📄 ব্যক্তিগত মালিকানা
কুরআন ও সুন্নাহয় ব্যক্তিগত মালিকানাকে যথার্থ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতির রূপ বিভিন্নরকম:
➡ প্রথমত, কুরআন ব্যক্তিগত মালিকানাকে মানুষের স্বভাব ও মানবীয় প্রকৃতির অংশ বলে আখ্যায়িত করে: “সে (মানুষ) ধনসম্পদের আসক্তিতে প্রবল” (সূরা আদিয়াত, ১০০: ৮)। এবং "ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা; আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম” (সূরা কাহফ, ১৮: ৪৬)। তা ছাড়া আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সম্পদ উৎসর্গ করার জন্য কুরআনে মুসলিমদের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে যে, মানুষের চোখে সম্পদের গুরুত্ব রয়েছে। উৎসর্গ করা সংক্রান্ত এসব আয়াতে "সম্পদ" শব্দটি সবসময় "জীবন" শব্দটির আগে আসে। যেমন, কুরআন বলে, "যারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, আর তারাই সফলকাম” (সূরা তাওবা, ৯: ২০), এবং "অভিযানে বের হয়ে পড়ো, হালকা থাকো বা ভারী থাকো, এবং আল্লাহর পথে সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদ করো” (সূরা তাওবা, ৯: ৪১)।
আরও রয়েছে, "যারা আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা থেকে তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করবে না” (কুরআন ৯: ৪৪)। তা ছাড়া মানুষের কাছে অমূল্য, এমন অনেক জিনিসের সাথেই সম্পদকে একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: জীবন, সন্তান, পিতামাতা ও গোত্র। এই সব ক্ষেত্রেই সম্পদের উল্লেখ আসে আগে। ব্যতিক্রম শুধু একটা আয়াত, যেখানে আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত” (সূরা তাওবা, ৯: ১১১)। এই ক্রম থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ অন্য সব জিনিসের চেয়ে সম্পদকে কত বেশি মূল্য দিয়ে থাকে। আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা প্রসঙ্গে তাই অন্য সকল বিষয়ের চেয়ে সম্পদ উৎসর্গের প্রতি বেশি জোরারোপ করা হয়েছে। আরেকভাবে বললে, যেটা উৎসর্গ করার মূল্য যত বেশি, সেটির ব্যাপারে কুরআনে জোরারোপ করাও হয়েছে তত আগে।
সূরা তাওবার ১১১ নং আয়াতটি এই বিশ্লেষণের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহর কাছে মানুষ যা নিবেদন করছে, সেটা উল্লেখ করা হয়েছে এই আয়াতে। মানুষের স্বভাবপ্রকৃতি হলো সে যেটাকে বেশি দাম দেয়, সেটাকে তত বেশি সময় ধরে রাখতে চায়। তাই আগে নিজেকে নিবেদন করে, তারপর সম্পদ। অনিশ্চয়তার মাত্রা এখানেও মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সম্পদের একটা দিয়ে দেওয়া মানে তো নিশ্চিতভাবেই পার্থিব সম্পদের পরিমাণ কমে যাওয়া। কিন্তু নিজে শারীরিকভাবে জিহাদে অংশগ্রহণ করলে বেঁচে ফিরে আসার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। এমনকি গনিমতের মালও পাওয়া যেতে পারে এর ফলে। তাই জীবন হারানোর সম্ভাবনা সত্ত্বেও যুদ্ধে আপন সত্তাকে নিবেদিত করা মানে সম্ভাব্য কোনো লাভের আশাও থাকা। ফলে সম্পদ দান করার চেয়ে নিজেকে দান করার তাড়না আরও বাড়ে। পাশাপাশি এই দৃঢ় বিশ্বাস তো আছেই যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে পারলে জান্নাতে স্থানপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
➡ দ্বিতীয়ত, কুরআন ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে এতটাই পবিত্রতা দান করে যে, চুরির শাস্তি নির্ধারণ করেছে হাত কেটে দেওয়া। কুরআনের আয়াত বর্ণনা করে, "পুরুষ চোর আর নারী চোর, তাদের হাত কেটে দাও। এটি তাদের কৃতকর্মের ফল” (সূরা মায়িদা, ৫: ৩৮)। এই বিধানের অনেক শর্ত রয়েছে। সেগুলো হলো: চুরি হওয়া জিনিসটি তুচ্ছ মূল্যের হবে না; পথচারীদের সাধারণ দৃষ্টির আড়ালে বা সংরক্ষিত কোনো জায়গা থেকে চুরি হয়ে থাকতে হবে; চোর সীমাতিরিক্ত ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করলে হবে না; অভিযোগটি কোনো সন্দেহের অবকাশ ছাড়া স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হতে হবে ইত্যাদি। (Qutb, 1979)। এ ছাড়াও নবি বলেছেন, "নিজের সম্পত্তির প্রতিরক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়, সে শহীদ হিসেবে বিবেচিত হবে", (সহীহ বুখারি: ২৪৮০)
➡ তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট বিধান প্রদান করেছে। পুরুষ ও নারী, বয়স্ক ও নাবালক, সবাইকে দেওয়া হয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পদের ভাগ। ভাগের পরিমাণ নির্ভর করবে মৃতের সাথে উত্তরাধিকারীর সম্পর্কের নৈকট্য-সহ কিছু উপাদানের ওপর। পরে তা বিস্তারিত আলোচিত হবে। এখান থেকে ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি বোঝা যায়।
