📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অর্থনৈতিক দক্ষতা

📄 অর্থনৈতিক দক্ষতা


অর্থনৈতিক দক্ষতার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান খুবই জোরালো। সম্পদের অনর্থনৈতিক ব্যবহার বা অপব্যয়কে কঠিনতম ভাষায় শক্তভাবে নিন্দা করা হয়েছে। অপব্যয়কারী তথা আল-মুবাযয্যিরিন-কে বলা হয়েছে শয়তানের ভাই। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "যারা অপব্যয় করে (মুবাযযিরীন) তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ” (সূরা ইসরা ১৭: ২৭)। ভোগের ক্ষেত্রে অপব্যয় তিরস্কৃত। আর অর্থনৈতিক সম্পদের অপব্যয়ও সমপরিমাণে ধিকৃত, এমনকি তা অর্থনৈতিক উন্নয়ন জাতীয় বৈধ উদ্দেশ্যে হলেও। এক্ষেত্রে তাই অপব্যয়ের ধারণাটি শুধু সম্পদের অপব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। বৈধ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারও এর মধ্যে পড়ে যায়। অর্থনৈতিক দক্ষতার ব্যাপারটিতে জোরারোপ করে অপব্যয়কারীদের শয়তানের ভাইয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ তুলনার পেছনে একটি কারণ হতে পারে এই যে, শয়তানের লক্ষ্য পৃথিবী ও এর অর্থনৈতিক সম্পদসমূহ বিনষ্ট করা। কারণ এগুলোর ওপরই মানবজাতি টিকে থাকে। এই মানবজাতিই শয়তানের শত্রু। এই শত্রুতার সূচনা হয় তখন, যখন আদম আ.-কে সিজদা করতে শয়তান অস্বীকৃতি জানায়। এরপর সে আদমকে ধোঁকা দিয়ে তাঁকে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাইয়ে দেয়। ফলত তিনি ও হাওয়া জান্নাত থেকে বিতাড়িত হন। আদম ও তাঁর বংশধরদের টিকে থাকার উপাদান পৃথিবী ও এর প্রাকৃতিক সম্পদকে ধ্বংস করার একটি রূপ হলো অপব্যয়।

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 উৎপাদনের লক্ষ্যসমূহ

📄 উৎপাদনের লক্ষ্যসমূহ


অর্থনৈতিক সম্পদের সদ্ব্যবহারের ওপর ইসলাম প্রচুর গুরুত্ব আরোপ করে। সত্যি বলতে, সম্পদের সদ্ব্যবহার মানুষের একটি অবশ্য পালনীয় পবিত্র কর্তব্য, “তিনিই তো ভূমিকে তোমাদের জন্য সুগম করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা তার দিগদিগন্তে বিচরণ করো এবং তার প্রদত্ত জীবনোপকরণ থেকে রিযিক ভক্ষণ করো” (সূরা মুলক, ৬৭: ১৫)। আবার এ বিষয়টি পৃথিবীতে মানুষের প্রতিনিধিত্বশীলতার সাথে জড়িত, “তিনিই জমিন থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদের বসবাস করিয়েছেন” (সূরা হুদ, ১১: ৬১)। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এর মাঝে যত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোকে তাই উৎপাদনের সার্বিক লক্ষ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। উৎপাদনমূলক উন্নয়নের একটা সুযোগও যে ছাড়তে নেই, এ ব্যাপারে মুসলিমদের উৎসাহ দিয়ে নবি চমৎকার ভাষায় বলেন, “একটা চারাগাছ রোপণ করতে থাকা অবস্থায়ও যদি দেখো কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে, তাহলেও সেটা রোপণ করে দিয়ো”, (আল-আদাবুল মুফরাদ, বুখারি: ৪৭৯)।

উৎপাদনের লক্ষ্য হিসেবে ওপরে যা বলা হলো, আমানতদার হিসেবে মালিকানার ধারণাটির প্রয়োগ তাতে আরেকটি মাত্রা যুক্ত করে-সামাজিক দায়িত্বশীলতা। অর্থাৎ, অধীনস্থ কর্মী ও পারিপার্শ্বিক জনসমাজের প্রতি উৎপাদকের যে সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে, সেটা। উৎপাদক একজন ব্যক্তিও হতে পারে, আবার একদল ব্যক্তিও হতে পারে। উৎপাদকের লক্ষ্যসমূহ চিত্র ২.১-এ দেখানো হয়েছে (পৃষ্ঠা: ১২৩)। উৎপাদকের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তিন ধরনের লক্ষ্য হাসিল করা, যা তিনটি শ্রেণির সাথে সংশ্লিষ্ট-উদ্যোক্তা, কর্মচারী ও সমাজ। এসকল লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে উৎপাদক তথা উদ্যোক্তা চেষ্টা করবে এই তিন ধরনের লক্ষ্যের মাঝে একটি "ভারসাম্যপূর্ণ” অবস্থা অর্জন করার। এর চূড়ান্ত পুরস্কার হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। উদ্যোক্তার লক্ষ্যসমূহ নিরীক্ষণের সময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, পার্থিব প্রয়োজনাদির ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী: এগুলোকে অবহেলা না করা। যা দরকার, তা হলো এই তিন শ্রেণির স্বার্থের মাঝে একটি "ভারসাম্যপূর্ণ” সম্পর্ক। মধ্যমপন্থার ধারণাটি এখানেও প্রযোজ্য। আধুনিক অর্থনৈতিক পরিভাষা ব্যবহার করে ওপরের সম্পর্কটিকে গাণিতিকভাবে এভাবে উপস্থাপন করা যায়:
(সর্বাধিককরণ করতে হবে) U = Ua(R), Ub [Ua(R), E, S], F(P) (১)

শর্ত হলো Y = R+E+S
যেখানে:
U= উপযোগ ফাংশান
Ua= জাগতিক উপযোগ
Ub= আচার-আনুষ্ঠানিক উপযোগ
R= উদ্যোক্তার আর্থিক পুরস্কার (লভ্যাংশ)
E= কর্মচারী কল্যাণের ব্যয় (মজুরি ও অন্যান্য)
S= সামাজিক ব্যয় (সামাজিক কল্যাণের খরচ)
P= তাকওয়ার মাত্রা
Y = উৎপাদিত দ্রব্যের সর্বমোট মূল্য

লক্ষণীয় যে, সমীকরণে তাকওয়ার মাত্রাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে যে, উদ্যোক্তা কর্তৃক আল্লাহর বিধান মানার ইচ্ছা এবং এর ফলে উপর্যুক্ত “ভারসাম্য” অর্জন করার ব্যাপারটি কিভাবে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। নিতান্ত মৌলিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করা থেকে শুরু করে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বিভিন্ন পর্যায়ে একেকজন মুসলিমের অবস্থান বিভিন্ন হয়ে থাকে।

পশ্চিমা অর্থনৈতিক তত্ত্বকে তুলনায় এনে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা যায়। সেগুলো হলো:

📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 উৎপাদনের নিয়ামকসমূহ

📄 উৎপাদনের নিয়ামকসমূহ


পশ্চিমা অর্থনৈতিক তত্ত্বে উৎপাদনের চারটি নিয়ামক হলো-ভূমি, শ্রম, পুঁজি ও সংগঠন। পক্ষান্তরে, ইসলামি অর্থনীতিতে এর সংখ্যা ছয়: ১. পরিবেশ, ২. প্রাকৃতিক সম্পদ, ৩. শ্রম ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত মানব-নিয়মক, ৪. পুঁজি, ৫. সমাজ এবং ৬. আসমানি পথনির্দেশনা ও নিয়ামত। পশ্চিমা অর্থনীতি এই গবেষণার পরিসরের ভেতর পড়ে না বলে সেটার নিয়ামকগুলো বিবেচনায় আনা নিষ্প্রয়োজন। আর তা ছাড়া এগুলো এমনিতেও সুপরিচিত। তবে ইসলামি অর্থনীতির আলোচনায় এদের কোনো কোনোটির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের প্রথম নিয়ামক পরিবেশ। কারণ আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে পরিবেশের ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে মানুষ আদিষ্ট। পরিবেশ আল্লাহর সকল সৃষ্টির বাসস্থান। সকলের বসবাস এবং বেড়ে ওঠার জন্য একে উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন তিনি। পরিবেশের কাঠামোর মধ্যেই তিনি দিয়ে রেখেছেন অন্তর্নিহিত এক কলাকৌশল, যার মাধ্যমে এটি ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। মানুষ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এই পরিবেশকে ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু এই ভারসাম্যকে বিনষ্ট করা চলবে না। যেমন- উৎপাদনকালে বিষাক্ত গ্যাসের ব্যবহার। যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে এবং জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এটি বৈধ হতে পারে না।

উৎপাদনের দ্বিতীয় নিয়ামক প্রাকৃতিক সম্পদ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আল্লাহ-প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে মানুষ শুধু অনুমতিপ্রাপ্তই নয়, বরং আদিষ্টও বটে। এ কারণেই আল্লাহ এগুলোকে সহজলভ্য করে দিয়েছেন। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক উপাদান এই দুই নিয়ামকের মাঝে পার্থক্যকারী রেখাটি খুব সূক্ষ্ম মনে হতে পারে। কিন্তু এ দুটোর মাঝে পার্থক্য আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদকে হিসেব করা হয়েছে ব্যবহৃত হওয়ার জন্যই। পক্ষান্তরে, পরিবেশের ব্যবহার ঘটাতে হবে বটে, কিন্তু একে সকলের জন্য উপযোগী উপায়ে সংরক্ষণও করতে হবে। অন্যভাবে বললে, প্রাকৃতিক সম্পদকে যদি এমনসব কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা যায় যেগুলোর ফলাফল আরও টেকসই হবে, তাহলে সেই সম্পদকে শুধু শুধুই বাঁচিয়ে রাখার দরকার নেই। কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ এমনিতে টেকসই বটে। যেমন মাটি, পানি, প্রাণিসম্পদ। খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ব্যতিক্রম।

তৃতীয় হলো মানব-নিয়ামক। এই নিয়ামকটির ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহয় জোর দেওয়া হয়েছে। ওপরেও এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হওয়ায় এর আর পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। একটি বিষয় যোগ করা যায় অবশ্য। তা হলো মানব-নিয়মকের মধ্যে শ্রম ছাড়াও ব্যবস্থাপনা বা সংগঠন এবং উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত, যেমনটা পশ্চিমা তত্ত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হলো।

চতুর্থ নিয়ামক মূলধন। সম্পদকে যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সংস্থাপন করা হয়, সেটাই তখন হয়ে যায় মূলধন। এই সম্পদের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহয় কতটা জোরারোপ করা হয়েছে, তা ওপরে দেখানো হয়েছে। তাই পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। মূলধনের মূল্যও আলোচিত হয়েছে আগেই। পশ্চিমা ও ইসলামি উভয় অর্থনীতিতে মূলধনের গুরুত্ব আবারও উল্লেখযোগ্য। ঋণ মূলধন হওয়ার ব্যাপারে এই দুই অর্থনীতি যদিও ঘোরতরভাবে দ্বিমত, কিন্তু সাম্যের ভিত্তিতে ব্যবসার ব্যাপারে এদের অবস্থান আবার একই। উভয় ঘরানায় ব্যবসার পুঁজির মূল্য হলো সাম্যের ভিত্তিতে ফেরতপ্রাপ্ত হার। এটি আসে মূলত লভ্যাংশের বণ্টন থেকে। পশ্চিমা তত্ত্বে ঋণ-পজির মূল্য হলো সুদ। আর ইসলামি তত্ত্বে এর কোনো স্থান নেই। কারণ অন্য সকল ঋণের মতো ঋণকৃত পুঁজিকেও হয় সাম্যভিত্তিক ব্যবসার পুঁজিতে পরিণত করতে হবে, আর নয়তো বিনামূল্যে দিতে হবে।

➡ উৎপাদনের পঞ্চম নিয়امক সমাজ। সমাজকে উৎপাদনের নিয়امক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ দুটি। প্রথমত, উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তার ওপর সমাজের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, যাতে তা জনসমাজের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগে। ঘুরেফিরে এটার কারণেই আবার ব্যবস্থাপক তাদের ব্যবসার উপকারিতার সর্বাধিককরণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, যা সমাজ থেকেই লাভ করা যায়। সমাজকে উৎপাদনের নিয়امক হিসেবে গণ্য করলে ব্যবসায়িক কারবার এবং তার পারিপার্শ্বিক জনসমাজের মধ্যে জোরদার হয় পারস্পরিক সম্পর্ক। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমাজের প্রতি প্রয়োজনবোধ এবং দায়িত্বশীলতা সৃষ্টি হয়। উৎপাদন খাত যে সমাজের ওপর নির্ভরশীল, এ ব্যাপারটা তুলে না ধরলে ব্যবসায়িক কারবার ও জনসমাজের মাঝে আন্তঃসম্পর্ক অবহেলিত রয়ে যাবে।

উপর্যুক্ত বিষয়টি অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ইসলামের মতে, উৎপাদনের মূল্য বা মুনাফার সর্বাধিককরণ মোটাদাগে উন্নয়নের লক্ষ্য নয়। এখানে বরং সর্বাধিককরণ পরিভাষাটিই বাদ দিতে হয়। বলা চলে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর উপকারিতা বৃদ্ধি করাটাই এখানে লক্ষ্য। পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল অর্থনীতির চাইতে বরং পশ্চিমা পরার্থবাদী (Altruist) ও সামাজিক অর্থনীতিই এ ব্যাপারে ইসলামি অর্থনীতির অধিক নিকটবর্তী। এখানে উৎপাদনকর্ম বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সোজাসাপ্টাভাবে নৈতিক বিষয়াদি এবং মূল্যবোধ রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

➡ ষষ্ঠ নিয়امক হলো আসমানি পথনির্দেশনা এবং নিয়ামত। মুসলিমরা জীবনে যা কিছুই করবে, তাতেই তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহকে মেনে চলা এবং নবি -কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেও তারা আল্লাহর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চায় এবং তাঁর নিষিদ্ধকৃত জিনিস থেকে বিরত থাকে। জীবনে উপভোগ করার জন্য তিনি যত কল্যাণ পূর্বনির্ধারিত করে রেখেছেন, সেগুলো অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে মুসলিমরা আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে। মুসলিমদের বিশ্বাসমতে, একজন ব্যক্তি যত ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিক, উৎপাদনের সব নিয়امক যত ভালোভাবেই গুছিয়ে রাখুক, পরিকল্পনা যত নিখুঁতই হোক—আল্লাহর সাহায্য, প্রজ্ঞা, পথনির্দেশনা ও অনুগ্রহের প্রতি নির্ভরতা না থাকলে কোনো সাফল্যই আসবে না। চূড়ান্ত সাফল্যকে দেখা হয় আল্লাহ-প্রদত্ত জিনিস হিসেবে। আত-তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ তথা আল্লাহর প্রতি ভরসা মুসলিমদের চিন্তাপদ্ধতির একটি মৌলিক উপাদান। উৎপাদন, ভোগ ও অন্য সকল মানবীয় কর্মকাণ্ডে এ ব্যাপারটি প্রযোজ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00