📄 বাদশাহ আকবরের ধর্মীয় দর্শন
সম্রাট আকবর সম্ভবত একজন সর্বেশ্বরবাদী ছিলেন, যিনি সকল ধর্মের সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ভারতে তার মঙ্গোল সাম্রাজ্যকে শাসন করার জন্য যে নীতিকে তিনি ভিত্তি হিসেবে প্রচার ও গ্রহণ করেছেন, তার বাস্তব চর্চাও করেছেন তিনি। তার এই নীতিমালাকে বোঝার জন্য ইবনুল আরাবির ধ্যানধারণাগুলো আলোচনা করা বাঞ্ছনীয়। ইবনুল আরাবি ছিলেন একজন সুফি মুসলিম ধর্মীয় দার্শনিক এবং তিনি সকল ধর্ম সমন্বয়ের একটি ধারণার প্রবর্তন ঘটান বলে কথিত আছে।
মুহাম্মাদ ইবনু আলি মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ, যিনি ভবিষ্যতের কয়েক শতাব্দীর মুসলিম চিন্তকদের কাজের মাঝে নিজের অঙ্গুলিছাপ রেখে গেছেন। জাতিতে তিনি একজন স্পেনিশ-আরব। তার জন্ম মুরসিয়্যাতে ১১৬৫ সালে। সেভিলে ১২০১-২ সাল পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উপভোগ করার পর তিনি প্রাচ্যে বসতি স্থাপন করেন এবং ১২৪০ সালে দামিশকে মারা যান। তার প্রচারিত একটি ধারণা হলো, আল্লাহ ও বিশ্বজগৎ একই সত্তা এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কোনো বাস্তব পার্থক্য নেই। কারণ, স্রষ্টার সৃষ্টি তাঁর ইচ্ছারই অংশ। উপসংহারে ইবনুল আরাবি তার "অস্তিত্বের একত্ব (ওয়াহদাতুল উজুদ)” তত্ত্ব প্রদান করেন। (মাহমুদ, ১৯৮৬)।
ধর্মের ব্যাপারে বাদশাহ আকবরের কার্যপদ্ধতি শরীয়তের সীমারেখা থেকে বিচ্যুত হতে থাকে বলে প্রতীয়মান হয়। তার বিশেষ অনুরাগ ছিল সুফিবাদ ও ধর্মীয় দর্শন তথা ফালসাফার প্রতি। ধর্মীয় বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি সাম্রাজ্য পরিচালনা করার বাস্তব প্রেক্ষাপটের কারণেই হোক, অথবা নিজস্ব অন্তর্নিহিত বিশ্বাসতাড়িত ব্যক্তিগত কারণেই হোক, কিংবা নিজেকে আলাদাভাবে ইতিহাসে তুলে ধরতে গিয়ে হোক—আকবার এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে চাইছিলেন, যেখানে জাতি ও ধর্মের পার্থক্য সত্ত্বেও সকলে সমান হবে। তার নীতিমালা কিছুটা কাজে দেয়। সুবিশাল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে টইটম্বুর একটি সাম্রাজ্যকে তিনি আমৃত্যু শান্তিসহকারে সফলভাবে সামলে নিয়েছেন বলা চলে।
সম্রাট আকবর জনগণকে সুন্নি মতবাদে ধর্মান্তরিত করার জন্য বলপ্রয়োগের চেষ্টা করেননি। মুসলিমরা ছিলেন সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠী। যদি তিনি জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো সাম্রাজ্যকে টুকরো করে ফেলত।
টিকাঃ
[১] সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে দ্বীনে ইলাহি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ধর্মীয় বিষয়ে গবেষণার জন্য ফতেপুর সিক্রিতে একটা উপাসনা ঘর তৈরী করেন। যা 'ধর্ম সভা' নামে পরিচিত। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের কথা শুনতেন। অবশেষে সকল ধর্মের সারকথা নিয়ে তিনি নতুন একটি নিরপেক্ষ ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করেন। বলা বাহুল্য, এ ছিল সুস্পষ্ট রিদ্দাহ, তিনি মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এই ধর্ম জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন এবং এর বিরোধিতাকারী আলিমদের ওপর জুলুম করেন। দ্রষ্টব্য: সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, মুজাদ্দিদে আলফে সানির সংস্কার আন্দোলন, সায়্যিদ আবুল হাসান আলি নাদভি।- সম্পাদক
📄 শাহ ওয়ালিউল্লাহ
কুতুবুদ্দীন আবদুর রহমান, সমধিক পরিচিত শাহ ওয়ালিউল্লাহ নামে। ভারতীয় উপমহাদেশের দিল্লীতে ১৭০২ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৭৬৩ সালে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই তিনি বসবাস করেছেন। ঊনবিংশ থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতীয় মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে তিনি এক স্মরণীয় নাম।
শাহ আকবরের ধর্মীয় একত্রীকরণের ধারণা থেকে শুরু করে সুফি সংস্কারক শাহ ওয়ালিউল্লাহর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ধারণা-প্রতিটিরই বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
