📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইসলামি অর্থনীতির বিশেষায়িত কর্মকাণ্ড

📄 ইসলামি অর্থনীতির বিশেষায়িত কর্মকাণ্ড


ইসলামি অর্থনীতির ওপর প্রথম সারির বিশেষায়িত কাজগুলোর ব্যাপারে প্রথমেই যে সাধারণ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তা হলো এসব কাজ মোটাদাগে রাষ্ট্রের অর্থায়ন ও করব্যবস্থা সংক্রান্ত। এটির বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে:
➡ (ক) বিষয়টির জটিলতা, যা রাষ্ট্রের সম্প্রসারণের ফলে আরও বেশি বেড়ে যায়,
➡ (খ) মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে কৃষিজমির অধিকার ও মালিকানার পরিবর্তনশীল কাঠামো,
➡ (গ) রাষ্ট্রের অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষিকাজের অব্যাহত দাপট এবং ভূমিকরের ব্যাপারে লেখকদের আগ্রহ,
➡ (ঘ) এই বিষয়টির প্রকৃতি এমন যে, এটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। শুরুর দিকের অনেক লেখক-যে কাযী ও ফকিহ ছিলেন, এ কারণটি এখান থেকে বোঝা যায়,
➡ (ঙ) করব্যবস্থার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতিমালা বিষয়ক অন্য সকল বিষয়কে মোটাদাগে ধারণ করে,
➡ (চ) করব্যবস্থার রাজনৈতিক দিক। ধর্ম ও রাজনীতির মাঝে বিচ্ছিন্নতাকে নাকচকারী একটি ধর্ম হিসেবে ইসলামে এই ব্যাপারটি গভীরভাবে প্রোথিত,
➡ (ছ) কিছু খলিফা ও রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক এ ব্যাপারে উৎসাহপ্রদান, যারা অধুনা কমিটি অফ ইনকোয়ারি বা তদন্ত কমিটির অনুরূপ কিছু কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
দ্বিতীয় সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো, রাষ্ট্রের অর্থায়ন পরিচালনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলি সংক্রান্ত এই কাজগুলো কিন্তু খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধানগণ করেননি। করেছেন ফুকাহায়ে কেরাম, যারা ছিলেন পেশাদার বিচারপতি ও আইনবিদ। উমাইয়্যা ও আব্বাসি খিলাফতের আগে ব্যাপারটি এরকম ছিল না। যেমন, আমরা দেখেছি খুলাফায়ে রাশিদীন নিজ নিজ আইনি মত তৈরি করতে জানতেন, নীতিমালা গঠন করতেন এবং সে অনুযায়ী অর্থনৈতিক বা অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারতেন। বিশেষত দ্বিতীয় খলিফা উমর রা.-এর ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, ইরাকের নতুন বিজিত ভূমির বণ্টনের ব্যাপারে তিনি নিজস্ব মতামত তৈরি করেছেন। আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেটার পক্ষে বিতর্ক করেছেন এবং নিজ নীতিমালার যৌক্তিকতা প্রমাণে সফলও হয়েছেন। খলিফা উমরের উদাহরণের আরেকটি গুরুত্ব রয়েছে। তিনি তাঁর অর্থনৈতিক নীতির সমর্থনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শুধু রাজনৈতিক যুক্তি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আইনগত প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন, যা মূলত ফকিহদের কাজ। চতুর্থ খলিফা এরকম আরও একটি দৃষ্টান্ত। মিশরের প্রাদেশিক প্রশাসকের প্রতি তাঁর লেখা চিঠিতে আমরা তাঁকে কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, সরকারি সেবা, চাকরিতে নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, করব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা-সহ নানা বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করতে দেখেছি তৃতীয় অধ্যায়ে। ইসলামি আইন তথা শরীয়তের ব্যাপারে গভীর ব্যুৎপত্তি না থাকলে এরকম চমৎকার ফিকহি পারদর্শিতা প্রদান করা সম্ভব হতো না। উমাইয়্যা ও আব্বাসি খিলাফতগুলোর আমলে (রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে) এই ব্যাপারটি সেভাবে চোখে পড়ে না।
