📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস 📄 গ্রন্থের আলোচনা

📄 গ্রন্থের আলোচনা


ইসলামি অর্থনীতির সাথে প্রাসঙ্গিকতা-সম্পন্ন বইটির নাম আয-যারিআহ ইলা মাকারিম আশ-শারীআহ, অর্থাৎ শরীয়তের মহৎ বিষয়গুলো হাসিলের পথ। বইটির শিরোনাম যদিও আলাদাভাবে ইসলামি অর্থনীতির ব্যাপারে নয়, কিন্তু এর মূল পাঠ্যের ভেতর এই বিষয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি রয়েছে। বইটি যে সাতটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত, এর মধ্যে দুটি শুধুই অর্থনীতি নিয়ে। বাকি অধ্যায়গুলোতেও অর্থনীতি-সংক্রান্ত জিনিস রয়েছে। যেমন: ভোক্তার আচরণ। বইটিতে আলোচিত বিষয়গুলোকে সব মিলিয়ে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবিন্যস্ত করা যায় (Donia, 1984):
➡ ১. মানুষ: তার গুরুত্ব, কার্যাবলি ও চাহিদাসমূহ
➡ ২. উৎপাদন কর্মকাণ্ড: উৎপাদন, সমবায় ও বিশেষায়ণের গুরুত্ব, উৎপাদনের মাধ্যমসমূহ, চাকরি ও বেকারত্ব, অর্থনৈতিক কার্যাবলির পরিসর।
➡ ৩. সম্পদ ও এর উৎসসমূহ: সম্পদ, ধন, দারিদ্র্য, টাকার সাথে মানুষের সম্পর্ক।
➡ ৪. ব্যয়: ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও ভারসাম্যহীনতা।
যারিআহ শুরু হয় মানুষ-সংক্রান্ত অধ্যায় দিয়ে। এটাই স্বাভাবিক, কারণ ইসলামে মানুষকেই সৃষ্টিজগতের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার জন্য আল্লাহ অন্য সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ এবং তার প্রকৃতি, সৃষ্টি, দায়িত্ব, চাহিদা ও উদ্দীপনার আলোচনা দিয়ে বইটি শুরু করায় বোঝা যায় যে, মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মহাবিশ্বে মানুষের অবস্থানকে আল-আসফাহানি বুদ্ধিদীপ্তভাবে উপলব্ধি করেছেন। অর্থনীতি-সংক্রান্ত একটি বইয়ের বিষয়সূচি বিন্যাস অনুযায়ীও এটি যৌক্তিক। কারণ মানুষই ভোক্তা, উৎপাদক, বণ্টনকারী, বিনিয়োগকারী, সম্পদ অন্বেষণকারী, উদ্যোক্তা, সিদ্ধান্তগ্রহীতা ইত্যাদি। তার মানে মানুষ সেই কেন্দ্র, যাকে ঘিরে অর্থনৈতিক সকল সিদ্ধান্ত আবর্তিত হয়। এমনকি ইসলামি অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত নয়, এরকম সাধারণ অর্থনৈতিক বইয়ের ক্ষেত্রেও এই সরল বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করার কোনো উপায় নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية