📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ফাই এবং আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)

📄 ফাই এবং আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)


ফাই এবং গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মাঝে পার্থক্য অবশ্য খুব সূক্ষ্ম। তারপরও পার্থক্য হলো যুদ্ধের সময় ফাই লাভ হয় কোনো কষ্ট বা সত্যিকারের সংঘাত ছাড়াই। আর গনিমতের মাল শত্রুর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করার পর অর্জিত হয় (সূরা হাশর, ৫৯: ৬-৮)। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন যোদ্ধাদের মাঝে এগুলোর বণ্টনের পার্থক্য জানা যায়। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নবি -এর কাছে ফাই পুরোটা সমর্পণ করতে হবে। যোদ্ধারা কোনো অংশ পাবে না। আর গনিমতের মাল থেকে রাষ্ট্রের জন্য এক-পঞ্চমাংশ রাখার পর বাকিটা যোদ্ধাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়।

আনফালের ক্ষেত্রেও বণ্টনের একই বিধান; পুরোটার মূল হকদার আল্লাহ ও তাঁর রাসূল। ফলে বণ্টনের দিক থেকে এটি ফাইয়ের সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ। আনফাল এবং ফাইয়ের পার্থক্য হলো, আনফাল লব্ধ হয় সত্যিকারের লড়াইয়ের মাধ্যমে, ফাই তা না। এ নিয়েই মুসলিমদের মাঝে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরই জের ধরে পুরো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্পণ করা হয় নবি -এর কাছে। তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বা না-করা নির্বিশেষে সেগুলো সকল মুসলিমের মাঝে বিলি করে দেন (মাওয়ারদি)।

ফাই নবি -এর যুগে ওহির আদেশবলে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন করা হয়, (সূরা হাশর, ৫৯: ৬-৮)। কুরআন ফাইয়ের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে:
➡ (ক) যে প্রেক্ষিতে ফাইয়ের উদ্ভব, তা হলো সামরিক লড়াইয়ের আগেই শত্রুর আত্মসমর্পণের এক ঘটনা: “আল্লাহ তাদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করোনি। আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা হাশর, ৫৯: ৬)
➡ (খ) লব্ধ সম্পদের পুরো মূল্যের প্রতি রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে। যোদ্ধারা এতে কোনো দাবি রাখে না। ফাই থেকে প্রাপ্ত আয় নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যয় করতে হবে: “আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রাসূলের, তাঁর আত্মীয়-স্বজনের, ইয়াতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে—যাতে তা তোমাদের মধ্যকার সম্পদশালীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়। রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। এই ধন-সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। তারাই সত্যাশ্রয়ী”, (সূরা হাশর, ৫৯: ৭-৮)।

কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে উপসংহারে আসা যায় যে:
➡ ১. শত্রুর আত্মসমর্পণের ফলে লব্ধ সম্পদ এবং সত্যিকারের লড়াইয়ের শর্তে লব্ধ সম্পদের মাঝে কুরআন পার্থক্য করেছে। পরেরটিকে বলা হয় গনিমত। একটু পর আরও আলোচনা আসবে।
➡ ২. যোদ্ধারা যে কারণে ফাইয়ের কোনো অংশের প্রাপক নয়, তা হলো শত্রুর আত্মসমর্পণ। যোদ্ধারা সেই সম্পদ অর্জনে তাদের প্রচেষ্টা ও দক্ষতার ব্যবহার করেনি বা জীবনের ঝুঁকি নেয়নি: “তার জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করোনি। কিন্তু আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা হাশর ৫৯:৬)।
➡ ৩. ফাই কোনো প্রকারের কর নয়। এটা এমন এক রাজস্ব, চূড়ান্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে রাষ্ট্র যেটার পূর্ণ মালিকানার দাবিদার।
➡ ৪. ফাই একটি চিহ্নিত রাজস্ব, যা কুরআনে বর্ণিত উপায়ে ব্যয় করতে হবে। এর প্রধান প্রধান প্রাপক: নবি ও তাঁর আত্মীয়স্বজন, ইয়াতিম, দরিদ্র, মুসাফির, এবং দরিদ্র মুহাজিরগণ। সারকথা, নবিজি তাঁর নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করার পর বাকি অংশ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।
➡ ৫. জিহাদ আল্লাহ্‌-প্রদত্ত আদেশ। তাঁর রাসূলের অধীনে এটি পরিচালিত হয়েছে। তাই স্বভাবতই এখান থেকে লব্ধ সম্পদের একাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আল্লাহর অংশটি ব্যয় করা হবে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে এবং নবির অংশ খরচ হবে তাঁর নিজের ও তাঁর স্বজনদের জন্য।
➡ ৬. ফাইয়ের বণ্টনে ইয়াতিমদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং হওয়াটাই উচিত ছিল। যাকাতের ক্ষেত্রে এই খাতটি নেই। যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী একটি ফলাফল হলো প্রাণহানি এবং এর ফলে কারও না কারও ইয়াতিম হয়ে পড়া। যুদ্ধ হওয়া মানেই সমাজে ইয়াতিমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।

