📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বীরত্ব এবং সংঘাতের প্রতি আগ্রহ

📄 বীরত্ব এবং সংঘাতের প্রতি আগ্রহ


সাহস আর বীরত্বের মতো গর্বের উৎস আর কিছু হতেই পারে না, হোক সেটা ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য। এটা ছিল আরবের অধিবাসীদের ব্যক্তিত্বের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। একটা মানুষ বা গোত্রকে যতভাবে অপমান করা যায়, তার মাঝে নিকৃষ্টতম দুটি বিষয় ছিল— আতিথেয়তায় কার্পণ্য এবং ভীরুতা। সাহস ছিল গর্বের একটি বিশেষ উৎস। তাতে প্রাণ গেলে যাক। তাই প্রাচীন এক কবিকে আমরা সগর্বে গাইতে শুনি, 'মল্লযুদ্ধের আহ্বানে প্রথম সাড়া দান, কেড়ে নিল আপন গোত্রের কত যোদ্ধার প্রাণ' (Nicholson 1993)। তার স্বগোত্রীয় যোদ্ধার লড়াইয়ের দক্ষতাকে প্রশংসা করা যাচ্ছে না বটে। কিন্তু এতটুকু অন্তত বোঝা যায় যে, বিপদ বা সামরিক সংঘাতে তারা কখনো পিছপা হয়নি। সামরিক শক্তি ও মর্যাদার দিক থেকে নিজের গোত্রের যে দাপট, সেটার গুণগান করার আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় আরেক কবির মাঝে। তিনি দম্ভ সহকারে ঘোষণা করছেন যে, তিনি ও তার গোত্র অত্যাচারী নিপীড়ক। নিজেরা কখনো নিপীড়িত হননি। তারা যখন দল বেঁধে কোনো জলাশয়ের কাছে যান, তখন তারাই আগে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি পান করেন। বাকিদের জন্য রেখে যান কর্দমাক্ত ও ঘোলা জল (প্রাগুক্ত)। ন্যায়ের চেতনার স্থান যেন এখানে সাহসিকতা ও অত্যাচারের চেয়ে কম, পাছে ন্যায়পরায়ণতাকে কেউ দুর্বলতা ও শিথিলতা ভেবে বসে। বলাবাহুল্য, এর বিপরীতে ইসলাম এই ঘোষণা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে যে, অন্যায়কারীদের জন্য আল্লাহর ক্রোধ ও শান্তি অবধারিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00