📄 আল-কুরআন
কুরআন হলো আল্লাহর বাণী। নবি মুহাম্মাদ-এর কাছে মহান ফেরেশতা জিবরীল এটি নিয়ে এসেছেন। তেইশ বছর ধরে এটি অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে। এভাবে অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করা যায়:
➡ প্রথমত, প্রাথমিক যুগের মুসলিমরা যেন এটি অধ্যয়নের সুযোগ পায়। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি খণ্ড খণ্ডভাবে, যাতে তুমি বিরতি দিয়ে তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পারো। আর আমি তা ধাপে ধাপে অবতীর্ণ করেছি', (সূরা ইসরা, ১৭: ১০৬)।
➡ দ্বিতীয়ত, মানুষের কিছু অভ্যাসকে ধাপে ধাপে পরিবর্তন করানো হয়েছে কিছু আয়াতের মাধ্যমে। কোনো ব্যক্তির ভোগের অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে যে সময় লাগতে পারে, সেটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এখানে। অপছন্দনীয় অভ্যাস ধাপে ধাপে ছাড়ার জন্য মানুষকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে (AI- Khun, 1984)। বিষয়টিকে দেখতে হবে তৎকালীন জীবনপ্রকৃতির আলোকে। অবাধ যৌনাচার, জুয়া ও মদপান সেখানে ভোক্তার অগ্রাধিকার তালিকায় বেশ ওপরের দিকে ছিল।
➡ তৃতীয়ত, সমাজের আর্থ-সামাজিক কাঠামো-সংক্রান্ত আয়াতগুলো সামাজিক বিকাশের বিভিন্ন স্তরে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে ইসলামি জনসমাজ সেই পরিবর্তনগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছে। তাই বিরতি দিয়ে দিয়ে আয়াত অবতীর্ণ করাটাই ছিল যৌক্তিক।
মুসলিমরা কুরআনের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একেবারে নিঃসন্দেহ। নবি-এর নিয়োগকৃত একটি দল কুরআন নাযিলের সময়েই এর পাঠ লিখে রাখতেন। নবিজি * এর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পাঠকে আয়াতে বিভক্ত করা হয়েছে, সংখ্যা দেওয়া হয়েছে, এবং ক্রমানুসারে সাজিয়ে অধ্যায়ে (সূরা) বিভক্ত করা হয়েছে (Al-Qattan, 1992)। নবিজির মৃত্যুর দুই বছর পর প্রথম খলিফা আবু বকর কুরআনের পাণ্ডুলিপি সংকলন ও একে একটিমাত্র খণ্ডে সংরক্ষণ করার আদেশ জারি করেন। কুরআন সংকলনের কাজে দ্বৈত-যাচাই পদ্ধতি অবলম্বন করেন আবু বকর। লিখিত পাণ্ডুলিপিকে হাফিয ও সাহাবিদের মুখস্থ করা পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। ৬৪৪-৬৫৬ সালের মধ্যে তৃতীয় খলিফা উসমান মূল পাণ্ডুলিপির কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করার আদেশ দেন। এর বাইরে অন্য যত পাণ্ডুলিপি আছে, সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। সেই অনুলিপিই আজ পর্যন্ত মুসলিমরা ব্যবহার করে আসছে। (প্রাগুক্ত)।
টিকাঃ
[১] কুরআনের সূরাসমূহের নাম, আয়াত ও সূরাগুলোর ক্রমবিন্যাস ইত্যাদি স্বয়ং ওহির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। জিবরীল ৪৯ ওহি নিয়ে আগমণের পর এগুলো জানিয়ে দিতেন। নবি ও সেই অনুসারে ওহি লেখকদের নির্দেশ দিয়ে রাখতেন। সম্পাদক
📄 সুন্নাহ
নবি তাঁর জীবদ্দশায় যা বলেছেন, করেছেন ও করতে সম্মতি দিয়েছেন, সেগুলোর বর্ণনাই সুন্নাহ। শরীয়তের উৎস হিসেবে তাই সুন্নাহ তিনটি প্রধান উপাদানে বিভক্ত: নবিজির কথা, তাঁর কর্ম এবং অন্যদের কাজের প্রতি তাঁর সমর্থন। নবিজির কথা যদিও আল্লাহর কালাম নয়, কিন্তু আল্লাহর আদেশেই তিনি এগুলো বলেছেন। মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি শিক্ষাদানের মাধ্যমে তিনি কুরআনের বিধিবিধান ব্যাখ্যা করেছেন। কুরআনের আয়াতে যা সাধারণভাবে উল্লেখিত হয়েছে, তিনি সেগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন বিস্তারিতভাবে। কুরআন লিখে রাখার জন্য তিনি অনুসারীদের আদেশ তো করেছেন বটেই, একটি বিশেষ দলকে নিয়োগও করেছিলেন এই কাজ সম্পাদন করার জন্য। কিন্তু কুরআনের পাঠ্যের সাথে যেন নবিজির কথা মিশ্রিত না হয়ে যায়, এজন্য তিনি নিজের কথাগুলো না লিখার আদেশ দেন। কেউ তা লিখে থাকলে মুছে ফেলতে বলেন এবং সেগুলো শুধু মৌখিকভাবে প্রচার করতে বলেন (Khallaf, 1942)। ঐশী বাণী কুরআন এবং নবি-এর কথা ও কাজ হাদীস তাই মুসলিমদের কাছে ভিন্ন।
লিখিতভাবে হাদীস সংকলনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় উমাইয়্যা খলিফা উমর বিন আবদুল আযীয-এর শাসনামলে অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। সংকলনের তিনটি কারণ রয়েছে: (ক) হাদীসের বহু আলিম ও হাফিযের মৃত্যু, (খ) ইসলামি রাষ্ট্র সম্প্রসারণের ফলে হাদীস মুখস্থকারীদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া, যার ফলে হাদীস যাচাইয়ের জন্য তাদের সাথে আলোচনা করা দুরূহ হয়ে পড়ে, এবং (গ) নতুন ধর্মান্তরিত মুসলিম এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য হাদীস অপব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা (Khallaf, 1942)। নিষ্ঠাবান মুসলিমরা তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাদীসের হাফিযদের কাছে গিয়ে গিয়ে হাদীস সংকলনের কাজ শুরু করেন। হাদীসের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংকলকগণ ইসনাদ (সনদ) নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। অর্থাৎ, প্রত্যেকটি হাদীসের সাথে রয়েছে বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ-সহ একটি অবিচ্ছিন্ন সূত্র। সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন, তার নাম থেকে এই সূত্র শুরু। আর যিনি স্বয়ং নবিজির কাছ থেকে শুনেছেন বা করতে দেখেছেন বা তাঁর সম্মতি পেয়েছেন, সেই সাহাবির নাম থাকে সূত্রের শেষে। আধুনিক গবেষকরা যেভাবে তাদের আগের কাজ বা গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন, সেটা এই ইসনাদ পদ্ধতিরই অনুরূপ। হাদীসের শুদ্ধতার প্রশ্নে সচেতন থাকার ফলে সংকলকগণ হাদীস যাচাই ও তুলনা করে দেখতেন। সাংঘর্ষিক বর্ণনা বাদ দিয়ে দেন এবং নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে একটি শ্রেণিবিন্যাস করেন। হাদীসের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব প্রসঙ্গে মধ্যযুগের একজন মুজতাহিদ ইমাম আবু ইউসুফ বলেন যে, কোনো সুন্নাহকে প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হলে সেটিকে অবশ্যই:
১. কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে,
২. এমনভাবে প্রাপ্ত হতে হবে, যাতে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ না থাকে,
৩. জনসমাজে পরিচিত ও সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে,
৪. ফকিহগণের মাধ্যমে বর্ণিত এবং তাদের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে,
৫. এমন ব্যক্তিগণের মাধ্যমে বর্ণিত হতে হবে, যারা তাদের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত,
৬. ইসলামি শিক্ষার সার্বিক চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে,
৭. নবি এর আচার-আচরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে (Ansari, 1979)।
সংকলকদের নামানুসারে সবচেয়ে বিখ্যাত ছয়টি হাদীস সংকলন গ্রন্থ হলো:
➡ ইমাম বুখারি (৮১০-৮৭০ খ্রি.), সহীহুল বুখারি,
➡ ইমাম মুসলিম (মৃ. ৮৭৫ খ্রি.), সহীহু মুসলিম,