ফাই সংক্রান্ত আয়াতসমূহে উল্লেখিত খাতগুলো ছাড়া রাষ্ট্রের যদি আরও অর্থায়নের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকে তা বিকল্প কোনো উৎস থেকে অন্বেষণ করতে হবে।

নবিজির সময় থেকেই যে উৎসকে ওহির আদেশবলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বাধীন করা হয়, পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশিদীন ও রাজতন্ত্রীয় খিলাফতের আমলেও এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্বের উৎস হিসেবে বহাল থাকে। তবে রাষ্ট্র যতকাল শক্তিশালী ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল, ততকাল পর্যন্তই জারি থাকে এই ধারা।

ফাই এবং গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মাঝে পার্থক্য অবশ্য খুব সূক্ষ্ম। তারপরও পার্থক্য হলো যুদ্ধের সময় ফাই লাভ হয় কোনো কষ্ট বা সত্যিকারের সংঘাত ছাড়াই। আর গনিমতের মাল শত্রুর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করার পর অর্জিত হয় (সূরা হাশর, ৫৯: ৬-৮)। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন যোদ্ধাদের মাঝে এগুলোর বণ্টনের পার্থক্য জানা যায়। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নবি -এর কাছে ফাই পুরোটা সমর্পণ করতে হবে। যোদ্ধারা কোনো অংশ পাবে না। আর গনিমতের মাল থেকে রাষ্ট্রের জন্য এক-পঞ্চমাংশ রাখার পর বাকিটা যোদ্ধাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়।

আনফালের ক্ষেত্রেও বণ্টনের একই বিধান; পুরোটার মূল হকদার আল্লাহ ও তাঁর রাসূল। ফলে বণ্টনের দিক থেকে এটি ফাইয়ের সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ। আনফাল এবং ফাইয়ের পার্থক্য হলো, আনফাল লব্ধ হয় সত্যিকারের লড়াইয়ের মাধ্যমে, ফাই তা না। এ নিয়েই মুসলিমদের মাঝে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে একটি মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরই জের ধরে পুরো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্পণ করা হয় নবি -এর কাছে। তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বা না-করা নির্বিশেষে সেগুলো সকল মুসলিমের মাঝে বিলি করে দেন (মাওয়ারদি)।

ফাই নবি -এর যুগে ওহির আদেশবলে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন করা হয়, (সূরা হাশর, ৫৯: ৬-৮)। কুরআন ফাইয়ের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে:
➡ (ক) যে প্রেক্ষিতে ফাইয়ের উদ্ভব, তা হলো সামরিক লড়াইয়ের আগেই শত্রুর আত্মসমর্পণের এক ঘটনা: “আল্লাহ তাদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করোনি। আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা হাশর, ৫৯: ৬)
➡ (খ) লব্ধ সম্পদের পুরো মূল্যের প্রতি রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে। যোদ্ধারা এতে কোনো দাবি রাখে না। ফাই থেকে প্রাপ্ত আয় নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যয় করতে হবে: “আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রাসূলের, তাঁর আত্মীয়-স্বজনের, ইয়াতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে—যাতে তা তোমাদের মধ্যকার সম্পদশালীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়। রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। এই ধন-সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। তারাই সত্যাশ্রয়ী”, (সূরা হাশর, ৫৯: ৭-৮)।

কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে উপসংহারে আসা যায় যে:
➡ ১. শত্রুর আত্মসমর্পণের ফলে লব্ধ সম্পদ এবং সত্যিকারের লড়াইয়ের শর্তে লব্ধ সম্পদের মাঝে কুরআন পার্থক্য করেছে। পরেরটিকে বলা হয় গনিমত। একটু পর আরও আলোচনা আসবে।
➡ ২. যোদ্ধারা যে কারণে ফাইয়ের কোনো অংশের প্রাপক নয়, তা হলো শত্রুর আত্মসমর্পণ। যোদ্ধারা সেই সম্পদ অর্জনে তাদের প্রচেষ্টা ও দক্ষতার ব্যবহার করেনি বা জীবনের ঝুঁকি নেয়নি: “তার জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করোনি। কিন্তু আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা হাশর ৫৯:৬)।
➡ ৩. ফাই কোনো প্রকারের কর নয়। এটা এমন এক রাজস্ব, চূড়ান্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে রাষ্ট্র যেটার পূর্ণ মালিকানার দাবিদার।
➡ ৪. ফাই একটি চিহ্নিত রাজস্ব, যা কুরআনে বর্ণিত উপায়ে ব্যয় করতে হবে। এর প্রধান প্রধান প্রাপক: নবি ও তাঁর আত্মীয়স্বজন, ইয়াতিম, দরিদ্র, মুসাফির, এবং দরিদ্র মুহাজিরগণ। সারকথা, নবিজি তাঁর নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করার পর বাকি অংশ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।
➡ ৫. জিহাদ আল্লাহ্‌-প্রদত্ত আদেশ। তাঁর রাসূলের অধীনে এটি পরিচালিত হয়েছে। তাই স্বভাবতই এখান থেকে লব্ধ সম্পদের একাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আল্লাহর অংশটি ব্যয় করা হবে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে এবং নবির অংশ খরচ হবে তাঁর নিজের ও তাঁর স্বজনদের জন্য।
➡ ৬. ফাইয়ের বণ্টনে ইয়াতিমদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং হওয়াটাই উচিত ছিল। যাকাতের ক্ষেত্রে এই খাতটি নেই। যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী একটি ফলাফল হলো প্রাণহানি এবং এর ফলে কারও না কারও ইয়াতিম হয়ে পড়া। যুদ্ধ হওয়া মানেই সমাজে ইয়াতিমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।

ফাই সংক্রান্ত আয়াতসমূহে উল্লেখিত খাতগুলো ছাড়া রাষ্ট্রের যদি আরও অর্থায়নের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকে তা বিকল্প কোনো উৎস থেকে অন্বেষণ করতে হবে।

নবিজির সময় থেকেই যে উৎসকে ওহির আদেশবলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বাধীন করা হয়, পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশিদীন ও রাজতন্ত্রীয় খিলাফতের আমলেও এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্বের উৎস হিসেবে বহাল থাকে। তবে রাষ্ট্র যতকাল শক্তিশালী ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল, ততকাল পর্যন্তই জারি থাকে এই ধারা।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 খুমুস: গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ

📄 খুমুস: গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ


ফাই থেকে পারিভাষিকভাবে আলাদা গনিমত হলো সেসব যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যেগুলো সামরিক অভিযানে সত্যিকার লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। যোদ্ধারা গনিমতের প্রাপক। কারণ তারা নিজেদের দক্ষতা ও প্রচেষ্টা ব্যবহার করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি অর্জন করেছে। তবে রাষ্ট্র এখানেও একটি অংশ পাবে। কুরআনে তা নির্ধারিত করা হয়েছে এক-পঞ্চমাংশ, যেটিকে রাষ্ট্রীয় আয় হিসেবে দেখা চলে। তা ছাড়া রাষ্ট্রের ভাগ থেকে প্রাপ্ত আয় কিভাবে খরচ করতে হবে, তাও এই আয়াতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, "আর জেনে রাখো, যা কিছু তোমরা গনিমত হিসেবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর, রাসূলের, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের এবং ইয়াতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের—যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর প্রতি এবং সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিন (অর্থাৎ, বদর যুদ্ধের দিন) আমি আমার বান্দার ওপর যা অবতীর্ণ করেছিলাম (তার প্রতি), যেদিন দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল." (সূরা আনফাল, ৮: ৪১)। অতএব, প্রাপ্ত আয় রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে, এবং মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। লক্ষণীয় যে, ফাইয়ের মধ্যে মুহাজিরদের অংশের কথা বাদ দিলে গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ এবং ফাই বণ্টনের নিয়ম ঠিক একইরকম। পক্ষান্তরে, যাকাত এবং ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের বণ্টনের মাঝে কিছু পার্থক্যের দেখা মেলে। যাকাতকে রাষ্ট্রীয় আয়ের একটি উৎস হিসেবে দেখলে এই ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে।

ফাই থেকে পারিভাষিকভাবে আলাদা গনিমত হলো সেসব যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যেগুলো সামরিক অভিযানে সত্যিকার লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। যোদ্ধারা গনিমতের প্রাপক। কারণ তারা নিজেদের দক্ষতা ও প্রচেষ্টা ব্যবহার করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি অর্জন করেছে। তবে রাষ্ট্র এখানেও একটি অংশ পাবে। কুরআনে তা নির্ধারিত করা হয়েছে এক-পঞ্চমাংশ, যেটিকে রাষ্ট্রীয় আয় হিসেবে দেখা চলে। তা ছাড়া রাষ্ট্রের ভাগ থেকে প্রাপ্ত আয় কিভাবে খরচ করতে হবে, তাও এই আয়াতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, "আর জেনে রাখো, যা কিছু তোমরা গনিমত হিসেবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর, রাসূলের, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের এবং ইয়াতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের—যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর প্রতি এবং সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিন (অর্থাৎ, বদর যুদ্ধের দিন) আমি আমার বান্দার ওপর যা অবতীর্ণ করেছিলাম (তার প্রতি), যেদিন দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল." (সূরা আনফাল, ৮: ৪১)। অতএব, প্রাপ্ত আয় রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে, এবং মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। লক্ষণীয় যে, ফাইয়ের মধ্যে মুহাজিরদের অংশের কথা বাদ দিলে গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ এবং ফাই বণ্টনের নিয়ম ঠিক একইরকম। পক্ষান্তরে, যাকাত এবং ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের বণ্টনের মাঝে কিছু পার্থক্যের দেখা মেলে। যাকাতকে রাষ্ট্রীয় আয়ের একটি উৎস হিসেবে দেখলে এই ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 যাকাত

📄 যাকাত


আগেই বলা হয়েছে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে যাকাতের এমনকিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্যান্য প্রকারের করের মধ্যে দেখা যায় না: এর ধর্মীয় দ্যোতনা— এই কর আরোপ করা হয়েছে মুসলিমদের আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করার জন্য। এই প্রদেয়র বিধান কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে এবং সেই নিয়মানুযায়ীই এটি ব্যয় করতে হবে। যাকাতের হার কুরআনে উল্লেখ করা না হলেও নবি আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত ওহীর জ্ঞানবলে এর হার নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তার ভিত্তি সুসংগঠিত করেছেন, এবং এর সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎস হিসেবে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ফাই বা গনিমতের তুলনায় এর প্রাসঙ্গিকতা আরও সমসাময়িক। আমাদের আধুনিক সময়ে যাকাতের প্রায়োগিকতা বেশি। যাকাত ইসলামের পুরো ইতিহাসজুড়ে বিদ্যমান ছিল। রাষ্ট্র যদি এবং যখন এর শরণাপন্ন হয়, সেক্ষেত্রে এখনো এটি রাষ্ট্রের অর্থায়নের একটি প্রধান উৎস। সম্প্রতি ইসলামি পুনর্জাগরণবাদের প্রভাবে ইসলামি বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই যাকাতকে তাদের কর কাঠামোতে পুনঃস্থাপিত করছে, যাতে তাদের করব্যবস্থায় পুনরায় ইসলামিকরণ ঘটানো যায়। যেমন- পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান এবং ইয়েমেন (আল-আশকার এবং হক, ১৯৯৫)।

যাকাত কোন কোন খাতে খরচ করতে হবে, তা কুরআনের মাধ্যমে নির্ধারিত করে দেওয়া থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়:
➡ (ক) যাকাতের গুরুত্ব এবং
➡ (খ) বণ্টন পদ্ধতিতে ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের সাথে এর পার্থক্য।

কুরআনের আয়াত নির্দেশ দেয় যে, যাকাতের প্রাপক হবে 'দরিদ্র, মিসকিন, যাকাত কালেক্টর, নও-মুসলিম, দাসমুক্তকরণ, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তা এবং মুসাফির' (৯: ৬০)। তাই যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় সুনির্দিষ্টভাবে শুধু এখানেই খরচ করতে হবে। যাকাত সংগ্রহের খরচটুকু বাদ দিলে যেসব খাত বাকি থাকে, ফাই বা গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের বণ্টনে সেই খাতগুলোর নাম নেই। যাকাতের প্রাপক দরিদ্র ও মিসকিন এবং ফাই ও এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে উল্লেখিত অসহায়দের মোটামুটি একই অর্থে ধরে নিলে শুধুমাত্র যাকাতের খাত হিসেবে বাকি থাকে: 'নও-মুসলিম, দাসমুক্তকরণ, ঋণগ্রস্ত এবং আল্লাহর রাস্তা'। এই খাতগুলো ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। তবে ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে এমন কতক প্রাপকের উল্লেখ আছে, যারা যাকাতের প্রাপক নন। যেমন: আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও রাসূলের আত্মীয়স্বজন এবং ইয়াতিম।

ব্যয়ের খাতের এই পার্থক্য প্রতিটি আয়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত। অন্য বিশেষায়িত আয়গুলোর চেয়ে যাকাতের বৈশিষ্ট্য আরও সাধারণ। কারণ যাকাতের ভিত্তি যেসব সম্পদ, সেগুলো ফাই ও গনিমতের মতো শুধুই সামরিক কার্যক্রমের সাথে সম্বন্ধিত নয়। বরং এর সম্পর্ক দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে, যা সম্পদ ও উপার্জনকে প্রভাবিত করে এবং ঘুরেফিরে যাকাতের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। ফলে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্তের নিশ্চয়তা দেয়: নিরবচ্ছিন্নতা। স্থিতিশীলতার ও নিরবচ্ছিন্নতার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পায় আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় যেভাবে বণ্টন করা হয়, তা এই দুটি গুণ দ্বারা প্রভাবিত। তাই ঋণগ্রস্ততা দূরীকরণ এবং দাসমুক্তকরণও এর অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ফাই ও এক-পঞ্চমাংশ গনিমত হলো একটি সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম তথা যুদ্ধের ফল। সেগুলো থেকে উপার্জন আসে যাকাতের চেয়ে বিশেষায়িত উৎস থেকে। ফলে তাদের বণ্টনের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্যটি প্রতিফলিত হয়। জিহাদ আল্লাহ-প্রদত্ত আদেশ। তাঁর রাসূলের অধীনে এটি পরিচালিত হয়েছে। তাই স্বভাবতই এখান থেকে লব্ধ সম্পদের একাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আল্লাহর অংশটি ব্যয় করা হবে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে এবং নবিজির অংশ খরচ হবে তাঁর ও তাঁর স্বজনদের জন্য। তা ছাড়া আলাদা করে ইয়াতিমদের কথা উল্লেখ থেকে প্রতিভাত হয় যে, যুদ্ধে প্রাণহানি প্রায় অপরিহার্য। ফলে ইয়াতিমের সংখ্যাবৃদ্ধি একরকম অবশ্যম্ভাবী। তাই যুদ্ধলব্ধ সম্পদে ইয়াতিমদের জন্য বিশেষ একটি অংশ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজনীয়ই ছিল।

