📄 সরকারের সাধারণ কার্যাবলি
আল্লাহর প্রশংসার পর খলিফা আলি সরকারের সাধারণ কার্যাবলি হিসেবে উল্লেখ করেন "জনগণের কল্যাণ সাধন এবং নগরসমূহকে সমৃদ্ধিশালী করে তোলা"। এটি করার সাধারণ পদ্ধতি হলো আল্লাহর দেওয়া আবশ্যক বিধানগুলো পালন, ধর্ম ও সম্প্রদায়-নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষা, দরিদ্র ও অভাবীদের যত্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িতদের প্রতি সাহায্যপ্রদান, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, এবং জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ।
তাঁর সাধারণ নির্দেশমালায় চারটি প্রধান বিষয় ছিল—নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, শান্তি ও নিরাপত্তা, এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। খলিফা আলির চোখে, উম্মতের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য চারটি বিষয়কে সমন্বিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহর প্রশংসার পর খলিফা আলি সরকারের সাধারণ কার্যাবলি হিসেবে উল্লেখ করেন "জনগণের কল্যাণ সাধন এবং নগরসমূহকে সমৃদ্ধিশালী করে তোলা"। এটি করার সাধারণ পদ্ধতি হলো আল্লাহর দেওয়া আবশ্যক বিধানগুলো পালন, ধর্ম ও সম্প্রদায়-নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষা, দরিদ্র ও অভাবীদের যত্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িতদের প্রতি সাহায্যপ্রদান, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, এবং জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ।
তাঁর সাধারণ নির্দেশমালায় চারটি প্রধান বিষয় ছিল—নৈতিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, শান্তি ও নিরাপত্তা, এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। খলিফা আলির চোখে, উম্মতের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য চারটি বিষয়কে সমন্বিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
📄 সমাজ-কাঠামো
শাসকের সাধারণ লক্ষ্য উল্লেখ করার পর খলিফা আলি আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সমাজকে তিনি সাতটি ভাগে বিভক্ত করেন: সেনাবাহিনী, বিচারক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, এবং দরিদ্র-মিসকিন-কপর্দকহীন-প্রতিবন্ধী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি বিভাগই একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল।
সেনাবাহিনী ও প্রজাগণ
“সেনাবাহিনী হলো প্রজাগণের দূর্গ এবং শান্তির মাধ্যম। এটি ছাড়া প্রজাদের অস্তিত্ব থাকবে না, আবার প্রজাদের দেওয়া রাজত্বে আল্লাহর নির্ধারিত অংশ ছাড়া সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে না।”
বিচারক ও নির্বাহী কর্মকর্তাগণ
“(উপযুক্ত) এই দুই শ্রেণি আবার বিচারক, নির্বাহী এবং সচিবদের ছাড়া টিকে থাকবে না, যারা বিভিন্ন চুক্তির ব্যাপারে রায় দেবেন, রাজস্ব সংগ্রহ করবেন এবং বিশেষ ও সাধারণ বিষয়াদিতে নির্ভরতার জায়গা হিসেবে কাজ করবেন।”
ব্যবসা ও শিল্প
“(উপর্যুক্ত) এই শ্রেণিগুলো বণিক ও শিল্পপতিদের ছাড়া টিকতে পারবে না, যারা তাদের দরকারি সরঞ্জামাদি সরবরাহ করবেন, বাজার প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং অন্য সবাইকে এসকল কাজ নিজ হাতে করার দায়িত্ব থেকে রেহাই দেবেন।”
দরিদ্র ও অভাবী
"সমাজের নিম্নতম অর্থনৈতিক শ্রেণি হলো অভাবী ও মিসকিন, যাদের প্রতি সহযোগিতা ও সাহায্য প্রদান করা আল্লাহ-প্রদত্ত একটি আবশ্যক দায়িত্ব।”
সমাজের সাধারণ কাঠামো এবং এর সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করার পর চতুর্থ খলিফা প্রতিটি বিভাগ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা অব্যাহত রাখেন।
কৃষি
কৃষিখাতের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য বিভাগের সমৃদ্ধির ওপর এর সমৃদ্ধি নির্ভর করবে। প্রশাসকের অবশ্যই "ভূমিকর আদায়ের চেয়ে ভূমির চাষাবাদের ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ চাষাবাদ ছাড়া রাজস্ব উৎপাদন করা সম্ভব নয়। আর যে চাষাবাদের দেখাশোনা না করে রাজস্ব দাবি করে বসে, সে এই খাতকে ধ্বংস করে দেয় এবং জনগণের মৃত্যু ডেকে আনে." কৃষকদের চাহিদা পূরণ ও তাদের দুর্দশা দূরীকরণ হলো "তাদের প্রতি করা এক ধরনের বিনিয়োগ... তাদের প্রতি প্রদত্ত ন্যায়বিচারের কারণে (এটি) তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসে।"
ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি
সমাজ ও এর উন্নয়নের জন্য এগুলো সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ "তারা মুনাফার উৎস এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবাহের মাধ্যম। ভূমি ও সাগর, সমতল ও পাহাড়ের দূর-দূরান্তের যেসব অঞ্চলে মানুষ আসতে পারে না এবং সেখানে যাওয়ার সাহস করে না, সেখান থেকে তারা এসব সরঞ্জাম নিয়ে আসেন।” ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো পেশাদারি পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করা। আলি ও বলেন, "তাদের সুপরামর্শ দিন, হোক তারা থিতু (দোকানদার), বণিক বা কারিগর।” কিন্তু ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা একচেটিয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে, যা উম্মতের জন্য ক্ষতিকর, “তারা মুনাফার জন্য পণ্য মজুদ করে এবং পণ্যের উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে, যা জনগণের ক্ষতির উৎস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর অন্যায়ের কালিমা।” এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, "তাদের মজুদ করা থেকে বিরত করুন, কারণ নবি এ কাজ নিষিদ্ধ করেছেন।” কিন্তু অপরাধের শাস্তি যেন খুব বেশি মারাত্মক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন, “নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যে মজুদ করেছে, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন, তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়." বাজার পরিস্থিতির ব্যাপারে বলেন, "বিক্রয় হতে হবে সঠিক ওজন ও মূল্যে, বিক্রেতা বা ক্রেতা কোনো পক্ষের ক্ষতি করে নয়।” মোটকথা, এটি সরকারি নজরদারির অধীনে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা।
শাসকের সাধারণ লক্ষ্য উল্লেখ করার পর খলিফা আলি আরও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সমাজকে তিনি সাতটি ভাগে বিভক্ত করেন: সেনাবাহিনী, বিচারক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, এবং দরিদ্র-মিসকিন-কপর্দকহীন-প্রতিবন্ধী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি বিভাগই একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল।
সেনাবাহিনী ও প্রজাগণ
“সেনাবাহিনী হলো প্রজাগণের দূর্গ এবং শান্তির মাধ্যম। এটি ছাড়া প্রজাদের অস্তিত্ব থাকবে না, আবার প্রজাদের দেওয়া রাজত্বে আল্লাহর নির্ধারিত অংশ ছাড়া সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে না।”
বিচারক ও নির্বাহী কর্মকর্তাগণ
“(উপযুক্ত) এই দুই শ্রেণি আবার বিচারক, নির্বাহী এবং সচিবদের ছাড়া টিকে থাকবে না, যারা বিভিন্ন চুক্তির ব্যাপারে রায় দেবেন, রাজস্ব সংগ্রহ করবেন এবং বিশেষ ও সাধারণ বিষয়াদিতে নির্ভরতার জায়গা হিসেবে কাজ করবেন।”
ব্যবসা ও শিল্প
“(উপর্যুক্ত) এই শ্রেণিগুলো বণিক ও শিল্পপতিদের ছাড়া টিকতে পারবে না, যারা তাদের দরকারি সরঞ্জামাদি সরবরাহ করবেন, বাজার প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং অন্য সবাইকে এসকল কাজ নিজ হাতে করার দায়িত্ব থেকে রেহাই দেবেন।”
দরিদ্র ও অভাবী
"সমাজের নিম্নতম অর্থনৈতিক শ্রেণি হলো অভাবী ও মিসকিন, যাদের প্রতি সহযোগিতা ও সাহায্য প্রদান করা আল্লাহ-প্রদত্ত একটি আবশ্যক দায়িত্ব।”
সমাজের সাধারণ কাঠামো এবং এর সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করার পর চতুর্থ খলিফা প্রতিটি বিভাগ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা অব্যাহত রাখেন।
কৃষি
কৃষিখাতের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য বিভাগের সমৃদ্ধির ওপর এর সমৃদ্ধি নির্ভর করবে। প্রশাসকের অবশ্যই "ভূমিকর আদায়ের চেয়ে ভূমির চাষাবাদের ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ চাষাবাদ ছাড়া রাজস্ব উৎপাদন করা সম্ভব নয়। আর যে চাষাবাদের দেখাশোনা না করে রাজস্ব দাবি করে বসে, সে এই খাতকে ধ্বংস করে দেয় এবং জনগণের মৃত্যু ডেকে আনে." কৃষকদের চাহিদা পূরণ ও তাদের দুর্দশা দূরীকরণ হলো "তাদের প্রতি করা এক ধরনের বিনিয়োগ... তাদের প্রতি প্রদত্ত ন্যায়বিচারের কারণে (এটি) তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসে।"
ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি
সমাজ ও এর উন্নয়নের জন্য এগুলো সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ "তারা মুনাফার উৎস এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবাহের মাধ্যম। ভূমি ও সাগর, সমতল ও পাহাড়ের দূর-দূরান্তের যেসব অঞ্চলে মানুষ আসতে পারে না এবং সেখানে যাওয়ার সাহস করে না, সেখান থেকে তারা এসব সরঞ্জাম নিয়ে আসেন।” ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো পেশাদারি পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করা। আলি ও বলেন, "তাদের সুপরামর্শ দিন, হোক তারা থিতু (দোকানদার), বণিক বা কারিগর।” কিন্তু ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা একচেটিয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে, যা উম্মতের জন্য ক্ষতিকর, “তারা মুনাফার জন্য পণ্য মজুদ করে এবং পণ্যের উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে, যা জনগণের ক্ষতির উৎস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর অন্যায়ের কালিমা।” এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, "তাদের মজুদ করা থেকে বিরত করুন, কারণ নবি এ কাজ নিষিদ্ধ করেছেন।” কিন্তু অপরাধের শাস্তি যেন খুব বেশি মারাত্মক না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন, “নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যে মজুদ করেছে, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন, তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়." বাজার পরিস্থিতির ব্যাপারে বলেন, "বিক্রয় হতে হবে সঠিক ওজন ও মূল্যে, বিক্রেতা বা ক্রেতা কোনো পক্ষের ক্ষতি করে নয়।” মোটকথা, এটি সরকারি নজরদারির অধীনে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা।
📄 জনপ্রশাসন বিভাগ
খলিফার দৃষ্টিতে এই বিভাগের মধ্যে রয়েছেন বিচারক, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর সমষ্টি। তার দৃষ্টিতে তারা হলেন, "সন্দেহজনক বিষয়ে (ভাবনাচিন্তার জন্য) থেমে যেতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত, মতামত শোনার ব্যাপারে যারা সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল, মামলাকারীদের কলহে সবচেয়ে কম বিরক্ত, কোনো বিষয় সামলে নিতে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল এবং রায় দেওয়ার সময় সবচেয়ে নির্ভীক”। তাদের মধ্য থেকেই বিচারক নির্বাচন করতে হবে। তাদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা তাদের ওপর কোনো অধিকার খাটাতে পারবেন না। নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে নিয়োগ দেওয়ার আগে পরীক্ষা করতে হবে। অবিচার ও অন্যায় প্রতিরোধের স্বার্থে পক্ষপাতিত্ব কিংবা স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না তাদের। এ ছাড়াও তাদের উদারহস্তে প্রতিদান দেওয়া হবে, যেন "দায়িত্বে থাকা তহবিলের ওপর তাদের কুনজর না পড়ে।” কিন্তু তারা নিজেরাও রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকদের তত্ত্বাবধানে চলবেন। কারণ এর ফলে আস্থা ও যোগ্যতা রক্ষার উদ্দীপনা বোধ করবেন তারা। কর্মচারী কাঠামোর গুরুত্ব হলো এতে সরকারি যোগাযোগকে মসৃণ ও গতিশীল করা হয়।
