📄 অর্থনৈতিক অবক্ষয়
উসমানীয় সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের দুটি কারণের কথা বলা যায়—তুর্কি প্রদেশগুলোর অপশাসন এবং উত্তমাশা অন্তরীপ আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে বাণিজ্যপথ ভূমি থেকে সমুদ্রে সরে যাওয়া।
📄 অপশাসন
মিশর ও সিরিয়ায় প্রাদেশিক অপশাসন ছিল একেবারেই দৃশ্যমান। নিযুক্ত তুর্কি প্রশাসক ‘পাশা’দের গড় মেয়াদ ছিল মাত্র দুই বছর বা তার কম। ফলে এই দুই দেশে পাশা পরিবর্তনের সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় দৈত্যাকার। দামিশকে প্রথম ১৮০ বছরে (১৫১৭-১৬৯৭) পরপর ১৩৩ জন পাশা নিয়োগ পান। আর মিশরে ২৮০ বছরের তুর্কি শাসনে নিয়োগ ও বরখাস্ত হওয়া পাশার সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ১০০ (Hitti, 1963)। এই স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব প্রদানের উদ্দেশ্য ছিল পাশাগণ যেন এমন ক্ষমতার অধিকারী না হয়ে ওঠেন, যার ফলে তারা ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার সুযোগ পান। কিন্তু এই নীতির ফলে অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়ে, তার ফল ছিল ধ্বংসাত্মক। পাশারা জানতেন তাদের ক্ষমতার মেয়াদ কম। সেইসাথে মনে মনে এটাও থাকত যে, এই এক প্রাদেশিক পদটা অর্জনের জন্য তাদের কতটা চড়া দাম পরিশোধ করে আসতে হয়েছে। তাই তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত থাকতেন। জনগণের ওপর অনেকেই জুলুম-অত্যাচার চালাতেন। তার ওপর তেমন কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারও ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ তাই গভীর দুরবস্থা ও দারিদ্র্যে নিপতিত হয়। পূর্ব সিরিয়া থেকে ফুরাত নদী পর্যন্ত যে জায়গাটি একসময় পরিচিত ছিল উর্বর অর্ধচন্দ্র হিসেবে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি আসতে আসতে সেটা মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং এখনো পর্যন্ত তা-ই আছে (Bonne, 1945)। ওই শতাব্দীর শেষাশেষি সিরিয়ার পুরো জনসংখ্যা কমে প্রায় দেড় মিলিয়ন হয়ে যায়। আর মিশরের জনসংখ্যা কমে হয়ে যায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রাগুক্ত)।
মিশর ও সিরিয়ার মতো ইরাকেও ছিল শোচনীয় প্রশাসনব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত পাশা এবং স্থানীয় নেতা ও মামলুকরা প্রদেশে ক্ষমতা ও দাপটের জন্য ঠোকাঠুকি করতে থাকেন। সেইসাথে অব্যাহত থাকে জনগণের দৈন্যদশা। তবে অন্যান্য দেশের সাথে ইরাকের একটা পার্থক্য ছিল। শিয়াদের পবিত্র তীর্থস্থানগুলো ভৌগলিকভাবে ইরাকের ভেতর অবস্থিত। এর মাঝে রয়েছে নাজাফে আলি-এর মাজার, কারবালায় তার পুত্র হুসাইনের মাজার, এবং কাযিমাইনে সপ্তম ও নবম ইমামের মাজার। ফলে দেশটি শিয়া মতবাদের এত শক্ত ঘাঁটি হয়ে ওঠে যে, পূর্ব দিকের শিয়া সাফাভি সাম্রাজ্যের সাথে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে ওঠে ইরাকের (Armstrong, 2000)। শিয়া অধিবাসীরা উসমানী ইরাকের সীমানা পার হয়ে প্রায়ই সাফাভি ভূমিতে যেতেন ও ফিরে আসতেন। এমন সাহায্য ও সহযোগিতার দাবি করে আসতেন, যেগুলো নাকচ করা হতো না। স্বভাবতই শিয়া সাফাভিরা ইরাকে থাকা শিয়া তীর্থস্থানগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সেইসাথে আগ্রহী হন প্রতিবেশী এই দেশটির শিয়া জনগণের প্রতি। সাফাভি শাহগণের এই আগ্রহ পরিণত হয় ইরাক দখলের প্রচেষ্টায়। কেউ কেউ যদিও এক দশক বা এরকম সময়ের জন্য বাগদাদ দখলে সফল হয়েছিলেন, কিন্তু ইরাক প্রতিবারই উসমানী প্রদেশ হিসেবে ফিরে আসে (প্রাগুক্ত)।
