📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 হিসবাহ সংক্রান্ত লেখালেখি

📄 হিসবাহ সংক্রান্ত লেখালেখি


হিসবাহ'র ওপর প্রথম রচনা হিসেবে দেখা চলে আল-মাওয়ারদির আল-আহকামুস সুলতানিয়্যার বিংশ অধ্যায়কে। আলাদা বই হিসেবে না হলেও আল-মাওয়ারদির রচিত এই অধ্যায়টি হিসবাহ বিষয়ের ওপর প্রথম বিশেষায়িত রচনা।
হিসবাহ'র ওপর লেখা আল-মাওয়ারদির একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ আর-রুতবা ফি তলাবিল হিসবাহ। আল-মাওয়ারদির সমসাময়িক ছিলেন প্রধান বিচারপতি আবু ইয়ালা ইবনুল ফাররা। তিনি আল-মাওয়ারদির প্রায় পনেরো বছর আগে জন্ম নেন (৯৮৮-১০৬৬)। আবু ইয়ালার লেখা একটি বইও একই শিরোনামের অধিকারী আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা (আবু যাইদ, ১৯৮৬)। আল-মাওয়ারদি ও ইবনুল ফাররার মাঝে পার্থক্য হলো প্রথমজন শাফিয়ি এবং পরেরজন হাম্বলি। এই পার্থক্য বাদ দিলে বই দুটির বিন্যাস এবং বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনাপদ্ধতি খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল-আহকাম লেখার মাধ্যমে ইবনুল ফাররা হয়তো আল-মাওয়ারদির রচনাটির প্রতি হাম্বলি দৃষ্টিকোণ থেকে জবাব দিয়েছেন।
এ বিষয়টি ভালোরকম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য লেখকের মনোযোগও আকর্ষিত করেছে। এর কিছু উদাহরণ হলেন: গাযালি (১০৫৮-১১১১) রচিত ইহইয়া উলুমুদ্দীন, ইবনু তাইমিয়্যা (১২৬৩/১৩২৮) রচিত আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম, আশ-শাইযারির চল্লিশ অধ্যায়বিশিষ্ট কিতাব নিহায়াতুর রুতবা ফি তলাবিল হিসবাহ, ইবনু বাসসামের ১১৮ অধ্যায়বিশিষ্ট আরেকটি গ্রন্থ নিহায়াতুর রুতবা ফি তলাবিল হিসবাহ, যা আশ-শাইযারির কাজটির ওপর ভিত্তি করে রচিত বলে প্রতীয়মান হয়, ইবনুল উখুওয়্যা (মৃ. ১৩২৯) কর্তৃক মাআলিমুল কুরবাহ ফি আহকামিল হিসবাহ, সত্তর অধ্যায়বিশিষ্ট একটি রচনা।
যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হলো, আল-মাওয়ারদির আল-আহকামের সেই বিশেষ অধ্যায়টি রচিত হওয়ার আগে এই বিষয়ে কোনো বিশেষায়িত গ্রন্থ রচিত হয়নি। আর পরোক্ষ কোনো রচনা যদি থেকেও থাকে, সেগুলোকে স্বকীয়ভাবে আল-হিসবাহ সংক্রান্ত কাজ বলে অভিহিত করাও হতো না। যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে ইমাম আবু ইউসুফ লিখেছেন। এই বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র লেখালেখির উদ্ভবের কারণ যদি অনুসন্ধান করা হয়, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে ক্রমবর্ধমান অনাচার ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা যায়। এরই ফলে তৎকালীন কাযী ও ফকিহগণ এই ব্যাপারে লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। আরেকটু এগিয়ে বলা যায়, উম্মতের নিত্যদিনকার জীবন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার জটিলতা এ ধরনের লেখালেখির পেছনে উৎসাহ জুগিয়ে থাকবে। দুর্নীতি এবং জটিলতা, উভয়টির ক্রমবর্ধমান মাত্রাও একত্রে কাজ করে থাকতে পারে। যার ফলে এই বিশেষায়িত লেখাগুলো উৎসাহ লাভ করে।
হিসবাহ সংক্রান্ত বিশেষায়িত রচনাগুলোর মাঝে আমরা ইবনুল উখুওয়্যা এবং ইবনু তাইমিয়্যার কাজগুলো নিরীক্ষণ করব। এই দুটি কাজকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, ইবনু তাইমিয়্যা হিসবাহর তাত্ত্বিক ভিত্তি পর্যালোচনা করেছেন। আর মুহতাসিব তার দায়িত্বপালনকালে যেসব ব্যবহারিক সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো বিস্তারিত নিরীক্ষণ করেছেন ইবনুল উখুওয়্যা। অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই কাজটিকে ম্যানুয়াল হিসেবে ব্যবহার করতে পারতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। দুই লেখক অবশ্য একই সময়কালের লোক। প্রথম জনের মৃত্যু ১৩২৯ সালে এবং দ্বিতীয়জনের ১৩২৮ সালে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00