📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ভূমি মালিকানার কাঠামো পরিবর্তন

📄 ভূমি মালিকানার কাঠামো পরিবর্তন


মুসলিম ও অমুসলিমদের ভূমির মালিকানা-কাঠামোর মূলে রয়েছে তিনটি বিষয়। প্রথমত, অমুসলিমদের কাছ থেকে মুসলিমদের জমি কেনার অধিকার। এই অধিকারটির চর্চা উমাইয়্যা ও আব্বাসি আমলে বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। দ্বিতীয়ত, কোনো অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোনো মুসলিমকে জমি দান করার ব্যাপারে খলিফার অধিকার। এই অধিকারটিও খুলাফায়ে রাশিদীন যুগের তুলনায় দুই রাজতান্ত্রিক খিলাফতের যুগে অনেক বেশি মাত্রায় চর্চিত হতে দেখা গেছে। তৃতীয়ত, ইতিপূর্বে অবহেলিত মালিকবিহীন জমিকে আবাদকারীর সেই জমির মালিকানা লাভ করা। এই তিনটি প্রধান নিয়ামক ইসলামি রাষ্ট্রে ভূমি মালিকানার কাঠামো পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। উমাইয়্যা ও বিশেষত আব্বাসি খিলাফত আমলে কারও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা জমির পরিমাণ এত বেড়ে যায় যে, এটি অর্থনৈতিক গুরুত্বের অধিকারী হয়ে ওঠে। এরকম ভূমিকে বলে জায়গীর। এটি কৃষি কর্মকাণ্ডের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয় (আর-রাইয়্যিস, ১৯৭৭)। তাই লক্ষণীয় যে, ভূমি-মালিকানার পেন্ডুলাম উমাইয়্যা ও আব্বাসি যুগে মুসলিমদের দিকে ঝুঁকে আসে। কৃষিজ ভূমির মালিকানা লাভ করার প্রবল আগ্রহ গড়ে ওঠে মুসলিমদের মাঝে (Cahen, 1970, Lapidus, 1981)।
সাধারণভাবে রাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে এবং বিশেষভাবে ভূমিকর নিয়ে লেখালেখি শুরু হওয়ার সাথে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিটি বেশ প্রাসঙ্গিক। কারণ ভূমির মালিকের ধর্ম পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় কিছু ফকিহের মতে করদাতার প্রদেয় কর খারাজ থেকে পরিবর্তিত হয়ে যাকাত, উশর হয়ে যাওয়া উচিত। তবে তা সর্বসম্মত মত নয়। অন্যান্য ফকিহের মতে মালিকের ধর্ম পরিবর্তিত হওয়ায় করের ধরন পালটাবে না। উমাইয়্যা যুগে সরকারি নীতি একেকবার একেকরকম ছিল। কখনো করের ধরন পালটে উশর হয়ে যেত, কখনো মালিকের ধর্মপরিবর্তন সত্ত্বেও খারাজই থাকত (আর-রাইয়্যিস, ১৯৭৭)। এর স্বপক্ষে দাবি হলো, যাকাতের চেয়ে খারাজ বেশি হলে এর মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই বিষয়টিতে মতপার্থক্যের অবকাশ আছে, যেহেতু এতে ব্যবহারিক এবং ফিকহি বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে খারাজের ওপর একাধিক গ্রন্থ রচিত হয়।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 কর সংগ্রহে মধ্যবর্তী প্রতিনিধি সংযোজন

📄 কর সংগ্রহে মধ্যবর্তী প্রতিনিধি সংযোজন


তা ছাড়া কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ওপর আরোপিত মোট করের অংক পরিশোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে একজন মধ্যবর্তী প্রতিনিধি নিজেকে কোষাগারের কাছে উপস্থাপন করতেন। বাকি কিংবা অগ্রিম হিসেবে কর পরিশোধ করে দিতেন তিনি। তারপর আলাদা আলাদা করপরিশোধকারীর কাছ থেকে সেই অংকের কর আদায় করে নিতেন। কোষাগারের জন্য এই ব্যবস্থাটি সুবিধাজনক হলেও এতে সমস্যাও ছিল। মূল করদাতাদের কাছ থেকে প্রতিনিধি আসল অংকের চেয়ে বেশি পরিমাণে কর আদায় করছেন কি না, এরকম সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। এর ফলে চূড়ান্ত করদাতাদের ওপর অন্যায় হয়। সামনে আমরা দেখব যে, ইমাম আবু ইউসুফ প্রবলভাবে এই ব্যবস্থার বিরোধী ছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00