📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অর্থনৈতিক উন্নয়ন

📄 অর্থনৈতিক উন্নয়ন


বিজিত ভূমির ব্যাপারে দ্বিতীয় খলিফার নীতিমালাকে যদি বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে প্রাথমিক যুগের ইসলামি রাষ্ট্রের দুটি প্রধান অর্থনৈতিক ব্যাপারে খলিফার সচেতনতার প্রমাণ মেলে—অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সম্পদ বণ্টন। সাধারণভাবে অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং বিশেষভাবে ভূমির উৎপাদনশীলতা উমর -এর অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়। বিজিত ভূমির ব্যাপারে তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা হলো উৎপাদনের একটি মাধ্যম হিসেবে ভূমির ব্যাপারে একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিভঙ্গি। উল্লিখিত উদাহরণে, বিজিত ভূমি সেগুলোর আদি মালিকদের হাতে রেখে দেওয়া হয়েছে, যারা এগুলো চাষাবাদে আরবদের তুলনায় বেশি অভ্যস্ত। তা ছাড়া ভূমিকর খারাজ আরোপের ক্ষেত্রে করের ভিত্তি হলো চাষযোগ্য ভূমি, সেটা চাষাবাদরত থাকুক বা না থাকুক। এর ফলে উৎপাদনের একটি মাধ্যম হিসেবে জমির উপযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে জমির কার্যকর ব্যবহারের ওপর দ্বিতীয় খলিফা যেমন জোরারোপ করেছেন, তা স্পষ্টতর হয়ে ওঠে পরবর্তী দুটি ঘটনায়:
➡ একটি হলো অনাবাদি ভূমির দাবি এবং
➡ অপরটি হলো এই পরিমাণ জমির মালিকানা, যা দেখাশোনা করার মতো সামর্থ্য মালিকের নেই।

অনাবাদি ভূমির ক্ষেত্রে উমর ইসলামি শিক্ষানুযায়ী নির্দেশ দেন, “মৃত ভূমিকে যে জীবিত করবে, সে তার মালিক হয়ে যাবে”। (ইমাম আবু ইউসুফ)। কোনো অনাবাদি ভূমির ওপর যদি কারও মালিকানার দাবি না থেকে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ভূমির আদি মালিক থেকে থাকলে বিবাদ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা এরপর আসে দ্বিতীয় ঘটনাটি: "পরিত্যক্ত ভূমি চাষাবাদের জন্য নেওয়ার পর গ্রহীতা যদি তিন বছর যাবত তা ব্যবহার না করে থাকে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এসে সেই পরিত্যক্ত অংশকে ব্যবহার করে, তাহলে সে বা তারা সেই অংশের মালিকানা দাবি করতে পারবে"-এই বলে সতর্ক করে দেন উমর , (আবু উবাইদ)। উমর এ এই আইনগুলোর প্রয়োগে এতই অটল ছিলেন যে, নবি-এর সাহাবি বিলাল ইবনুল হারিস -এর কিছু জমি তিনি বাজেয়াপ্ত করে নেন। এই জমিটি স্বয়ং নবিজি তাকে দিয়ে গিয়েছিলেন। বিলাল প্রতিবাদ করেন, “নবিজি আমাকে যা দিয়ে গেছেন, তা আপনি কী করে ছিনিয়ে নিতে পারেন?” খলিফা উমরের পাল্টা যুক্তি ছিল স্পষ্ট, “নবিজি আপনাকে জমিটা দিয়েছেন ব্যবহার করার জন্য, অন্যদের বঞ্চিত করার জন্য নয়। নিজে যতটুকুর দেখাশোনা করতে পারেন ততটুকু রাখুন এবং বাকিটুকু মুসলিমদের ফেরত দিয়ে দিন”। (আল-মাওয়ারদি)।

এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, দ্বিতীয় খলিফা উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদকে খুবই গুরুত্বের চোখে দেখতেন। এসব সম্পদ থেকে প্রাপ্ত উপকারিতার সর্বাধিককরণের চেষ্টা করে গেছেন তিনি। আধুনিক অর্থনৈতিক পরিভাষায় বললে, উৎপাদনের মাধ্যমের মালিকানার ব্যাপারে উমরের নীতিমালা পুঁজিবাদীও ছিল না, সমাজতান্ত্রিকও ছিল না। বরং সেগুলো ছিল ইসলামি অর্থনৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন। আগের অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, অপব্যবহার না করা সাপেক্ষে ব্যক্তিগত মালিকানা ইসলামে খুবই সম্মানীয়। অপব্যবহৃত হলে রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তাতে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সংশোধন করার। হাজার হোক, এই মালিকানা হলো তত্ত্বাবধায়ক বা আমানতদার হিসেবে মালিকানা। সবকিছুর মালিক আল্লাহ এবং প্রতিনিধি হিসেবে মালিকানাপ্রাপ্ত একজন মানুষের মাঝে সে চুক্তি হয়েছে। জাতীয়করণ তাই রাষ্ট্রের কোনো সর্বাত্মক নীতি ছিল না। কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বা অর্থনৈতিক সম্পদের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবেই কেবল গ্রহণ করা হতো এই ব্যবস্থা।

অর্থনৈতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারের ব্যাপারে দ্বিতীয় খলিফার সচেতনতা শুধু জমির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মানবসম্পদ ও পুঁজির ক্ষেত্রেও তার বিস্তৃতি।

আগেই বলা হয়েছে, ইসলামি অর্থনৈতিক শিক্ষায় শ্রমের স্থান অগ্রগণ্য (অধ্যায় দুই দ্রষ্টব্য)। শ্রমের ব্যাপারে খলিফা উমরের নীতিমালা সেই শিক্ষার বাস্তবায়ন। তিনি মানুষকে পেশা ধারণ করা, শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হওয়া, আলস্য ও মেকি ধার্মিকতা ত্যাগ করা, এবং আল্লাহর ওয়াস্তে কঠোর প্রচেষ্টা করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, "আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশের উদ্দেশ্যে কাজ করতে করতে যদি আমার মউত হয়, সেটা আল্লাহর রাহে যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হওয়ার থেকেও বেশি প্রিয়। (শাইবানি)।

তা ছাড়া উমর এ-এর কাছে শ্রম শুধু কর্মীর প্রতি রাষ্ট্রের আরোপিত দায়িত্বই ছিল না। বরং এটি ব্যক্তিমানুষের কাছে রাষ্ট্রের অধিকার। উমর তার ডেপুটিকে লক্ষ্য করে বলেছেন: মানুষদেরকে ক্ষুধা থেকে নিরাপদ রাখা, তাদেরকে খাদ্য এবং পোশাক সরবরাহ করা এবং তাদের জন্য (হালাল) পেশার বন্দোবস্ত করার জন্যেই আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, (গাযালি)। তা ছাড়া দ্বিতীয় খলিফা সেই সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগেই বেকারত্ব ও গণরোষের মাঝে সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। বেকারত্বের সাথে একদিকে যেমন বঞ্চনার সম্পর্ক রয়েছে, আরেকদিকে তেমনি সম্পর্ক রয়েছে গণরোষের।

ভূমি ও শ্রমের পাশাপাশি পুঁজিও উৎপাদনের একটি মাধ্যম হিসেবে দ্বিতীয় খলিফার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বার্থে যৌক্তিক উপায়ে ভোগ করার প্রতি জোরারোপ করেন উমর। নিজেদের উপার্জন পুরোটা ভোগ না করার নির্দেশনা দেন তিনি। বরং সেটাকে দুটি অংশে বিভক্ত করতে হবে— একাংশ ভোগের জন্যে এবং অপর অংশ বিনিয়োগের জন্যে (আল-বালাযুরি)।

আগের অধ্যায় থেকে আমরা স্মরণ করতে পারি যে, ইসলাম বস্তুগত চাহিদা পূরণ করার প্রচেষ্টাকে নিন্দা করে না, কিন্তু সেক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অনুসরণের নির্দেশনা অবশ্যই প্রদান করে। আরও স্মরণ করতে পারি ভোগকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্তকরণ। একদম মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে টিকে থাকা থেকে শুরু করে অপচয় পর্যন্ত সবই ছিল। সেগুলোর মাঝামাঝি হলো মধ্যমপন্থার অবস্থান। উমর আপাতদৃষ্টে মধ্যমপন্থি ভোগের স্তরকে এতই সংকীর্ণ করে এনেছিলেন যে, সেটি প্রায় প্রয়োজনের স্তরের কাছাকাছি চলে আসে। এর ওপরের খুব সহজেই এসে যায় অপচয়ের স্তর। সমাজের সদস্যদের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পুঁজির ক্ষেত্রেও সাহায্য করতেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে তিনি ফাঁকা পড়ে থাকা অকর্ষিত ভূমি তাদের মাঝে বণ্টন করে দেন, যারা একে ব্যবহার করতে সক্ষম। তাদেরকে এর মালিকানা দিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যাদের জমি চাষাবাদ করতে আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন, তাও দান করেন তিনি (আবু ইউসুফ)।

টিকাঃ
[১] আল-খারাজ: ৭৭। অনাবাদী ভূমির আবাদ করা ও তার মালিকানা সংক্রান্ত বিধান রাসুলুল্লাহ সা.-এর যুগ থেকে কার্যকর হয়ে আসছে। এই হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সা. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। প্রাগুক্ত; সুনানুত তিরমিজি: ১৩৭৯। -সম্পাদক
[১] সহীহ ইবনু খুযাইমা: ৪/৭৬।
[২] এই আলোচনায় লেখক ব্যাপকভাবে বলে গেছেন, জমির মালিক জমি ব্যবহার না করলে তার থেকে জমি নিয়ে নেওয়া হবে। এটি ভুল। ইসলামে জমির ওপর ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত। বরং সরকার থেকে আবাদ করার শর্তে জায়গীর নিয়ে তা ফেলে রাখলে তিন বছর পর ফেরত নিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে। - সম্পাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সম্পদ বণ্টন

📄 সম্পদ বণ্টন


অর্থনৈতিক কল্যাণের আরেকটি নিয়ামক সম্পদ বণ্টন। আমরা দেখতে পাই যে, এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল দুটি প্রধান মাধ্যম ব্যবহার করে। প্রথমটি যাকাতের বিধান প্রয়োগ, যা আগে থেকেই শরীয়ত দ্বারা বিধিবদ্ধ। দ্বিতীয়টি হলো খলিফা উমরের নিজের প্রবর্তিত একটি বৃত্তি ব্যবস্থা। যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় কুরআনে বর্ণিত নির্দিষ্ট খাতসমূহে ব্যয় হবে, যার প্রাপক 'দরিদ্র, মিসকিন, যাকাত সংগ্রাহক, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যেসব মুসলিম/কাফিরকে দেওয়া, দাসমুক্তকরণ, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তা এবং মুসাফির' (কুরআন, ৯: ৬০)। যাকাতের অর্থের সাথে আরও যুক্ত হয় খুমুস, তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ। কুরআনের বিধানমতে এটি 'আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং ইয়াতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য' (কুরআন, ৮: ৪১)।

যাকাত ও খুমুসের পরিচিতিমূলক চিহ্ন হলো এগুলো ধনীদের থেকে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে দিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সমাজে অর্থনৈতিক সম্পদের অপবণ্টন দূরীভূত হয়। তা ছাড়া সেসব অর্থ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টনের ক্ষেত্রে উমর রা. আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন: দরিদ্রদের শুধু মৌলিক চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে নয়, সম্ভব হলে তাদের ধনী বানিয়ে দেওয়ার জন্য দান করতে হবে, (আবু উবাইদ)। এক ঘটনায় খলিফা এক দরিদ্র ব্যক্তিকে তিনটি উট দিয়ে দেন। বলেন যে, প্রয়োজনে একজন ব্যক্তিকে একশটি উটও দেবেন তিনি (প্রাগুক্ত)। অর্থনৈতিক সম্পদের পুনর্বণ্টনে করের ভূমিকার ওপর বিশেষ জোরদান করা হয়।

সমাজে সম্পদ বণ্টনের দ্বিতীয় ব্যবস্থা ছিল ভাতা পদ্ধতি। এই ব্যবস্থা খলিফা উমরের আমলে বিশেষভাবে চর্চিত হয়। খলিফা খারাজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে সমর্থ হন। এগুলো থেকে মুসলিমদের দুই ধরনের সাহায্য দিতেন তিনি: আর্থিক সহায়তা এবং পণ্য বা সেবা সহায়তা। শিশু-সহ সকল মুসলিম এসকল বৃত্তির প্রাপক। শিশুদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভাতা বাড়তে থাকত। পণ্য বা সেবাভিত্তিক সহায়তা বণ্টনে উমর রা. একটি অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন: তিনি (ত্রিশজনের) একদল মানুষকে একত্র করে কয়েকদিন পর্যন্ত তাদের তৃপ্তি সহকারে আহার করাতেন। তারপর এই পরীক্ষার ফলাফল ব্যবহার করে নির্ধারণ করতেন প্রত্যেককে প্রতি মাসে কী পরিমাণ পণ্য বা সেবা ভাতা দেওয়া হবে, (আবু ইউসুফ)।

উমরের সকল আর্থিক সহায়তাকে অবশ্য সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যয়ের মধ্যে ফেলা যায় না। দ্বিতীয় খলিফা বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে তারতম্য করতেন। নবি -এর সাথে তাদের নৈকট্য এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে। লক্ষণীয় যে, উমর -এর আর্থিক বণ্টনের ধরন আবু বকরের থেকে আলাদা। আবু বকর ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনে কোনো পার্থক্য করতেন না। সবাইকেই দেওয়া হতো সমানভাবে। পক্ষান্তরে, ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে উমর দেখতেন প্রাপক কত আগে ইসলাম কবুল করেছে। নিজের এই অবস্থানের সমর্থনে উমর যুক্তি প্রদান করেন যে, নবিজির পাশে থেকে যুদ্ধকারী এবং নবিজির বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী মানুষদের তিনি সমান চোখে দেখেন না, (আবু উবাইদ)। আবু বকর -এর মতে, নতুন ধর্ম গ্রহণে অগ্রবর্তিতার ব্যাপারটি সম্পূর্ণই আল্লাহর হাতে এবং তিনিই এর জন্য পুরস্কার দেবেন। কিন্তু যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বণ্টন যেহেতু জাগতিক ব্যাপার, তাই এখানে প্রভেদের চেয়ে সাম্যই অধিক উত্তম। অতএব, দুই খলিফার দুই ভিন্নধর্মী পদ্ধতি: ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং প্রথম তিনজনের একজন আবু বকরের কাছে ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তিতা এ স্থানে কোনো মানদণ্ড নয়। অপরদিকে ছয় বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর ইসলাম কবুলকারী উমরের কাছে এ এক বিবেচ্য বিষয়।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 কর কাঠামো

📄 কর কাঠামো


উমরের শাসনামলে পাঁচ ধরনের করের অস্তিত্ব ছিল—খারাজ, উশর, যাকাত, জিযিয়া এবং খুমুস।

আগেই বলা হয়েছে যে, বিজিত ভূমি মুসলিম যোদ্ধাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার নিয়মটির বদলে উমর খারাজ করের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন। সাধারণ বিতর্কে উমরের প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়। এই করের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
➡ (১) এটি ভূমির ওপর আরোপিত, ব্যক্তির ওপর নয়। তার মানে ওই ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যার তফাতের ভিত্তিতে এই কর বাড়েও না, কমেও না। পক্ষান্তরে, জিযিয়া হলো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত কর।
➡ (২) এই করের ভিত্তি হলো চাষযোগ্য জমি। এর ফলে করদাতা জমির উৎপাদনশীলতার সর্বাধিককরণে উৎসাহ লাভ করে। কারণ চাষযোগ্য জমিতে চাষাবাদ না করলেও তা থেকে কর দেওয়াই লাগবে।
➡ (৩) করের হার ছিল আনুপাতিক হার। অবশ্য জমির উর্বরতা, উৎপাদনের বাজারমূল্য এবং সেচের কঠিনতার ভিত্তিতে এর তারতম্য হতো।
➡ (৪) এই কর বার্ষিক কর, যদিও কিস্তিতে পরিশোধ করা সম্ভব।
➡ (৫) এটি দ্রব্য বা অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ করা হতো।
➡ (৬) কর পরিশোধের দায়দায়িত্ব জমির দখলদারের ঘাড়ে, সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম।
➡ (৭) খারাজ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব যাকাতের সাথে মিশ্রিত করা যাবে না। কারণ যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় কুরআনে বর্ণিত খাতগুলোতেই ব্যয় করতে হবে। আর খারাজের অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্র।

ইতিহাসবিদদের মাঝে একটি আলোচনার উদ্ভব হয়েছে যে, খারাজ আর জিযিয়া একই জিনিস কি না। যেমন, হিট্টি বলেন, "জিযিয়া ও খারাজ নামক দুই প্রকার করের মাঝে পার্থক্য করা হয় উমাইয়্যা যুগের শেষ দিকে এসে” (Hitti, 1963)।

এই আলোচনার গুরুত্ব হলো খারাজ যদি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধিবদ্ধ জিযিয়াই হয়ে থাকে, তাহলে খলিফা উমর সেটাকে ইসলামি করব্যবস্থায় নতুন একটি খাজনা হিসেবে প্রবর্তিত করতে পারতেন না। এতটুকু অন্তত বলা যায় যে, বিজিত ভূমির বণ্টন সংক্রান্ত বিতর্কে উমর যেসব কথা বলেছেন, হিটি প্রমুখ সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেননি। খলিফা উমর বলেছেন, "আমি খারাজ আরোপ করছি তাদের জমির ওপর আর জিযিয়া আরোপ করছি ব্যক্তিদের ওপর” (আবু ইউসুফ, মাওয়ারদি, এবং আবু উবাইদ)। খারাজ ও জিযিয়া, এই দুই প্রকার করের মাঝে দ্বিতীয় খলিফা স্পষ্টতই পার্থক্য করেছেন। খারাজকে বিশেষভাবে জমির সাথে এবং জিযিয়াকে সম্পর্কিত করেছেন ব্যক্তির সাথে।

ওপরে যেমনটি উল্লেখ করা হলো, জমির মালিকানা থাকবে রাষ্ট্রের হাতে। রাষ্ট্র নিজের পক্ষ থেকে সেই জমির ব্যবহারের দায়িত্ব অর্পিত রাখে আগের মালিক বা রক্ষকের হাতে—তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে মালিকানার একটি রূপ। অতএব, খারাজ হলো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জমি ব্যবহার করার অধিকার হস্তান্তরিত করার বিনিময়ে জমিরক্ষকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রকে প্রদেয় একটি অর্থ। তার ওপর খারাজ আরোপ করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় খলিফা জমি পরিমাপ ও নথিভুক্ত করানোর আহ্বানও জানান।

ইমাম আবু ইউসুফ লিখেছেন যে, উমরের নির্দেশে, “উসমান ইবনু হানিফ জমিগুলো জরিপ করেন। তারপর আঙুরের জন্য প্রতি জারিবো দশ দিরহাম, আখের প্রতি জারিবে আট দিরহাম, গমের প্রতি জারিবে চার দিরহাম, এবং যবের প্রতি জারিবে দুই দিরহাম করে কর আরোপ করেন" (কিতাবুল খারাজ, ৪৯)।

জিযিয়াকে তাই খারাজ হিসেবে বিবেচনা করা যৌক্তিক হয় না। কারণ জিযিয়া হলো মাথাপিছু আরোপিত একটি নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ। পক্ষান্তরে খারাজ আরোপ করা হয় উৎপাদনের পরিমাপের এককের ভিত্তিতে। এর সমর্থনে আবু ইউসুফের উদ্ধৃতির বাকি অংশটি তুলে ধরা যায়, "...এবং বারো দিরহাম, চব্বিশ দিরহাম এবং আটচল্লিশ দিরহাম মাথাপিছু (সামর্থ্য অনুযায়ী)", (আবু ইউসুফ)। এ কথা মাথায় রেখে এবং ওপরে উল্লেখিত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন ছাড়াই বলা যায় যে, খারাজ আর জিযিয়ার পার্থক্যের ব্যাপারে উমরের জানা না থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ভূমিকর খারাজ প্রবর্তিত করার সময় এ দুটির মাঝে পার্থক্য করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিলই।

ইসলামি করব্যবস্থায় খলিফা উমর আরেকটি যে ট্যাক্স গ্রহণ করেন, তা হলো উশর বা শুল্ক মাশুল। উমরের একজন প্রশাসক আবু মূসা আশআরির পরামর্শে এই করের সূচনা হয়। মুসলিম ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পারাপারের সময় বিদেশী রাষ্ট্রসমূহকে যে কর প্রদান করত, তার পালটা কর হিসেবে আরোপিত হয় এটি। এই করের হার এক-দশমাংশ, বা উশর, যার বহুবচন উশূর। বিদেশী রাষ্ট্র মুসলিম বণিকদের ওপর যে কর আরোপ করত, তার সমহারে নির্ধারিত হয় এই কর। উমরের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে আবু মূসা বলেন, "আমাদের শাসিত অঞ্চল থেকে মুসলিম ব্যবসায়ীরা শত্রুদেশে গেলে তারা তাদের ওপর উশর (এক-দশমাংশ) আরোপ করে।” এর উত্তরে উমর লিখেন, "তারা যেভাবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের থেকে কর নেয়, আপনিও সেভাবে তাদের থেকে নিন", (আবু ইউসুফ)। ইসলামি সীমান্ত পারাপারকালে অমুসলিম বণিকদের ওপর এই কর আরোপিত হয়। তবে দ্বিতীয় খলিফা এখানেই থেমে থাকেননি। যত পণ্য সীমান্ত পার হচ্ছে, সবগুলোকে করের ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। মুসলিম ও (খ্রিষ্টান, ইহুদি এবং সাবিঈ) যিম্মিদের ছাড় দেওয়া হয়। "...যিম্মিদের থেকে উশরের অর্ধেক এবং মুসলিমদের থেকে প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম করে নেবেন", প্রশাসকের প্রতি এটি ছিল উমর -এর নির্দেশনা। (আবু ইউসুফ)।

উশর কর আরোপের ক্ষেত্রে মুসলিম, যিম্মি, এবং অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন ধর্মের অনুসারীদের মাঝে পার্থক্য করা হয়েছে। ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিষ্টান ছাড়া অন্যান্য ধর্মের অনুসারী ব্যবসায়ীরা স্থানান্তরিত পণ্যের ওপর ১০% হারে কর দিতে বাধ্য। সেখানে মুসলিম ব্যবসায়ীরা পরিশোধ করবে ২.৫% এবং ইহুদি, খ্রিষ্টান ও সাবিঈ বণিকরা ৫%। তা ছাড়া যিম্মিদের প্রদত্ত ছাড়ের চেয়ে মুসলিমদের ছাড় দেওয়া হয়েছে বেশি। রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার ভার অমুসলিমদের চেয়ে মুসলিমদের ওপর বেশি আরোপিত হয়েছে। তাই এই করের অসমতাকে এই বাস্তবতার আলোকে বুঝতে হবে। করব্যবস্থার অন্যান্য দিকের ক্ষেত্রেও একই কথা। সবচেয়ে বড় কথা, রক্ষণাত্মক ও সম্প্রসারণমূলক কোনো ধরনের যুদ্ধেই অমুসলিমরা অংশ নিতে বাধ্য নয়। তা ছাড়া করের হারের এই পার্থক্যের সাংবিধানিক কারণও ছিল:
➡️ (ক) মুসলিম ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত হারকে ব্যবসায়িক দ্রব্যের ওপর আরোপিত যাকাতের হারের সমতুল্য হিসেবে দেখা হয়, যেটি নবি কর্তৃক বিধিবদ্ধ হওয়ায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
➡️ (খ) খ্রিষ্টান, ইহুদি ও সাবিঈ (আহলুল কিতাব) সম্প্রদায়ের ওপর আরোপিত করকে খারাজ করের সমতুল্য ধরা হয়, যা নবিজির মৃত্যুর পর প্রবর্তিত হয়েছে, আর
➡️ (গ) ইসলামি রাষ্ট্রের প্রজারা অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে যে আচরণ পেত, অন্যান্য ধর্মের ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত করের হার সেই আচরণের পালটা জবাব। উশূর করের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হলো এর একটি নিম্নসীমা রয়েছে, ২০০ দিরহাম। সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা নির্বিশেষে একই পণ্যের ওপর বছরে একবারই আরোপিত হতো এই কর। আর এটি বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই শুধু প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ওপর এটি প্রযোজ্য নয় (আবু ইউসুফ)।

যাকাতের প্রসঙ্গে আসা যাক। আমাদের মনে আছে যে, খলিফা আবু বকর যাকাত সংগ্রহকে রাষ্ট্রীয় অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। উমর -এর শাসনকালে এই চর্চা অব্যাহত থাকে। তবে দ্বিতীয় খলিফা যাকাতের মধ্যে দুটো বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ঘটান:
➡️ (ক) ইসলামি রাষ্ট্র যখন কোনো মারাত্মক অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন তিনি যাকাত-সহ অন্যান্য কর কালেকশন স্থগিত রাখেন। যেমন- দুর্ভিক্ষের বছরগুলোতে, এবং
➡️ (খ) যাকাতের টাকা ব্যয় করার খাতগুলোতে তিনি একটি পরিবর্তন আনেন। প্রাপকদের তালিকা থেকে অমুসলিম নেতাদের বাদ দিয়ে দেন। তিনি বলেন যে, ইসলাম এখন নিজের প্রতিরক্ষা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। এখন আর কারও শান্তিচুক্তি বা আনুগত্য ক্রয় করার দরকার নেই।

উমর যে এই পরিবর্তনটি আনলেন, তা থেকে বোঝা যায় তিনি শুধুই পূর্ববর্তী চর্চার শাব্দিক অনুকরণ করে চলা কোনো ব্যক্তি নন। কুরআনে বর্ণিত এবং নবি ও আবু বকর -এর হাতে চর্চিত বিধানের ক্ষেত্রেও তিনি সেটার অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় নিয়েছেন। এই পদক্ষেপ-সহ অন্যান্য বিভিন্ন পদক্ষেপে উমর এ দেখিয়েছেন যে, কুরআনের কোনো আয়াত নাযিল হওয়ার উদ্দেশ্য কী। আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত কুরআনি কোনো বিধানকে বোঝা এবং তা থেকে আইন চয়ন করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। ফকিহগণের মাঝে এই মূলনীতি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

নারী ও শিশুদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অমুসলিম পুরুষদের ওপর আরোপিত জিযিয়া করের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন হার ছিল: পরিশোধের সামর্থ্যের ভিত্তিতে ৪৮ দিরহাম, ২৪ দিরহাম এবং ১২ দিরহাম।

