বাড়তে থাকে। যেসব অগ্রসর জটিল সমাজের প্রধান উপাদান কর্মগত দক্ষতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান, সেখানে সহযোগিতা ও সামষ্টিক কর্মসমাধা তথা ইরতিফাক অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। সমৃদ্ধি ও বিশেষত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সামষ্টিকতা তাই অনস্বীকার্য। তাই যুক্তি বলে, পরিশ্রমের ফলাফল ভাগাভাগি করে নেওয়াটাও একইরকম দরকারি।
যৌক্তিকভাবে অগ্রসর হয়ে শাহ ওয়ালিউল্লাহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে নিরীক্ষণ করেন। এগুলোকে ভাগ করেন চারটি ভাগে। প্রথমটি একেবারেই ব্যক্তিক রূপ, তথা আদিম জীবন। আর সর্বশেষটি হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়। আজকে আমরা যে জিনিসটিকে বিশ্বায়ন বলে চিনি, সেটার পূর্বাভাসই যেন দিয়ে গেছেন তিনি। এই শেষ পর্যায়টিতে অগ্রসর সমাজের বিভিন্ন সমস্যার ওপর তিনি যথেষ্ট আলোকপাত করেছেন: শাসকের (বা আধুনিক পরিভাষায়, সরকারের) দায়িত্বসমূহ, সহযোগিতার প্রকারের ব্যাপারে জনগণের ঐক্যমত্য, দুর্নীতির কারণ, এবং শ্রমের যথাযথ বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা। লেখকের চিন্তাধারা থেকেই বোঝা যায়, এসব ক্ষেত্রে ইসলামি বিধিমালা তথা শরীয়ত অবশ্যই মান্য করতে হবে। তিনি বলেন যে, অবিচার চলতে চলতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে জনগণ বিদ্রোহের অভ্যুদয় ঘটাতে পারে।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ'র শ্রেণিবিভাগে সমাজ-বিকাশের চতুর্থ ও চূড়ান্ত ধাপটি বিশেষভাবে আগ্রহোদ্দীপক। এ ধরনের সমাজের উদ্ভব হয় যখন রাষ্ট্র বড় হতে হতে এর সীমান্ত এতদূর প্রসারিত হয়ে যায় যে, একটি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষপাতী ছিলেন বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ রাষ্ট্রকে তিনি একেকজন গভর্নরের অধীনে একাধিক প্রদেশে বিভক্ত করার কথা বলেছেন। প্রদেশগুলোর ব্যবস্থাপনা হতে হবে স্বনির্ভরতার ভিত্তিতে। এর থাকবে নিজস্ব সেনাবাহিনী, উপার্জনের উৎস, ও প্রশাসন। আর এই সবকিছু থাকতে হবে কেন্দ্রীয় শাসকের কর্তৃত্বাধীনে। কেন্দ্রীয় শাসককে এতটুকু ক্ষমতাধর হতে হবে, যেন তিনি প্রদেশগুলোকে নিজের কাছে জবাবদিহিতার অধীনে রাখতে পারেন। আর তাকে হতে হবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অর্থাৎ ওয়ালিউল্লাহর মতে, ক্ষমতাশালী শাসক শুধু শক্তি ও দাপট নিয়েই সরকার চালাবেন না। পাশাপাশি প্রজাদের জন্য নিজেকে উত্তম আদর্শ হিসেবে তুলে ধরাটাও তার একই পরিমাণ দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপ্রশাসনের ব্যাপারে শাহ ওয়ালিউল্লাহ শাসক তথা সরকারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন। আদর্শ অবস্থায় যদিও মানুষের একে অপরের প্রতি পারস্পরিক দয়ামায়া থাকবে, কিন্তু বাস্তবে সেটা সবসময় না-ও হতে পারে। তা ছাড়া সমাজের জনসংখ্যা অনেক বেশি হলে দেখা দিতে পারে স্বার্থের সংঘাত। এসব কারণেই শাসক বা সরকারের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী। রাজনৈতিক একটি শৃঙ্খলার দরকার পড়ে। এই শৃঙ্খলের নেতৃত্বে থাকবেন এমন একজন শাসক, যার মধ্যে শাসক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে। শাসক ও উত্তম সরকারের মাঝে কী কী যোগ্যতা থাকা চাই, সেগুলো এখানে নিরীক্ষণ করেছেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ।
প্রথমত, শাসককে নির্বাচিত হতে হবে। কিন্তু উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়া গোটা জনগণ করবে না। এর বদলে এটির নির্বাহ হবে সমাজের প্রাজ্ঞ ও প্রধান প্রধান ব্যক্তিবর্গের (শূরার) মাধ্যমে। জনসমাজকে কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এ এক উপযুক্ত পদ্ধতি।
নির্বাচক গোষ্ঠী যেন নির্বাচিত শাসকের ওপর ক্ষমতা বা প্রভাবের কোনো অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য শাহ ওয়ালিউল্লাহ ত্বরিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন (Jalboni, 1992, Baljon, 1992):