সচিব পদের কর্মীদের সতর্কতা সহকারে বাছাই করতে হবে। কারণ তাদের হাতে এমনসব সরকারি নথির দায়িত্ব থাকে, যাতে আছে নীতিমালা ও গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য। এই কর্মী সদস্যদের বাছাইপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব যোগ্যতা দিয়ে করলেই হবে না। বরং তাদের পরীক্ষা নিতে হবে এবং পূর্বেকার কর্মস্থলের সুপারিশকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের কর্মের সাংগঠনিকতা রক্ষায় কাঠামোটিকে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করতে হবে। প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে প্রধান কর্মকর্তা। পরিশেষে, এই কাঠামোর কাজকর্মকে খুবই যত্নের চোখে দেখতে হবে। কারণ সচিবদের কোনো ত্রুটি অগ্রাহ্য করে গেলে সরকারই দায়ী থাকবে সেটার জন্য।
খলিফার দৃষ্টিতে এই বিভাগের মধ্যে রয়েছেন বিচারক, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর সমষ্টি। তার দৃষ্টিতে তারা হলেন, "সন্দেহজনক বিষয়ে (ভাবনাচিন্তার জন্য) থেমে যেতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত, মতামত শোনার ব্যাপারে যারা সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল, মামলাকারীদের কলহে সবচেয়ে কম বিরক্ত, কোনো বিষয় সামলে নিতে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল এবং রায় দেওয়ার সময় সবচেয়ে নির্ভীক”। তাদের মধ্য থেকেই বিচারক নির্বাচন করতে হবে। তাদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা তাদের ওপর কোনো অধিকার খাটাতে পারবেন না। নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে নিয়োগ দেওয়ার আগে পরীক্ষা করতে হবে। অবিচার ও অন্যায় প্রতিরোধের স্বার্থে পক্ষপাতিত্ব কিংবা স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না তাদের। এ ছাড়াও তাদের উদারহস্তে প্রতিদান দেওয়া হবে, যেন "দায়িত্বে থাকা তহবিলের ওপর তাদের কুনজর না পড়ে।” কিন্তু তারা নিজেরাও রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকদের তত্ত্বাবধানে চলবেন। কারণ এর ফলে আস্থা ও যোগ্যতা রক্ষার উদ্দীপনা বোধ করবেন তারা। কর্মচারী কাঠামোর গুরুত্ব হলো এতে সরকারি যোগাযোগকে মসৃণ ও গতিশীল করা হয়।
সচিব পদের কর্মীদের সতর্কতা সহকারে বাছাই করতে হবে। কারণ তাদের হাতে এমনসব সরকারি নথির দায়িত্ব থাকে, যাতে আছে নীতিমালা ও গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য। এই কর্মী সদস্যদের বাছাইপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব যোগ্যতা দিয়ে করলেই হবে না। বরং তাদের পরীক্ষা নিতে হবে এবং পূর্বেকার কর্মস্থলের সুপারিশকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের কর্মের সাংগঠনিকতা রক্ষায় কাঠামোটিকে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করতে হবে। প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে প্রধান কর্মকর্তা। পরিশেষে, এই কাঠামোর কাজকর্মকে খুবই যত্নের চোখে দেখতে হবে। কারণ সচিবদের কোনো ত্রুটি অগ্রাহ্য করে গেলে সরকারই দায়ী থাকবে সেটার জন্য।
📄 সমাজের সমৃদ্ধি
এই ব্যাপারটি চতুর্থ খলিফার দৃষ্টিতে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: নৈতিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায়ানুগ বণ্টন। ইসলামি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ এই উম্মতের সমৃদ্ধিতে অপরিহার্য। এতে করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অপব্যবহার প্রতিহত করা যাবে এবং সুস্থ সামাজিক কাঠামো রক্ষা করা যাবে। সমাজে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্ব এবং সেসব বিভাগের মাঝে অর্থনৈতিক সমন্বয় অর্জন করাটা যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন。