নানান ধর্মের জগাখিচুড়ি দিয়ে প্রস্তুতকৃত দ্বীন-ই-ইলাহির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন আরও একজন সুফি। তাঁর নাম শাইখ আহমাদ সিরহিন্দাস (মৃ. ১৬২৫)। সিরহিন্দ শরীয়তের দিকে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান। শাহ আকবরের নীতিমালার ব্যাপারে সিরহিন্দ বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের একমাত্র পন্থা হলো শরীয়ত প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর আদেশসমূহ মান্য করা।
শরীয়ত তথা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার দিকে ফিরে যাবার ডাক দেন তিনি। প্রচেষ্টা করেন ইসলামকে নানাবিধ দার্শনিক ধ্যানধারণা থেকে মুক্ত করার। বিশেষত আধ্যাত্মিকতাবাদী সুফি ও শিয়া প্রথাগুলো থেকে। সিরহিন্দের মতাদর্শ সমর্থন খুঁজে পায় শাহ আওরঙ্গজেবের (১৬৫৮-১৭০৭) নীতিমালায়। তিনি তার দাদার ধর্মীয় বহুত্ববাদের ধারণাকে কঠোরভাবে পরিবর্তন করেন। শিয়া আচার-অনুষ্ঠানে বাধা প্রদান করা হয়, হিন্দু পালাপার্বণ সম্রাটের কাছ থেকে আগের মতো উৎসুক দৃষ্টি লাভ করেনি, জিযিয়া কর পুনর্বহাল করা হয় (Armstrong, 2000)। যদিও শরীয়তে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আওরঙ্গজেবের সদিচ্ছার ব্যাপারটি বোধগম্য, কিন্তু তার এই নিয়মগুলোর প্রয়োগ অযথা প্রান্তিকতার দিকে চলে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এর ফলাফল ছিল ধ্বংসাত্মক। আওরঙ্গজেবের যতদিনে মৃত্যু হয়, সাম্রাজ্য ততদিনে এক ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। হিন্দু ও শিখদের থেকে আসা শুরু করেছে তাদের নিজস্ব এক রাষ্ট্রের দাবি।[১]
সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠী হিসেবে মুসলিমরা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে চাপে পড়ে যান। ভেতর থেকে এই চাপ আসতে থাকে হিন্দু ও শিখ অভ্যুত্থানের রূপে। আর বাইরে থেকে তা ছিল সে অঞ্চলে সুযোগসন্ধানী ব্রিটিশ বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব। সংখ্যালঘু গোষ্ঠী মুসলিমদের সামনে এখন অনৈসলামিক শক্তির কাছে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার আশঙ্কা। এমতাবস্থায় নিজেদের ভূমিকা ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন তারা। মুসলিমগণ তথা ইসলাম কী করে গৌরব ফিরে পাবে ও ক্ষয়িষ্ণু প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধার করবে, এই প্রশ্ন ইসলামের রাজনৈতিক জোয়ার- ভাটার সময় বহু মুসলিম চিন্তাবিদকেই ভাবিয়েছে। আর উত্তরটাও ছিল প্রায়শ একই: ইসলামি মূল্যবোধের দিকে ফিরে আসা। ভারতীয় উপমহাদেশে সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কাজ করা এক সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব হলেন সুফি চিন্তক শাহ ওয়ালিউল্লাহ।
দিল্লীর কুতবুদ্দীন আহমাদ ইবনু আবদুর রহীম ওরফে শাহ ওয়ালিউল্লাহ তার ধর্মীয়-রাজনৈতিক চিন্তার দিক থেকে ছিলেন তার পূর্বসূরি আহমাদ সিরহিন্দের (মৃ. ১৬২৫), এবং তারও পূর্বসূরি ইবনু তাইমিয়্যা প্রমুখের (১২৬৩-১৩২৮) অনুসারী। পূর্বতনদের মতো শাহ ওয়ালিউল্লাহও জোর দিয়ে বলেন যে, মুসলিমদের দুর্বলতার কারণ হলো শরীয়ত থেকে বিচ্যুতি। আর ইসলামি পরিচয় ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের উপায়ও শরীয়তের দিকে প্রত্যাবর্তন। কিন্তু প্রয়োজনবোধে সিরহিন্দের চিন্তা থেকে ভিন্নরকম হতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ সংকোচ বোধ করেননি। তিনি দেখলেন যে, সিরহিন্দের সময়ের তুলনায় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দারুণভাবে পালটে গেছে। তাই তিনি এমন এক পদ্ধতি প্রস্তাব করেন, যা ভারতের আধ্যাত্মিক পরিবেশের সাথে যেমন মানানসই, তেমনি ইসলামি শক্তিকে পুনর্জাগরিত করার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট হিসেবি (ফযলুর রহমান, ১৯৭০)। উদাহরণস্বরূপ, তিনি এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন উপমহাদেশীয় জীবনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য শরীয়তকে "অভিযোজিত” করিয়ে নেওয়া সম্ভব। এর অর্থ হলো নতুন আর্থ- সামাজিক ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে মানানসই করার জন্য ইজতিহাদে নতুনত্ব আনা। এই দৃষ্টিভঙ্গি অতি অবশ্যই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে হিজাযে আবির্ভূত আরেক সংস্কারক মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল ওয়াহহাবের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক। তিনিও শরীয়তের দিকে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান, কিন্তু ইজতিহাদের মাধ্যমে আনীত যে-কোনো নতুনত্বকে আখ্যায়িত করতেন বিদআত হিসেবে। তা ছাড়া, সকল ধর্মীয় শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার মানসে শাহ ওয়ালিউল্লাহ সুফি ও সুফিদের আচার-প্রথাকে প্রত্যাখ্যান করার বদলে এই নতুন সংস্কার আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।
আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলো শাহ ওয়ালিউল্লাহর কাছে বিশেষ গুরুত্বের বিষয় ছিল, যা আমরা একটু পরেই তার লেখালেখির বিশ্লেষণে দেখব। তিনি সমাজে বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। শ্রমিক শ্রেণির ওপর আরোপিত বিশাল করের বোঝার সমালোচনা করেন। তিনি মুসলিমদের আহ্বান জানান-একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য, যেটাকে একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম মহারাষ্ট্রের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব (প্রাগুক্ত)। অন্যান্য বিষয়ের ওপরও জোর দেন তিনি। যেমন ভেতরের ও বাইরের উভয়প্রকার শত্রুদের মোকাবেলায় মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা, এবং নিজেদের মধ্যকার গোষ্ঠীগত দলাদলি সংশোধন করা। তার মতে মুসলিমদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিপত্তি অর্জন করা। এর উপায় হলো প্রত্যাবর্তন ও ঐক্যবদ্ধতা। প্রত্যাবর্তন হবে ইসলামি বিধিমালা তথা শরীয়তের দিকে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে গোষ্ঠীগত পার্থক্য সত্ত্বেও একে অপরের সাথে। শাহ ওয়ালিউল্লাহ যতটা না অনুসারী, তার চেয়ে বেশি উদ্ভাবক। বিবর্তনকারীর বদলে বিপ্লবী। বিংশ শতাব্দীতে এসেও মুসলিমদের মাঝে তার চিন্তাধারা তার প্রসিদ্ধি বজায় রাখে。
টিকাঃ
[১] মুজাদ্দিদে আলফে সানী নামে তিনি পরিচিত। - সম্পাদক
[১] শিয়া, শিখ ও প্রাচ্যবিদ ঐতিহাসিকগণ আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে বিষেদগার করার কোনো সুযোগই ছাড়তে নারাজ। এরই ধারাবাহিকতায় লেখকদ্বয়ও তাঁকে খাটো করতে চেয়েছেন। আকবরের দ্বীনবিকৃতি ও নিরপেক্ষতার নামে হিন্দুতোষণ তাদের কাছে বড়ই ভালোলাগার বিষয়। আওরঙ্গজেবকে নিয়ে লেখকের দাবিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি জিহাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন, ইংরেজদের পরাজিত করেছেন, রাজকার্যকে হিন্দু প্রভাবমুক্ত করেছেন, জিযিয়া আরোপ করেছেন, সকল বিদআত ও কুসংস্কার দূরীভূত করেছেন। তিনি বিধর্মীদের অনুদান দিতেন, মন্দিরনির্মাণে অর্থ দিয়েছেন, তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শাস্তি দিয়েছেন। তার আমলে দক্ষিণাঞ্চলে ৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। তার সময় মুঘল সাম্রাজ্যের বার্ষিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। যা তার সমসাময়িক চতুর্দশ লুইয়ের আমলে ফ্রান্সের বার্ষিক করের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। তার শাসনামলে ভারতবর্ষ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে ওঠে। তিনি ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় অভূতপূর্ব পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তাঁর অধীনেই রচিত হয় 'ফাতওয়ায়ে আলমগিরী' নামক ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিশ্বকোষ। রাজস্বের পাহাড় থাকার পরেও তিনি কোষাগার থেকে কিছু গ্রহণ করতেন না। টুপি সেলাই করতেন, ক্যালিগ্রাফি করতেন। সেগুলো বিক্রি করে নিজের পরিবারের খরচ চালাতেন। শেষ দিককার সময়ে পুত্রের বিদ্রোহ ও নানাবিধ কারণে সাম্রাজ্য বিপুল ক্ষতির শিকার হয়েছিল, তবে আওরঙ্গজেবকে সেসব দিয়ে বিচার করা একেবারেই ভুল। দ্র: তারিখুল ইসলাম ফিল হিন্দ, আবদুল মুনয়িম নামির, ২৮৬; সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, সায়্যিদ আবুল হাসান আলি নাদভি; রিজালুম মিনাত তারিখ, আলি তানতাভি; সম্রাট মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব-আলমগীর, ড. ইনামুল হক। - সম্পাদক