📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অন্যান্য কর

📄 অন্যান্য কর


উশ্বর বা শুল্ক মাশুল প্রথমবারের মতো আরোপিত হয় দ্বিতীয় খলিফা উমর এ-এর আমলে। প্রথম প্রথম তা প্রবর্তিত হয়েছিল ইসলামি রাষ্ট্রের প্রজাদের প্রতি বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর আচরণের পাল্টা জবাব হিসেবে। কিন্তু পরবর্তীকালে তা মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে যে কারও হাতে সীমান্ত পার হওয়া পণ্যের জন্য এই কর প্রযুক্ত হয়। উমাইয়্যা ও আব্বাসি যুগেও বহাল থাকে এই কর।

আব্বাসি শাসনামলে নতুন কিছু কর প্রবর্তিত হয়। এগুলো প্রধানত (আর-রাইয়্যিস, ১৯৭৭):
১. বাজার কর, যা প্রথম প্রবর্তিত হয় ৭৮৪ সালে খলিফা আল-মাহদির শাসনামলে (৭৭৫-৮৫)। বাজারের সকল দোকানের ওপর আরোপ করা হয় এটি। করের হার ৩৩ শতাংশ পর্যন্তও উঠে গিয়েছিল, যার ফলে মিশরে দুই বছরব্যাপী স্থায়ী একটি বিদ্রোহও সংঘটিত হয়।
২. ভূসম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার ওপর মাশুল প্রযুক্ত হয় ২ শতাংশ পর্যন্ত।
৩. উত্তরাধিকার করের হার এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হয়। এর কর সম্ভবত একদম ১২৫২ সালের দিকে এসে সর্বশেষ আব্বাসি খলিফা আল-মুতাসিমের আমলে প্রবর্তিত হয়েছে।
৪. মৎস্য কর আরোপিত হয় মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্যের ওপর। যেসব জেলে কোনোভাবে অন্যান্য করের আওতা থেকে বেঁচে যেত, তাদের ওপরই এটি আরোপ করা হতো বলে বোঝা যায়। এখান থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ব্যয় করা হয় বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে।

ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকে শুরু করে অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসলামি সমাজের বিকাশ পর্যবেক্ষণ, কুরআন ও সুন্নাহতে ইসলামি অর্থনীতির শিক্ষা নিরীক্ষণ, খুলাফায়ে রাশিদীনের ইসলামি অর্থনৈতিক চিন্তার পর্যালোচনা এবং উমাইয়্যা খিলাফতের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাতের পর এখন আমরা ইসলামি অর্থনীতির ওপর প্রথম বিশেষায়িত গবেষণাকর্ম নিয়ে আলোচনা করার মতো অবস্থায় উপনীত হয়েছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00