চতুর্থ খলিফা সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন পরস্পর-সম্পর্কিত বিভাগে বিভক্ত হিসেবে বিবেচনা করতেন। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এই প্রতিটি বিভাগই সরকারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এই শ্রেণিবিন্যাস দেখে প্লেটোর রিপাবলিক-এ বর্ণিত শ্রেণিবিন্যাসের কথা মনে পড়ে যায়, যদিও চতুর্থ খলিফার আমলে তখনো গ্রিক দর্শন আরবিতে অনূদিত হয়নি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিখাতের ভূমিকা খলিফা আলি-এর চিন্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা ফিজিওক্র্যাটিক চিন্তারা। উদ্ভবের বহু আগের ঘটনা। কিন্তু আবার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপরও জোরারোপ করা হয়। মার্কেন্টাইলিস্টিক চিন্তাকে এটির প্রতিরূপ মনে করা যেতেও পারে। সেনাবাহিনী-সহ সকল সেবাখাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নে। আর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্ববহ। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায়ানুগ বণ্টনও সর্বোচ্চ গুরুত্বের অধিকারী।
চতুর্থ খলিফা-সহ সাধারণভাবে কোনো খলিফার কাছেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু উৎপাদন-বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের মাঝে উৎপাদনের মূল্য বণ্টনও এর অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক অর্থনৈতিক পরিভাষায় বললে, জাতীয় উৎপাদের মূল্য তথা জাতীয় আয় বাড়ানোটাই তার একমাত্র চিন্তা ছিল না। সেই জাতীয় উৎপাদ সমাজের ব্যক্তিদের কাছে কিভাবে বণ্টিত হবে, সেটাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় আয়ের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন বোঝাতে তিনি একটি দারুণ ভাষা ব্যবহার করেন। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আয়ের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন মানে একজন ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধির কারণে আরেকজনের সম্পদ কমে না যাওয়া। এরকম ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের ধারণাটি পারেটোর কার্যকর বণ্টন ধারণার সাথে না মিললেও কাছাকাছি বটে।
নিঃসন্দেহে চতুর্থ খলিফা আলি -এর অর্থনৈতিক চিন্তা ছিল বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি এমনসব অর্থনৈতিক বিষয়ের মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক ধ্যানধারণার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যেগুলো পরবর্তীকালের অর্থনীতিবিদদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়।
ছয়শ একষট্টি সালে খলিফা আলির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সুপথপ্রাপ্ত খিলাফত তথা আল-খিলাফাতুর রাশিদার সমাপ্তি ঘটে। তাঁর জায়গায় আসে ইসলামি সরকারব্যবস্থার এক নতুন যুগ: রাজতন্ত্র। এর প্রথমটি হলো উমাইয়্যা রাজবংশ, যা নব্বই বছর যাবৎ স্থায়ী হয়。
টিকাঃ
[১] অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চিন্তাসমূহ। এই দর্শনের প্রধান মূলনীতি হলো প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক নিয়মের ভেতর সরকারের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত এবং ভূমিই সকল সম্পদের উৎস (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)। -অনুবাদক।
[২] মার্কেন্টাইলিজম একধরনের অর্থনৈতিক চর্চা, যেখানে সরকার নিজের অর্থনীতি ব্যবহার কবে অন্যান্য দেশকে দুর্বল করে দিয়ে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্দেশ্য থাকে আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করে স্বর্ণ-রৌপ্য আকারে সম্পদ জমা করা (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)। -অনুবাদক。
এই ব্যাপারটি চতুর্থ খলিফার দৃষ্টিতে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: নৈতিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায়ানুগ বণ্টন। ইসলামি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ এই উম্মতের সমৃদ্ধিতে অপরিহার্য। এতে করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অপব্যবহার প্রতিহত করা যাবে এবং সুস্থ সামাজিক কাঠামো রক্ষা করা যাবে। সমাজে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্ব এবং সেসব বিভাগের মাঝে অর্থনৈতিক সমন্বয় অর্জন করাটা যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন。