তবে ব্যক্তিগত মালিকানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এই শর্তে যে, সম্পদের অপব্যবহার করা যাবে না। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অপব্যবহার করা হলে ইসলামি রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে সেখানে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সংশোধন করার (অর্থনৈতিক উন্নতি ও আয় বণ্টন শিরোনামের অধীনে এই বিষয়গুলো নিচে আলোচিত হয়েছে)।
📄 গণ-মালিকানা
কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যক্তিগত মালিকানা যেমন স্বীকৃত, গণ-মালিকানাও তা-ই। নবি গণ-মালিকানার পরিসর হিসেবে বলেছেন পানি, চারণভূমি ও আগুনের মালিকানার কথা। তিনি বলেন, “তিনটি জিনিসের ওপর মুসলিমগণের সামষ্টিক মালিকানা রয়েছে—পানি, চারণভূমি এবং আগুন” (মুসনাদু আহমাদ: ২৩১৩২)। এগুলো প্রাথমিক পরিবেশে জীবনের জন্য আবশ্যক প্রাকৃতিক সম্পদ (Qutb, 1979)। মানবসমাজ সামগ্রিকভাবে এই তিন ধরনের অর্থনৈতিক সম্পদের সাধারণ ব্যবহারের অধিকার রাখে। জীবনের প্রয়োজন পূরণে এগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার ওপর এই অধিকার নির্ভরশীল। এসব সম্পদের মালিকানা গোটা সমাজের কাছে অর্পণ করার কারণটা সম্ভবত একেবারেই স্পষ্ট। এগুলো সেসব মৌলিক পণ্য, যেগুলো মানুষের খুবই প্রয়োজনীয়। এগুলো ছাড়া জীবনধারণ দুরূহ হয়ে পড়ত। তাই এসব মৌলিক সম্পদকে ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে বাইরে ধরা হয়েছে। অবশ্য স্থান-কাল ও সমাজভেদে এসব সম্পদের আপেক্ষিক প্রয়োজনীয়তার মাত্রা বিভিন্নরকম। কিন্তু মূল বিধান হলো কোনো একটি সংগঠিত সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র সেই সমাজের জন্য অত্যাবশকীয় এসব সম্পদের মালিক। "জনস্বার্থ” সংক্রান্ত ফিকহি মূলনীতি ব্যবহার করে নির্ধারণ করা হবে যে, কোনো একটি প্রাকৃতিক সম্পদ গণ- মালিকানাধীন বলে বিবেচিত হবে কি না।
উল্লেখ্য যে, প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে সমাজ বা রাষ্ট্র এগুলোর মালিকানা লাভ করে বটে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি আবার তার নিজস্ব পানির উৎস (যেমন কুয়া), নিজেদের মালিকানাধীন চারণভূমি বা আগুনের মালিক হতে পারে। অর্থনৈতিক সম্পদটি গণ-মালিকানাধীন হবে কি না, তা নির্ভর করে সেটির প্রাকৃতিক হওয়া বা না-হওয়ার ওপর। প্রাথমিক ইসলামি ইতিহাসের গ্রন্থাদি থেকে জানা যায় যে, মুসলিমরা ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব কৃয়ার মালিক ছিল। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় সমাজের কল্যাণার্থে তা দান করে দিয়েছিলেন।
ফলে সংজ্ঞা নির্ধারণে একটি প্রধান সমস্যার উদ্ভব হয়: একটি অর্থনৈতিক সম্পদ কোন ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে সমাজের মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বলে বিবেচিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে একে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে ধরা হবে? একটি সরল যাযাবর সমাজে এ প্রশ্নের উত্তর কঠিন কিছু নয়, যেমনটা আদি ইসলামি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু বর্তমান মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মতো জটিলতর কাঠামোতে এর সংজ্ঞায়ন কঠিন। এসব জায়গায় ফিকহের প্রয়োজনীয়তা প্রতিভাত হয়। ফকিহগণ নতুন প্রয়োজনের তাগিদে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধিবিধান আহরণ করেন। যেমন, তুলনামূলক বিশাল মাত্রায় খনিজ পদার্থ আবিষ্কৃত হলে সেটার মালিক কে হবে, এ ব্যাপারে কিছু ফকিহ বলেছেন তার মালিক হবে সমাজ তথা রাষ্ট্র। ওই ভূমিটি যে ব্যক্তির, সে না। ইমাম মালিক এরকম মত দিয়েছেন। (Al-Zarqani, 1990)1
ভূমির মালিকানা এবং সেই মালিকানা কিভাবে মালিকের হাতে পৌঁছেছে, তার ভিত্তিতে শরীয়ত বিভিন্নরকমের বিধান দিয়েছে। এখান থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। এগুলোর সারমর্ম হলো, কোনো জমি খুঁড়ে যা কিছু আবিষ্কৃত হবে, তা ওই জমির মালিকের মালিকানায় থাকবে। সেখানে রাষ্ট্রের প্রাপ্য হবে ওই আবিষ্কৃত গুপ্তধনের যাকাত (Al-Kalby, 1989)। আর খনির ব্যাপারে যে বিধান, তেলের উৎসের ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য হতে পারে।