➡ (১) শাসক বা সরকারপ্রধানকে এতটা ক্ষমতাধারী হতে হবে, যেন তিনি সমাজপতিদের-সহ সকলকে আইন মানতে বাধ্য করতে পারেন এবং নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা দমন করতে পারেন। অনুমান করা যায় যে, সংবিধানের উপাদান হিসেবে বিধিমালা নির্ধারণ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থেকে থাকবে।
➡ (২) শাসককে হতে হবে চরিত্রবান, সাহসী ও নির্ভীক। অন্যথায় তিনি স্বজাতি বা শত্রু—কারো কাছ থেকেই সম্মান আদায় করতে পারবেন না।
➡ (৩) সহনশীলতা ও শিথিলতাও প্রয়োজনীয় গুণাবলি।
➡ (৪) কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন পরিচালনা করার দক্ষতা অত্যাবশ্যক।
➡ (৫) প্রজাদের সাহায্যার্থে উদারতা ও তৎপরতা এবং তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রদর্শন করতে হবে।
➡ (৬) নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রজাদের কাছ থেকে ভালোবাসা ও সমীহ জয় করে নিতে হবে।
➡ (৭) প্রজাদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তিপ্রদান করা শাসকের জন্য বাঞ্ছনীয়।
➡ (৮) অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
➡ (৯) ইতিবাচক প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে সহকারীদের (সরকারি প্রশাসনের সদস্যদের) ভালো কাজকে উৎসাহিত ও মন্দ কাজকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
➡ (১০) প্রজাগণের মনমানসিকতা এবং ঘটনা ঘটার আগেই তার পূর্বাভাস বোঝার সামর্থ্য থাকতে হবে।
➡ (১১) ক্ষমতাধর শাসক যেন সমাজের বিশৃঙ্খলাকারী উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করতে সমর্থ হন। এই উপাদানগুলোকে সমাজ থেকে নির্মূল করে ফেলতে হবে। শরীরের জন্য ক্যান্সার যেমন, সমাজের প্রতি এরাও তেমনই।
➡ (১২) জাগতিক সম্পদ পুঞ্জীভূত করার লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে মানুষের মাঝে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। এগুলো দূর করা না হলে সমাজে নৈরাজ্য দেখা দেবে। এই জিনিসগুলো অর্জনে অবৈধ পন্থার অবলম্বনকে দমন করা সরকারের কর্তব্য। সমাজের মানুষদের মাঝে কলহ-বিবাদকে ন্যায়ানুগ ও পক্ষপাতহীন উপায়ে মীমাংসা করার জন্য ন্যায়বিচারের চর্চা করতে হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার্থে সরকারকে হতে হবে ক্ষমতাবান এবং আইন তৈরি ও এর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় মাধ্যমগুলোর অধিকারী।
➡ (১৩) অনৈতিক অর্থনৈতিক আচরণ সংঘটিত হলে একে দমন করা আবশ্যক। এরকম ঘটনার উদ্ভব ও অপসারণের জন্য সরকারকে সদা সজাগ থাকা চাই। অনুমান করা যায় যে, আনুগত্য নিশ্চিতকরণে নিয়ম-কানুন লাগবে। কিন্তু শাহ ওয়ালিউল্লাহ এ ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন বলে দেখা যায় না।
➡ (১৪) সমাজের যেসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তাদের দাপট বৃদ্ধি করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সম্ভাবনা রাখে, সরকার যেন তাদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করতে ইতস্তত না করে। এমনকি সমাজের সার্বিক স্বার্থ রক্ষার্থে যদি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও ঘোষণা করতে হয়, তবে তা-ই করা হবে।
➡ (১৫) প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর একটি পরিষদ থাকতে হবে সরকারের। দেশ ও সমাজের ব্যবস্থাপনায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ও উপদেষ্টাবর্গ হবেন আলিম ও দ্বীনদার শ্রেণী, কারণ শরীয়তের বিধান ও প্রয়োগের ব্যাপারে তারাই অন্য যে-কারও চেয়ে বেশি সচেতন।
➡ (১৬) ধর্মের প্রতি অবহেলা এবং মানুষের মাঝে অনৈতিক আচরণের প্রসার প্রতিহত করার জন্য সরকার মানুষের মাঝে সঠিক উপদেশ ও নসিহতের প্রচার করবে।