চতুর্থ খলিফা সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন পরস্পর-সম্পর্কিত বিভাগে বিভক্ত হিসেবে বিবেচনা করতেন। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এই প্রতিটি বিভাগই সরকারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এই শ্রেণিবিন্যাস দেখে প্লেটোর রিপাবলিক-এ বর্ণিত শ্রেণিবিন্যাসের কথা মনে পড়ে যায়, যদিও চতুর্থ খলিফার আমলে তখনো গ্রিক দর্শন আরবিতে অনূদিত হয়নি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিখাতের ভূমিকা খলিফা আলি-এর চিন্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা ফিজিওক্র্যাটিক চিন্তারা। উদ্ভবের বহু আগের ঘটনা। কিন্তু আবার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপরও জোরারোপ করা হয়। মার্কেন্টাইলিস্টিক চিন্তাকে এটির প্রতিরূপ মনে করা যেতেও পারে। সেনাবাহিনী-সহ সকল সেবাখাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নে। আর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্ববহ। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায়ানুগ বণ্টনও সর্বোচ্চ গুরুত্বের অধিকারী।
চতুর্থ খলিফা-সহ সাধারণভাবে কোনো খলিফার কাছেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু উৎপাদন-বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের মাঝে উৎপাদনের মূল্য বণ্টনও এর অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক অর্থনৈতিক পরিভাষায় বললে, জাতীয় উৎপাদের মূল্য তথা জাতীয় আয় বাড়ানোটাই তার একমাত্র চিন্তা ছিল না। সেই জাতীয় উৎপাদ সমাজের ব্যক্তিদের কাছে কিভাবে বণ্টিত হবে, সেটাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় আয়ের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন বোঝাতে তিনি একটি দারুণ ভাষা ব্যবহার করেন। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আয়ের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন মানে একজন ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধির কারণে আরেকজনের সম্পদ কমে না যাওয়া। এরকম ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের ধারণাটি পারেটোর কার্যকর বণ্টন ধারণার সাথে না মিললেও কাছাকাছি বটে।
নিঃসন্দেহে চতুর্থ খলিফা আলি -এর অর্থনৈতিক চিন্তা ছিল বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি এমনসব অর্থনৈতিক বিষয়ের মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক ধ্যানধারণার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যেগুলো পরবর্তীকালের অর্থনীতিবিদদের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়।
ছয়শ একষট্টি সালে খলিফা আলির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সুপথপ্রাপ্ত খিলাফত তথা আল-খিলাফাতুর রাশিদার সমাপ্তি ঘটে। তাঁর জায়গায় আসে ইসলামি সরকারব্যবস্থার এক নতুন যুগ: রাজতন্ত্র। এর প্রথমটি হলো উমাইয়্যা রাজবংশ, যা নব্বই বছর যাবৎ স্থায়ী হয়。
টিকাঃ
[১] অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চিন্তাসমূহ। এই দর্শনের প্রধান মূলনীতি হলো প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক নিয়মের ভেতর সরকারের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত এবং ভূমিই সকল সম্পদের উৎস (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)। -অনুবাদক।
[২] মার্কেন্টাইলিজম একধরনের অর্থনৈতিক চর্চা, যেখানে সরকার নিজের অর্থনীতি ব্যবহার কবে অন্যান্য দেশকে দুর্বল করে দিয়ে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্দেশ্য থাকে আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করে স্বর্ণ-রৌপ্য আকারে সম্পদ জমা করা (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)। -অনুবাদক。