📄 গ্রন্থের আলোচনা
মাআলিমুল কুরবাহ ফি আহকামিল হিসবাহ বা জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিধিবিধান। বইটি সত্তরটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত। এগুলোতে বিস্তৃত পরিসরের বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে। কয়েকটি অধ্যায়ে, বিশেষত প্রথম দশটি অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে হিসবাহর পরিচালনা সংক্রান্ত সাধারণ বিষয়াদি, বাজার ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থাপনা। আর বাকি অধ্যায়গুলোতে আছে ব্যবসায় ও শিল্পের প্রতিটি প্রকারের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা। সাধারণ বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে:
➡ হিসাবহের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং মুহতাসিবের দায়িত্ব-কর্তব্য,
➡ ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজের নিষেধ,
➡ মদ ও হারাম ব্যবসা,
➡ হারাম লেনদেন,
➡ অবৈধ ও বৈধ কারবার,
➡ পাবলিক মার্কেটের হারাম আচরণ,
➡ ওজন এবং তার নিয়ন্ত্রণপদ্ধতি,
➡ স্কেল, ধারণক্ষমতা ও দৈর্ঘ্যের পরিমাপ,
➡ দাঈ (ধর্মপ্রচারক),
➡ কাযী ও সাক্ষী,
সামরিক অধিনায়ক ও গভর্নর এবং জনগণের যেসব কর্মকাণ্ড তাদের দায়িত্বের মাঝে পড়ে।
যে অধ্যায়গুলো বাণিজ্য ও শিল্পের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করে, সেখানে রয়েছে বহুসংখ্যক শিল্প ও ব্যবসা সংক্রান্ত আলাপ। যেমন: ময়দা ব্যবসায়ী ও কারখানার মালিক, রুটি প্রস্তুতকারক, ঝলসানো মাংসের বিক্রেতা, সস প্রস্তুতকারক, কসাই, হজমকারক ও রুচিবর্ধক দ্রব্যের বিক্রেতা, রান্নাকৃত মগজ ফেরিকারী, রান্না করা মাংস-বিক্রেতা, আচার-মিশ্রিত মাংস-বিক্রেতা, মাছ ভাজিকারী, মিষ্টান্ন-বিক্রেতা, দুধ-বিক্রেতা, ওষুধ বিক্রেতা, বস্ত্রব্যবসায়ী, তাঁতী, দর্জি, মুচি, পশুচিকিৎসক, ডাক্তার, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সার্জন, চালুন বিক্রেতা, খড়-বিক্রেতা, কাঠের ব্যবসায়ী, খেজুরকাণ্ড বিক্রেতা ইত্যাদি। এখানেই শেষ না। কোনো বিষয় যদি আলোচনা থেকে বাদ পড়ে গিয়েও থাকে, ইবনুল উখুওয়্যা শেষ একটি অধ্যায় রেখেছেন "অনালোচিত হিসবাহ সংক্রান্ত বিষয়" বিষয়ে।
মাআলিমুল কুরবাহ হলো হিসবাহ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাগ্রন্থ, যা বাজার ও ব্যবসাখাতের ব্যবস্থাপনার বাস্তব পদ্ধতির ব্যাপারে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেয়। আবার বিষয়টির তাত্ত্বিক দিকটিকেও এখানে একেবারে উপেক্ষা করা হয়নি। ইবনুল উখুওয়্যার বইটি পাঁচটি গোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী:
(১) মুহতাসিবের জন্য, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে,
(২) শাসকের জন্য, মুহতাসিবকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে। তা তিনি খলিফা, প্রধানমন্ত্রী, সুলতান, প্রাদেশিক প্রশাসক যা-ই হোন না কেন,
(৩) অন্যান্য কর্তৃপক্ষের জন্য, মুহতাসিবের এবং নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্যের মাঝে পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে। যেমন: পুলিশ, আদালত এবং জজ,
(৪) ব্যবসায়ের জন্য, সম্ভাব্য অনিশ্চয়তা এড়াতে হারাম ও হালালের মাঝে পার্থক্য জানার ক্ষেত্রে, এবং
(৫) জনগণের জন্য, ন্যায়সঙ্গত ব্যবসার বিধিমালার অধীনে তাদের অধিকার সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে।
