📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইজারা

📄 ইজারা


শাইবাণি ইজারাকে উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের আলাদা একটি শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এ ব্যাপারটি চমকপ্রদ। সাধারণত একে কৃষি, বাণিজ্য বা শিল্পের মতো অন্যান্য খাতের অন্তর্গত ধরা হয়। এই খাতটিকে আলাদা করার যুক্তি হিসেবে উত্থাপন করা যায় উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে মালিকানার বিষয়টি। এ অর্থে তিনি কর্মকাণ্ড ও সেগুলোর ফলাফলকে সূক্ষ্মতরভাবে সেসব মাধ্যমের মালিকানার সাথে সম্পর্কিত করেছেন। তাঁর উল্লেখিত কর্মকাণ্ডের শ্রেণিবিন্যাস গতানুগতিক শ্রেণিবিন্যাসের চেয়ে অধিক তথ্য প্রদান করে। বর্তমান যুগে যে তথ্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর অধিক থেকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, শাইবানির বিন্যাসপদ্ধতি সেটার সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরো নির্দিষ্ট করে বললে: দুটি বিশেষ বিষয়ের প্রত্যেকটির ওপর ইজারা বা ভাড়ার প্রভাব রয়েছে- ব্যবসার আর্থিক কার্যকারিতা (financial performance of business) এবং মূল্য সংযোজন বিবৃতি (value added statement)। হিসেব বিবরণীর আধুনিক আর্থিক বিশ্লেষণে একদিকে যেমন তহবিলের উৎসসমূহের মাঝে সম্পর্কের ওপর দৃষ্টিপাত করা হয়, তেমনি সেসব তহবিলের ভিত্তিতে উৎপাদিত উপার্জনের ওপরও জোরারোপ করা হয়। এর পাশাপাশি একজন সচেতন বিশ্লেষক সম্পদ ভাড়া করার প্রশ্নটিকেও বিবেচনায় নেবেন। ব্যবসার মাধ্যমে উৎপাদিত আয়ের ওপর ভাড়াকৃত সম্পদের প্রভাব এবং বিনিয়োগকৃত পুঁজি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের হারের ওপর তার ফলাফল বিশেষভাবে নিরীক্ষণীয়। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্পদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর আকাঙ্ক্ষিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ভাড়ার বিষয়টি গোপন করা হলে ভাড়াকৃত সম্পদ থেকে উৎপাদিত আয় বা ভাড়া করার জন্য বহনকৃত ব্যয়ভারের হিসেব বিকৃত হবেই। তাই এ প্রক্রিয়ায় ভাড়াকৃত সম্পদের মাধ্যমে উৎপাদিত আয়ের ওপর অবশ্যই আলোকপাত করতে হবে, অন্যথায় প্রাপ্ত লভ্যাংশকে মাত্রাতিরিক্ত বড় করে দেখানো হবে।
মুল্যসংযোজিত বিবরণী থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপরও সম্পদ ভাড়া করার অনুরূপ প্রভাব পড়বে। মোট জাতীয় উৎপাদন হিসেব করার মৌলিক বিবরণী হলো মূল্যসংযোজিত বিবরণীর বিশ্লেষণ। এই বিবরণী চারটি সুপরিচিত জিনিসের সমষ্টি হিসেবে পরিগণিত হয়: ভাড়া, মজুরি, সুদ ও লাভ। বিশেষ করে, ভাড়াকৃত উৎপাদন-মাধ্যমের থেকে প্রাপ্ত লাভ বা তার খরচ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় প্রথম উপাদানটিকে। আর যদি বিবরণীটিকে আরও বিশ্লিষ্ট করা হয়, তাহলে উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে ভাড়াকৃত সম্পদ থেকে উদ্ভূত সকল ভাড়া ব্যতিরেকেই মোট লাভের পরিমাণ দেখানো সম্ভব। এমনটি করা হলে বিবরণীটি শাইবানির শ্রেণিবিন্যাসে দেওয়া নির্দেশনার সাথে পুরোপুরি মিলে যাবে। এবার শ্রমের দিকে মনোনিবেশ করা যাক। শ্রমকে যদি মানবপুঁজি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে বিবরণীতে উল্লেখিত মজুরিতে ভাড়াকৃত পুঁজির খরচ প্রতিফলিত হবে। এটা শাইবানির উদ্দেশ্যের সাথে আরও বেশি সামঞ্জস্যশীল। শাইবানির শ্রেণিবিন্যাসে আবশ্যিকভাবে শ্রম অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু তিনি শ্রমকে ভাড়া থেকে আলাদা করে ধরেছেন। বস্তুতঃ শ্রেণিবিন্যাসে ভাড়ার ওপর আলাদা আলোকপাত করার ফলে উৎপাদনের মূল্যের ওপর ও মোট জাতীয় উৎপাদনের ওপর এই খাতটির প্রভাব আরও বেশি উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মধ্য-অষ্টম শতাব্দীর একজন লেখক এই ব্যাপারটি উল্লেখ করা মানে এটি তার চরম দূরদর্শিতার প্রমাণ। তথ্যের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা ও আমাদের চিন্তাপদ্ধতি যেন শাইবানি আগেই অনুমান করে ফেলেছেন।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 শিল্পকারখানা

📄 শিল্পকারখানা


শুরু থেকেই ইমাম মুহাম্মাদ শাইবানি সকল উৎপাদন কর্মকাণ্ডকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। শাইবানির সমসাময়িকদের কেউ হয়তো বাণিজ্যের তুলনায় শিল্পোৎপাদনকে নীচুতর উৎপাদনকর্ম হিসেবে দেখতেন। তাদের এই দাবিকে খণ্ডন করেছেন তিনি। প্রথমত এই দাবিকে তিনি নিরীক্ষা করেন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। প্রায় এক ডজন নবি ও রাসূলের নাম উল্লেখ করেন, যারা বিভিন্ন শিল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। এগুলো অন্যান্য পেশার তুলনায় নিম্নতর তো হতে পারেই না, বরং উল্টো আল্লাহর বরকতধন্য হওয়ার কথা। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন যে, উৎপাদন কর্মকাণ্ডের প্রতিটি খাত একটি অপরটির উদ্দেশ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে অর্থনীতির এই সকল খাত পরস্পরের সাথে ভালোভাবে সম্পর্কযুক্ত। তিনি বলেন যে, উৎপাদনের খাতগুলো একে অপরের পরিপূরক। শাইবানির এই চিন্তার গুরুত্ব বোঝার জন্য এটিকে তার সমসাময়িক প্রচলিত চিন্তাধারার প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। আয়ের উৎস ও উৎপাদনের একটি খাত হিসেবে বাণিজ্যকে অন্য সব পেশার চেয়ে অভিজাত হিসেবে দেখা হতো তখন। এটি এমন এক পেশা, যার কথা কুরআনে এসেছে এবং নবি যার ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলেছেন।
শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রেও শ্রমের বিশেষায়ন ও বণ্টনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, বিশেষায়নের মাধ্যমে কার্যকরভাবে দক্ষতা অর্জন করা যায় এবং সেই পেশাটি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়। মাইক্রো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলা যায়, কেউ সকল দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করলে সারা জীবনেও তা হাসিল করতে পারবে না। মৃত্যু চলে আসবে, কিন্তু দক্ষতা আসবে না। যে দক্ষতাটি সে সবচেয়ে ভালোভাবে অর্জন করতে পারবে বলে মনে হয়, তার সেটাই শেখা উচিত। এটা নির্ভর করবে আল্লাহ তাকে কেমন শক্তি-সামর্থ্য দিয়েছেন, তার ওপর। আর নিজের প্রয়োজনাদি মেটাতে সে অন্যদের দক্ষতাসমূহের ওপর নির্ভর করবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যক্তির স্বতন্ত্র দক্ষতা ও আসমানি শক্তির মাধ্যমে প্রদত্ত বৈচিত্র্যময় উপহারগুলো কাজে লাগবে। সব কাজ আরও ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানবসমাজ হবে সুসমন্বিত। সুন্নাহর এক উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে হয়, “মুমিনরা একটি দালানের মতো, যার একটি অংশ অপরটিকে দৃঢ় করে।” (সহীহ বুখারি: ২৪৪৬) এবার শাইবানির বক্তব্যকে ম্যাক্রো পর্যায়ে নিয়ে আসা যাক। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বিশেষায়ন দক্ষতা বা প্রযুক্তি অর্জনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সেইসাথে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে সুসংহত করতেও সহায়তা করে এটি।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 কৃষি

📄 কৃষি


সমসাময়িকদের কারও কারও চিন্তার সংশোধন করতে গিয়ে শাইবানি প্রচণ্ডভাবে কৃষিকাজের সাফাই গেয়েছেন। এমনকি তার মতে এটি অন্যান্য উৎপাদন কর্মকাণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি শ্রেয়। তার এই মতকে একটি হাদীসের প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যাপারে নবি বলেছিলেন যে, 'এটা যে সম্প্রদায়ের ঘরে প্রবেশ করে, আল্লাহ সেখানে অপমান প্রবেশ করান।' (সহীহ বুখারি: ২৩২১) শাইবানি এই হাদীসের ব্যাখ্যায় তুলে ধরেন, এখানে সামরিক অভিযান তথা জিহাদ ছেড়ে দিয়ে গ্রাম্য এলাকায় থিতু হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তার এই ধর্মীয় প্রতিযুক্তির ভিত্তিও বিভিন্ন হাদীস, যেগুলোতে কৃষিকাজকে উৎসাহিত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণে। ইমাম মুহাম্মাদ একটি হাদীস বর্ণনা করেন, 'কৃষক তার রবের সঙ্গে ব্যবসা করে.' এমনকি ক্ষেত থেকে কোনো পাখি ফসল খেলেও তার জন্য কৃষকের সওয়াব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আলোচনা আগের অধ্যায়ে (উদ্ধৃতি-সহ) আলোচিত হয়েছে। যে যুগে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই ইসলামি আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে সময়ে এরকম যুক্তি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শাইবানি কৃষিকাজকে অন্য সব উৎপাদন কর্মকাণ্ডের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করার কারণ চারটি:
➡ প্রথমত, তার মতে এই খাতের ওপরই অন্যান্য উৎপাদন খাত প্রতিষ্ঠিত। কৃষি থেকে প্রাপ্ত কাঁচামালই শিল্পোৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। আবার কৃষিজ উৎপাদিত পণ্য দিয়েই করা হয় বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য। আবার যেসব বাণিজ্যের পণ্য শিল্পোৎপাদিত, সেগুলোও কৃষিজ কাঁচামাল ছাড়া তৈরি করা সম্ভব হয় না।
➡ দ্বিতীয়ত, অন্যান্য খাতের চেয়ে কৃষিখাতটি সাধারণ জনগণের জন্য তুলনামূলক বেশি উপকারী। বিশেষত জীবনধারণের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যেহেতু অন্যদের প্রতি উপকারকারীরাই শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে এগিয়ে এবং হাদীসে মানুষের জন্য উপকারী ব্যক্তিকেই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে, তাই কৃষিকাজে নিয়োজিত কৃষকরাও অন্যদের চেয়ে শ্রেয়।
➡ তৃতীয়ত, কৃষিকর্ম ও তা থেকে আহরিত পণ্যসমূহ মানুষ ছাড়া অন্যান্য জীবের প্রয়োজনাদি পরিপূর্ণ করে। সেটা খাওয়ার মাধ্যমে হোক, বা অন্য কোনো প্রয়োজনে।
◆ চতুর্থত, অন্যান্য শিল্প-বাণিজ্যিক পেশার বিপরীতে কৃষি নিজেই যাকাতের একটি উৎস। এই সবকিছুর ভিত্তিতে ইমাম মুহাম্মাদ নিশ্চিত করেন যে, সকল খাত অবিচ্ছেদ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের মাঝে সহযোগিতা অপরিহার্য হলেও আপেক্ষিকভাবে কৃষিকর্ম শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী。

টিকাঃ
[১] বিস্তারিত আলোচনা দেখুন, কিতাবুল ইকতিসাব: ৪০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা। - সম্পাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বাণিজ্য

📄 বাণিজ্য


সম্পদ বা আয়ের সৃষ্টি এবং কৃষি ও বাণিজ্যের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপারে শাইবানি দারুণ একটি বক্তব্য দিয়েছেন: কৃষির মাধ্যমে ব্যক্তিমানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। কিন্তু বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পদ বিকশিত হয়। বক্তব্যটা যদিও সহজ-সাধারণ, কিন্তু এর প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মানে শাইবানি ফিজিওক্র্যাটদের চিন্তাকে তাদের দশ শতাব্দী আগেই লিখে দিয়ে গেছেন।
শাইবানি ও ফিজিওক্র্যাটদের মাঝে কৃষি-সংক্রান্ত চিন্তার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য একটু হলেও আলোচনার দাবি রাখে। ফিজিওক্র্যাট মতাবলম্বীদের উদ্ভব অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সে। তাদের মতে কৃষিকর্মই মোট উৎপাদ (Produit net) উৎপাদনে সক্ষম একমাত্র খাত। ফলে তারা মার্কেন্টাইলিস্টদের এই ধারণার বিরোধিতা করেন যে, লেনদেন বা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি হয় ও বৃদ্ধি পায়। উদ্বৃত্তের উৎস হিসেবে Produit net-কে উদঘাটিত করার পর তারা এতে আরেকটি বিষয় যোগ করেন। সেটির উল্লেখ পাওয়া যায় কোয়েসনে-প্রণীত Tableau economique গ্রন্থে। এটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মাঝে সম্পদ পরিবণ্টনের একটি বিশ্লেষণ (রোল, ১৯৭৩)।
ফিজিওক্র্যাটদের মতে, কৃষিকর্মীরা নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আর যা কিছু উৎপন্ন করে, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যকর্মীরা ঘুরেফিরে সেটার ওপরই নির্ভরশীল। আরেকভাবে বললে, শ্রমের উৎপাদনশীলতার মাত্রা দিয়েই উদ্বৃত্তের উদ্ভব সম্ভব হয়। আর শ্রমের প্রথম উদ্ভব ঘটে কৃষিতে (প্রাগুক্ত)। অতএব, কৃষি হলো উদ্বৃত্তের একমাত্র প্রকার। ফলে শিল্পোৎপাদনের উন্নতির জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অসার।
এই সীমাবদ্ধতার কারণে বাণিজ্য, তথা লেনদেনের সাথে কোনো মূল্য সম্পর্কিত নয়। অবশেষে টার্গোট এসে বিনিময়-মূল্য (Valeur-exchange) ধারণাটির প্রবর্তন ঘটান। টার্গোট একে বলতেন (Valeur appreciative)। তিনি বলেন যে, এটি নির্ধারিত হয় লেনদেনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুমিত মূল্যের গড় দিয়ে।
ইমাম শাইবানির সঙ্গে অবশ্য কিছুটা পার্থক্য আছে তাদের। তিনি কোয়েসনের Tableau economique-এর মতো অত দূর পর্যন্ত যাননি। আর ফিজিওক্র্যাটদের সঙ্গে তার অমিলের জায়গাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ:
➡ (ক) তিনি অন্য সকল খাতকে নিষ্ফলা এবং কৃষিকে একমাত্র উৎপাদনশীল খাত বলে দাবি করেননি, এবং
➡ (খ) শুরু থেকেই তিনি বাণিজ্যের বিনিময়-মূল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছেন: "বাণিজ্য জীবন-জীবিকা সরবরাহ করে না। কিন্তু বাণিজ্যের মাধ্যমেই সম্পদ বা উপার্জন বিকশিত হয়,” বলেন তিনি। যদিও তিনি ফিজিওক্র্যাটদের মতো বিশদভাবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেননি, কিন্তু এ বিষয়ে পরিচ্ছন্ন চিন্তা ও মৌলিক ধ্যানধারণার উদ্ভব ঘটিয়েছেন বটে। ফিজিওক্র্যাটদের সমানতালে এগুলোকে পরবর্তীকালে আরও বিকশিত করা সম্ভব ছিল।
এ অর্থে বলা যায় যে, বিনিময়-মূল্য বা Valeur-exchange সংক্রান্ত গবেষণায় তিনি টার্গোটের (Turgot) চেয়ে অগ্রগামী।

টিকাঃ
[১] প্রাগুক্ত: ৪১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00