📄 অত্যাবশ্যক জোগান নিশ্চিতকরণ
ইবনু তাইমিয়্যার মতে, উৎপাদন খাতে বাজার-শক্তিতে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আরেকটি রূপ হলো অত্যাবশ্যক পণ্যের জোগান নিশ্চিতকরণ। জনসমাজের কাছে যেসব পণ্য অত্যাবশ্যক, উৎপাদন খাত সেগুলো উৎপাদন করতে ব্যর্থ হলে তাদেরকে মুক্তভাবে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “কোনো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের চাহিদা থাকতে পারে। যেমন: কৃষি, সেলাই ও নির্মাণ। জনগণ যদি তাদের চাহিদার যথাযথ পরিমাণ আমদানি করতে না পারে, তাহলে কাউকে না কাউকে তো তাদের কাপড় সেলাই করে দিতে হবে”, (প্রাগুক্ত)। শিক্ষা সংক্রান্ত পদ্ধতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, এসকল কর্মকাণ্ড শুরু করা ও চালু রাখা ফরজে কিফায়া। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এ কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে। কারণ এই কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করা না হলে জনকল্যাণ অপূর্ণ থেকে যাবে। এ ধরনের ফরযিয়্যাতের প্রকৃতি হলো, সামষ্টিক এই দায়িত্ব কোনো একজন ব্যক্তি পালন করলে তার জন্য সেটাই ফরজে আইন হয়ে যায়। বিশেষত যদি অন্য কেউ তা করার সামর্থ্যবান না হয়, সেক্ষেত্রে। ব্যক্তিদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই শিল্পক্ষেত্রগুলো চলমান রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ইবনু তাইমিয়া এমনটাই মনে করেন। তার ভাষায়, “জনগণের যদি কৃষি, তৈরি পোশাক বা নির্মাণশিল্পের প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে সেটা চালু রাখা সামর্থ্যবানদের জন্য অত্যাবশ্যক দায়িত্ব। ন্যায্য সম্মানি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর যদি তারা এ কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে কর্তৃপক্ষ তাদের জোর করতে পারবে” (প্রাগুক্ত)। অতএব, রাষ্ট্রের ভূমিকা দ্বিমাত্রিক:
(ক) সমাজের এসব অত্যাবশ্যক চাহিদা মেটাতে যারা সামর্থ্যবান, তাদেরকে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করা। আর যৌক্তিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি-সহ তাদেরকে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা।
➡ (খ) এই পদক্ষেপ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে যথেষ্ট পরিমাণ বলপ্রয়োগ করে এই কাজগুলো সামর্থ্যবান মানুষদের দ্বারা করিয়ে নেওয়া। এক্ষেত্রে যথাযথ মজুরি প্রদান করার মাধ্যমে ওই ব্যক্তিদের ওপর অবিচারও পরিহার করতে হবে (Holland, 1983)।
রাষ্ট্র যদি এই ভূমিকা গ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে একটা শর্ত ইবনু তাইমিয়্যা বেশ ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন—এই সেবাগুলো প্রদানকারী মানুষেরা জনগণের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দাবি করার অধিকার রাখবে না। আবার জনগণও ন্যায্যমূল্যের চেয়ে কম প্রদান করে বা সরকার কম মজুরি দিয়ে তাদের ওপর অবিচার করবে না। রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটেই কাজ করবে। তা হলো, বাজার-শক্তি যখন সমাজকে এর সামষ্টিক কল্যাণ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়।