উপর্যুক্ত শ্রেণিগুলোর জন্য মাআলিমুল কুরবাহ ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। বাজার ও ব্যবসার একটি সনদপত্র হিসেবে কাজ করতে সক্ষম এটি। ব্যবসায়িক আচরণ, লেনদেনের ক্ষেত্রে জনগণের সামনে প্রকাশযোগ্য তথ্যের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের বিধিমালার স্পষ্টতা, বিশেষত ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের জন্য, এবং বাজারনীতির সাপেক্ষে অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষের আচরণের ব্যাপারে এই কিতাব শরীয়তের নীতিমালা বর্ণনা করে। আজকের যুগের পরিভাষায় একে বলা যায় বাজার ও ব্যবসায় প্রশাসন।
মুহতাসিব কি শুধু নিয়মনীতি প্রয়োগের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবেন, না সেগুলো ব্যাখ্যা করা ও তার আলোকে নতুন নিয়ম আহরণ করার অনুমোদনপ্রাপ্তও হবেন— এই প্রশ্ন নিয়ে ইবনুল উখুওয়্যা এবং তার আগে আল-মাওয়ারদিও কাজ করেছেন। প্রশ্নটির মূল কথা হলো, মুহতাসিব ইজতিহাদ করতে পারবেন কি না। যদি পারেন, তাহলে কি সেটা শুধু ওহি-ভিত্তিক আইন তথা শরীয়তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? নাকি প্রথাগত আইন তথা উরফের ক্ষেত্রে? নাকি উভয় ক্ষেত্রেই? লেখক ব্যাখ্যা করেন যে, এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত রয়েছে। কারও মতে শরীয়ত ও উরফ উভয়-সংক্রান্ত ব্যাপারে ইজতিহাদ করে মুহতাসিব তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার অধিকার রাখেন। অন্যদের মতে তিনি শুধু উরফ-সংক্রান্ত ব্যাপারে মত দিতে পারবেন, শরীয়তের ব্যাপারে নয়। ইবনুল উখুওয়্যা এই পার্থক্যের ভিত্তি আরও কিছুটা ব্যাখ্যা করে দেন। শরীয়তের মূলনীতি নির্ভর করে ওহির উৎসগুলোর ওপর, আর উরফের ক্ষেত্রে প্রধানতম নিয়ামক রীতিনীতি ও প্রচলন।
বাজার-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যসীমার মাঝে পার্থক্য তুলে ধরেন লেখক। মুহতাসিব ও বিচারকের (আদালত) কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের পার্থক্য দেখান তিনি। বলেন, মুহতাসিবের কাজের পরিধি বিচারকের চেয়ে বেশি এই অর্থে যে, মুহতাসিবের কাজে অগ্রসর হওয়ার জন্য কোনো অভিযোগ আসার প্রয়োজন নেই। তিনি যেখানে অনিয়মের সন্দেহ দেখেন, সেখানেই তদন্ত করার অধিকার রাখেন। পক্ষান্তরে কাযী বা বিচারক অগ্রসর হবেন শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের হওয়া সাপেক্ষে। তা ছাড়া, মুহতাসিবের কিছু পরিমাণ জাগতিক কর্তৃত্বও রয়েছে। দায়িত্ব পালনে ও শাস্তি প্রদানে তিনি শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার রাখেন। এই দিক থেকে হিসবাহ'র সাথে মাযালিম আদালতের কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে।
তবে পার্থক্য হলো তিনি বিচারকের এখতিয়ারের মতো মামলা শোনার অধিকার রাখেন না (ইবনুল উখুওয়্যা, Levy, 1938)। বাজার-নিয়ন্ত্রক হিসেবে মুহতাসিবের কর্তৃত্বের ব্যাপারে ইবনুল উখুওয়্যা জোর দিয়ে বলেন, এটি সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্বের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সার্বভৌম শাসক সেই দায়িত্ব তার কাছে প্রত্যর্পণ করবেন। তা ছাড়া নিজের দায়িত্ব বাস্তবায়নকালে মুহতাসিব যেন মানুষের কাজেকর্মে অতিরিক্ত নাক না গলান। শুধুমাত্র তার দপ্তর যতটুকু কাজ দাবি করে, ততটুকুই করবেন তিনি।