কোনটা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীনে এনে গণ-মালিকানাধীন করা হবে এবং কোনটা ব্যক্তির কাছে ছেড়ে দিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন করা হবে, এই প্রশ্নটি বিভিন্ন মাযহাবের বহু ফকিহ ও আলিমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ইসলামি অর্থনৈতিক ইতিহাস জুড়ে মালিকানার আকৃতি ও ধরনের ওপর ভিত্তি করে গণ-মালিকানা নানাভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। পরে বিস্তারিত আলোচিত হবে এ বিষয়টি। যেমন, পরের অধ্যায়ে আমরা দেখব রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব • কিভাবে ভূমির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করেছেন, যাতে এর আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। তা ছাড়া নতুন বিজিত ভূমি সাধারণ মুসলিম জনগণের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়নি। এটি পূর্ব থেকে প্রচলিত রীতির বিপরীত। এই ভূমিগুলো সমাজের সকল সদস্যের ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন রাখা হয়।
তা ছাড়া আমরা আরও দেখব যে, ভূমির মালিকানা সমাজ নয়, বরং রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে। এগুলো সাওয়াফি ভূমি বা শাহী এস্টেট (Crown Estate) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখানেই শেষ না। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য সহকারে এসব ভূমিকে ব্যবহার করবে, এরকম যোগ্য মানুষের কাছে সেই ভূমি অর্পণ করার অধিকার খলিফা রাখেন। কালক্রমে এসব এস্টেটের মালিকানা হস্তান্তরিত হয় বিশেষ কিছু ব্যক্তি হাতে। কারণ তাদের অবদানের ফলে মুসলিমরা এমনভাবে উপকৃত হয়েছে, যা ইতিহাসে স্থান করে নেয়। উমাইয়্যা ও আব্বাসি খিলাফতের আমলে এর স্পষ্ট নিদর্শনের দেখা মেলে।
কিন্তু আমাদের প্রাথমিক আলোচনার এই পর্যায়ে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি জোরারোপ করা প্রয়োজন:
➡ (ক) অর্থনৈতিক সম্পদের মালিকানার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান হলো ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়কেই মালিকানা থেকে উপকৃত হতে দেওয়া। এদের একটিকে অপরটির ওপর কোনো প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।
➡ (খ) কোনো অর্থনৈতিক সম্পদকে এমনভাবে জাতীয়করণ করে ফেলা, যার ফলে ব্যক্তি সেখানে অংশগ্রহণ করে অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নয়ন ও উদ্বৃত্ত সম্পদ সৃষ্টির কোনো সুযোগই পায় না, এই নীতি ইসলামি আদর্শে একেবারেই অনুপস্থিত।
➡ (গ) অর্থনৈতিক সম্পদে কাউকে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রদান করা মানে এই না যে, সে ওই সম্পদ অপব্যবহারের সুযোগ পেয়ে গেল।
➡ (ঘ) ব্যক্তির হাতে অর্থনৈতিক সম্পদের অনিচ্ছাকৃত অপব্যবহার সংঘটিত হলে রাষ্ট্র ক্ষেত্রবিশেষে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সংশোধন করার বৈধতা পেতে পারে। অবশ্য তার আগে সেই ব্যক্তিকে এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সাহায্য- সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
➡ (ঙ) অর্থনৈতিক সম্পদের ইচ্ছাকৃত অপব্যবহারের ফলে ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে রাষ্ট্র এখানে হস্তক্ষেপ করে সম্পদটি নিজ জিম্মায় নিয়ে নিতে পারে।
➡ (চ) উপযুক্ত অর্থনৈতিক সম্পদ পুনর্বণ্টনের ফলে মূল মালিককে তার মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। বরং এই পুনর্বণ্টন হবে মালিকানার অধিকারে কোনো বাধা সৃষ্টি না করেই সেই অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যবহারের অধিকার হস্তান্তর করা।
➡ (ছ) ব্যবহারের অধিকার পুনর্বণ্টিত করার ক্ষেত্রে সেই পুনর্বণ্টিত অর্থনৈতিক সম্পদ থেকে উৎপন্ন আয়ের ন্যায্য অংশ মূল মালিককে প্রদান করা হবে,
➡ (জ) নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে যাদের সাহায্য প্রয়োজন, তাদের সহযোগিতা প্রদান করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। এখানে রাষ্ট্র পালন করবে সহযোগিতাকারী এবং পাহারাদারের ভূমিকা। একদিকে তার লক্ষ্য হবে সহযোগিতা ও শিক্ষা প্রদান করা, অপরদিকে অপচয় ও অপব্যবহার প্রতিরোধ করা।
➡ (ঝ) অন্যের ওপর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না ফেলা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে মুক্ত প্রতিযোগিতা বৈধ।