📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা


উমাইয়্যা শাসনামলে ইসলামি ভূখণ্ডের সম্প্রসারণ তিনটি প্রধান দিকে ঘটতে থাকে—উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব। উত্তরের যুদ্ধক্ষেত্রে ইসলামি নৌবহরের বিকাশের ফলে রাষ্ট্র ভূমধ্যসাগরে বাইজেন্টাইনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হয়ে ওঠে。

সাগরের দিক থেকে বাইজেন্টাইন রাজধানী কন্সটান্টিনোপলকে অবরুদ্ধ করে রাখার সক্ষমতাও অর্জিত হয় এতে। রাজধানীটি ৬৬১ থেকে ৭১৪ সাল পর্যন্ত তিনবার অবরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি একবারও আত্মসমর্পণ করেনি। অবশেষে বাইজেন্টাইন রাজধানী দখল এবং কন্সটান্টিনোপলের শাসককে উৎখাত করা হয়, ১৪৫৩ সালে দ্বিতীয় মুহাম্মাদ “ফাতিহ” (বিজেতা)-এর নেতৃত্বে তুর্কিদের হাতে।

যা-ই হোক, উমাইয়্যা শাসনাধীনে মুসলিম সেনাবাহিনী কিছু কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ নিজেদের দখলে আনতে সফল হয়—সাইপ্রাস, রোডস এবং ক্রিট। এর ফলে ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যপথ আংশিকভাবে ইসলামি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে (Hitti, 1963)। উত্তরের চেয়ে পশ্চিম দিকে মুসলিমরা আরও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য লাভ করে। ৬৮২ সালের মাঝে উত্তর আফ্রিকায় বাইজেন্টাইনরা পরাজিত হয় এবং ইসলামি সেনাবাহিনী উত্তর আফ্রিকার উপকূলে ঢুকে পড়ে আটলান্টিক পর্যন্ত। তবে এখানকার অধিবাসী বার্বার জাতির একটি বিদ্রোহের কারণে কিছু বছরের জন্য উত্তর আফ্রিকা উমাইয়্যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৭০৫ সালের মধ্যে উত্তর আফ্রিকান উপকূল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে পুনরুদ্ধার হয় এবং অঞ্চলটির ওপর স্থায়ীভাবে কর্তৃত্ব লাভ করে উমাইয়্যাগণ (প্রাগুক্ত)।

উত্তর আফ্রিকার নিয়ন্ত্রণ এবং ইসলামি সেনাদলে বার্বারদের সফল সংযোজনের সাহায্যে ইসলামি শাসন স্পেনের ইবেরিয়ান উপদ্বীপ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। মুসলিম অভিযান ৭১১ সালে ভূমধ্যসাগরীয় প্রণালি অতিক্রম করে উপদ্বীপে ঢুকে পড়ে। আরও শক্তিবৃদ্ধির পর বার্বার আরব সেনাদলের হাতে পতন ঘটে ভিসিগথিক সাম্রাজ্যের (Hassan, 1959)। কিন্তু টুরস ও পয়টিয়ার্সের মাঝে ৭৩২ সালে মুসলিম সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দেন কার্ল মার্টেল। পূর্বদিকে উমাইয়্যা খলিফাগণ তাদের সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখেন। ইরাকের বিদ্রোহকে সফলভাবে দমন করার পর তারা পূর্বদিকে দুটি সেনাদল প্রেরণ করেন: একটি খুরাসান থেকে অগ্রসর হয় সিন্ধু উপত্যকার দিকে। অপরটি যায় খুরাসানের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে, মাওয়ারাউল্লাহর বা ট্রান্সঅক্সিয়ানার দেশগুলোতে। ইসলামি জয়যাত্রা ৭১৩ সালের মাঝে সিন্ধুর নিম্ন উপত্যকা ও বদ্বীপে পৌঁছে যায়। দখল করে উত্তরে মুলতান, লাহোর ও কাঙ্গারা, এবং ভারত মহাসাগরের আদ-দাইবুল। ট্রান্সঅক্সিয়ানার যুদ্ধক্ষেত্রে বালখের পতন হয় ৭০৫ সালে, বুখারা বিজিত হয় ৭০৯-এ, এবং সমরকন্দ, খাওয়ারিজম ও ফারগানাকে আরব শাসনাধীনে আনা হয় ৭১৫-তে। আব্বাসিদের অধীনে ৭৫১ সালে তাসখন্দ পদানত করার পর মুসলিমরা তাদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে মধ্য এশিয়ায় (প্রাগুক্ত)। রাজনৈতিক বাধা সরে যাওয়ায় এবং বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ও বিকাশ নিশ্চিত হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে সুবিধা আসে। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে তৈরি হয় ব্যবসায়িক যোগাযোগ। একটু পরেই এর আলোচনা আসবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00