📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 গ্রিক দর্শনের সমালোচনা

📄 গ্রিক দর্শনের সমালোচনা


গ্রিক দর্শনের প্রতি মুসলিমদের আগ্রহের জন্মটা হয় আব্বাসি খলিফা মামুনের শাসনামলে (৮১৩-৮৩৩)। ইবনু খালদুন আমাদের বলেন যে, মামুনের নিজেরও জ্ঞানশাস্ত্রে আগ্রহ ছিল। তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাটদের কাছে প্রতিনিধি পাঠান গ্রিক জ্ঞানশাস্ত্র সম্পর্কে জানার জন্য এবং সেগুলোর আরবি অনুলিপি প্রস্তুত করার জন্য। এ উদ্দেশ্যে অনুবাদক প্রেরণ করেন তিনি (ইবনু খালদুন)।
একই উৎস থেকে আমরা জানতে পারি, "এর ফলে বেশ ভালো পরিমাণে গ্রিক বইপুস্তক সংরক্ষিত ও সংগৃহীত হয়", (প্রাগুক্ত)। মামুনের প্রচেষ্টার আগে মুসলিম খলিফাগণ শুধু গণিতশাস্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিলেন। মামুনের প্রপিতামহ খলিফা জাফর মানসুর বাইজেন্টাই সম্রাটের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন তাকে গণিতশাস্ত্রের লেখালেখির অনুবাদ পাঠানোর জন্য (প্রাগুক্ত)। বাইজেন্টাইন সম্রাট সাড়া প্রদান করে তার কাছে ইউক্লিডের বই প্রেরণ করেন।
গ্রিক জ্ঞানশাস্ত্রে মুসলিম চিন্তাবিদগণের বিশেষ আগ্রহ গড়ে ওঠে এবং এতে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেন তারা। কেউ কেউ গ্রিক দার্শনিকদের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামি সংস্করণের কিছু দার্শনিক কাজ গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন। যেমন প্লেটোর রিপাবলিকের সমান্তরালে রচিত হয়েছে আল-ফারাবির আরাউ আহলিল মাদিনা। অন্যেরা আবার গ্রিক চিন্তাধারার সমালোচনা করেন এবং অ্যারিস্টটলের সাথে অনেক বিষয়ে দ্বিমত করেন। কেউ কেউ তাদের পূর্বসূরিদের ছাড়িয়েও যান বুদ্ধিশাস্ত্রে (প্রাগুক্ত)। ফলাফল হিসেবে গ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্র কিছু মাত্রায় ইসলামে ঢুকে পড়ে। এটি এমন অনেক লোককে প্ররোচিত করে ফেলে, যারা সেসকল শাস্ত্র অধ্যয়নে উদগ্রীব ছিল। সেসব শাস্ত্রের মতগুলো গ্রহণও করে নেয় তারা (প্রাগুক্ত)। তাই দর্শন ও রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে লেখালেখি যে যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডকে রীতিমতো দখল করে রেখেছিল, সে-সময় ইসলামি অর্থনীতির ওপর লেখা খুব কমই ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00