📄 মানুষ ও মুদ্রা
সুন্দর একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, মুদ্রা-সংক্রান্ত আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আল-আসফাহানি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তুলে এনেছেন (ডোনিয়া, প্রাগুক্ত)।
➡ প্রথমত, অর্থনীতিতে অর্থের অপরিহার্য অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'পার্থিব জীবন যেসব ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার মাঝে একটি হলো মুদ্রা।'
➡ দ্বিতীয়ত, তিনি মুদ্রা ও পণ্যের প্রাপ্যতার সম্পর্ক স্বীকার করেন। বলেছেন, 'মুদ্রার মূল্যমান যদি বেড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে জীবনকে সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অর্জন করা কষ্টকর হয়ে যায়।'
➡ তৃতীয়ত, বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রার কার্যকর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব হয়েছে মুদ্রার ব্যবহারের মাধ্যমে। যার কাছ থেকে কোনো উপকার চাওয়া হয়, তাকে সেই উপকারপ্রার্থী মুদ্রা প্রদান করে। উক্ত উপকারকারী আবার নিজে অন্য কোনো উপকার ভোগের জন্য আরেকজনের সাথে সেই মুদ্রা বিনিময় করে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যাবলী মসৃণভাবে চলতে থাকে।'
➡ চতুর্থত, মুদ্রার জোগান এবং দাম বৃদ্ধির মাঝে সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'মানুষের লেনদেনে মুদ্রাকে ব্যবহৃত হতে না দিয়ে সেটাকে জমা করতে থাকা মানে তাদের স্বার্থ কুক্ষিগত করতে থাকা, যেহেতু মুদ্রার মাধ্যমে তাদের (অর্থনৈতিক) জীবন সচল থাকে। তা ছাড়া এজন্যেই হাদীসে স্বর্ণ ও রৌপ্যকে তৈজসপত্র হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে করে এসব ধাতুকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে লেনদেন সহজ করার সহজলভ্যতা কমে যায়। এতে কঠিনতা চলে আসতে পারে মানুষের জীবনে.' (আল-আসফাহানি, পৃ. ২৭৩)
➡ পঞ্চমত, তিনি সবশেষে উল্লেখ করেন যে, মুদ্রা স্বকীয়ভাবে প্রয়োজনীয় নয়। বরং এটি যে উদ্দেশ্য পূর্ণ করে, তার জন্য প্রয়োজনীয়, 'আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য টাকা সৃষ্টি করেছেন, সেজন্যই একে ব্যবহার করতে হবে.' (প্রাগুক্ত)
পরবর্তীকালে গাযালির মতো প্রাজ্ঞ লেখকদের প্রভাবিত করার কৃতিত্ব দেওয়া হয় আল-আসফাহানিকে। তিনি আল-আসফাহানির আয-যারিআহকে খুবই সম্মানের চোখে দেখতেন (আল-আগামি, ১৯৮৫)। আমাদের পরবর্তী আলোচ্য গাযালিরই একটি বই ইহইয়া উলুমুদ্দীন।