তৎকালীন সাফাভি সাম্রাজ্য তথা বর্তমান ইরানের শিয়া সরকার এবং ইরাকে অবস্থিত শিয়া তীর্থস্থানের মাঝে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে এ দুটি দেশ আজও এক অদ্ভূত যুদ্ধ ও শান্তি অবস্থার মাঝে অবস্থান করে। ইরাকের কৌশলগত গুরুত্ব কখনোই হারিয়ে যায়নি। পশ্চিম ও পূর্বের মাঝে বাণিজ্যিক পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে ইরাক ছিল বিশেষ আগ্রহের বিষয়বস্তু। আর সৌদি আরবের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলের আকর হওয়ার কারণে বর্তমানে বিশ্বের কাছে ইরাকের সার্বিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
টিকাঃ
[১] Cape of Good Hope, বাংলায় নামকরণ করা হয় ‘উত্তমাশা অন্তরীপ’ নামে। পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ ১৪৮৮ সালে প্রথম কেপ এলাকায় পৌঁছেন এবং অন্তরীপটির নাম দেন ‘কেপ অব স্টর্মস’। পরবর্তী সময় পর্তুগালের দ্বিতীয় জন নামটি পরিবর্তন করে কেপ অব গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণ করেন। ভারত ও দূরপ্রাচ্যে যাওয়ার নতুন আবিষ্কৃত সমুদ্রপথটি ইউরোপীয়দের মনে বিপুল আশার সঞ্চার করেছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে অন্তরীপটির নামকরণে। - সম্পাদক
📄 উত্তমাশা অন্তরীপের আবিষ্কার
উত্তমাশা অন্তরীপের আবিষ্কার উসমানীয় সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করে। অন্তরীপের উদঘাটন (১৪৮৮) এবং পর্তুগিজ ও অন্যান্য ইউরোপীয় জাতির ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারাটা ইউরোপিয়ানদের জন্য উপকারী ছিল। কিন্তু প্রাচ্যীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া বাণিজ্যিক পথগুলোর ওপর এর প্রভাব ছিল নেতিবাচক। ইউরোপীয় বাণিজ্য কয়েক শতাব্দী ধরে উত্তরে স্থলপথের ওপর দিয়ে এবং দক্ষিণে লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে চলাচল করেছে। এর একাংশ এখন ইসলামি বিশ্বের বাইরে দিয়ে আসা-যাওয়া করার পথ পেয়ে যায়। যেমন: ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে মুসলিমদের মশলা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মূল্যবান পণ্যগুলো এখন ইসলামি বিশ্বের ভেতরে না ঢুকেই এর সরাসরি উৎস থেকে ইউরোপে চলে যাওয়ার সুযোগ লাভ করে (Raymond, 1981)।
নতুন এই পথের সন্ধান পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুসলিমদের জায়গা দখল করে নেয় পর্তুগিজরা। ইসলামি ভূমিগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে পরিহার করা শুরু হলে সাম্রাজ্যের অন্যান্য প্রদেশও অনুরূপ ভুক্তভোগী হয়। এখানেই শেষ না। ১৪৯২ সালে আমেরিকা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্বজগতের কেন্দ্র পশ্চিম দিকে সরে যায়। সাড়ে তিন শতাব্দী পরে গিয়ে ১৮৬৯ সালে যখন সুয়েজ খাল আবিষ্কৃত হয়, তখন চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয় উত্তমাশা অন্তরীপের বাণিজ্যপথ। যে লোহিত সাগর একসময় বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল, তখন সেটা পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়。
📄 পশ্চিমা বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
উসমানীয় সাম্রাজ্যে পশ্চিমা প্রভাবের সূচনা ঘটে ইসলামি বিশ্বে চোখে পড়ার মতো বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুপ্রবেশের মাধ্যমে। এগুলো ছিল ক্রুসেডের পরবর্তী প্রভাব। ক্রুসেডগুলোতে যদিও খ্রিষ্টানরা পরাজিত হতো, রাজনৈতিক ও সামরিক ফলাফল যদিও খ্রিষ্টানদের জন্য অনুকূল ছিল না, কিন্তু এর ফলে প্রাচ্যের মুসলিম ও পশ্চিমের অমুসলিমদের (প্রধানত খ্রিষ্টানদের) মাঝে মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। ক্রুসেডের একটি বাণিজ্যিক প্রভাব হলো লেভান্তের বন্দরগুলোতে সুসংগঠিত বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা। এগুলো নিজ নিজ নেতার নেতৃত্বাধীনে নিজস্ব আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চালাত (লুইস, প্রাগুক্ত)। লক্ষণীয় যে, মুসলিমদের দ্বারা এসব বন্দর পুনর্দখল হওয়ার ফলে কিন্তু এসকল বিদেশী গোষ্ঠী উৎখাত হয়ে যায়নি কিংবা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়নি। বরং মুসলিম শাসকরা সতর্কতাবশত তাদের ব্যবসাকে নিরুৎসাহিত করেননি। কারণ সেটি ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন লাভজনক ছিল, তেমনি ছিল শাসকদের জন্যও (প্রাগুক্ত)। এর ফলে ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরের অন্যান্য অংশে অন্যান্য ইউরোপীয় গোষ্ঠীর আবির্ভাবের পথ তৈরি হয়। যেমন, মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়।
তাদের বাসস্থান নির্ধারিত হতো সরকারদের মাঝে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে। অসংখ্য সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয় বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্র এবং তুরস্ক, মিশর ও অন্যান্য ভূমধ্যসাগরীয় মুসলিম দেশের মাঝে। এই চুক্তিগুলো পরবর্তীকালে শর্তাধীন আত্মসমর্পণ (Capitulations) নামে পরিচিতি লাভ করে। এসব চুক্তির ফলে ওই রাষ্ট্রের নাগরিকরা সেখানে ব্যবসা ও বসবাস করার অনুমতি পেতেন। অব্যবসায়ী প্রজাদের ওপর যেসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য, তা আরোপিত হতো না তাদের ওপর (লুইস, প্রাগুক্ত)। প্রথম সমঝোতাটি স্বাক্ষরিত হয় ১৫২১ সালে সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এবং ভেনিসের মাঝে। ফরাসিরা তাদের সমঝোতা লাভ করে ১৫৩৫ সালে। তারই জের ধরে ১৫৮০ সালে তা পায় ইংরেজরা। এর ফলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড উৎসাহ লাভ করে এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য বিকশিত ও প্রসারিত হয়। তবে এসব সমঝোতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হতে থাকে, যখন ইউরোপীয় গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ও প্রতিপত্তি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পক্ষান্তরে স্বাগতিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে পড়তির দিকে। যখন ইউরোপীয় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে কোনো বিবাদ দেখা দিত, তখন ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা স্থানীয় আইনের বিধিনিষেধ থেকে নিষ্কৃতি দাবি করতেন এবং পেয়েও যেতেন। নিজেদের আইন অনুযায়ী চলতেন তারা। নিজের দেশে বিদেশী আইনের প্রয়োগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তিকর ঠেকত। কারণ তারা সেগুলোর সাথে পরিচিত নন। ফলে বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় অসুবিধাজনক অবস্থানে পড়ে যেতেন তারা। আইনি এই জটিলতার ফলে কালক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় মিশ্র-আদালত নামে এক ধরনের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর ফলে বিচারিক ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি বেড়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো, এরকম কিছু আদালত বিংশ শতাব্দীর শেষাংশ পর্যন্তও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল। পরে একসময় জাতিগত স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেটার অংশ হিসেবেই এগুলোর বিলুপ্তি ঘটানো হয়। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার কিছু আদালত স্থাপনায় এখনো পাথরে খোদাইকৃত লেখা দেখা যায়, "মিশ্র আদালত" (The Mixed Court)।
শিক্ষা গ্রহণ করতে করতে দেরি হয়ে যায়। আসলে স্বাগতিক দেশ যখন শক্তিশালী থাকে, তখন বিদেশী বিনিয়োগকে বিশেষাধিকার দান করলে তা দেশটির জন্য লাভজনক হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও অর্জিত হয়। কিন্তু স্বাগতিক দেশ যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং রাজনৈতিকভাবে নিস্তেজ থাকে, তাহলে ওইসব বিশেষাধিকারের ফল হতে পারে বিদেশি গোষ্ঠীর হাতে সব ক্ষমতা পুঞ্জিভূত হয়ে যাওয়া। প্রথমে অর্থনৈতিক, তারপর রাজনৈতিক।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে এসে পশ্চিমা শক্তির রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ একদম স্পষ্ট হয়ে যায়। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল খুলে যাওয়ার পর মিশরের প্রতি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। মিশরীয় ভূমি দখল করতে নেপোলিয়নের ব্যর্থ চেষ্টার প্রায় এক শতাব্দী পর ১৮৭৯ সালে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এই দেশটিকে তাদের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে আসে। যেই খাদিভ ইসমাঈলের শাসনাধীনে খাল উন্মুক্ত করা হয়, তাকে করা হয় ক্ষমতাচ্যুত। ব্রিটিশদের হাতে ১৮৮২ সালে মিশরীয় সেনাবাহিনীর পরাজয় ইংল্যান্ডকে দেশটি দখল করার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী মিশরীয় কর্মকর্তা আহমাদ ওরাবিকে পাঠানো হয় নির্বাসনে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিকে ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেট হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৫২ সাল পর্যন্ত একরকম আধা-স্বাধীন এক সরকার থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থাতেই থাকে মিশর। অবশ্য ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মিশরীয় সংগ্রামের ফলে ১৯৩৬ সালে অ্যাংলো-ইজিপশিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার দূরে ক্যানাল জোনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু দেশটি তার রাজা ও জনগণ-সহ ব্রিটিশ আজ্ঞাধীনেই রয়ে যায়। নিতান্ত ১৯৫৪ সালে গিয়ে ব্রিটিশ সেনারা সাইদ বন্দর ত্যাগ করে।
ব্রিটিশ ও ফরাসি হুকুমের অধীন ছিল উর্বর অর্ধচন্দ্রেরা আরব দেশগুলো। ফিলিস্তিন ও ইরাক ছিল ব্রিটিশদের অধীন। আর সিরিয়া ও লেবানন ফরাসিদের। এ অবস্থা দীর্ঘদিন বহাল থাকে। অবশেষে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনগণের প্রচণ্ড সংগ্রামের ফলস্বরূপ সর্বশেষ ফরাসি সেনাটি সিরিয়া ত্যাগ করে ১৯৪৫ সালে। দেশটি লাভ করে স্বাধীনতা। আর ১৯২৭ সালে দখলমুক্ত ঘোষিত হয় ইরাক, যা স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত ব্রিটিশদের সাথে হওয়া পঁচিশটি চুক্তির মাধ্যমে শাসিত হতো।