➡ ইমাম আবু দাউদ (মৃ. ৮৮৮ খ্রি.), সুনানু আবি দাউদ,
➡ ইমাম তিরমিযি (মৃ. ৮৯২ খ্রি.), জামি আত তিরমিযি,
➡ ইমাম ইবনু মাজাহ (মৃ. ৮৮৬ খ্রি.), সুনানু ইবনি মাজাহ, এবং
➡ ইমাম নাসায়ী (মৃ. ৯১৫ খ্রি.), সুনানুন নাসায়ী।
এগুলোর মাঝে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো সহীহ বুখারি এবং সহীহ মুসলিম। এসকল গ্রন্থ সকল মুসলিমের কাছে সহজলভ্য।
টিকাঃ
[১] রাসূল -এর জীবদ্দশায়ও হাদীসের কিছু সংকলন হয়েছিল। কুরআনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, কুরআনের বর্ণনাভঙ্গির সাথে মুসলিমদের যথাযথভাবে পরিচিত হওয়া-সহ নানাবিধ কারণে প্রথমদিকে সাময়িকভাবে হাদীসের সংকলনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে অনেকেই নবিজির আদেশে বা অনুমতিক্রমে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন: হাদীসের প্রামাণ্যতা, আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী।- সম্পাদক
[১] এখানে ইমাম আবু ইউসুফ-এর উদ্দেশ্য হলো, হাদীসটি সালাফের যুগে সাধারণভাবে আহলে ইলমের নিকট পরিচিত হওয়া। সম্পাদক
[২] ইমাম আবু ইউসুফ আর-রাদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ গ্রন্থে (পৃ. ৩১) উল্লেখ করেছেন। উল্লিখিত শর্তগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ এবং এগুলোর প্রয়োগ একান্তই মুজতাহিদ ও শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের কাজ। গ্রন্থকার মুহাদ্দিসগণের হাদীস গ্রহণে সতর্কতার উদাহরণস্বরূপ এখানে তার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এগুলো হাদীস গ্রহণ বা যাচাইয়ের শর্ত, কিন্তু হাদীস প্রমাণিত হয়ে যাওয়ার পর এগুলোর অজুহাতে হাদীস অস্বীকারের সুযোগ নেই। - সম্পাদক
📄 ফিকহ
ইসলামি রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ ঘটার সাথে সাথে মুসলিমরা এমন সব নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, যেগুলো নবিজির জীবদ্দশায় উদ্ভূত হয়নি। এগুলোর জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহতে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। প্রাথমিক যুগের মুসলিম আলিমদের তাই নতুন পরিস্থিতির সমাধান গ্রহণের জন্য কুরআন ও হাদীসের পাঠ্য থেকে বিধান ও নীতিমালা আহরণ করার প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে 'রায়' নামক একটি শব্দ ব্যবহৃত হয়। যার অর্থ কুরআন সুন্নাহর আলোকে কারও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রচেষ্টা (Khallaf, 1942)। এর ধর্মীয় বৈধতা পাওয়া যায় নবি ﷺ এর জীবদ্দশার একটি ঘটনা থেকে। নবিজি মুআয ইবনু জাবালকে ইয়েমেনে বিচারক হিসেবে পাঠাচ্ছিলেন। তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময় নবি ﷺ সেসব ক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনাশক্তি প্রয়োগ করার অনুমোদন দেন, যেসব ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্ট বিধান উল্লেখ করা নেই (প্রাগুক্ত)।
অতএব, ফিকহ নানারকম উৎসের ওপর নির্ভর করে এবং প্রয়োজনীয় বিধান আহরণের জন্য কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে। এসব উৎসের প্রথমটি হলো কুরআন ও সুন্নাহ। কুরআন ও সুন্নাহতে যেসব স্পষ্ট বিধান রয়েছে, সেখানে আর নিজের মতামতের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু যেখানে স্পষ্ট বিধান অনুপস্থিত, সেখানে ফকিহ প্রয়োজনীয় বিধান বের করবেন। সেক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করতে হবে কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতের সার্বিক অর্থ ও উদ্দেশ্য, হাদীসের ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য, এবং আইনশাস্ত্রের সাধারণ নীতিমালা ও তাৎপর্য। শরীয়তের মৌলিক বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করা যাবে না। সুতরাং, ফিকহের মূল নির্যাস কুরআন ও সুন্নাহ। এই ব্যাপারটি উপলব্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসলামি অর্থনৈতিক চিন্তার বহু আর্থ-সামাজিক ব্যাপার উদ্ভূত হয়েছে ফিকহ থেকে। অন্যান্য যেসব ভিত্তির ওপর ইসলামি ফিকহ প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো: ইজমা বা ঐক্যমত্য, কিয়াস বা সাদৃশ্যের ভিত্তিতে আইনগত সিদ্ধান্ত, সূক্ষ্মতর কিয়াস, জনস্বার্থ এবং রীতিনীতি।
ইজমা হলো মুজতাহিদ আলিমগণের কোনো বিষয়ে সাধারণভাবে একমত হওয়া। দুটি বিষয় লক্ষণীয়:
➡ ক. সাধারণ ঐক্যমত্য মানে সকল বা অধিকাংশ মুসলিমের একমত হওয়া নয়। বরং শুধু প্রাজ্ঞ আইনবিদ (ফুকাহা) এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ (উলামা) এর অন্তর্ভুক্ত।
➡ খ. ইজমা প্রয়োগ হয় শুধুমাত্র সেসব বিষয়ে যেখানে ফকিহগণের মতামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে। ইবাদতের আচার-অনুষ্ঠানের নিয়ম যেগুলো যথেষ্ট স্পষ্টভাবে কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত আছে, সেখানে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই (Al-Zuhail, 1989)1
শরীয়তের উৎস হিসেবে ইজমার ভূমিকা দুর্বল হয়ে আসে খিলাফতে রাশিদার সমাপ্তির পর এবং উমাইয়্যা যুগের শুরুর দিকে। মুসলিমরা এসময় রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রধান আলিমগণের মাঝে সাধারণ ঐক্যমত্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে খিলাফতে রাশিদার আমলে ইজমার মাধ্যমে আহরিত বিধানগুলো পরবর্তী ফকিহগণের নিজস্ব মতামত তৈরির ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে (Al-Qattan, 1986)1
কিয়াস হলো পূর্ববর্তী উৎসগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত বিধান থেকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন নিয়ম আহরণ করার পদ্ধতি। শরীয়তের সম্ভাব্য কোনো শূন্যস্থান পূরণে এই পদ্ধতিটি সহায়ক। ইস্তিহসান অর্থ কিয়াস থেকে প্রাপ্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়ে আরও প্রাসঙ্গিক কোনো সাদৃশ্যের আলোকে নতুন বিধান আহরণ করা। জনস্বার্থ বা ইস্তিসলাহ হলো নতুন কোনো বিষয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো, যা জনগণের জন্য কল্যাণকর কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত নয় (Zuhaili, 1989)। রীতিনীতি বা উরফ হলো কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে ওই সমাজের প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভর করা—সেসব ক্ষেত্রে যেখানে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমাতে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। ফিকহের উপর্যুক্ত মূলনীতিগুলো যদিও শরীয়তের মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহর তুলনায় দুর্বল, কিন্তু আর্থ-সামাজিক বিষয়াদিতে মুসলিম ফকিহগণের কাছে এগুলো ভালো রকমের গুরুত্ব বহন করে। কুরআন-সুন্নাহর সীমারেখার মাঝে থেকে তারা জাগতিক বিষয়ে এমন বেশ কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যেগুলো ইসলামি অর্থনৈতিক চিন্তার ভিত্তি। বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। যথাসময়ে তা আলোচিত হবে।