➡ (১৭) রাষ্ট্রের অর্থায়নের ব্যাপারে শাহ ওয়ালিউল্লাহ এমন এক কোষাগারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা সবসময় পূর্ণ থাকবে। এর ফলে সরকার যুদ্ধ ও শান্তি উভয় অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ জোগান দিতে সক্ষম হবে। এই কোষাগার সরকারি হলেও এমনসব ট্যাক্সের ওপর নির্ভরশীল হবে, যেগুলো করদাতার সাধ্যাতীত বা উপার্জনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অঢেল সম্পদ ও উঁচু আয়ের মানুষের ওপর কর আরোপ করা যায়। যেমন ক্রমবর্ধমান সম্পত্তির মালিক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। অবশ্য শাহ ওয়ালিউল্লাহ করের একটি নিম্নসীমার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসের বাইরে যা কিছু অতিরিক্ত উপার্জন, শুধু তার ওপরই কর আরোপের পক্ষপাতী তিনি।
➡ (১৮) শত্রুদের সামলানোর ক্ষেত্রে সরকারের উচিত সম্ভাব্য শত্রুর ব্যাপারে যথাসম্ভব বেশি তথ্য হাতে রাখা। এতে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করা যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তথ্য প্রদান ও সহযোগিতার জন্য শাহ ওয়ালিউল্লাহ গোয়েন্দাব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন।
উল্লিখিত বিষয়গুলো সরকারের সংবিধান হিসেবে কাজ করবে। সাধারণ নীতিমালার ভিত্তি স্থাপিত হবে এগুলোর ওপর। এসব নির্দেশনা প্রয়োগ করার জন্য সরকারের আরও কিছু বিস্তারিত নীতিমালা অনুসরণ করার প্রয়োজন হবে। তা ছাড়া শাহ ওয়ালিউল্লাহ দুর্ভাগ্যজনক অপপ্রশাসন নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপরও আলোকপাত করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক, ক্ষমতাবান শাসকের দায়িত্ব ও শ্রমের সুষম বণ্টনের আলোচনাও স্থান পেয়েছে এতে।
এসব যদি কার্যকর না হয়, তাহলে গণবিপ্লব অবশ্যম্ভাবী বলে শাহ ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস করেন। এবং তিনি এর পক্ষপাতী বলেও মনে হয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন যে, ভুলকে শোধরানোর জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কখনো কখনো আত্মত্যাগের প্রয়োজন পড়ে। এমনকি সেটা নিজের জীবন দেওয়ার মাধ্যমে হলেও। কিন্তু সেটাকে রাখতে হবে অন্যান্য উপায় ও পন্থার একনিষ্ঠ প্রয়োগের পরও কোনো কাজ না হলে চূড়ান্ত কর্মনীতি হিসেবে।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ পরিবর্তনের কোনো মধ্যমপন্থি পদ্ধতির তুলনায় বরং চরম ধাঁচের সংস্কারের প্রতি অধিক অনুরাগী। তিনি এমন এক শক্তিশালী সরকার স্থাপনের ডাক দিয়েছেন, যাতে আইন ও শৃঙ্খলা, যুদ্ধ ও শান্তি, ন্যায়বিচার ও পক্ষপাতহীনতা—সবকিছুর সমন্বয় ঘটবে। নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, পক্ষপাতহীনতার ব্যাপারে তিনি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন: অপশাসনের বিরুদ্ধে সমাজের ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, ভেতরের ও বাইরের শত্রুদের হাতে সংঘটিত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে দেশের সুরক্ষা, এবং প্রজাদের সাথে পক্ষপাতহীন আচরণ। সামাজিক নিরাপত্তার এই মৌলিক নীতিমালা তার লেখালেখির পুরোটা জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তার সময়কালে ও এর আগের বিরাজমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তা একেবারেই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে, প্রয়োজনবোধে বিপ্লবের আহ্বানকে কিছুটা সরিয়ে রাখলে, শান্তি ও স্থিতিশীলতাপূর্ণ সমাজেও তার প্রদত্ত এই নীতিমালা ব্যবহার করা যায়। এতে সমাজটি যে-কোনো সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্ঘটনা পরিহার করতে পারবে। স্বভাবতই শাহ ওয়ালিউল্লাহর মৃত্যুর একাধিক শতাব্দী পরেও তার দৃষ্টিভঙ্গি উপমহাদেশে এতটা জনপ্রিয় রয়ে গেছে।
টিকাঃ
[১] হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ থেকে লেখক যেসব বিষয় আলোচনা করেছেন সবগুলো শাহ ওয়ালিউল্লাহর উদ্ভাবিত তত্ত্ব নয়, এর মাঝে অধিকাংশই ফুকাহায়ে কেরামের সমন্বিত চিন্তা ও ইসলামের স্বীকৃত ধারণা। শাহ ওয়ালিউল্লাহর কৃতিত্ব ছিল নিপুণ ও উদ্ভাবনী উপস্থাপনায়। লেখক প্রায়ই ইসলামি লেখকদের মাঝে স্বীকৃত আলোচনাগুলোকে কারো বিশেষ উপস্থাপনার দিকে তাকিয়ে ব্যক্তিকরণ করে ফেলেন। সম্পাদক