তা ছাড়া, ফকিহদের ওপর রাজন্যবর্গের নির্ভরশীলতার কারণে রাষ্ট্রপ্রধানরা এই মানুষগুলোকে রাজদরবারের কাছাকাছি রাখতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এটি হতে পারে রাজপরিষদের ব্যাপারে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ফল। খলিফা উমর বিন আবদুল আযীয বা দ্বিতীয় উমরের (৭১৭-৭২০) কথা বাদ দিলে উমাইয়্যা খিলাফত থেকে শুরু করে মুসলিমদের মাঝে একটি উপলব্ধি প্রবল হতে থাকে যে, তাদের খলিফারা এখন আর ধর্মীয়ভাবে নিষ্ঠাবান, আসমানি মদদপুষ্ট বা মর্যাদাবান আল্লাহওয়ালা মানুষ নন। খিলাফত আগে যেমন ব্যক্তিগত ধর্মানুরাগ ও রাজনৈতিক গুণাবলিতে পূর্ণ ব্যক্তিদের একটি ধারা ছিল, রাজবংশীয় খিলাফত হয়তো তেমনটি নেই। এর বদলে আদর্শিক আনুগত্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানটি (Lapidus, 2002)। রাষ্ট্রপ্রধান বা সামরিক নেতা হিসেবে তাদের সাহস বা নির্ভীকতার কোনো অভাব নেই। কিন্তু ফকিহ হিসেবে তাদের উল্লেখযোগ্য কীর্তি আর চোখে পড়েনি। চারটি কারণ এর পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে: (ক) ইসলামি সীমান্ত সম্প্রসারণ, (খ) রাষ্ট্রের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি, (গ) সময় পরিক্রমা, এবং (ঘ) ক্রমবর্ধমান জটিলতা।
➡ প্রথমত, উমাইয়্যা ও আব্বাসি আমলে রাষ্ট্রীয় সীমার বিপুল পরিমাণ সম্প্রসারণ ও সামরিক সংঘর্ষের প্রাবল্য নিশ্চয়ই খলিফাদের মনোযোগকে ব্যস্ত রেখেছিল। যার ফলে তারা শরীয়তের জটিলতা নিয়ে অধ্যয়নের অবকাশ পাননি।
➡ দ্বিতীয়ত, ইসলামি রাষ্ট্রের মধ্যকার ভেদাভেদ নেতৃবর্গকে রাজনৈতিক ব্যাপারসমূহে খুব বেশি ব্যস্ত করে রেখেছিল। যার ফলে তারা ফিকহকে সেই ময়দানের বিশেষজ্ঞদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এসব বিভেদের প্রথমটি সংঘটিত হয় সর্বশেষ খলিফায়ে রাশিদ আলি এবং আমীরে মুআবিয়া-এর মাঝে। তারপর উমাইয়্যা-আব্বাসি দ্বন্দ্বে তা আরও প্রকট হয়।
➡ তৃতীয়ত, নবি ﷺ-এর জীবদ্দশার সাথে খলিফাগণের যুগপার্থক্য ক্রমেই বাড়তে থাকার ফলে সাহাবিগণের সংখ্যা কমতে থাকে, যারা ছিলেন খলিফা হওয়ার যোগ্যতম প্রার্থী।
➡ চতুর্থত, জীবন ও রাষ্ট্রীয় কর্মের জটিলতা ক্রমেই বাড়তে থাকে, বিশেষত খুলাফায়ে রাশিদীনের পরবর্তী যুগে। এর ফলে আলাদা শরীয়ত-বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা প্রকটভাবে দেখা দেয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তায় ফিকহশাস্ত্র বিশেষভাবে বিকশিত হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীয়তের মধ্যে তৈরি হয় একাধিক ফিকহশাস্ত্রীয় চিন্তাধারা বা মাযহাব। অর্থনৈতিক বিষয়াদিতেও এর প্রভাব পড়ে।
ইসলামি অর্থনীতির ওপর বিশেষায়িত লেখালেখির প্রথম তরঙ্গটি তাই ইসলামি রাষ্ট্রের বুননে বিবিধ অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন দিয়ে ঘেরা। এ ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তার উদ্ভব ঘটানো ও সেগুলোর মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার ব্যাপারে এসব পরিবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বুঝতে হলে এ পরিবর্তনগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা হওয়াই উচিত। বক্ষ্যমান যুগটির অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনসমূহের ওপর বিশেষ আলোকপাত সহকারে এ আলোচনাটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 পুঁজিবৃত্তিক বিকাশ

