📄 মুনাফা সস্তিকরণ ও ব্যবসায়িক লক্ষ্য
ব্যবসার লক্ষ্য হিসেবে আদ-দিমাশকি যা উল্লেখ করেছেন, তা মুনাফা সর্বাধিককরণের বদলে বরং মুনাফা সন্তুষ্টিকরণ (Profit satisfaction)। ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন হবে সহনশীলতা ও দয়াশীলতার ভিত্তিতে। এ দুটি গুণ জীবিকা উপার্জনের এবং ব্যবসায়িক উন্নতির প্রধান প্রধান নিয়ামক। আদ-দিমাশকির মতে, "এমনটা ভাববেন না— ‘ইশ! ওই ক্রেতা এত সহজে দাম মেনে নিয়েছে, আরেকটু বেশি হাঁকানো যেত!’ কারণ এতে ক্রেতারা অন্যত্র চলে যাবে।”
ব্যবসার ওপর সহনশীলতার প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করে আদ-দিমাশকি বলেন, “এক দিনার মুনাফা করলে তার অর্ধেকটাই উৎপাদিত হয় সহনশীলতা ও দয়াশীলতা থেকে"। তা ছাড়া ক্রেতা ও ব্যবসার প্রতি সততা ও নিরপেক্ষতা হলো ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক নীতি। সারমর্ম হলো, “আর্থিক সুবিধা লাভ করতে গিয়ে চরমপন্থা অবলম্বন করার ফলে পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। মুনাফা সর্বাধিকীকরণের অতিরিক্ত প্রচেষ্টার ফলাফল হলো মুনাফা হারানো” (পৃ ৬৬)।
তার মানে গাযালির বিপরীতে আদ-দিমাশকি সম্পদশালীতার পক্ষে। আদ-দিমাশকি সুফি-চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বলেন, দরিদ্র হওয়ার চেয়ে ধনী হওয়া উত্তম। দুটি যুক্তি দেওয়া হয় এর পক্ষে:
➡ প্রথমত, ধনী যদি উত্তরাধিকার সম্পদের কারণে ধনী হয়, তাহলে এর দ্বারা তার পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তার বংশীয় ধারার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
➡ দ্বিতীয়ত, যদি নিজের পরিশ্রম করার কারণে ধনী হয়ে থাকে, তাহলে পরিশ্রম করাটা তার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। সে দারুণ উদ্যমী এবং নিজের ও পরিবারের অবস্থা উন্নয়নে প্রচণ্ড তাড়নার অধিকারী। তা ছাড়া, নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং ভালোভাবে ব্যবসা সামলানোর কারণে যারা বড়লোক হয়েছে, এগুলো তাদের উঁচু মানের মননশীলতারও প্রমাণ।
সুফিগণ এই ধারণার সাথে প্রবলভাবে দ্বিমত করেন। তাদের মতে, একজন মানুষ নিজের এবং তার প্রতি নির্ভরশীলদের চাহিদা মেটানোর মতো উপার্জন করলেই সেটা যথেষ্ট। এর বাইরের পুরোটা সময় ইবাদতে কাটাতে হবে।