📄 লাভ ও সুদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
আগেও আলোচিত হয়েছে যে, ইসলামে লাভ বা মুনাফা স্বীকৃত হলেও সুদ নিষিদ্ধ। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাকে লাভ ও ঝুঁকি সমানভাবে ভাগাভাগি করতে হবে। নির্ধারিত হারের সুদে এই ভাগাভাগির ঝুঁকি থাকে না। তাই এটি উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও অবৈধ। পক্ষান্তরে, লাভ বৈধ। তাই সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগির আলোকে, নির্ধারিত সুদের ভিত্তিতে নয়।
এর আলোকে সমীকরণ (৪) হবে এরকম:
(সর্বাধিককরণ করতে হবে) V = U(C,T, H, Sa, Sb, Z,R), F(P)...... (৫)
শর্ত হলো Y
যেখানে Z = যাকাত
R = সময়কালের শুরুতে পুঞ্জীভূত সঞ্চয়ের ওপর আসা লভ্যাংশ
(অন্যান্য সংকেতের অর্থ আগের মতোই)
মোটকথা, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ভোক্তার নীতিমালার রূপরেখা এরকম:
➡ ১. ভোক্তা যে উপযোগ সমষ্টির সর্বাধিককরণ করতে চায়, তা দুটি প্রধান উপাদান দিয়ে গঠিত: পণ্য ও সেবা ভোগ থেকে প্রাপ্ত উপযোগ এবং ধর্মীয়-সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যয়ের উপযোগ।
➡ ২. উপযোগের উভয় উপাদান একত্রে অর্জন করা সম্ভব। ধর্মীয়-সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যয় করতে গিয়ে পণ্য ও সেবা ভোগকে বিসর্জন দিতে হবে, এমন কোনো শর্ত ইসলামি শিক্ষায় নেই। তবে আয়ের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং মৌলিক প্রয়োজনাদি পূরণ করতে হবে।
➡ ৩. উদ্বৃত্ত সম্পদের একাংশ সঞ্চয় করা ইসলামি শিক্ষায় কাম্য, যা নির্ভরশীল উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। সঞ্চয়ের অন্যান্য খাতে মধ্যমপন্থার ধারণা প্রযোজ্য হবে।
➡ ৪. যাকাতের বিধানটি ধর্মীয়-সামাজিক কল্যাণকর্মের অনুভূতিকে উদ্বুদ্ধ করে। সেইসাথে ধর্মীয়-সামাজিক কল্যাণে খরচ করার জন্য একটি প্রবহমান আর্থিক উৎস লাভ করে ইসলামি রাষ্ট্র। তা ছাড়া এর মাধ্যমে অলস সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে আসে এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাঝে বৈষম্য কমে আসে।
➡ ৫. সম্পদের প্রান্তিক মূল্যমান রক্ষা করার জন্য হলেও সঞ্চয়কে বিনিয়োগ করা উচিত। বিনিয়োগ হতে হবে মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে, নির্ধারিত হারের সুদের ভিত্তিতে নয়। ফলে সঞ্চয়কারীদের দীর্ঘমেয়াদে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা হয়।
➡ ৬. ক্রেডিট বিক্রয় কোনো উদ্যোগ কার্যক্রমের দ্বারা সুদমুক্ত উপায়ে অনুমোদিত হতে হবে। ব্যাংক ঋণও দিতে হবে একই শর্তের ভিত্তিতে। একচেটিয়া আধিপত্যও ইসলামি শিক্ষায় ধিকৃত। চাহিদা-আকর্ষণ ধাঁচের অর্থনীতিতে যে মুদ্রাস্ফীতিমূলক চাপ রয়েছে, এহেন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তার কিছু কিছু দূরীভূত করা সম্ভব।