📄 পুঁজিবৃত্তিক বিকাশ


আলোচ্য যুগে ইসলামি অর্থনীতি সংক্রান্ত লেখালেখিকে ঘিরে যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটে, তার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো ধর্মীয়-রাজনৈতিক দর্শনের প্রসার, গ্রিক দর্শনের সমালোচনা, ইসলামি ফিকহি দর্শনের বিকাশ, এবং আধ্যাত্মিকতাবাদের একটি সুসংগত ঘরানার প্রতিষ্ঠা। নিম্নে এগুলোর ওপর আলোকপাত করা হলো।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইসলামি ধর্মীয়-রাজনৈতিক দর্শন

📄 ইসলামি ধর্মীয়-রাজনৈতিক দর্শন


ইসলামি ধর্মীয়-রাজনৈতিক দর্শন এত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে যে, অতি স্বল্প সময়ের মাঝে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈচিত্র্য ও বেশ জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কোনো দর্শন প্রবর্তিত হলেই সেটা থেকে আরেকটা মতের উদ্ভব ঘটে, সেটা আবার তৃতীয় আরেকটির জন্ম দেয়, সেখান থেকে চতুর্থটির জন্ম, ইত্যাদি। ইসলামি ধর্মীয় দর্শনের একাধিক ঘরানা আগে থেকেই ছিল, অনেকগুলোই ছিল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। কোনো কোনোটার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহ, গোত্রপ্রীতি এবং অগ্রহণযোগ্য ধর্মীয় চর্চার অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। যেমন অভিযোগ উঠেছিল কিছু শিয়া ইসমাঈলি উপদলের বিরুদ্ধে।
মজার ব্যাপার হলো, ওই যুগের মুসলিমদের ধর্মীয়-রাজনৈতিক চিন্তা আসন্ন বহু বছরের মুসলিম-চিন্তাকে আকৃতি দান করেছে। নবম শতাব্দীর শুরু থেকে একাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত ইসলামি ধর্মীয় দর্শনে গড়ে ওঠে প্রধান প্রধান গোষ্ঠী ও ধারণাগুলো হলো মুতাযিলা, আশআরিয়া, সুফিবাদ, বৈরাগ্যবাদ, আধ্যাত্মিকতাবাদ, জন্মান্তরবাদ, সর্বেশ্বরবাদ, ভ্রাতৃসংঘ, তাসবিহধারী, পীরপন্থা, শিয়া, ইসমাঈলীয়্যা, বাতিনিয়্যা, কারামাতিয়্যা, হাশাশিন, নুসাইরি, শিয়া দারাযি, পশ্চিম আনাতোলিয়ার তাখতাজি (কাঠুরে), পারস্য ও তুর্কিস্থানের আল-ইল্লাহি, পূর্ব আনাতোলিয়ার কিযিল-বাশ (লালচুলো), তুরস্ক ও আলবেনিয়ার বাখতাশি এবং ইয়েমেনের যাইদি (মাহমুদ, ১৯৮৬)।
মুসলিম আলিমগণ ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর নিন্দা করেছেন। যেমন, প্রখ্যাত আলিম গাযালি (১০৫৮-১১১১) এদের সমালোচনা করেন ও ভ্রান্ত পথের অনুসারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ইসলামি শব্দমালা ও পরিভাষার অর্থ পরিবর্তনকারীদের ধ্যানধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে তিরস্কার করেন গাযালি। তার মতে, কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানের শাস্ত্র হওয়ার বদলে তাদের আলোচ্য বিষয় হলো উদ্ভট আইনি মামলা, আকিদার অতিসূক্ষ্ম খুঁটিনাটি ও সেগুলো নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত তর্ক করা। ইলম তথা আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের ব্যাপারে জ্ঞান এখন হয়ে গেছে বিরোধী পক্ষের বাদীদের সাথে তর্ক করতে পারা মানুষদের শাস্ত্র। যারা এহেন তর্কাতর্কি করতে পারে না, তাদের বলা হয় দুর্বল। তাদেরকে আলিমদের কাতারে ঠাঁই দেওয়া হয় না। তাওহিদ মানে ছিল এই বিশ্বাস যে, সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে কোনো মধ্যবর্তী প্রতিনিধি ছাড়াই। এর বদলে তাওহিদ হয়ে গেছে বিতর্ক-পদ্ধতির জ্ঞান, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার। আল্লাহর স্মরণ বা যিকিরের মজলিসগুলো হয়ে গেছে বক্তৃতা আর কিচ্ছা-কাহিনি বলার আসর। কাব্যের ব্যবহার যেখানে মূলত ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করা নিষেধ ছিল, সেটা এখন হয়ে গেছে একেবারে লাগামছাড়া। ব্যক্তির প্রশংসা ও কুৎসা থেকে শুরু করে মদপানের আসরের বর্ণনা পর্যন্ত নানা বিষয়বস্তু এতে ঢুকে পড়েছে। জ্ঞানী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হাকিম শব্দটি দিয়ে এখন বোঝানো হয় ডাক্তার, জ্যোতিষী ও রাশিফল নির্ণয়কারীদের (গাযালি, ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন: ২/১৩২)।

