📄 অন্যান্য বিষয়
উপর্যুক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি শাইBlni অন্য আরও বিষয়েও সবিস্তারে আলোচনা করেছেন।
স্বেচ্ছায় বেকারত্ব বেছে নেওয়া মানুষদের মারাত্মকভাবে সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষত ভণ্ড সুফিদের। সুফিগণ সেই যুগে আবির্ভূত একটি ধর্মীয় ধারা। তারা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মনিবেদন এবং জাগতিক বিষয়াদি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করার আহ্বান জানান। অন্যান্য ধর্মের সন্ন্যাসীদের সাথে তাদের মিল আছে। শাইবানির প্রশ্ন: কাজ করে খাওয়াকে তারা যেখানে বাঁকা চোখে দেখেন, সেখানে কর্মমুখর মানুষগুলোর হাদিয়া তারা গ্রহণ করেন কোন যুক্তিতে?
জীবিকা উপার্জনের জন্য কর্মের মূল্যকে সাধুবাদ জানিয়ে সেটাকে ইবাদতের সাথে সম্পর্কিত করেন তিনি। তিনি বলেন, ইবাদতের দায়িত্ব পরিপূর্ণ করার সামর্থ্য অর্জিত হয় কাজকর্মের মাধ্যমে। তাই উপার্জন করাটা প্রথম সারির ধর্মীয় দায়িত্ব। সুফিদের ব্যাপারে তিনি যা বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ-না-করা সকল মানুষের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হয়। তা ছাড়া যারা কাজ করতে সক্ষম হওয়ার পরও দান-খয়রাত গ্রহণ করে, তাদেরও তিনি আক্রমণ করেন।
শিক্ষাকে তিনি খুবই উঁচু দৃষ্টিতে দেখেন এবং এর ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন দিকের জন্য মূল্যবান: ধর্ম সম্পর্কেও যেমন শিক্ষা অর্জন করতে হয়, তেমনি বাণিজ্য ও পেশা সম্পর্কেও। তার মতে, শিক্ষা শ্রমের বণ্টনে সহায়তা করে। সেটা আবার সহায়তা করে কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের বেশির ভাগ অংশ যিনি শিক্ষার্জনের পেছনে ব্যয় করেছেন, তার পক্ষ থেকে শিক্ষার ওপর এই পরিমাণ গুরুত্ব প্রদান প্রত্যাশিতই বটে।
যাকাতের ব্যাপারে শাইবানি একটি দারুণ বক্তব্য এনেছেন। তিনি বলেন, দানশীল ধনীরা দানগ্রহীতা দরিদ্রদের মুখাপেক্ষী। দরিদ্ররা না থাকলে ধনীরা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারত না, দান করার সওয়াবও অর্জন করতে পারত না। তার মানে দরিদ্ররা ধনীদের উপকৃত করেছে! ধনীদের সম্পদে যে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে, শাইবানি এখানে সেই ইসলামি মূলনীতির পুনরাবৃত্তি করেছেন। কিন্তু ধর্মীয় দানের গ্রহীতা যদি উপার্জনক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শুধু শুধু দান-সদাকা পাওয়ার দাবি করে, তাহলে সেটা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি তা ধনীকে দরিদ্রের চেয়ে নিম্নতর করে দেবে। তো ধনী আর দরিদ্র পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল-শাইবানির এই সিদ্ধান্ত খুবই কৌতূহলোদ্দীপক।
নিঃসন্দেহে ইসলামি অর্থনীতির ওপর ইমাম মুহাম্মাদ শাইবানি-এর লেখালেখি এই বিষয়টির বিকাশে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।