আগেই বলা হয়েছে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে যাকাতের এমনকিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্যান্য প্রকারের করের মধ্যে দেখা যায় না: এর ধর্মীয় দ্যোতনা— এই কর আরোপ করা হয়েছে মুসলিমদের আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করার জন্য। এই প্রদেয়র বিধান কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে এবং সেই নিয়মানুযায়ীই এটি ব্যয় করতে হবে। যাকাতের হার কুরআনে উল্লেখ করা না হলেও নবি আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত ওহীর জ্ঞানবলে এর হার নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তার ভিত্তি সুসংগঠিত করেছেন, এবং এর সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎস হিসেবে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ফাই বা গনিমতের তুলনায় এর প্রাসঙ্গিকতা আরও সমসাময়িক। আমাদের আধুনিক সময়ে যাকাতের প্রায়োগিকতা বেশি। যাকাত ইসলামের পুরো ইতিহাসজুড়ে বিদ্যমান ছিল। রাষ্ট্র যদি এবং যখন এর শরণাপন্ন হয়, সেক্ষেত্রে এখনো এটি রাষ্ট্রের অর্থায়নের একটি প্রধান উৎস। সম্প্রতি ইসলামি পুনর্জাগরণবাদের প্রভাবে ইসলামি বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই যাকাতকে তাদের কর কাঠামোতে পুনঃস্থাপিত করছে, যাতে তাদের করব্যবস্থায় পুনরায় ইসলামিকরণ ঘটানো যায়। যেমন- পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান এবং ইয়েমেন (আল-আশকার এবং হক, ১৯৯৫)।

যাকাত কোন কোন খাতে খরচ করতে হবে, তা কুরআনের মাধ্যমে নির্ধারিত করে দেওয়া থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়:
➡ (ক) যাকাতের গুরুত্ব এবং
➡ (খ) বণ্টন পদ্ধতিতে ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের সাথে এর পার্থক্য।

কুরআনের আয়াত নির্দেশ দেয় যে, যাকাতের প্রাপক হবে 'দরিদ্র, মিসকিন, যাকাত কালেক্টর, নও-মুসলিম, দাসমুক্তকরণ, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তা এবং মুসাফির' (৯: ৬০)। তাই যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় সুনির্দিষ্টভাবে শুধু এখানেই খরচ করতে হবে। যাকাত সংগ্রহের খরচটুকু বাদ দিলে যেসব খাত বাকি থাকে, ফাই বা গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের বণ্টনে সেই খাতগুলোর নাম নেই। যাকাতের প্রাপক দরিদ্র ও মিসকিন এবং ফাই ও এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে উল্লেখিত অসহায়দের মোটামুটি একই অর্থে ধরে নিলে শুধুমাত্র যাকাতের খাত হিসেবে বাকি থাকে: 'নও-মুসলিম, দাসমুক্তকরণ, ঋণগ্রস্ত এবং আল্লাহর রাস্তা'। এই খাতগুলো ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। তবে ফাই ও গনিমতের এক-পঞ্চমাংশের আয়াতে এমন কতক প্রাপকের উল্লেখ আছে, যারা যাকাতের প্রাপক নন। যেমন: আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও রাসূলের আত্মীয়স্বজন এবং ইয়াতিম।