টিকাঃ
[১] এখানে সেসব ফিরকার নিন্দা করা হচ্ছে যারা ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করার কারণে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের চিন্তাধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ফিকহি মাযহাব বা আলিমদের বৈধ ইখতিলাফ এর আওতাভুক্ত নয়। অর্থাৎ যেসব ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য দলিলের ভিত্তিতে হয়, এবং যেসব ক্ষেত্রে ইখতিলাফ করার অবকাশ থাকে, সেগুলোর ব্যাপারে নিন্দা করার সুযোগ নেই। - সম্পাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 গ্রিক দর্শনের সমালোচনা

📄 গ্রিক দর্শনের সমালোচনা


গ্রিক দর্শনের প্রতি মুসলিমদের আগ্রহের জন্মটা হয় আব্বাসি খলিফা মামুনের শাসনামলে (৮১৩-৮৩৩)। ইবনু খালদুন আমাদের বলেন যে, মামুনের নিজেরও জ্ঞানশাস্ত্রে আগ্রহ ছিল। তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাটদের কাছে প্রতিনিধি পাঠান গ্রিক জ্ঞানশাস্ত্র সম্পর্কে জানার জন্য এবং সেগুলোর আরবি অনুলিপি প্রস্তুত করার জন্য। এ উদ্দেশ্যে অনুবাদক প্রেরণ করেন তিনি (ইবনু খালদুন)।
একই উৎস থেকে আমরা জানতে পারি, "এর ফলে বেশ ভালো পরিমাণে গ্রিক বইপুস্তক সংরক্ষিত ও সংগৃহীত হয়", (প্রাগুক্ত)। মামুনের প্রচেষ্টার আগে মুসলিম খলিফাগণ শুধু গণিতশাস্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিলেন। মামুনের প্রপিতামহ খলিফা জাফর মানসুর বাইজেন্টাই সম্রাটের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন তাকে গণিতশাস্ত্রের লেখালেখির অনুবাদ পাঠানোর জন্য (প্রাগুক্ত)। বাইজেন্টাইন সম্রাট সাড়া প্রদান করে তার কাছে ইউক্লিডের বই প্রেরণ করেন।
গ্রিক জ্ঞানশাস্ত্রে মুসলিম চিন্তাবিদগণের বিশেষ আগ্রহ গড়ে ওঠে এবং এতে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেন তারা। কেউ কেউ গ্রিক দার্শনিকদের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামি সংস্করণের কিছু দার্শনিক কাজ গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন। যেমন প্লেটোর রিপাবলিকের সমান্তরালে রচিত হয়েছে আল-ফারাবির আরাউ আহলিল মাদিনা। অন্যেরা আবার গ্রিক চিন্তাধারার সমালোচনা করেন এবং অ্যারিস্টটলের সাথে অনেক বিষয়ে দ্বিমত করেন। কেউ কেউ তাদের পূর্বসূরিদের ছাড়িয়েও যান বুদ্ধিশাস্ত্রে (প্রাগুক্ত)। ফলাফল হিসেবে গ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্র কিছু মাত্রায় ইসলামে ঢুকে পড়ে। এটি এমন অনেক লোককে প্ররোচিত করে ফেলে, যারা সেসকল শাস্ত্র অধ্যয়নে উদগ্রীব ছিল। সেসব শাস্ত্রের মতগুলো গ্রহণও করে নেয় তারা (প্রাগুক্ত)। তাই দর্শন ও রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে লেখালেখি যে যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডকে রীতিমতো দখল করে রেখেছিল, সে-সময় ইসলামি অর্থনীতির ওপর লেখা খুব কমই ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00