এরপর ইবনুল উখুওয়্যা মাআলিমের ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর মনোনিবেশ করেন। কী কী বৈধ ও গ্রহণযোগ্য এবং কী কী পরিত্যক্ত ও নিষিদ্ধ, তা স্পষ্ট করেন তিনি। কোনোকিছুর বৈধতা নির্ণয়ের পরীক্ষায় তিনটি ফ্যাক্টরকে আলোচনায় আনা যায়: চুক্তিকারী, চুক্তির বিষয়, এবং চুক্তির ধরন। চুক্তি নাকচ করার সাধারণ উদ্দেশ্য হলো চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিরাপত্তা। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মানসিক ভারসাম্যহীনের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি করা যাবে না। শারীরিক প্রতিবন্ধীর প্রতিবন্ধিতা যদি লেনদেনের শর্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে, তাহলে তার সাথেও চুক্তি করা যাবে না। এর একটি উদাহরণ হলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা। মজার ব্যাপার হলো, আধুনিক আইন এটির সাথে সাযুজ্যপূর্ণ। যেমন: আধুনিক আইনে আমরা দেখি চুক্তিকারীদের কেউ আঠারো বছরের কম বয়সী হলে কিছু লেনদেন নাকচ হয়ে যায়।
চুক্তির বিষয়বস্তু গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ইবনুল উখুওয়্যা ছয়টি শর্ত প্রদান করেছেন। এগুলো হলো: ➡ (ক) চুক্তির বিষয়টি ধর্মীয়ভাবে স্বয়ং বা অন্য কোনো কিছুর সংস্পর্শের কারণে অননুমোদিত হতে পারবে না, যেমন পণ্য দূষিত হয়ে থাকলে। ➡ (খ) চুক্তির বিষয়বস্তুটি উপকারী হতে হবে, ➡ (গ) বিষয়বস্তুটি মূল বিক্রেতা পক্ষের মালিকানায় থাকতে হবে ➡ (ঘ) পণ্য অবশ্যই সরবরাহ করা যায়, এমন হতে হবে, ➡ (ঙ) বিক্রয়যোগ্য পণ্যবস্তুর পরিমাণ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে, এবং ➡ (চ) বিক্রয়যোগ্য পণ্য অবশ্যই মূল বিক্রেতার আওতাধীন থাকতে হবে এই অর্থে যে, বিক্রি ও সরবরাহ একইসাথে সংঘটিত হতে পারে।
শেষ শর্তটি বিশেষত পুঁজিবাজারের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেখানে বিক্রয়চুক্তি হয় এই শর্তে যে, অদূর ভবিষ্যতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ার সরবরাহ করে দেওয়া হবে (এই ব্যাপারে আরও আলোচনার জন্য দেখুন আল-আশকার, ১৯৫৫)। ইবনুল উখুওয়্যার ভাষ্যমতে, বাজারের কর্মকাণ্ড তদারকি করার সময় এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা মুহতাসিবের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব-পরিধির ভেতরে পড়ে। কিন্তু দরনির্ধারণের ব্যাপারে, "মালিকদের জায়গায় মুহতাসিব কোনো পণ্যের দর নির্ধারিত করে দেওয়ার অধিকার রাখেন না”, যা নবি-এর নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চুক্তির বৈধতার ব্যাপারে সর্বশেষ বিবেচ্য বিষয় চুক্তির ধরন। ইবনুল উখুওয়্যা অন্যান্য ফকিহদের মতই বলেছেন যে, একটি চুক্তি সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য বিক্রেতার পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা এবং ক্রেতা কর্তৃক তা মেনে নেওয়া-এ দুটি বিষয় উপস্থিত থাকতে হবে।
বাজারে প্রশাসনিক আইনসমূহ বাস্তবায়নে ইবনুল উখুওয়্যা মুহতাসিবের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ প্রদান করেছেন। নিম্নে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো (Levy, 1938, ইবনুল উখুওয়্যা):
➡ (১) মুহতাসিবকে অবশ্যই বাজারের কাছাকাছি থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে গমন করতে হবে।
➡ (২) তিনি অবশ্যই দোকান ও রাস্তায় যাবেন, বাটখারা ও পাল্লা পরীক্ষা করে দেখবেন। এবং কোনো জিনিসে ভেজাল থাকলে তা তদন্ত করবেন।
➡ (৩) তাকে পরিদর্শনে আসতে হবে কোনো নোটিশ ছাড়াই এবং দিন ও রাতের যে-কোনো সময়ে।
➡ (৪) দিনের বেলা তিনি যে দোকান পরিদর্শন করতে সক্ষম হননি, সেটিকে রাতের জন্য সীলগালা করে দিতে হবে এবং পরদিন খুব সকাল সকাল তা পরিদর্শন করতে হবে।
তার সহকর্মীদের ব্যাপারে:
➡ (৫) তার অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সহকারী থাকতে হবে। কিন্তু তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একেবারেই নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবেন।
➡ (৬) তিনি স্বদেশে থাকুন বা অন্যত্র ভ্রমণ করুন, সবসময় তার পাশে সহকারী থাকতে হবে।
➡ (৭) সহকারীদের হতে হবে চরিত্রবান, মর্যাদাশীল জীবনের অধিকারী, শক্তিশালী ও সাহসী।
➡ (৮) তিনি অবশ্যই তার সহকর্মীদের নজরদারির মধ্যে রাখবেন এবং তাদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করবেন।
➡ (৯) কোনো পক্ষকে বিচার-সালিশের জন্য ডাকালে তাদের আগে থেকে অভিযোগের ব্যাপারে অবহিত করে দেওয়া যাবে না। যাতে তারা পিছলে যাওয়ার মতো কোনো যুক্তিতর্ক ভেবে আসতে না পারে।
➡ (১০) কোনো নিয়ম-ভঙ্গকারীকে যদি তার সকল পণ্য ও সরঞ্জাম-সহ হাজির হতে বলা হয়, তাহলে মুহতাসিবের সহকারীগণ তাকে যে অবস্থায় পেয়েছে, ঠিক ওই অবস্থাতেই আসতে হবে। তার কোনো বাটখারা যেন দোকানে থেকে না যায় বা রাস্তায় ফেলে না দেয়।
➡ (১১) মুহতাসিব পরামর্শ করার আগে কোনো বার্তাবাহক রওনা দেবেন না। আর যখন রওনা দেবেন, তা করতে হবে নিয়ম-ভঙ্গকারীকে দ্রুত তলব করার প্রত্যয় ও সাহস সহকারে। কারণ এটাই অপকর্মকে ভড়কে দেয় এবং প্রতিরোধ করে।
➡ (১২) নিয়ম-ভঙ্গকারীকে শাস্তি দিতে হবে। তবে সেই শাস্তি হতে হবে সহনীয় মাত্রায় এবং অপরাধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত যে, আল্লাহর অধিকার নষ্ট করলে ক্ষমা পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করার কোনো ক্ষমা নেই।
লক্ষণীয় যে, মুহতাসিবের দায়িত্বের পরিসর বেশ বিস্তৃত। মূলত এসব দায়িত্ব দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: আল-আমর বিল মারুফ (ভালো কাজের আদেশ) এবং আন-নাহি আনিল মুনকার (খারাপ কাজের নিষেধ)। প্রতিটির রয়েছে তিনটি করে প্রধান অংশ: আল্লাহর অধিকার, মানুষের অধিকার, এবং উভয়ের যৌথ অধিকার।
আল্লাহর অধিকার সংক্রান্ত আমর বিল মারুফের মাঝে রয়েছে আল্লাহর জন্য পালনীয় বিধানসমূহ। যেমন, জুমুআর নামাজ, ঈদের নামাজ এবং আযান। জামাতে নামাজ যেহেতু ইসলামের আনুষ্ঠানিক নীতিমালার মাঝে পড়ে, তাই এটি জারি রাখা মুহতাসিবের দায়িত্বের মাঝে পড়ে।
আমর বিল মারুফের দ্বিতীয় অংশ মানুষের অধিকার। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: কিছু আছে সামষ্টিক, আর কিছু ব্যক্তিগত। প্রথমটির ক্ষেত্রে মুহতাসিব খেয়াল রাখবেন যেন জনসমাজকে দেওয়া সুবিধাসমূহ ঠিকঠাক থাকে। সরকারি কোষাগার যদি তা বহন করতে না পারে, তাহলে মুহতাসিব ধনীদের আহ্বান করতে পারবেন সে ঘাটতি পূরণ করার জন্য। ব্যক্তিগত অধিকারের একটি উদাহরণ ঋণ পরিশোধ।
এরকম ক্ষেত্রে মুহতাসিব ঋণগ্রহীতাকে আদেশ করবেন সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার জন্য। ঋণদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঋণগ্রহীতাকে বিচারকের সামনে হাজির হতে বাধ্য করার দায়িত্বও মুহতাসিবের। সামষ্টিক বিষয়াদিতে মুহতাসিবকে খেয়াল রাখতে হবে, যেন জনসমাজের চাহিদা পূর্ণ হয়।
ইবনুল উখুওয়্যা বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তি একেবারে ওয়াক্তের শেষ দিকে নামাজ পড়লে তাকে মুহতাসিব সতর্ক করতে পারেন, কিন্তু জনসমাজ ওয়াক্তের ভেতরেই কোনো কারণে একঘণ্টা দেরিতে নামাজ আদায় করলে মুহতাসিব তাতে ছাড় দিতে পারেন। (Levy, প্রাগুক্ত)। এটি শহুরে জনসমাজকে প্রদান করা একটি শিথিলতা, যাতে ধর্মের আচার-আনুষ্ঠানিক বিধানগুলো অমান্য না করা হয়।
এখন হিসবাহ সংক্রান্ত লেখালেখির প্রসঙ্গে থেকেই আমরা মনোযোগ প্রদান করব তৎকালীন এক মহান লেখকের দিকে। তিনি তাকিউদ্দীন ইবনু তাইমিয়্যা।