ব্যয়ের খাতের এই পার্থক্য প্রতিটি আয়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত। অন্য বিশেষায়িত আয়গুলোর চেয়ে যাকাতের বৈশিষ্ট্য আরও সাধারণ। কারণ যাকাতের ভিত্তি যেসব সম্পদ, সেগুলো ফাই ও গনিমতের মতো শুধুই সামরিক কার্যক্রমের সাথে সম্বন্ধিত নয়। বরং এর সম্পর্ক দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে, যা সম্পদ ও উপার্জনকে প্রভাবিত করে এবং ঘুরেফিরে যাকাতের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। ফলে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্তের নিশ্চয়তা দেয়: নিরবচ্ছিন্নতা। স্থিতিশীলতার ও নিরবচ্ছিন্নতার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পায় আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। যাকাত থেকে প্রাপ্ত আয় যেভাবে বণ্টন করা হয়, তা এই দুটি গুণ দ্বারা প্রভাবিত। তাই ঋণগ্রস্ততা দূরীকরণ এবং দাসমুক্তকরণও এর অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ফাই ও এক-পঞ্চমাংশ গনিমত হলো একটি সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম তথা যুদ্ধের ফল। সেগুলো থেকে উপার্জন আসে যাকাতের চেয়ে বিশেষায়িত উৎস থেকে। ফলে তাদের বণ্টনের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্যটি প্রতিফলিত হয়। জিহাদ আল্লাহ-প্রদত্ত আদেশ। তাঁর রাসূলের অধীনে এটি পরিচালিত হয়েছে। তাই স্বভাবতই এখান থেকে লব্ধ সম্পদের একাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আল্লাহর অংশটি ব্যয় করা হবে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে এবং নবিজির অংশ খরচ হবে তাঁর ও তাঁর স্বজনদের জন্য। তা ছাড়া আলাদা করে ইয়াতিমদের কথা উল্লেখ থেকে প্রতিভাত হয় যে, যুদ্ধে প্রাণহানি প্রায় অপরিহার্য। ফলে ইয়াতিমের সংখ্যাবৃদ্ধি একরকম অবশ্যম্ভাবী। তাই যুদ্ধলব্ধ সম্পদে ইয়াতিমদের জন্য বিশেষ একটি অংশ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজনীয়ই ছিল।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 জিযিয়া

📄 জিযিয়া


যাকাত যেখানে মুসলিমদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, সেখানে জিযিয়া বিধিবদ্ধ করা হয়েছে অমুসলিমদের ওপর। যাকাতের মতো জিযিয়ার বিধানও কুরআন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তবে এই করটি নারী ও শিশুদের ওপর প্রযোজ্য নয়, এমনকি তারা ধনী হলেও। এ ছাড়াও যুদ্ধ করতে অক্ষম বা সম্পদহীন বৃদ্ধ পুরুষ এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা এর আওতার বাইরে। এই সকল নিয়ম নবি এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এবং খুলাফায়ে রাশেদীন যুগের খলিফাদের হাতে চর্চিত হয়ে এসেছে। অবশ্য উমাইয়্যা খিলাফতের আরম্ভ থেকে জিযিয়া করের প্রয়োগে কিছু রদবদল আসে, যা যথাস্থানে আমরা দেখব।

যাকাত যেখানে মুসলিমদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, সেখানে জিযিয়া বিধিবদ্ধ করা হয়েছে অমুসলিমদের ওপর। যাকাতের মতো জিযিয়ার বিধানও কুরআন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তবে এই করটি নারী ও শিশুদের ওপর প্রযোজ্য নয়, এমনকি তারা ধনী হলেও। এ ছাড়াও যুদ্ধ করতে অক্ষম বা সম্পদহীন বৃদ্ধ পুরুষ এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা এর আওতার বাইরে। এই সকল নিয়ম নবি এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এবং খুলাফায়ে রাশেদীন যুগের খলিফাদের হাতে চর্চিত হয়ে এসেছে। অবশ্য উমাইয়্যা খিলাফতের আরম্ভ থেকে জিযিয়া করের প্রয়োগে কিছু রদবদল আসে, যা যথাস্থানে আমরা দেখব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00