যারা কর প্রদানের দায়িত্ব থেকে মুক্ত তারা হলো: হতদরিদ্র (যাদের অর্থ-সহায়তা প্রদান করা হয়), কর্মহীন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, দান-খয়রাতের হকদার, প্রতিবন্ধী কেউ যদি ধনাঢ্য না হয়ে থাকে, মঠে বসবাসকারী সন্ন্যাসী ও গির্জায় বসবাসকারী লোকজন যারা ধনাঢ্য নয়, নারী ও শিশু—এমনকি ধনাঢ্য হলেও, সম্পদহীন ও কাজ করতে অক্ষম বৃদ্ধ, মানসিক প্রতিবন্ধী এবং ইসলাম গ্রহণকারী যিম্মি (ইমাম আবু ইউসুফ র.)। এই জিযিয়া একটি বার্ষিক কর এবং চূড়ান্ত অর্থেই ব্যক্তিগত। অর্থাৎ, কর পরিশোধ করার আগে ওই ব্যক্তি মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সেটা পরিশোধ করতে বাধ্য নয়। মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকেও অপরিশোধিত কর বিয়োগ হবে না (প্রাগুক্ত)।

উপর্যুক্ত করগুলোর পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নের আরও দুটো উৎস ছিল: খুমুস এবং সাওয়াফি ভূমি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব। খুমুস তথা এক-পঞ্চমাংশ হলো মুসলিম যোদ্ধাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদে রাষ্ট্রের প্রাপ্য (উমরের যুগে জমির কথা বাদে, যা ওপরে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে)। ভূমি থেকে যেসব সম্পদ (এবং খনিজ) আহরিত হয়, সেটাতে রাষ্ট্রের পাওনা অংশও এর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি বিজয়ের পর মালিকেরা যেসব জমি ফেলে পালিয়ে গেছে, সেগুলো হলো সাওয়াফি বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এসব ভূমি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে আসা হয় এবং রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দ্বারা তদারক করা হয়。

টিকাঃ
[১] জারিব একটি পরিমাপক। এক জারিব ৪৮ সা'-এর সমান। - সম্পাদক

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 রাষ্ট্রীয় ব্যয়

📄 রাষ্ট্রীয় ব্যয়


সরকারি অর্থের ব্যয়ের অংশের দিকে মনোনিবেশ করা যাক এবার। আয়ের উৎসের ওপর ভিত্তি করে ব্যয়ের খাত বিভিন্নরকম হতে দেখা যায়। যাকাত এবং খুমুস ব্যয়িত হতো কুরআনের বিধান অনুযায়ী। জিযিয়ার রাজস্ব ছিল সাধারণ। কারণ কুরআন ও সুন্নাহতে এর খরচের কোনো পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। শুল্ক মাশুল বা উশর প্রবর্তিত হয়েছিল খলিফা উমরের শাসনামলে। তাই এর অর্থ ব্যয় করা হয় সাধারণ রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্যে। কিন্তু বিশাল পরিমাণ আয়ের উৎস হলো খারাজ。

দ্বিতীয় খলিফার আমলে সরকারি খরচের একটি পর্যালোচনা থেকে সেটাকে তিন প্রকারে ভাগ করা যায়: সামাজিক কল্যাণমূলক ও ভাতা সংক্রান্ত ব্যয়, চলমান ব্যয় (Current expenditure) এবং বিনিয়োগ ব্যয় (Investment expenditure)। প্রথম প্রকারটি ওপরে বর্ণিত হয়েছে, তাই পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। দ্বিতীয় প্রকারটি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যেসব রাষ্ট্রীয় ব্যয় রয়েছে, সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত। মুসলিম সৈনিক, গভর্নর, স্থানীয় কোষাধ্যক্ষ, বিচারক ও কেরাণীদের প্রদেয় ভাতা এর অন্তর্ভুক্ত। বিনিয়োগ ব্যয়গুলো আরও স্থায়ী প্রকৃতির: সেতু নির্মাণ, রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ, খাল ও নদী খনন, এবং পুঁজির মুখাপেক্ষী উদ্যোক্তাদের সহায়তা (আবু উবাইদ)। জনগণের সুবিধা ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে উমর এতই কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন যে, ফুরাত নদী পর্যন্ত পুরো রাস্তায় কোনো খচ্চর একবার হোঁচট খেলেও তিনি সেটার জন্য নিজেকে দায়ী মনে করতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00