📄 আদালাহ ইজতিমাইয়্যা বা সামাজিক ন্যায়বিচার
সামাজিক ন্যায়বিচার ইসলামের মৌলিক দাবি। আল্লাহর কাছে সকলে সমান। কুরআন সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়, 'তোমরা আমার নিকট তেমনই নিঃসঙ্গ অবস্থায় হাজির হয়েছ, যেমনভাবে আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, তোমাদেরকে যা (নিয়ামতরাজি) প্রদান করেছিলাম তা তোমরা তোমাদের পেছনে ফেলে রেখে এসেছ', (সূরা আনআম, ৬: ৯৪)। হাদীসে আছে, 'মানুষ চিরুনির দাঁতের মতো সমান।' এবং 'যার চরিত্র সর্বোত্তম, সে-ই সবচেয়ে মর্যাদাবান' (সহীহ বুখারি: ৩৫৫৯)
তবে মানুষের মাঝে যেসব তারতম্যের কারণে তাদের উপার্জনের দক্ষতা ও সম্পদ অর্জনের সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে, সেগুলো ইসলামে স্বীকৃত। আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ জীবনোপকরণে তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে', (সূরা নাহল, ১৬: ৭১)। কিন্তু ইসলাম অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তাকে উৎসাহিত করে না। জীবিকা অর্জন ও আল্লাহর অনুগ্রহকে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কঠোর পরিশ্রম করার শুধু উৎসাহই নয়, বরং আদেশ দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য মানেই আলস্য বা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার ফলাফল নয়। এই অবস্থানের কারণে তাই ইসলাম ধনী ও দরিদ্রের মাঝে প্রকট পার্থক্য বজায় রাখার বিরোধী। দরিদ্র ও অভাবীদের দান করা ধনীদের দায়িত্ব। এর মাধ্যমে সম্পর্কের একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো বজায় রাখতে হবে সমাজে। কারণ ধনী যা দিচ্ছে, সেটাকে দরিদ্রের অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুরআনের বার্তা একেবারে স্পষ্ট, 'তাদের সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার' (সূরা যারিয়াত, ৫১: ১৯), এবং 'ফসল তোলার সময় তার হক আদায় করবে' (সূরা আনআম, ৬: ১৪১)। এখানে কুরআনের বার্তা হলো ধনী ব্যক্তি অহংকার বা বড়াইয়ের ভাব নিয়ে দান করতে পারবে না। দরিদ্রকেও অপমানিত অবস্থায় তা গ্রহণ করতে হবে না। প্রদান ও গ্রহণ হবে সুন্দরভাবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশকৃত পদ্ধতিতে। তবে ধনীদের দানও আবার বৃথা যাবে না। এর জন্য তারা উদারভাবে পুরস্কৃত হবে, তাও আবার স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে। ইহকালে এবং পরকালেও। উপার্জন ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর এই সামাজিক ইনসাফের মূলনীতির বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যা নিচে দেখানো হবে。
টিকাঃ
[১] এই হাদীসটি প্রমাণিত নয়। পৃষ্ঠা ৩৭ দ্রষ্টব্য। -সম্পাদক