📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 লেখক

📄 লেখক


লেখকের পুরো নাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান শাইবানি (১৩২-১৮৯ হি./৭৫০-৮০৪ খ্রি.)। পূর্বসূরি ইমাম আবু ইউসুফের (৭৩১-৭৯৮) জীবনকালের সাথে শাইবানি ছিলেন সমসাময়িক ও নিকটতম শিষ্য। তার মতো শাইবানিও একজন বিচারক, যদিও প্রধান বিচারপতি ছিলেন না। মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা -এর কাছ থেকে ফিকহি পড়াশোনা করায় তিনিও একজন হানাফি। ১৫০ হি./৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে আবু হানিফার মৃত্যু হলে তিনি আবু ইউসুফ -এর ছাত্র হন। সমসাময়িকদের কাছে তিনি খুবই উঁচু মর্যাদার অধিকারী। আর্থিকভাবে তিনি সম্ভবত বেশ সচ্ছলই ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, বাবার কাছ থেকে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে ৩০,০০০ দিরহামের মালিক হয়েছেন। এর বেশির ভাগই খরচ করেছেন জ্ঞানার্জনের পেছনে। কারণ নিজের বেশির ভাগ সময় তিনি এর পেছনেই দিতেন (আরনুস, ১৯৮৬)। বইটিতে তার যেসব দৃষ্টিভঙ্গি স্থান পেয়েছে, সেখানে এর প্রতিফলন দেখা যায়। তার সম্পদ বৃথা ভোগবিলাসে ব্যয়িত হয়নি। বইটিতে আমরা তাকে বলতে দেখি যে, দরিদ্রদের যেমন ধনীদের প্রয়োজন, ধনীদেরও তেমনি দরিদ্রদের প্রয়োজন।

টিকাঃ
[১] ইমাম মুহাম্মাদ -এর মূল গ্রন্থের নাম কিতাবুল কাসব। লেখক যে গ্রন্থের আলোচনা করেছেন তা হলো ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সামাআহ থেকে এই বইয়ের একটি তালখীস বা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যা ইমাম সারাখসী ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সামাআহ-র এই তালখীস গ্রন্থের নাম আল-ইকতিসাব ফির রিযকিল মুসতাত্বাব। ইমাম মুহাম্মাদের মূল গ্রন্থটি কিতাবুল কাসব নামে প্রকাশিত হয়েছে। দ্রষ্টব্য: কিতাবুল কাসবের ভূমিকা, শাইখ আবদুল ফাত্তাহ। -

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 গ্রন্থ পর্যালোচনা

📄 গ্রন্থ পর্যালোচনা


ইমাম শাইবানির মূল গ্রন্থের নাম কিতাবুল কাসব। আমাদের হাতে থাকা (সংক্ষেপিত) বইটির নাম হলো, আল-ইকতিসাব ফির-রিযিকিল মুসতাত্বাব। শিরোনামটির অর্থ হলো উত্তম জীবিকা উপার্জন। শাইবানির কিতাবুল কাসবের যতটুকু আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা তার মূল বইয়ের ২০,০০০ শব্দবিশিষ্ট একটি সারাংশ। এর বর্ণনাকারী তার শিষ্য মুহাম্মাদ ইবনু সামআহ। আমাদের হাতে থাকা সারাংশ বইটি মূলত আরেকজন পরবর্তী ফকিহ ইমাম আস-সারাখসির লেখা ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আস-সারাখসির মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি সনে (প্রাগুক্ত)। মূল বইটি কত বড় ছিল, তা আমরা জানি না। তবে সারাংশের আকৃতি যেখানে এত বড়, সেখানে মূল বইটির কলেবর নিশ্চয়ই বেশ বড়সড়ই হয়ে থাকবে।
বইটির সার্বিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো বিশ্লেষণাত্মক। লেখক একটি বিষয় উল্লেখ করেন, এ সংক্রান্ত কুরআনের আয়াত ও নবি -এর বাণী নিরীক্ষণ করেন এবং তারপর নিজের গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরেন। বাস্তব জীবন থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলে লেখক সেখানে যুক্তিপ্রবণ: উত্থাপিত প্রশ্নটি তিনি আলোচনা করেন, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলীল চয়ন করেন, বিশ্লেষণমূলক যুক্তিতর্ক ব্যবহার করেন এবং তারপর এমন এক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাঠককে একমত হতে বাধ্য করে। এখানেও আমরা দেখতে পাচ্ছি একজন বিচারকের—হানাফি বিচারকের—বিশ্লেষণমূলক আলোচনাপদ্ধতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00