📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 খলিফা উমরের আমলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারণ

📄 খলিফা উমরের আমলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারণ


ইসলামি রাষ্ট্রের সম্প্রসারণের ব্যাপারটি নিশ্চয় নবি -এর পরিকল্পনায় ছিল। বাইজেন্টাইন ও পারস্য বিজয় এবং অন্যান্য ভূমির ওপর আরবদের শাসনকর্তৃত্বের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন তিনি (সীরাত ইবনু হিশাম)। তাঁর ওফাতকালে একটি সেনাদল দক্ষিণে সিরিয়া অভিমুখে যাত্রারত ছিল। ওফাতের আকস্মিক খবর পেয়ে মদীনার শহরতলিতে থামতে হয়েছিল তাদের। নবিজির পরিকল্পনা অনুযায়ী পরে আবু বকর সেই দলটিকে পুনরায় অভিযানে প্রেরণ করেন। আবু বকর -এর যখন মৃত্যু হয়, ততদিনে মুসলিমরা ইরাক ও সিরিয়ার দক্ষিণে প্রাথমিক বিজয় অর্জন করতে শুরু করেছে। কিন্তু ইসলামি বিজয়রথ অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছে যায় উমরের শাসনামলে। দ্বিতীয় খলিফা তাঁর খিলাফত শুরু করেন পূর্বসূরিদের শুরু করে দিয়ে যাওয়া কাজটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে—সিরিয়া ও ইরাক আক্রমণ। সফলভাবে তা সম্পাদিত হয়। বাইজেন্টাইন ময়দানে পরপর কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধের পর দামেশকের পতন ঘটে ৬৩৬ সালে। জেরুসালেম আত্মসমর্পণ করে ৬৩৮ সালে। সিজারিয়ার পতন ঘটে ৬৪১ সালে এবং অ্যাস্কালন শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণ করে ৬৪৪ সালে। এরই মাঝে মুসলিম সেনাদল মিশরে প্রবেশ করে ৬৪০ সালে হিলিওপোলিসের সন্নিকটে বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করে। এরই ফলে পতন ঘটে ব্যাবিলনের। ব্যাবিলন পতনের প্রায় এক বছর পরে আলেকজান্দ্রিয়ারও পতন ঘটে। সেখানে মিশরের পৌর মেয়র প্যাট্রিয়ার্ক সাইরাস ও মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আসের মাঝে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ৬৪১ সালে। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য অবশ্য একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়নি। আনাতোলিয়া ও বলকান এলাকা বাইজেন্টাইনদের হাতেই রয়ে যায়। পারস্য ময়দানেও একইরকম সাফল্য লাভ করে মুসলিমরা। কঠিন প্রতিরোধের পরও মুসলিমরা ৬৩৬ সালে কাদিসিয়্যার যুদ্ধে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আর ৬৪২ সালে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। এই ৬৪২-এর বিজয়টিকে বলা হয় "সব বিজয়ের বড় বিজয়"। এর ফলে ইরাকে পারস্য প্রতিরোধের সমাপ্তি ঘটে। পারস্যরাজা বাধ্য হন প্রাক্তন পারসিপোলিস তথা তৎকালীন ইস্তাখারে পালিয়ে যেতে (আত-তাবারি)। পারস্যবাসীদের চরম প্রতিরোধের ফলে উমর আর পারস্যের ভেতর এগোতে চাননি। আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন, "যদি আমাদের আর তাদের মধ্যে একটা বাধা তৈরি হয়ে যেত।” অবশিষ্ট পারস্য প্রতিরোধকে চুরমার করে পারস্যরাজাকে হত্যা করা হয় ৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়্যা খিলাফতের সময়ে।

ইসলামি রাষ্ট্র তথা সাম্রাজ্যের এই সম্প্রসারণের হাত ধরে ইসলামি সমাজে আসে বিবিধ পরিবর্তন। এর ফলে অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে নতুন করে দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ব্যাপারে দ্বিতীয় খলিফার অবদান ছিল বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00